রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির জয় • সহকর্মী বেচে থাকতেই তাঁর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে শিখি • রিসোর্টের ট্র্যাজেডি আমাদের কী শেখায় • নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন • মেসির জোড়া গোলে আটলান্টাকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল ইন্টার মায়ামি • জুনে সতর্কবার্তা, অক্টোবরে দশ মৃত্যু: টুপটুপ রিসোর্টের আগুন থেকে শিক্ষা • পটিয়া ভূমি অফিসে নথি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি • বান্দরবান-চট্টগ্রামে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের দাবি • আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা • ওষুধের আগুন, রাষ্ট্রের পরীক্ষা: হ্যাজম্যাট প্রস্তুতি ও জবাবদিহি কোথায়?
জাতীয় পেনশনের টাকা তুলতে ক্যাশিয়ারের ঘুষ বাণিজ্য

পেনশনের টাকা তুলতে ক্যাশিয়ারের ঘুষ বাণিজ্য

ঠাকুরগাঁওয়ের বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের ক্যাশিয়ার আব্দুস সোবহান হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণীর অবসরপ্রাপ্ত এক কর্মচারীর কাছ থেকে সন্মানি ভাতা ও জিপিএফ এর টাকা তুলে দেওয়ার জন্য এযাবৎ ১৮ হাজার টাকা ঘুষ নিয়েছেন এবং পেনশনের টাকা তুলে দেওয়ার জন্য আরো ৭ হাজার ৫ শত টাকা দাবি করেছেন এমনটাই অভিযোগ করেছেন হাসপাতালের সদ্য অবসরপ্রাপ্ত শেফালী আকতার নামে চতুর্থ শ্রেণীর এক কর্মচারী।

শেফালী আকতার বলেন, আমি অবসরে যাওয়ার পর থেকে তার কাছে জিপিএফ ও সন্মানি ভাতা এবং পেনশনের টাকা তুলে দেওয়ার জন্য অনেক দিন ঘুরেছি। তিনি আমাকে পাত্তাই দেয়নি এবং বলেন টাকা ছাড়া কোনো কাজ হবে না। আমি বহু কষ্টে দিন কাটাচ্ছি। টাকা তুলে দেওয়ার জন্য তিনি আমার কাছে বিভিন্ন অংকের টাকা দাবি করেন। এযাবৎকালে তিনি আমার সন্মানি ভাতা তুলে দেওয়ার জন্য ৭ হাজার টাকা, জিপিএফ এর টাকা তুলে দেওয়ার জন্য ১০ হাজার টাকা, পেনশনের ফাইল ঠিক করার জন্য ১ হাজার টাকাসহ মোট ১৮ হাজার টাকা নিয়েছেন। সেদিন পেনশনের ফাইল ঠিক করার জন্য তিনি আমার কাছে ১ হাজার টাকা চাইলে আমি তাকে ৯ শত টাকা দেই। কিন্তু তিনি সেই টাকা আমার মুখের উপর ছুড়ে দিয়ে বলেন, এক হাজার টাকাই লাগবে, কোনো কম হবে না। পরে আমি একজনের কাছ থেকে ১০০ টাকা ধার করে এনে তাকে দেই।

এখন পেনশনের টাকা তুলে দেওয়ার জন্য আবার আমার কাছে ৭ হাজার ৫ শত টাকা চান। টাকা না দিলে কোনো কাজ হবে না। তিনি বলেন, আগে টাকা নিয়ে আস তারপর ফাইল জমা দিব, তার আগে না।

হাসপাতালে সাবেক ওই কর্মচারী অশ্রুসিক্ত হয়ে বলেন, পেনশনের টাকাটাই আমার শেষ সম্বল। আমার কোনো ছেলে নেই, আমার পাঁচ-পাঁচটি মেয়ে সন্তান নিয়ে এমনিতেই বিপদে আছি। স্বামী বিছানায় পড়ে আছেন, তারও ওষুধ কেনার টাকা নেই। নিজেরও তিনবার অপারেশন হয়েছে। প্রতিদিন আমার দুই-তিনশ টাকার ওষুধ কিনতে হয়। খুবই অসহায় ও মানবেতর জীবনযাপন করছি আমি। পেনশনের টাকা ছাড়া কোনো কাজই হবে না। এখন আমি কী করবো, ভেবে পাচ্ছি না। আমি আপনাদের সবার সহযোগিতা চাই, যাতে দ্রুত টাকাটা তুলতে পারি।

টাকা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে হাসপাতালের ক্যাশিয়ার আব্দুস সোবহান বলেন, আমি তার কাছে কোনো টাকা চাইনি।

পেনশনের টাকা পাইয়ে দিতে ঘুষ নেওয়ার ব্যাপারে জানতে চাইলে বালিয়াডাঙ্গী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পঃ পঃ কর্মকতা এ. এস.এম আলমাস হোসাইন বলেন, এবিষয়ে টাকা নেওয়ার কোনো নিয়ম নেই। ইতোমধ্যে বিষয়টি শেফালী ও আমাদের বিভিন্ন কর্মকর্তার কাছ থেকে শুনেছি এবং আমি সিভিলসার্জন স্যারের সঙ্গে কথা বলেছি। আমরা তার বিরুদ্ধে অভিযোগ দেব, তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।

খুঁজুন