বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বিএইচবিএফসি ও রাকাবে নতুন এমডি নিয়োগ পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের প্রত্যাশায় কট্টর ডানপন্থি এএফডি জার্মানির গ্যোথে ইনস্টিটিউটের শাখা বন্ধ করবে রাশিয়া শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী কাল এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে : জাতিসংঘ সেউতায় অভিবাসী ঢল নিয়ে মরক্কোর পরিকল্পনার জোরালো প্রমাণ নেই: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ১৩ দেশের ২২ ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে না': মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী সব জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধিই সরকারের মূল লক্ষ্য : মীর হেলাল গ্রিন ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ছাত্রদল নেতা হামিমের
আন্তর্জাতিক পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের প্রত্যাশায় কট্টর ডানপন্থি এএফডি

পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের প্রত্যাশায় কট্টর ডানপন্থি এএফডি

সাবেক কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির একটি রাজ্যে রোববার গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনে কট্টর ডানপন্থি অলটারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) সহজেই জয়ী হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। দলটি প্রথমবারের মতো কোনো রাজ্য সরকার গঠনের নেতৃত্ব দেওয়ার লক্ষ্য নিয়েছে।

এএফডি এককভাবে সরকার পরিচালনার মতো পর্যাপ্ত ভোট পাবে কি না, তা নিশ্চিত নয়। তবে স্যাক্সনি-আনহাল্ট রাজ্যে ভোটে শীর্ষে থাকলে চ্যান্সেলর ফ্রিডরিশ মের্ৎসর ওপর চাপ বাড়বে। একই সঙ্গে অভিবাসনবিরোধী দলটির অবস্থান আরও শক্তিশালী হবে।
বার্লিন থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ খবর জানিয়েছে।

কয়েক মাস ধরে রাজ্যটিতে জনমত জরিপে এএফডির সমর্থন ৪০ শতাংশ বা তার বেশি রয়েছে। দলের প্রধান প্রার্থী উলরিখ জিগমুন্ড। ৩৫ বছর বয়সী এই জনপ্রিয় নেতা প্রচার সমাবেশে রকস্টারের মতো সংবর্ধনা পান। টিকটকে তার অনুসারীর সংখ্যাও অনেক।

তার নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির মধ্যে রয়েছে অনিয়মিত অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে ‘পুনঃঅভিবাসন ও বহিষ্কার’ অভিযান, সরকারি স্কুলে এলজিবিটিকিউ গৌরবের রংধনু পতাকা নিষিদ্ধ করা এবং নতুন বায়ুবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণ বন্ধ করা।

মস্কোপন্থি এই দল কমিউনিস্ট পূর্ব জার্মানির হারিয়ে যাওয়া দিনের প্রতি একধরণের নস্টালজিয়া এবং ১৯৮৯ সালে বার্লিন প্রাচীর পতনের কয়েক দশক পরও পশ্চিমাঞ্চলের সঙ্গে বিদ্যমান সম্পদের ব্যবধান নিয়ে অসন্তোষকে কাজে লাগিয়েছে।

জিগমুন্ড রোববার ‘ইতিহাস গড়ার’ অঙ্গীকার করেছেন। তিনি ২১ লাখ মানুষের এই ছোট রাজ্য থেকে রাজনৈতিক বিপ্লবের নেতৃত্ব দিয়ে তার প্রতিষ্ঠাবিরোধী দলকে ২০২৯ সালের জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ের পথে এগিয়ে নিতে চান।

বর্তমান রাজ্যপ্রধান ৪৭ বছর বয়সী স্বেন শুলৎসে। তিনি মের্ৎসের মধ্য-ডানপন্থি ক্রিশ্চিয়ান ডেমোক্রেটিক ইউনিয়ন (সিডিইউ) দলের নেতা এবং একাধিক দলের জোট সরকার পরিচালনা করছেন। তিনি মহাসড়কের পাশে বড় বড় বিলবোর্ড লাগিয়েছেন। সেখানে ভোটারদের সতর্ক করে বলা হয়েছে, ‘কট্টর ডানপন্থিরা খাদে নিয়ে যায়।’

এএফডির অনেক ভোটার বড় ধরনের পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা করলেও দলটির বিজয়ের সম্ভাবনা জার্মানির বড় অংশকে উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ ও হলোকাস্টের অন্ধকার ইতিহাসের দায় কাটিয়ে উঠতে জার্মানি দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা করে আসছে।

জার্মানির অভ্যন্তরীণ গোয়েন্দা সংস্থা বিএফভি এএফডি’র রাজ্য শাখাকে ‘কট্টর ডানপন্থি’ সংগঠন হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করেছে।

বিএফভির সর্বশেষ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, স্যাক্সনি-আনহাল্টের এএফডির অনেক রাজনীতিক ‘অভিবাসীদের হেয় করে এমন ভাষা ব্যবহার করেন।’ তারা নিয়মিত মুসলিম শরণার্থীদের অপরাধী হিসেবে চিহ্নিত করেন। সম্মিলিতভাবে তাদের এ ধরণের অবমাননা ‘মানবিক মর্যাদার নীতি’ লঙ্ঘন করে।

এএফডির সঙ্গে সহযোগিতা না করার ‘ফায়ারওয়াল’ নীতি অর্থাৎ এএফডির সঙ্গে অন্য প্রধান রাজনৈতিক দলগুলোর সহযোগিতা বা জোট না করার নীতি এখন পর্যন্ত সব প্রধান দলই বজায় রেখেছে। তবে ক্ষুদ্র বিএসডব্লিউ দলটি—যারা অর্থনীতির ক্ষেত্রে বামপন্থি হলেও অভিবাসনের বিষয়ে ডানদিকে ঝুঁকে আছে—এখন এএফডিকে সরকার গঠনে সমর্থন দেওয়ার সম্ভাবনার কথা জানিয়েছে।

মের্ৎস প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন, অর্থনীতির স্থবিরতা কাটিয়ে এবং অনিয়মিত অভিবাসন সীমিত করে এএফডির এক দশকের উত্থান থামাবেন। তবে এখন পর্যন্ত তাতে সাফল্য আসেনি। সাবেক প্রান্তিক দলটি জাতীয় পর্যায়ের জনমত জরিপেও নিয়মিত শীর্ষে রয়েছে।

রুর বিশ্ববিদ্যালয় বোখুমের অধ্যাপক অলিভার লেমবকে বলেন, ‘এএফডি যদি স্যাক্সনি-আনহাল্টের নির্বাচনে জয়ী হয়, তাহলে তা ফ্রিডরিশ মের্ৎসের ব্যক্তিগত পরাজয় হিসেবে বিবেচিত হবে।’

তিনি বলেন, ‘তার লক্ষ্য ছিল এএফডির ভোটের হার অর্ধেকে নামিয়ে আনা। এর পরিবর্তে এএফডি সিডিইউকে ছাড়িয়ে সবচেয়ে শক্তিশালী দল হয়েছে—এমনকি ফেডারেল পর্যায়েও। এই ফলাফলের ব্যক্তিগত দায় তার ওপরই বর্তায়।’

লেমবকে বলেন, রাজ্য নির্বাচনে জয় এটাই প্রমাণ করবে যে ‘ভোটের মাঠে ফায়ারওয়াল কৌশল ব্যর্থ হয়েছে। পরিস্থিতি কীভাবে সামাল দিতে হবে, মের্ৎস বা তার দল—কেউই তা জানে না।’

খুঁজুন