পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিক দাবি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ।
ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক কলহে বাবার হাতে ৩ শিশু খুন শনাক্ত করা হয়েছে।
সম্প্রতি ফেসবুকে মেঝেতে তিনটি শিশু পড়ে থাকার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীর পরিবারের তিন শিশুসন্তানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী হত্যা করেছে।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে এটি বগুড়ার কোনো রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা নয়। মূলত এটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক বাবার নিজ তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা এবং নিজের বিষপানের একটি ঘটনার ছবি।
ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির প্রকৃত উৎস এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে সিলেট অঞ্চলের একটি স্থানীয় সংবাদপত্র ‘প্রথম সিলেট’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ পাওয়া যায়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামে শরাফত আলী নামক এক ব্যক্তি তার তিন সন্তানকে কীটনাশক বা বিষজাতীয় খাবার খাইয়ে হত্যা করেন এবং নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন।
এ ব্যাপারে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বাবা শরাফত আলীর (৩৫) স্ত্রী ফাতেমা বেগম ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। প্রবাসে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য চলছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে শরাফত আলী তার তিন সন্তানকে (মাওয়া আক্তার, শামীম মিয়া এবং তামিম মিয়া) কীটনাশক পান করান এবং নিজেও কীটনাশক পান করেন।
বিষপানের পর শরাফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তার এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চান। ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িতে থাকা শরাফতের ছোট ভাই রহমত আলীকে খবর দেন। রহমত আলী প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘরের বন্ধ দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্স ও পরে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।
সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় শরাফত আলীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
অন্যদিকে বগুড়ায় সম্প্রতি এমন কোনো হত্যাকাণ্ডের তথ্য নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। ফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিটিকে ফেসবুকে ভিন্ন ক্যাপশনে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ভাইরাল হওয়া ছবিটির সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে।
ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়।
দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।
পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিক দাবি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার শনাক্ত
পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিক দাবি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার শনাক্ত
পারিবারিক ঘটনাকে রাজনৈতিক দাবি করে বিএনপির বিরুদ্ধে অপপ্রচার করে বিভ্রান্তি ছড়ানো শনাক্ত করেছে ফ্যাক্টওয়াচ। ফ্যাক্টওয়াচ জানায়, রাজনৈতিক নয়, পারিবারিক কলহে বাবার হাতে ৩ শিশু খুন শনাক্ত করা হয়েছে। সম্প্রতি ফেসবুকে মেঝেতে তিনটি শিশু পড়ে থাকার একটি ছবি ছড়িয়ে পড়ছে। ক্যাপশনে দাবি করা হচ্ছে যে, বগুড়ায় আওয়ামী লীগ কর্মীর পরিবারের তিন শিশুসন্তানকে রাজনৈতিক প্রতিহিংসার জেরে বিএনপির সন্ত্রাসী বাহিনী হত্যা করেছে। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে দেখা গেছে এটি বগুড়ার কোনো রাজনৈতিক সহিংসতার ঘটনা নয়। মূলত এটি সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে পারিবারিক কলহের জেরে এক বাবার নিজ তিন সন্তানকে বিষ খাইয়ে হত্যা এবং নিজের বিষপানের একটি ঘটনার ছবি। ফ্যাক্টওয়াচের অনুসন্ধানে ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ছবিটির প্রকৃত উৎস এবং প্রেক্ষাপট জানার জন্য রিভার্স ইমেজ সার্চ করা হয়। এর ফলে সিলেট অঞ্চলের একটি স্থানীয় সংবাদপত্র ‘প্রথম সিলেট’-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত একটি সংবাদ পাওয়া যায়। গত ১৯ সেপ্টেম্বর প্রকাশিত ওই প্রতিবেদনে আলোচিত ছবিটি খুঁজে পাওয়া যায়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলার উত্তর বড়দল ইউনিয়নের রজনী লাইন গ্রামে শরাফত আলী নামক এক ব্যক্তি তার তিন সন্তানকে কীটনাশক
বা বিষজাতীয় খাবার খাইয়ে হত্যা করেন এবং নিজেও বিষপান করে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। এ ব্যাপারে দৈনিক যুগান্তরে প্রকাশিত প্রতিবেদন সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বাবা শরাফত আলীর (৩৫) স্ত্রী ফাতেমা বেগম ঘটনার মাত্র তিন দিন আগে সৌদি আরবে যান। প্রবাসে যাওয়াকে কেন্দ্র করে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আগে থেকেই মনোমালিন্য চলছিল। গত ১৯ সেপ্টেম্বর রাত ১টার দিকে শরাফত আলী তার তিন সন্তানকে (মাওয়া আক্তার, শামীম মিয়া এবং তামিম মিয়া) কীটনাশক পান করান এবং নিজেও কীটনাশক পান করেন। বিষপানের পর শরাফত আলী ময়মনসিংহে থাকা তার এক ফুফুকে ফোন করে বিষয়টি জানান এবং নিজের কৃতকর্মের জন্য অনুশোচনা প্রকাশ করে ক্ষমা চান। ফুফু তাৎক্ষণিকভাবে বাড়িতে থাকা শরাফতের ছোট ভাই রহমত আলীকে খবর দেন। রহমত আলী প্রতিবেশীদের নিয়ে ঘরের বন্ধ দরজা ভেঙে চারজনকে উদ্ধার করে প্রথমে বাদাঘাট বাজারের ডা. হাফিজ উদ্দিন কমপ্লেক্স ও পরে তাহিরপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক তিন শিশুকেই মৃত ঘোষণা করেন। পরবর্তীতে মুমূর্ষু অবস্থায় শরাফত আলীকে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা
হয়। অন্যদিকে বগুড়ায় সম্প্রতি এমন কোনো হত্যাকাণ্ডের তথ্য নির্ভরযোগ্য কোনো মাধ্যমে পাওয়া যায়নি। ফলে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিটিকে ফেসবুকে ভিন্ন ক্যাপশনে রাজনৈতিক রূপ দিয়ে প্রচার করা হয়েছে। তাই সবকিছু বিবেচনা করে ভাইরাল হওয়া ছবিটির সাথে সংশ্লিষ্ট দাবিকে ফ্যাক্টওয়াচ মিথ্যা হিসেবে সাব্যস্ত করেছে। ফ্যাক্টচেকিং প্রতিষ্ঠানগুলো বলছে, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময় থেকে দেশ বিদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যম, বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট এবং কিছু ফেসবুক পেজ থেকে বাংলাদেশকে ঘিরে নানা ভুয়া তথ্য ছড়ানোর প্রবণতা বেড়েছে। এসব অপতথ্য বিশেষ করে বিগত অন্তর্বর্তী সরকার, চব্বিশের আন্দোলনে অংশ নেওয়া দল, সরকার গঠনের পর বিএনপিকে লক্ষ্য করে ছড়ানো হয়। দেশে চলমান গুজব ও ভুয়া তথ্য ছড়ানো ঠেকাতে ফ্যাক্টওয়াচ কাজ করছে। প্রতিষ্ঠানটি ইউনিভার্সিটি অব লিবারেল আর্টস বাংলাদেশ এবং সেন্টার ফর ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড কোয়ালিটেটিভ স্টাডিজ (সিকিউএস) পরিচালিত স্বাধীন ফ্যাক্ট-চেকিং সংস্থা। সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভুয়া ভিডিও, বিভ্রান্তিকর তথ্য ও গুজব ছড়ানোর ঘটনা বেড়েছে। ফ্যাক্টওয়াচ সেসব বিষয় নিয়মিতভাবে যাচাই করে সত্য তুলে ধরছে এবং গুজব প্রতিরোধে কাজ করছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত