রবিবার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নেপালকে হারিয়ে বাংলাদেশের স্বস্তির জয় • সহকর্মী বেচে থাকতেই তাঁর দুঃসময়ে পাশে দাঁড়াতে শিখি • রিসোর্টের ট্র্যাজেডি আমাদের কী শেখায় • নজরুল ও সিতির শিরশ্ছেদ মানবাধিকার ও কূটনৈতিক শিষ্টাচারের লঙ্ঘন • মেসির জোড়া গোলে আটলান্টাকে ৩-১ ব্যবধানে হারাল ইন্টার মায়ামি • জুনে সতর্কবার্তা, অক্টোবরে দশ মৃত্যু: টুপটুপ রিসোর্টের আগুন থেকে শিক্ষা • পটিয়া ভূমি অফিসে নথি বাণিজ্য ও ঘুষের অভিযোগ, দুদকের তদন্ত দাবি • বান্দরবান-চট্টগ্রামে কাঠ পাচারের অভিযোগ, বন কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে লাখ লাখ টাকা ঘুষের দাবি • আমি জ্ঞানের শহর, আলী তার দরজা • ওষুধের আগুন, রাষ্ট্রের পরীক্ষা: হ্যাজম্যাট প্রস্তুতি ও জবাবদিহি কোথায়?
জাতীয় সিলেটে আবারও বন্যা

সিলেটে আবারও বন্যা

টানা বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা উজানের ঢলে সিলেট জেলায় আবারও বন্যায় দেখা দিয়েছে। বন্যা পরিস্থিতির দ্রুত অবনতি হচ্ছে।

জেলার সদর, কোম্পানীগঞ্জ, গোয়াইনঘাট, জৈন্তাপুর, কানাইঘাট, জকিগঞ্জ, গোলাপগঞ্জ ও ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে।

জেলার অন্তত ৫ শতাধিক গ্রাম ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে বলে বৃহস্পতিবার দুপুরে জানিয়েছে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন।

এদিকে সুরমা নদীর তীর উপচে আবারও পানি ঢুকছে সিলেট নগরীতে। নগরীর সুরমা নদীর তীরবর্তী এলাকার বাসা-বাড়ি, ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বন্যা কবলিত হয়ে পড়ছে।

নগরীর শাহজালাল উপশহর, তেররতন, ছড়ারপাড়, কালিঘাট, তালতলা, জামতলা, শেখঘাটসহ ৮-১০টি এলাকা ইতিমধ্যে প্লাবিত হয়েছে। এসব এলাকার মূল সড়ক, অলি-গলি, বাসা-বাড়ি, দোকানপাটে পানি ঢুকেছে। ফলে আর্থিক ক্ষতি ও চরম দুর্ভোগে পড়েছেন মানুষ। ভারী বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সিলেট পানি উন্নয়ন (পাউবো) বোর্ড সূত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত সিলেটের প্রধান দুই নদী সুরমা ও কুশিয়ারাসহ অন্যান্য নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি অব্যাহত ছিল।

সুরমা নদীর পানি কানাইঘাট পয়েন্টে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৯৯ সেন্টিমিটার, সিলেট পয়েন্টে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ২৫ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। কুশিয়ারা নদীর পানি ফেঞ্চুগঞ্জে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩ সেন্টিমিটার, সারি নদীর পানি সারিঘাটে বিপৎসীমার শূন্য দশমিক ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

পাউবো প্রকৌশলী আসিফ আহমদ জানান, পাহাড়ি ঢল ও বৃষ্টি অব্যাহত থাকায় পানি ক্রমশ বাড়ছে। নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

নগরীর কিছু এলাকা ছাড়াও জেলার ৫ শতাধিক গ্রাম ইতিমধ্যে বন্যাকবলিত হয়েছে। এসব এলাকার অনেক সরকারি দপ্তর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানেও পানি ঢুকেছে। ফলে স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে।

এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফের বন্যা দেখা দেওয়ায় মানুষ ভোগান্তিতে পড়েছেন। 

বৃহস্পতিবার দুপুরে সিলেট নগরীর বন্যাকবলিত বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায় মানুষ কিছুদিন আগের বন্যার ক্ষতি কাটিয়ে উঠার আগেই আবারও বন্যার ক্ষতি ও দুর্ভোগের মুখে পড়েছেন।

অনেকের বাসা-বাড়িতে পানি ঢুকে আসবাবপত্র ভিজে নষ্ট হচ্ছে। ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকায় আর্থিক ক্ষতি হচ্ছে আরও বেশি।

তালতলা এলাকার আবদুস সালাম বলেন, ১৫দিন আগে বন্যায় যে ক্ষতি হয়েছিল, সেটাই কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এখন আবারও বন্যা। এই ক্ষতি ও দুর্ভোগ কীভাবে মোকাবিলা করবো বুঝে উঠতে পারছি না।

এদিকে কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, সীমান্তবর্তী এই উপজেলায় বন্যা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি হয়েছে। বানের পানিতে তলিয়ে গেছে উপজেলার বেশির ভাগ ঘরবাড়ি, জনপদ, রাস্তাঘাট। পানিতে সড়ক তলিয়ে যাওয়ায় সিলেট জেলা সদরের সঙ্গে কোম্পানীগঞ্জের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। তলিয়ে গেছে সকল হাট বাজার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা লুসিকান্ত হাজং জানান, বন্যার্তদের সহায়তায় উপজেলা প্রশাসন আন্তরিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। 

সিলেটের জেলা প্রশাসক মো. মজিবর রহমান বলেন, জেলায় বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় যেসব স্থানে আশ্রয়কেন্দ্র খোলা প্রয়োজন সেখানে আশ্রয়কেন্দ্র খুলতে উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া পর্যাপ্ত ত্রাণ বিতরণেরও ব্যবস্থা করা হচ্ছে।

খুঁজুন