একসময় যে খালের বুক চিরে ছুটত নৌকা, যার পানির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মাদারীপুরের মানুষের জীবন-জীবিকা, সেই ঐতিহ্যবাহী বরিশাল খালে আবারও প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ ও পলি জমে সংকুচিত হয়ে পড়া খালটির পুনঃখনন কাজের আজ উদ্বোধন করা হয়েছে।
আজ শনিবার সকালে মাদারীপুর পৌরসভার ইটেরপুল এলাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া বরিশাল খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, মাদারীপুর পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা।
পুনঃখনন শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন পর খালটির হারানো চেহারা ফিরে পাওয়ার আশায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি। খালটি আবার সচল হলে বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা কমবে, পানি নিষ্কাশনের পথ সহজ হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে বলে তাদের প্রত্যাশা।
ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল খালটি একসময় ছিল মাদারীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত সেই সময়, যখন খালের পানিতে ছোট-বড় নৌকা চলত। নৌপথে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত ছিল নিয়মিত। খালের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিরও নানা প্রয়োজন।
দখল, ভরাট, পলি ও ময়লা-আবর্জনায় খালের অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কালের পরিক্রমায় সেই পুরোনো চিত্র বদলে যায়। একসময় যে খাল ছিল শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ, সেটিই পরিণত হয় জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে।
২০২৫ সালের ২৭ জুন মাদারীপুর পৌরসভার উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইটেরপুল এলাকায় বরিশাল খালের পুনঃখনন শুরু হয়েছিল। এবার নতুন করে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খালটিকে আরও কার্যকরভাবে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলো।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, মাদারীপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় খালগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু খনন করলেই হবে না, খাল যাতে আবার দখল ও দূষণের কবলে না পড়ে, সেদিকেও কঠোর নজর দিতে হবে।
জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, মাদারীপুর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বরিশাল খালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, খালটির প্রাণ ফিরলে শুধু জলাবদ্ধতার সমস্যাই কমবে না, শহরের পরিবেশও বদলে যাবে। তবে তাদের দাবি, খননের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি খালের জায়গা দখল ও ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে।
এলাকার প্রবীণদের চোখে বরিশাল খাল শুধু একটি জলধারা নয়, এটি মাদারীপুরের অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক স্মৃতি। সেই হারিয়ে যাওয়া জলপথে আবার পানির স্বাভাবিক স্রোত ফিরবে—এমন প্রত্যাশা এখন ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ারপাড়ের মানুষের।
তারা বলেন, খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ সফল হলে একদিকে যেমন শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন পথ খুলবে, অন্যদিকে তেমনি ফিরে আসতে পারে মাদারীপুরের হারানো জলপথের সেই চেনা রূপ।
প্রাণ ফিরছে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল খালের
প্রাণ ফিরছে মাদারীপুরের ঐতিহ্যবাহী বরিশাল খালের
একসময় যে খালের বুক চিরে ছুটত নৌকা, যার পানির সঙ্গে জড়িয়ে ছিল মাদারীপুরের মানুষের জীবন-জীবিকা, সেই ঐতিহ্যবাহী বরিশাল খালে আবারও প্রাণ ফেরানোর উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। দীর্ঘদিনের দখল, দূষণ ও পলি জমে সংকুচিত হয়ে পড়া খালটির পুনঃখনন কাজের আজ উদ্বোধন করা হয়েছে। আজ শনিবার সকালে মাদারীপুর পৌরসভার ইটেরপুল এলাকায় অস্তিত্ব সংকটে পড়া বরিশাল খালের পুনঃখনন কাজের উদ্বোধন করেন মাদারীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন, জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার, মাদারীপুর পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু, পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা খন্দকার আবু আহমদ ফিরোজ ইলিয়াসসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। পুনঃখনন শুরু হওয়ায় দীর্ঘদিন পর খালটির হারানো চেহারা ফিরে পাওয়ার আশায় স্থানীয়দের মধ্যে দেখা দিয়েছে স্বস্তি। খালটি আবার সচল হলে বর্ষা মৌসুমে শহরের জলাবদ্ধতা কমবে, পানি নিষ্কাশনের পথ সহজ হবে এবং পরিবেশের ভারসাম্যও ফিরবে বলে তাদের প্রত্যাশা। ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ারপাড় পর্যন্ত প্রায় আট কিলোমিটার দীর্ঘ বরিশাল খালটি একসময় ছিল মাদারীপুরের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জলপথ। স্থানীয় প্রবীণদের স্মৃতিতে এখনও জীবন্ত সেই সময়, যখন খালের পানিতে
ছোট-বড় নৌকা চলত। নৌপথে পণ্য পরিবহন ও মানুষের যাতায়াত ছিল নিয়মিত। খালের সঙ্গে জড়িয়ে ছিল স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিরও নানা প্রয়োজন। দখল, ভরাট, পলি ও ময়লা-আবর্জনায় খালের অনেক অংশ সংকুচিত হয়ে পড়ে। কোথাও কোথাও পানির প্রবাহ প্রায় বন্ধ হয়ে যায়। কালের পরিক্রমায় সেই পুরোনো চিত্র বদলে যায়। একসময় যে খাল ছিল শহরের পানি নিষ্কাশনের অন্যতম পথ, সেটিই পরিণত হয় জলাবদ্ধতা ও দুর্গন্ধের অন্যতম কারণ হিসেবে। ২০২৫ সালের ২৭ জুন মাদারীপুর পৌরসভার উদ্যোগে ও জেলা প্রশাসনের সহযোগিতায় ইটেরপুল এলাকায় বরিশাল খালের পুনঃখনন শুরু হয়েছিল। এবার নতুন করে পুনঃখনন কাজের উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে খালটিকে আরও কার্যকরভাবে সচল করার উদ্যোগ নেওয়া হলো। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সংসদ সদস্য মো. জাহান্দার আলী মিয়া বলেন, মাদারীপুর শহরের জলাবদ্ধতা নিরসন ও পরিবেশ রক্ষায় খালগুলোকে সচল রাখা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শুধু খনন করলেই হবে না, খাল যাতে আবার দখল ও দূষণের কবলে না পড়ে, সেদিকেও কঠোর নজর দিতে হবে। জেলা প্রশাসক মর্জিনা আক্তার বলেন, খাল পুনঃখননের পাশাপাশি এর স্বাভাবিক প্রবাহ ও পরিবেশ বজায়
রাখতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়া হবে। খালে ময়লা-আবর্জনা না ফেলা এবং অবৈধ দখল প্রতিরোধে সবাইকে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পৌর প্রশাসক জেসমিন আক্তার বানু বলেন, মাদারীপুর শহরের পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থায় বরিশাল খালের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। পুনঃখননের মাধ্যমে খালটির পানিপ্রবাহ ফিরিয়ে আনার পাশাপাশি শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে এটি সহায়ক হবে বলে আশা করা হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই বলছেন, খালটির প্রাণ ফিরলে শুধু জলাবদ্ধতার সমস্যাই কমবে না, শহরের পরিবেশও বদলে যাবে। তবে তাদের দাবি, খননের পর নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণের পাশাপাশি খালের জায়গা দখল ও ময়লা ফেলার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। এলাকার প্রবীণদের চোখে বরিশাল খাল শুধু একটি জলধারা নয়, এটি মাদারীপুরের অতীতের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা এক স্মৃতি। সেই হারিয়ে যাওয়া জলপথে আবার পানির স্বাভাবিক স্রোত ফিরবে—এমন প্রত্যাশা এখন ইটেরপুল থেকে পাথুরিয়ারপাড়ের মানুষের। তারা বলেন, খালটি পুনঃখননের উদ্যোগ সফল হলে একদিকে যেমন শহরের জলাবদ্ধতা নিরসনে নতুন পথ খুলবে, অন্যদিকে তেমনি ফিরে আসতে পারে মাদারীপুরের হারানো জলপথের সেই চেনা রূপ।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত