৮১ বছর বয়সেও আমার মায়ের হাতে বই। এই অভ্যাসের শুরু ১৯৫৮ সালে, তেতৈতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট পাঠাগারে, এক আদর্শ শিক্ষকের হাত ধরে। গ্রামের মানুষ তাঁকে ডাকতেন ‘নোয়াখালীর স্যার’।
শৈশবে মা প্রথমদিকে বিদ্যালয়ে যেতে চাইতেন না। কিন্তু নোয়াখালীর স্যার তাঁকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রতি মায়ের অনীহা দেখে তিনি নিজেই বাড়িতে এসে প্রথম দিন মাকে আদর-যত্ন করে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু সেদিনই নয়, পরবর্তী সময়েও অত্যন্ত মমতা ও যত্নের সঙ্গে তাঁকে লেখাপড়া শেখাতেন। একজন শিক্ষকের এমন পিতৃসুলভ স্নেহ ও আন্তরিক পরিচর্যায় মায়ের মনে শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়। সেই ভালোবাসা আজও অমলিন।
আমাদের ভাইবোনদের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক আমাদের মা। জ্ঞান-বুদ্ধির উন্মেষের পর থেকেই তিনি তাঁর অর্জিত বিদ্যা, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ আমাদের মধ্যে স্নেহভরে বিলিয়ে আসছেন। আর মায়ের এই জ্ঞানযাত্রার অন্যতম আদর্শ ছিলেন তাঁর সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক।
মা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন এবং শ্রেণিতে প্রথম হতেন। বিদ্যালয়ের পাঠাগারে ছিল নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের অনেক বই। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়ার প্রতি মায়ের যে গভীর আগ্রহ, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন এই শিক্ষকই।
মায়ের ফুফু, সাইফুদ্দিন বাবুল মামার মা, ছিলেন মায়ের সহপাঠী। তাঁকেও স্যার নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লেখাপড়া শেখাতেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রতি তাঁর এই আন্তরিক স্নেহ আজও আমাদের পারিবারিক স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে।
স্যারের প্রকৃত নাম মৌলভী ফজলুল হক। নোয়াখালী থেকে এসেছিলেন বলে গ্রামে ওই নামেই তাঁর পরিচিতি গড়ে ওঠে। তিনি ছিলেন তেতৈতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক।
আমার নানা, মা এবং বড় ভাই—একই পরিবারের তিন প্রজন্ম তাঁর কাছে পাঠ নিয়েছেন। এ কথা ভাবলেই তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতাজীবনের বিস্তৃতি ও প্রভাবের গভীরতা অনুভব করি।
তিনি ১৯৩৫ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা করার পর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু অবসর তাঁর শিক্ষাদানের পথ থামাতে পারেনি। গ্রামবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তিনি আরও কয়েক বছর গ্রামে শিক্ষাদান অব্যাহত রেখেছিলেন।
তেতৈতলা গ্রামের ৫৫ বছরের বেশি বয়সী যাঁরা একসময় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই তাঁর ছাত্রছাত্রী।
তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব আউয়াল সাহেব, উপপরিচালক রশিদ সাহেব ও বাচ্চু সাহেব, প্রধান শিক্ষক কবির মাস্টার, অধ্যাপক সারফুদ্দিন,প্রকৌশলী আমির, প্রকৌশলী মোজাফফর হোসেন মজনু এবং ডাঃ শফিকুল ইসলাম স্বপন সহ বিভিন্ন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত বহু ব্যক্তিত্ব।
তাঁদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে দিতে এই আদর্শ শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতাজীবনের এক উজ্জ্বল স্মারক।
তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদে ও ঈদের নামাজে ইমামতি করতেন। বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ সব বিষয় পড়াতেন, আর মসজিদে শিক্ষা দিতেন পবিত্র কোরআন শরিফ। তাঁর শিক্ষাদান পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; শিক্ষার্থীদের তিনি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবতার পাঠ দিতেন। তাঁর কাছে শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়, বরং আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার পথ।
তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। তাঁর চেহারা ছিল নূরানি; আচার-আচরণ ও চলাফেরা ছিল অত্যন্ত শালীন। জ্ঞান, ধর্মবোধ ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর ব্যক্তিত্বে।
মায়ের শৈশব ও ছাত্রীজীবনের স্মৃতিচারণা অসংখ্যবার শুনেছি। প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে এই মহান শিক্ষকের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। বিশেষ করে, প্রথম দিন মাকে বাড়ি থেকে আদর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আমার হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে।
স্যারকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবু মায়ের মুখে তাঁর কথা শুনতে শুনতে তিনি আমার কাছে এক অদেখা অথচ অত্যন্ত পরিচিত মানুষ হয়ে উঠেছেন। আমার হৃদয়পটে আঁকা আছে তাঁর একটি ছবি।
তিনি আমার আত্মীয় নন, তবু আমার অনুভূতিতে আত্মীয়ের চেয়েও আপন। তিনি সরাসরি আমার শিক্ষক নন, কিন্তু তাঁর স্নেহধন্য সুযোগ্য ছাত্রী আমার মা-ই আমার প্রথম শিক্ষক।
সেই অর্থে তিনি আমার শিক্ষকের শিক্ষক।
মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, বই পড়ার অভ্যাস আর মানুষকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষা—এসবের পেছনে তাঁর অবদানও জড়িয়ে আছে। তাঁর শিক্ষার আলো একটি প্রজন্মে থেমে থাকেনি; মায়ের মাধ্যমে তা পৌঁছেছে আমাদের কাছেও।
আমার অনুভূতিতে তিনি আছেন, থাকবেন। প্রায়ই মনে হয়, আমি যেন তাঁকে দেখি—মায়ের স্মৃতির ভেতর, পুরোনো দিনের গল্পের ফাঁকে। পরম শ্রদ্ধায় মনে মনে তাঁর সঙ্গে কথা বলি। তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত।
দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে শিক্ষার বিস্তারের পাশাপাশি আজ আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন এমন আদর্শ শিক্ষক, যাঁরা পাঠদানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন।
প্রকৃত শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের গ্রাম, শহর তথা সমগ্র রাষ্ট্রে এমন ফজলুল হকদের বড় প্রয়োজন—যাঁরা শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, মানুষের অন্তরে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার বীজও বপন করেন।
যাঁদের স্নেহের স্পর্শে বিদ্যালয়ে যেতে না চাওয়া একটি শিশুও একদিন বইকে আজীবনের সঙ্গী করে নিতে পারে।
মৌলভী ফজলুল হক ১০ মে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন।
মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
আমার মায়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ‘নোয়াখালীর স্যার
আমার মায়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ‘নোয়াখালীর স্যার
৮১ বছর বয়সেও আমার মায়ের হাতে বই। এই অভ্যাসের শুরু ১৯৫৮ সালে, তেতৈতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছোট্ট পাঠাগারে, এক আদর্শ শিক্ষকের হাত ধরে। গ্রামের মানুষ তাঁকে ডাকতেন ‘নোয়াখালীর স্যার’। শৈশবে মা প্রথমদিকে বিদ্যালয়ে যেতে চাইতেন না। কিন্তু নোয়াখালীর স্যার তাঁকে নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন। বিদ্যালয়ে যাওয়ার প্রতি মায়ের অনীহা দেখে তিনি নিজেই বাড়িতে এসে প্রথম দিন মাকে আদর-যত্ন করে বিদ্যালয়ে নিয়ে গিয়েছিলেন। শুধু সেদিনই নয়, পরবর্তী সময়েও অত্যন্ত মমতা ও যত্নের সঙ্গে তাঁকে লেখাপড়া শেখাতেন। একজন শিক্ষকের এমন পিতৃসুলভ স্নেহ ও আন্তরিক পরিচর্যায় মায়ের মনে শিক্ষার প্রতি গভীর ভালোবাসা জন্ম নেয়। সেই ভালোবাসা আজও অমলিন। আমাদের ভাইবোনদের প্রথম ও প্রধান শিক্ষক আমাদের মা। জ্ঞান-বুদ্ধির উন্মেষের পর থেকেই তিনি তাঁর অর্জিত বিদ্যা, অভিজ্ঞতা ও মূল্যবোধ আমাদের মধ্যে স্নেহভরে বিলিয়ে আসছেন। আর মায়ের এই জ্ঞানযাত্রার অন্যতম আদর্শ ছিলেন তাঁর সেই শ্রদ্ধেয় শিক্ষক। মা পঞ্চম শ্রেণি পর্যন্ত লেখাপড়া করেছেন এবং শ্রেণিতে প্রথম হতেন। বিদ্যালয়ের পাঠাগারে ছিল নৈতিকতা ও ধর্মীয় মূল্যবোধ বিকাশের অনেক বই। পাঠ্যপুস্তকের বাইরে বই পড়ার প্রতি মায়ের যে গভীর আগ্রহ, তার ভিত্তি গড়ে দিয়েছিলেন এই শিক্ষকই। মায়ের ফুফু, সাইফুদ্দিন বাবুল মামার মা, ছিলেন মায়ের সহপাঠী। তাঁকেও স্যার নিজের সন্তানের মতো স্নেহ করতেন এবং অত্যন্ত যত্নের সঙ্গে লেখাপড়া শেখাতেন। একই পরিবারের একাধিক সদস্যের প্রতি তাঁর এই আন্তরিক স্নেহ আজও আমাদের পারিবারিক স্মৃতিতে উজ্জ্বল হয়ে আছে। স্যারের প্রকৃত নাম মৌলভী ফজলুল হক। নোয়াখালী থেকে এসেছিলেন বলে গ্রামে ওই নামেই তাঁর পরিচিতি গড়ে ওঠে। তিনি ছিলেন তেতৈতলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক। আমার নানা, মা এবং বড় ভাই—একই পরিবারের তিন প্রজন্ম তাঁর
কাছে পাঠ নিয়েছেন। এ কথা ভাবলেই তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতাজীবনের বিস্তৃতি ও প্রভাবের গভীরতা অনুভব করি। তিনি ১৯৩৫ সাল থেকে ১৯৭৮ সাল পর্যন্ত দীর্ঘ ৪৩ বছর শিক্ষকতা করার পর তিনি অবসর গ্রহণ করেন। কিন্তু অবসর তাঁর শিক্ষাদানের পথ থামাতে পারেনি। গ্রামবাসীর ভালোবাসা ও শ্রদ্ধায় তিনি আরও কয়েক বছর গ্রামে শিক্ষাদান অব্যাহত রেখেছিলেন।তেতৈতলা গ্রামের ৫৫ বছরের বেশি বয়সী যাঁরা একসময় বিদ্যালয়ে পড়াশোনা করেছেন, তাঁদের প্রায় সবাই তাঁর ছাত্রছাত্রী। তাঁর ছাত্রদের মধ্যে রয়েছেন কৃষি অধিদপ্তরের পরিচালক জনাব আউয়াল সাহেব, উপপরিচালক রশিদ সাহেব ও বাচ্চু সাহেব, প্রধান শিক্ষক কবির মাস্টার, অধ্যাপক সারফুদ্দিন,প্রকৌশলী আমির, প্রকৌশলী মোজাফফর হোসেন মজনু এবং ডাঃ শফিকুল ইসলাম স্বপন সহ বিভিন্ন পেশায় সুপ্রতিষ্ঠিত বহু ব্যক্তিত্ব। তাঁদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি গড়ে দিতে এই আদর্শ শিক্ষকের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল। বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁদের প্রতিষ্ঠা ও সাফল্য তাঁর দীর্ঘ শিক্ষকতাজীবনের এক উজ্জ্বল স্মারক। তিনি শিক্ষকতার পাশাপাশি মসজিদে ও ঈদের নামাজে ইমামতি করতেন। বিদ্যালয়ে বাংলা, ইংরেজি, গণিতসহ সব বিষয় পড়াতেন, আর মসজিদে শিক্ষা দিতেন পবিত্র কোরআন শরিফ। তাঁর শিক্ষাদান পাঠ্যপুস্তকের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল না; শিক্ষার্থীদের তিনি নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও মানবতার পাঠ দিতেন। তাঁর কাছে শিক্ষা মানে শুধু পরীক্ষায় ভালো ফল করা নয়, বরং আদর্শ মানুষ হয়ে ওঠার পথ। তিনি সর্বস্তরের মানুষের কাছে প্রিয় ও শ্রদ্ধাভাজন ছিলেন। তাঁর চেহারা ছিল নূরানি; আচার-আচরণ ও চলাফেরা ছিল অত্যন্ত শালীন। জ্ঞান, ধর্মবোধ ও মানবিকতার অপূর্ব সমন্বয় ঘটেছিল তাঁর ব্যক্তিত্বে। মায়ের শৈশব ও ছাত্রীজীবনের স্মৃতিচারণা অসংখ্যবার শুনেছি। প্রতিবারই কোনো না কোনোভাবে এই মহান শিক্ষকের প্রসঙ্গ উঠে এসেছে। বিশেষ করে, প্রথম দিন মাকে বাড়ি থেকে আদর করে বিদ্যালয়ে নিয়ে যাওয়ার ঘটনাটি আমার
হৃদয় গভীরভাবে স্পর্শ করে। স্যারকে দেখার সৌভাগ্য আমার হয়নি। তবু মায়ের মুখে তাঁর কথা শুনতে শুনতে তিনি আমার কাছে এক অদেখা অথচ অত্যন্ত পরিচিত মানুষ হয়ে উঠেছেন। আমার হৃদয়পটে আঁকা আছে তাঁর একটি ছবি। তিনি আমার আত্মীয় নন, তবু আমার অনুভূতিতে আত্মীয়ের চেয়েও আপন। তিনি সরাসরি আমার শিক্ষক নন, কিন্তু তাঁর স্নেহধন্য সুযোগ্য ছাত্রী আমার মা-ই আমার প্রথম শিক্ষক। সেই অর্থে তিনি আমার শিক্ষকের শিক্ষক। মায়ের কাছ থেকে পাওয়া জ্ঞান, বই পড়ার অভ্যাস আর মানুষকে শ্রদ্ধা করার শিক্ষা—এসবের পেছনে তাঁর অবদানও জড়িয়ে আছে। তাঁর শিক্ষার আলো একটি প্রজন্মে থেমে থাকেনি; মায়ের মাধ্যমে তা পৌঁছেছে আমাদের কাছেও।আমার অনুভূতিতে তিনি আছেন, থাকবেন। প্রায়ই মনে হয়, আমি যেন তাঁকে দেখি—মায়ের স্মৃতির ভেতর, পুরোনো দিনের গল্পের ফাঁকে। পরম শ্রদ্ধায় মনে মনে তাঁর সঙ্গে কথা বলি। তাঁর প্রতি আমার ভালোবাসা ও কৃতজ্ঞতা হৃদয়ের গভীরে প্রোথিত। দেশে শিক্ষার হার বাড়ছে, শিক্ষার্থী ও শিক্ষকের সংখ্যাও বাড়ছে। তবে শিক্ষার বিস্তারের পাশাপাশি আজ আমাদের আরও বেশি প্রয়োজন এমন আদর্শ শিক্ষক, যাঁরা পাঠদানের সঙ্গে শিক্ষার্থীদের হৃদয়ে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার আলো জ্বালিয়ে দেন। প্রকৃত শিক্ষার মানোন্নয়নে আমাদের গ্রাম, শহর তথা সমগ্র রাষ্ট্রে এমন ফজলুল হকদের বড় প্রয়োজন—যাঁরা শুধু পাঠ্যবই পড়ান না, মানুষের অন্তরে জ্ঞান, নৈতিকতা ও মানবিকতার বীজও বপন করেন। যাঁদের স্নেহের স্পর্শে বিদ্যালয়ে যেতে না চাওয়া একটি শিশুও একদিন বইকে আজীবনের সঙ্গী করে নিতে পারে। মৌলভী ফজলুল হক ১০ মে ১৯৯০ খ্রিষ্টাব্দে মহান আল্লাহর ডাকে সাড়া দেন।মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাতুল ফেরদাউসের উচ্চ মাকাম দান করুন। আমিন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত