বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিভিন্ন কার্যালয়ে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রত্যাশিত সুবিধা না পেলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ কিংবা বেনামি চিঠি পাঠানোর ভয় দেখানো হয়।
এমন পরিস্থিতিতে বিআরটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এতে দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক পরিবেশের পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে।
সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিআরটিএ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময় সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও ব্যাখ্যা চান। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কর্মকর্তা বা দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে আর্থিক কিংবা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা।
কয়েকজন কর্মকর্তা জানান, এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে দুর্নীতি দমন কমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার কথা বলা হয়। ফলে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে।
ঢাকার মিরপুরের ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ইকুরিয়ার ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২, দিয়াবাড়ীর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ এবং ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ কার্যালয়েও একই ধরনের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালিকানা বদলি, গাড়ির নিবন্ধন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন শাখায় কখনো কখনো সেবাপ্রার্থীদের পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। কারও কারও বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করে কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিআরটিএ কর্মকর্তা বলেন, নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিতে হয়। তার দাবি, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দাবি পূরণ না হলে বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করার হুমকি দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব ঘটনার সঙ্গে বিআরটিএকেন্দ্রিক কিছু দালালচক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের স্বার্থ আদায়ে তারা সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করতে পারে। এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এলে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়। তবে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে কর্মকর্তা, কর্মচারী বা সেবাগ্রহীতার ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন।
ভুক্তভোগীদের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা দাবি, চাপ প্রয়োগ কিংবা মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারে বিআরটিএতে হয়রানির অভিযোগ
সাংবাদিক পরিচয়ের অপব্যবহারে বিআরটিএতে হয়রানির অভিযোগ
বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) বিভিন্ন কার্যালয়ে সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের ওপর চাপ সৃষ্টি এবং অনৈতিক সুবিধা চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের অভিযোগ, প্রত্যাশিত সুবিধা না পেলে বিভিন্ন সরকারি দপ্তরে অভিযোগ কিংবা বেনামি চিঠি পাঠানোর ভয় দেখানো হয়। এমন পরিস্থিতিতে বিআরটিএর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, প্রকৃত সাংবাদিকতার পরিচয়কে কাজে লাগিয়ে একটি মহল ব্যক্তিগত স্বার্থ হাসিলের চেষ্টা করছে। এতে দাপ্তরিক কাজের স্বাভাবিক পরিবেশের পাশাপাশি সেবাপ্রার্থীদের কার্যক্রমও ব্যাহত হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কয়েকটি বিআরটিএ কার্যালয়ে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, বিভিন্ন সময় সাংবাদিক পরিচয়ে কিছু ব্যক্তি কর্মকর্তাদের কাছে গিয়ে বিভিন্ন বিষয়ে তথ্য ও ব্যাখ্যা চান। অভিযোগ রয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত তথ্য-প্রমাণ ছাড়াই কর্মকর্তা বা দপ্তরের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করা হয়। পরে এসব অভিযোগকে কেন্দ্র করে আর্থিক কিংবা অন্য কোনো সুবিধা নেওয়ার চেষ্টা করা হয় বলেও অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। কয়েকজন কর্মকর্তা
জানান, এ ধরনের দাবি প্রত্যাখ্যান করা হলে দুর্নীতি দমন কমিশন, সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়, বিআরটিএর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন দপ্তরে অভিযোগ করার কথা বলা হয়। ফলে নিয়মিত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি এসব অভিযোগের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কর্মকর্তাদের অতিরিক্ত চাপের মুখে পড়তে হচ্ছে। ঢাকার মিরপুরের ঢাকা মেট্রো সার্কেল-১, ইকুরিয়ার ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২, দিয়াবাড়ীর ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৩ এবং ঢাকা মেট্রো সার্কেল-৪ কার্যালয়েও একই ধরনের অভিযোগের কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, মালিকানা বদলি, গাড়ির নিবন্ধন এবং ড্রাইভিং লাইসেন্স-সংক্রান্ত বিভিন্ন শাখায় কখনো কখনো সেবাপ্রার্থীদের পাশাপাশি সাংবাদিক পরিচয় দেওয়া ব্যক্তিদের আনাগোনা লক্ষ্য করা যায়। কারও কারও বিরুদ্ধে দলবদ্ধভাবে অবস্থান করে কর্মকর্তাদের কাছে বিভিন্ন দাবি উপস্থাপনের অভিযোগও রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক বিআরটিএ কর্মকর্তা বলেন, নিয়মিত দাপ্তরিক কাজের পাশাপাশি বিভিন্ন অভিযোগের জবাব দিতে হয়। তার দাবি, সাংবাদিক পরিচয় ব্যবহার করে কেউ কেউ কর্মকর্তাদের ওপর চাপ সৃষ্টি করেন এবং দাবি পূরণ না হলে
বিভিন্ন জায়গায় অভিযোগ করার হুমকি দেওয়া হয়। সংশ্লিষ্টদের ধারণা, এসব ঘটনার সঙ্গে বিআরটিএকেন্দ্রিক কিছু দালালচক্রের যোগসূত্র থাকতে পারে। অভিযোগ রয়েছে, নিজেদের স্বার্থ আদায়ে তারা সাংবাদিক পরিচয়ধারী ব্যক্তিদের ব্যবহার করতে পারে। এমন কর্মকাণ্ড অব্যাহত থাকলে একদিকে সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মপরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, অন্যদিকে পেশাদার সাংবাদিকদের ভাবমূর্তিও ক্ষুণ্ন হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিআরটিএ সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দায়িত্বশীল সাংবাদিকরা তথ্য সংগ্রহের উদ্দেশ্যে এলে তাদের প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়। তবে সাংবাদিকতার পরিচয় ব্যবহার করে কেউ যাতে কর্মকর্তা, কর্মচারী বা সেবাগ্রহীতার ওপর অনৈতিক চাপ সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে নজরদারি আরও জোরদার করা প্রয়োজন। ভুক্তভোগীদের দাবি, সাংবাদিক পরিচয়ের আড়ালে অনৈতিক সুবিধা দাবি, চাপ প্রয়োগ কিংবা মিথ্যা অভিযোগের মাধ্যমে হয়রানির অভিযোগ উঠলে তা নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা উচিত। একই সঙ্গে প্রকৃত সাংবাদিকদের পেশাগত মর্যাদা অক্ষুণ্ন রেখে ভুয়া পরিচয় ব্যবহারকারীদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত