মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় দেশের সামগ্রিক জনশক্তি রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশের আকাশপথ বন্ধ হওয়া, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সৃষ্ট অস্থিরতায় গত পাঁচ মাসে বিদেশে যাওয়া শ্রমিক কমেছে ২ লাখের বেশি।
প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশে যাওয়া পুরুষ শ্রমিক কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন।
আগের বছর একই সময়ে যেখানে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৭ জন পুরুষ বিদেশে গিয়েছিলেন, এ বছর জনশক্তি রপ্তানি কমে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৪ জনে নেমেছে।
আর গত পাঁচ মাস ১৫ দিনে ৪৭টি দেশে নারী শ্রমিক গেছেন ২৫ হাজার ৯১৫ জন। গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন ২৩ হাজার ৯৩৬ জন নারী শ্রমিক।
এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই যুদ্ধের কারণে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন।
আগের বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৪শ ৬৪ জন।
মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নানামুখী প্রভাব বিশ্লেষণ করে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, প্রথমত, আমাদের প্রবাসী আয় ও নতুন কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কর্মসংস্থান কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, যারা ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের অনেকেরই সুনির্দিষ্ট চুক্তি বা স্থায়ী কাজ থাকে না; তারা সপ্তাহ বা মাস চুক্তিতে কাজ করেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে তাদের সেই কাজগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে, অনেকেই কাজ হারিয়েছেন।
তিনি বলেন, তৃতীয়ত, সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন করে দিচ্ছে। দুবাই বা কাতারের মতো অঞ্চলগুলো গত ৪০-৫০ বছর ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছিল, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ বিনিয়োগ করতে আসত।
কিন্তু দুবাইয়ের মতো জায়গায় যদি হামলা বা যুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটে, তবে সেই ধারণা ধাক্কা খায়। এই যুদ্ধের ফলে সেখানকার রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসা-বাণিজ্য দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছে। আর বিনিয়োগ কমলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন কর্মসংস্থানও কমে যাবে।
শরিফুল হাসান বলেন, যুদ্ধ তো এখনো শেষ হয়নি; পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে বোঝা যাবে যে নিয়োগকর্তারা তাদের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করছেন কি না, প্রবাসী শ্রমিকেরা কাজ হারাবেন কি না, কিংবা কাজের ধরনে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে।
অর্ধেকে নেমে এসেছে জনশক্তি রপ্তানি
অর্ধেকে নেমে এসেছে জনশক্তি রপ্তানি
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত ও ভূরাজনৈতিক উত্তেজনায় দেশের সামগ্রিক জনশক্তি রপ্তানি প্রায় অর্ধেকে নেমে এসেছে। বিভিন্ন দেশের আকাশপথ বন্ধ হওয়া, নিরাপত্তা ঝুঁকি এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে সৃষ্ট অস্থিরতায় গত পাঁচ মাসে বিদেশে যাওয়া শ্রমিক কমেছে ২ লাখের বেশি। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের হামলা শুরুর পর থেকে গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত সাড়ে পাঁচ মাসে বিদেশে যাওয়া পুরুষ শ্রমিক কমেছে ২ লাখ ৮ হাজার ১৭৮ জন। আগের বছর একই সময়ে যেখানে ৪ লাখ ৮৫ হাজার ১৩৭ জন পুরুষ বিদেশে গিয়েছিলেন, এ বছর জনশক্তি রপ্তানি কমে ২ লাখ ৭৬ হাজার ৯৬৪ জনে নেমেছে। আর গত পাঁচ মাস ১৫ দিনে ৪৭টি দেশে নারী শ্রমিক গেছেন ২৫ হাজার ৯১৫ জন। গত বছরের একই সময়ে বিদেশে গিয়েছিলেন
২৩ হাজার ৯৩৬ জন নারী শ্রমিক। এর মধ্যে শুধু সৌদি আরবেই যুদ্ধের কারণে জনশক্তি রপ্তানি কমেছে ১ লাখ ৮৮ হাজার ২০০ জন। চলতি বছরের ১ মার্চ থেকে ১৫ আগস্ট পর্যন্ত গেছেন ১ লাখ ৩৩ হাজার ২৬৪ জন। আগের বছরের একই সময়ে গিয়েছিলেন ৩ লাখ ২১ হাজার ৪শ ৬৪ জন। মধ্যপ্রাচ্যের সাম্প্রতিক অস্থিরতা, শ্রমবাজারের বর্তমান পরিস্থিতি এবং প্রবাসী শ্রমিকদের ওপর নানামুখী প্রভাব বিশ্লেষণ করে ব্র্যাকের সহযোগী পরিচালক (মাইগ্রেশন) শরিফুল ইসলাম হাসান বলেন, প্রথমত, আমাদের প্রবাসী আয় ও নতুন কর্মসংস্থান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যে আমাদের কর্মসংস্থান কমে গেছে। দ্বিতীয়ত, যারা ইতোমধ্যে বিদেশে অবস্থান করছেন, তাদের অনেকেরই সুনির্দিষ্ট চুক্তি বা স্থায়ী কাজ থাকে না; তারা সপ্তাহ বা মাস চুক্তিতে কাজ করেন। সাম্প্রতিক পরিস্থিতির কারণে তাদের সেই কাজগুলো মারাত্মকভাবে প্রভাবিত হয়েছে,
অনেকেই কাজ হারিয়েছেন। তিনি বলেন, তৃতীয়ত, সংঘাতকে কেন্দ্র করে সৃষ্ট পরিস্থিতি মধ্যপ্রাচ্যের অর্থনৈতিক ল্যান্ডস্কেপ পরিবর্তন করে দিচ্ছে। দুবাই বা কাতারের মতো অঞ্চলগুলো গত ৪০-৫০ বছর ধরে নিরাপদ বিনিয়োগের স্থান হিসেবে গড়ে উঠেছিল, যেখানে বিশ্বের যেকোনো প্রান্ত থেকে মানুষ বিনিয়োগ করতে আসত। কিন্তু দুবাইয়ের মতো জায়গায় যদি হামলা বা যুদ্ধের মতো ঘটনা ঘটে, তবে সেই ধারণা ধাক্কা খায়। এই যুদ্ধের ফলে সেখানকার রিয়েল এস্টেট ও ব্যবসা-বাণিজ্য দারুণভাবে প্রভাবিত হয়েছে। আর বিনিয়োগ কমলে স্বাভাবিকভাবেই নতুন কর্মসংস্থানও কমে যাবে। শরিফুল হাসান বলেন, যুদ্ধ তো এখনো শেষ হয়নি; পরিস্থিতি কিছুটা স্থিতিশীল হলে বোঝা যাবে যে নিয়োগকর্তারা তাদের অগ্রাধিকার পরিবর্তন করছেন কি না, প্রবাসী শ্রমিকেরা কাজ হারাবেন কি না, কিংবা কাজের ধরনে কী ধরনের পরিবর্তন আসবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত