চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন রেকর্ডসংখ্যক জাপানি ফুটবলার। তাদের মান, তুলনামূলক কম খরচ এবং চুক্তিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে খুবই কম ঝুঁকি থাকায় ইংলিশ ক্লাবগুলো জাপানি খেলোয়াড়দের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে।
গত সপ্তাহে মৌসুম শুরু হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবগুলোতে জাপানের ১০ জন খেলোয়াড় নিবন্ধিত ছিলেন। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়া জিওন সুজুকি ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নতুন সংযোজন। সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দিয়ে লন্ডনে ফিরেছেন। মিডফিল্ডার হিদেমাসা মরিতা যোগ দিয়েছেন হাল সিটিতে এবং দাইজেন মায়েদা সেল্টিক ছেড়ে ইপসউইচ টাউনে পাড়ি জমিয়েছেন।
তারা প্রিমিয়ার লিগে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত জাপানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাইটনের কাউরু মিতোমা, লিভারপুলের ওয়াতারু এন্দো এবং প্যালেসের দাইচি কামাদা।
এএফপিকে সিএএ বেসের ফিফা-নিবন্ধিত এজেন্ট জোয়েল প্যানিক বলেন, ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে ‘জাপানি খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত’- এমন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে।
প্রায় ৬০ জন জাপানি খেলোয়াড়কে প্রতিনিধিত্ব করা প্যানিক বলেন, “কোনো ক্লাব জাপানি খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে তার মানিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিত্ব, স্কোয়াডে একীভূত হওয়া কিংবা শৃঙ্খলা নিয়ে সমস্যায় পড়েছে এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই।”
তিনি আরও বলেন, “আগে দলগুলো যে ঝুঁকির কথা ভাবত, বিভিন্ন অজানা বিষয় নিয়ে যে ভয় ছিল, তা এখন অনেকটাই চলে গেছে। কারণ প্রতিটি সফল জাপানি খেলোয়াড়ের উদাহরণ অন্যদেরও আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।”
প্রিমিয়ার লিগে আরও রয়েছেন লিডসের আও তানাকা, টটেনহামের কোটা তাকাই এবং কভেন্ট্রি সিটির তাতসুহিরো সাকামোতো।
জাপানের হয়ে ৪১টি ম্যাচ খেলা মিডফিল্ডার তানাকা দুই বছর আগে জার্মান ক্লাব ফর্চুনা ডুসেলডর্ফ থেকে মাত্র ৩৩ লাখ পাউন্ডে লিডসে যোগ দেন।
২০০১ সালে জুনিচি ইনামোতো আর্সেনালে যোগ দিয়ে এক বছর পর ফুলহ্যামে চলে যাওয়ার পরও লিগে কোনো ম্যাচ না খেলেই ইংল্যান্ড ছেড়েছিলেন। সেই সময়ের তুলনায় ইংল্যান্ডে জাপানি খেলোয়াড়দের অবস্থান অনেক দূর এগিয়েছে।
এর মধ্যে সাফল্যও এসেছে। শিনজি কাগাওয়া, শিনজি ওকাজাকি, তাকুমি মিনামিনো এবং এন্দোর, সবাই লিগ শিরোপার পদক জিতেছেন।
২৪ বছর বয়সী সুজুকি গত সপ্তাহে ইতালির পার্মা থেকে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দিয়েছেন। তিনি মাঠে নামলে প্রিমিয়ার লিগে খেলা প্রথম জাপানি গোলরক্ষক হবেন।
জাপানের অভিজ্ঞ ফুটবল সাংবাদিক ইয়োশিউকি ওসুমি বলেন, “জাপানি গোলরক্ষক হিসেবে সে তার সময়ের চেয়ে ১০ বা ২০ বছর এগিয়ে আছে।”
তিনি বলেন, “সে যদি প্রিমিয়ার লিগে গোলরক্ষক হিসেবে খেলতে পারে, তাহলে জাপানি ফুটবলে তার বড় প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি।”
ইতোমধ্যেই ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে পারায় প্রিমিয়ার লিগে সুজুকির মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হবে।
অতীতে তার সব স্বদেশি এই সুবিধা পেতেন না। তবে এখন আরও বেশি জাপানি খেলোয়াড় বুঝতে পারছেন, ইউরোপে সফল হওয়ার জন্য ভাষা জানা অত্যন্ত গুররুত্বপূর্ণ।
প্রায় আট বছর সাউদাম্পটনে কাটানো ইয়োশিদা জোর দিতেন, তার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে বসা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে।
প্যানিক বলেন, “আরও বিশ্বমুখী মানসিকতা তৈরি করা, খেলোয়াড়দের মধ্যে এই বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরতে তিনি খুবই আগ্রহী ছিলেন।”
¦কাপে জাপানের বর্তমান প্রজন্মের জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড় কিংবা স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই এখন বেশ ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে।”
বেশিরভাগ জাপানি খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগে যাওয়ার আগে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস বা পর্তুগালের মতো ইউরোপের অন্য লিগে কিছু সময় কাটান।
চ্যাম্পিয়নশিপও এখন জনপ্রিয় আরেকটি ধাপ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের লিগে আটজন জাপানি খেলোয়াড় রয়েছেন।
প্রিমিয়ার লিগে জাপানি খেলোয়াড়ের রেকর্ড
প্রিমিয়ার লিগে জাপানি খেলোয়াড়ের রেকর্ড
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে খেলছেন রেকর্ডসংখ্যক জাপানি ফুটবলার। তাদের মান, তুলনামূলক কম খরচ এবং চুক্তিবদ্ধ করার ক্ষেত্রে খুবই কম ঝুঁকি থাকায় ইংলিশ ক্লাবগুলো জাপানি খেলোয়াড়দের প্রতি আগ্রহী হয়ে উঠেছে। গত সপ্তাহে মৌসুম শুরু হওয়ার সময় ইংল্যান্ডের শীর্ষ পর্যায়ের ক্লাবগুলোতে জাপানের ১০ জন খেলোয়াড় নিবন্ধিত ছিলেন। ট্রান্সফার উইন্ডো বন্ধ হওয়ার আগে এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দেওয়া জিওন সুজুকি ছিলেন সবচেয়ে আলোচিত নতুন সংযোজন। সাবেক আর্সেনাল ডিফেন্ডার তাকেহিরো তোমিয়াসু ক্রিস্টাল প্যালেসে যোগ দিয়ে লন্ডনে ফিরেছেন। মিডফিল্ডার হিদেমাসা মরিতা যোগ দিয়েছেন হাল সিটিতে এবং দাইজেন মায়েদা সেল্টিক ছেড়ে ইপসউইচ টাউনে পাড়ি জমিয়েছেন। তারা প্রিমিয়ার লিগে আগে থেকেই প্রতিষ্ঠিত জাপানি খেলোয়াড়দের সঙ্গে যোগ দিয়েছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন ব্রাইটনের কাউরু মিতোমা, লিভারপুলের ওয়াতারু এন্দো এবং প্যালেসের দাইচি কামাদা। এএফপিকে সিএএ বেসের ফিফা-নিবন্ধিত এজেন্ট জোয়েল প্যানিক বলেন, ইংলিশ ক্লাবগুলোর মধ্যে ‘জাপানি খেলোয়াড়কে দলে নেওয়া ভালো সিদ্ধান্ত’- এমন আত্মবিশ্বাস বেড়েছে। প্রায় ৬০ জন জাপানি খেলোয়াড়কে প্রতিনিধিত্ব করা প্যানিক বলেন, “কোনো ক্লাব জাপানি খেলোয়াড়কে দলে নিয়ে তার মানিয়ে নেওয়া, ব্যক্তিত্ব, স্কোয়াডে একীভূত হওয়া কিংবা শৃঙ্খলা নিয়ে
সমস্যায় পড়েছে এমন উদাহরণ খুব বেশি নেই।” তিনি আরও বলেন, “আগে দলগুলো যে ঝুঁকির কথা ভাবত, বিভিন্ন অজানা বিষয় নিয়ে যে ভয় ছিল, তা এখন অনেকটাই চলে গেছে। কারণ প্রতিটি সফল জাপানি খেলোয়াড়ের উদাহরণ অন্যদেরও আরও আত্মবিশ্বাসী করে তুলছে।” প্রিমিয়ার লিগে আরও রয়েছেন লিডসের আও তানাকা, টটেনহামের কোটা তাকাই এবং কভেন্ট্রি সিটির তাতসুহিরো সাকামোতো। জাপানের হয়ে ৪১টি ম্যাচ খেলা মিডফিল্ডার তানাকা দুই বছর আগে জার্মান ক্লাব ফর্চুনা ডুসেলডর্ফ থেকে মাত্র ৩৩ লাখ পাউন্ডে লিডসে যোগ দেন। ২০০১ সালে জুনিচি ইনামোতো আর্সেনালে যোগ দিয়ে এক বছর পর ফুলহ্যামে চলে যাওয়ার পরও লিগে কোনো ম্যাচ না খেলেই ইংল্যান্ড ছেড়েছিলেন। সেই সময়ের তুলনায় ইংল্যান্ডে জাপানি খেলোয়াড়দের অবস্থান অনেক দূর এগিয়েছে। এর মধ্যে সাফল্যও এসেছে। শিনজি কাগাওয়া, শিনজি ওকাজাকি, তাকুমি মিনামিনো এবং এন্দোর, সবাই লিগ শিরোপার পদক জিতেছেন। ২৪ বছর বয়সী সুজুকি গত সপ্তাহে ইতালির পার্মা থেকে অ্যাস্টন ভিলায় যোগ দিয়েছেন। তিনি মাঠে নামলে প্রিমিয়ার লিগে খেলা প্রথম জাপানি গোলরক্ষক হবেন। জাপানের অভিজ্ঞ ফুটবল সাংবাদিক ইয়োশিউকি ওসুমি বলেন, “জাপানি গোলরক্ষক হিসেবে সে তার সময়ের চেয়ে ১০
বা ২০ বছর এগিয়ে আছে।” তিনি বলেন, “সে যদি প্রিমিয়ার লিগে গোলরক্ষক হিসেবে খেলতে পারে, তাহলে জাপানি ফুটবলে তার বড় প্রভাব পড়বে বলে আমি মনে করি।” ইতোমধ্যেই ইংরেজিতে যোগাযোগ করতে পারায় প্রিমিয়ার লিগে সুজুকির মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াও সহজ হবে। অতীতে তার সব স্বদেশি এই সুবিধা পেতেন না। তবে এখন আরও বেশি জাপানি খেলোয়াড় বুঝতে পারছেন, ইউরোপে সফল হওয়ার জন্য ভাষা জানা অত্যন্ত গুররুত্বপূর্ণ। প্রায় আট বছর সাউদাম্পটনে কাটানো ইয়োশিদা জোর দিতেন, তার সঙ্গে মধ্যাহ্নভোজের টেবিলে বসা প্রত্যেক খেলোয়াড়কে ইংরেজিতে কথা বলতে হবে। প্যানিক বলেন, “আরও বিশ্বমুখী মানসিকতা তৈরি করা, খেলোয়াড়দের মধ্যে এই বিষয়টি জোর দিয়ে তুলে ধরতে তিনি খুবই আগ্রহী ছিলেন।” ¦কাপে জাপানের বর্তমান প্রজন্মের জাতীয় দলের নিয়মিত খেলোয়াড় কিংবা স্কোয়াডের খেলোয়াড়দের প্রায় সবাই এখন বেশ ভালোভাবে ইংরেজিতে কথা বলতে পারে।” বেশিরভাগ জাপানি খেলোয়াড় প্রিমিয়ার লিগে যাওয়ার আগে বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস বা পর্তুগালের মতো ইউরোপের অন্য লিগে কিছু সময় কাটান। চ্যাম্পিয়নশিপও এখন জনপ্রিয় আরেকটি ধাপ হয়ে উঠেছে। বর্তমানে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় স্তরের লিগে আটজন জাপানি খেলোয়াড় রয়েছেন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত