রাঙামাটি বন বিভাগে বদলি বাণিজ্য, জোত পারমিট প্রদান এবং প্রশাসনিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে বন সংরক্ষক (সিএফ) আবদুল আউয়াল সরকার, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হক মাহমুদ মোর্শেদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে বদলি ও পদায়ন এবং জোত পারমিটসংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া প্রয়োজন।
অভিযোগে বলা হয়েছে, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমার সঙ্গে সখ্যের মাধ্যমে বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও চেক স্টেশনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া বা অনিয়মতান্ত্রিক জোত পারমিট অনুমোদন এবং বদলি-পদায়ন ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডে সিএফ আবদুল আউয়াল সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।
সম্পদ ও ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ
বাবুরাম চাকমার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির পাশাপাশি অবৈধ কাঠের ব্যবসা পরিচালনা, ভুয়া জোত পারমিট তৈরি এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি শহরে তাঁর একাধিক বহুতল ভবন, পাহাড়ি জমি ও বাগান রয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যটন রুটে চলাচলের জন্য তাঁর মালিকানায় ১০টি বাণিজ্যিক যানবাহন রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে।
খাগড়াছড়ি শহরে চারতলাবিশিষ্ট একটি বাড়ি থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা ভাড়া পাওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদ, ব্যবসার প্রকৃত মালিকানা এবং আয়ের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া না গেলে দাবিগুলো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়।
বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
অভিযোগ অনুযায়ী, বাবুরাম চাকমা সম্প্রতি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের মেরুং রেঞ্জ থেকে অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনায়ন বিভাগ, রাঙামাটিতে পদায়ন পেয়েছেন। এ পদায়নের জন্য সিএফ আবদুল আউয়াল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে।
এ ছাড়া কুতুকছড়ি রেঞ্জে রেঞ্জার হিসেবে পদায়নের জন্য ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদকে ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পদে যোগদান ও পদ শূন্য থাকার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।
তবে কথিত অর্থ লেনদেন, বদলির আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি বা তদন্তের ফলাফল ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই।
নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি
বাবুরাম চাকমার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, সম্পদ গোপন এবং পাহাড়ের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রয়োজন।
অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বদলি-পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, জোত পারমিট প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে।
এ বিষয়ে সিএফ আবদুল আউয়াল সরকার, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমা এবং ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
রাঙামাটি বন বিভাগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সিএফ আবদুল আউয়াল ও ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদ
রাঙামাটি বন বিভাগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সিএফ আবদুল আউয়াল ও ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদ
রাঙামাটি বন বিভাগে বদলি বাণিজ্য, জোত পারমিট প্রদান এবং প্রশাসনিক অনিয়মকে কেন্দ্র করে বন সংরক্ষক (সিএফ) আবদুল আউয়াল সরকার, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমা ও বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) হক মাহমুদ মোর্শেদের বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেনসহ নানা অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, বন বিভাগের বিভিন্ন পর্যায়ে প্রভাব খাটিয়ে বদলি ও পদায়ন এবং জোত পারমিটসংক্রান্ত অনিয়মের মাধ্যমে একটি প্রভাবশালী চক্র দীর্ঘদিন ধরে অনৈতিক সুবিধা নিয়ে আসছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ পাওয়া প্রয়োজন। অভিযোগে বলা হয়েছে, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমার সঙ্গে সখ্যের মাধ্যমে বন বিভাগের বিভিন্ন রেঞ্জ ও চেক স্টেশনে অনিয়মের সুযোগ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি ভুয়া বা অনিয়মতান্ত্রিক জোত পারমিট অনুমোদন এবং বদলি-পদায়ন ঘিরে আর্থিক লেনদেনের অভিযোগও সামনে এসেছে। এসব কর্মকাণ্ডে সিএফ আবদুল আউয়াল সরকারের ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। সম্পদ ও ব্যবসা নিয়েও অভিযোগ বাবুরাম চাকমার বিরুদ্ধে সরকারি চাকরির পাশাপাশি অবৈধ কাঠের ব্যবসা পরিচালনা, ভুয়া জোত পারমিট তৈরি এবং বনাঞ্চল ধ্বংসের মাধ্যমে বিপুল সম্পদ অর্জনের
অভিযোগ আনা হয়েছে। অভিযোগে আরও দাবি করা হয়েছে, খাগড়াছড়ি ও রাঙামাটি শহরে তাঁর একাধিক বহুতল ভবন, পাহাড়ি জমি ও বাগান রয়েছে। এ ছাড়া খাগড়াছড়ি থেকে সাজেক পর্যটন রুটে চলাচলের জন্য তাঁর মালিকানায় ১০টি বাণিজ্যিক যানবাহন রয়েছে বলেও অভিযোগ করা হয়েছে। খাগড়াছড়ি শহরে চারতলাবিশিষ্ট একটি বাড়ি থেকে মাসে প্রায় দুই লাখ টাকা ভাড়া পাওয়ার দাবিও করা হয়েছে। তবে এসব সম্পদ, ব্যবসার প্রকৃত মালিকানা এবং আয়ের উৎস সম্পর্কে স্বাধীনভাবে যাচাই করা তথ্য বা প্রামাণ্য নথি পাওয়া না গেলে দাবিগুলো নিশ্চিতভাবে বলা সম্ভব নয়। বদলি ও পদায়নে অর্থ লেনদেনের অভিযোগ অভিযোগ অনুযায়ী, বাবুরাম চাকমা সম্প্রতি ঝুম নিয়ন্ত্রণ বন বিভাগের মেরুং রেঞ্জ থেকে অশ্রেণিভুক্ত বনাঞ্চল বনায়ন বিভাগ, রাঙামাটিতে পদায়ন পেয়েছেন। এ পদায়নের জন্য সিএফ আবদুল আউয়াল সরকারকে পাঁচ লাখ টাকা ঘুষ দেওয়ার অভিযোগ করা হয়েছে। এ ছাড়া কুতুকছড়ি রেঞ্জে রেঞ্জার হিসেবে পদায়নের জন্য ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদকে ২৫ লাখ টাকা উৎকোচ দেওয়ার অভিযোগও সামনে এসেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, সংশ্লিষ্ট পদে যোগদান ও পদ শূন্য
থাকার নিয়ম যথাযথভাবে অনুসরণ করা হয়েছে কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তবে কথিত অর্থ লেনদেন, বদলির আদেশ এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের ভূমিকা সম্পর্কে নির্ভরযোগ্য নথি বা তদন্তের ফলাফল ছাড়া এসব অভিযোগকে প্রমাণিত ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করার সুযোগ নেই। নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি বাবুরাম চাকমার বিরুদ্ধে প্রভাব বিস্তার, সম্পদ গোপন এবং পাহাড়ের বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর সঙ্গে যোগাযোগ থাকার অভিযোগও করা হয়েছে। তবে এসব দাবির পক্ষে স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রমাণ প্রয়োজন। অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে বদলি-পদায়নে কোনো আর্থিক লেনদেন হয়েছে কি না, জোত পারমিট প্রদানের ক্ষেত্রে বিধিবিধান লঙ্ঘন করা হয়েছে কি না এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সম্পদের উৎস কী—এসব বিষয় খতিয়ে দেখার দাবি উঠেছে। এ বিষয়ে সিএফ আবদুল আউয়াল সরকার, ডেপুটি রেঞ্জার বাবুরাম চাকমা এবং ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদের বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে অভিযোগগুলোর সত্যতা নির্ধারণ এবং প্রমাণ পাওয়া গেলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন অভিযোগকারীরা।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত