বৃহস্পতিবার, ৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে না': মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী সব জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সমৃদ্ধিই সরকারের মূল লক্ষ্য : মীর হেলাল গ্রিন ক্যাম্পাস গড়তে ঢাবিতে সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্পের প্রস্তাব ছাত্রদল নেতা হামিমের বিশ্বের পর্যটন ব্যবসায়ীদের নিয়ে ঢাকায় ‘বাংলাদেশ ট্রাভেল মার্ট’ শুরু প্রধানমন্ত্রীর প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সৌজন্য সাক্ষাৎ চাকরি বিধিমালা ও দাপ্তরিক ব্যবস্থাপনায় জ্ঞান থাকা জরুরি কর্মকর্তাদের : বিএসএফআইসি চেয়ারম্যান সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারে বিআরটিএতে হয়রানির অভিযোগ এসএসসি ও দাখিল ভোকেশনালের রেজিস্ট্রেশন শুরু হাইটেক পার্কের শিল্পপ্রতিষ্ঠানের বিদেশে অর্থ পাঠানোর প্রক্রিয়া সহজ করল বাংলাদেশ ব্যাংক পৌরসভার সমস্যা সমাধানে ‘মাই ফেনী’ অ্যাপের উদ্বোধন
আন্তর্জাতিক যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে না': মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী

যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে না': মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী

 ভেনেজুয়েলা তার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদের একটি বড় অংশ উত্তরাঞ্চলের প্রতিবেশী যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার পর ওয়াশিংটন ‘ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে’ এমন অভিযোগ নাকচ করেছেন মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী ক্রিস রাইট।

বুধবার ভেনেজুয়েলা সফরে গিয়ে দেশটির রাজধানী কারাকাসের বিমানবন্দরে এএফপিসহ অন্যান্য সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি এ সমালোচনা নাকচ করেন। কয়েক বিলিয়ন ডলারের একাধিক জ্বালানি চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি তদারক করতেই তিনি ভেনেজুয়েলা সফর করেন। 

কারাকাস থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এ কবর জানিয়েছে।

বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্রমাণিত তেলের মজুত রয়েছে ভেনেজুয়েলায়। দেশটির ৬৫ বিলিয়ন ব্যারেলের বেশি তেল—যা মোট মজুতের প্রায় ২০ শতাংশ—যুক্তরাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে যাওয়ার কথা রয়েছে।

এই চুক্তি থেকে ২৫ বছরে ২০৯ বিলিয়ন ডলার আয় হবে বলে ধারণা করছে কারাকাস।

রাইট বলেন, ‘আমি এসব শিরোনাম দেখেছি।’ তিনি বলেন ‘আমরা ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছি।’ অবশ্যই, এটি একেবারেই সত্য নয়।’

তিনি বলেন,  ‘ভেনেজুয়েলার তেল আসলে ভেনেজুয়েলার জনগণের মালিকানাধীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘বেসরকারি কোম্পানিগুলো তেল উত্তোলনের জন্য অর্থ বিনিয়োগ করছে। তবে এর সুবিধা, রয়্যালটি ও কর সবই ভেনেজুয়েলা সরকার এবং দেশটির জনগণের কাছে যাবে।’

তিনি বলেন, ‘আমরা যা করছি তা হলো মাটির নিচে পড়ে থাকা এমন একটি সম্পদ কাজে লাগানো, যা ভেনেজুয়েলার জনগণের কোনো কাজে আসছে না। সেখানে অর্থ ও প্রযুক্তি নিয়ে গিয়ে সম্পদটি উন্নয়ন করা হচ্ছে।’

ভেনেজুয়েলার বিদ্যুৎ খাত সংস্কারের গুরুত্বও তুলে ধরেন রাইট। দেশটির বড় একটি অংশে প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকছে না।

তিনি বলেন, তেল খাত সচল রাখতেও বিদ্যুতের প্রয়োজন।

‘দুটিই আপনার প্রয়োজন,’ উল্লেখ করে তিনি ভেনেজুয়েলার ‘বিদ্যমান বিদ্যুৎ অবকাঠামো’ কাজে লাগানোর বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাঁচ বছরের একটি পরিকল্পনার আওতায় এই অবকাঠামো আবার কাজে লাগানো সম্ভব বলে তিনি মনে করেন।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার ঘোষিত এই চুক্তিকে ‘বিশ্বের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় তেল চুক্তি’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন।

বুধবার এর আগে ভেনেজুয়েলায় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান নাকচ করেন ট্রাম্প। অন্তর্বর্তী সরকার ও বিরোধী দলের কয়েকটি অংশের মধ্যে ওয়াশিংটনের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনা গণতান্ত্রিক নির্বাচনের পথ তৈরি করবে—এমন আশার মধ্যে তিনি এ কথা বলেন।

ট্রাম্প বলেন, ‘আমি মনে করি না, তারা এখনো প্রস্তুত। জানেন, বিষয়টি খুবই নতুন। আমরা তাদের একটি স্বৈরশাসন থেকে বের করে এনেছি এবং সরকারের সঙ্গে আমাদের খুব ভালো সম্পর্ক চলছে।’

জানুয়ারিতে মার্কিন বাহিনী ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করে। এরপর থেকে মাদুরোর সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট ডেলসি রড্রিগেজ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার পরিচালনা করছেন।

ট্রাম্পের সরাসরি প্রভাবের মধ্যে কার্যত দেশ পরিচালনাকারী রড্রিগেজও বলেছেন, ‘ভেনেজুয়েলা প্রস্তুত হলে’ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।

রাইট স্পষ্ট করে বলেন, নির্বাচন একটি ‘প্রক্রিয়া’। তিনি বলেন, এর আগে ভেনেজুয়েলার সুপ্রিম কোর্টের সংস্কারসহ বিভিন্ন সংস্কার করা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন হয়নি। অবকাঠামো প্রস্তুত করার কাজ অব্যাহত রাখা হবে এবং উপযুক্ত সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।’
রাইট বলেন, জনগণের ভোটের আগে দেশ ও অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘নির্বাচন সম্পন্ন হতে যত সময়ই লাগুক, আপনি বসে থেকে অপেক্ষা করতে চাইবেন না।’

খুঁজুন