মঙ্গলবার, ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দেশের খবর শখ থেকেই আফসানা, ইশরাত আজ সফল নারী উদ্যোক্তা

শখ থেকেই আফসানা, ইশরাত আজ সফল নারী উদ্যোক্তা

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রী আফসানা আফরিন। পড়ালেখার পাশাপাশি তিনি একজন ক্ষুদ্র নারী উদ্যোক্তা। রান্না করেন। রান্না করা খাবার অনলাইনে বিক্রি করেন। রান্না করা তার শখ। সেই শখই এখন তার আয়ের উৎস। মাত্র ৮ হাজার টাকা নিয়ে শুরু করেছিলেন আফসানা। ফেসবুকে তার ‘অবসরের দিনলিপি’ অ্যালবাম খুব জনপ্রিয়। বর্তমানে পাঁচজন কো-ওয়ার্কার নিয়ে কাজ করছেন আফসানা।

অবসরের দিনলিপিতে পাওয়া যায় ফুড আইটেম। নবাবি সেমাই, মিষ্টি, নিমকি, পিঠা, মুগ পাকন পিঠা, গরুর কালাভুনা, স্পাইসি চিকেন, পোলাও-রোস্ট, লাঞ্চবক্স ইত্যাদি, যার মূল্য ৮৫ থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকার মধ্যে। ফুড আইটেমের চাহিদা বেশি। তবে ডেলিভারি দিতে অনেক সমস্যা। বাংলাদেশে ফুড ডেলিভারি দেয় এমন কোম্পানির সংখ্যা খুব কম। আর ডেলিভারি চার্জ অনেক বেশি, যা ক্রেতাদের অনলাইনে খাবার নিতে নিরুৎসাহিত করে।

‘চুই ঝাল নির্বাচিত ১০০ রান্না’ বইয়ে তার একটি রেসিপি স্থান পেয়েছে। জাতীয় দৈনিক সংবাদপত্রের লাইফস্টাইল পাতায় তার রান্নার রেসিপি প্রকাশিত হয়েছে। এ ছাড়া কুকাপস জিরোক্যাল ডেজার্টস কনটেস্ট ২০১৯-এ শীর্ষ ১৬-এর মধ্যে ছিলেন তিনি।

আফসানা পরিবেশ সুরক্ষায়ও কাজ করেন। তেলের বোতল, চিপসের প্যাকেট, পানির বোতল, দইয়ের হাঁড়ি আমরা ফেলে দিই। অথচ আফসানা এগুলোতে বাগান করার পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। এ বিষয়ে আফসানা বলেন, ‘আমাদের মতো উন্নয়নশীল দেশে চাইলেই প্লাস্টিকের ব্যবহার শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনা যাবে না। বিকল্প না আসা পর্যন্ত প্লাস্টিকের ব্যবহার থাকবেই। তবে রিইউজ করে কিছুটা হলেও দূষণ কমানো সম্ভব। অর্থনৈতিক ক্ষতি লাঘব করা যায়।’

গত তিন বছরে আফসানা অসংখ্য গাছ লাগিয়েছেন। মাত্র ৩০০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে সুন্দর ছোট একটি বাগান করা যায়। নিত্যনতুন আইডিয়া, উদ্ভাবনী চিন্তায় আফসানার জুড়ি নেই। বিশ্ব পরিবেশ দিবসের পুরস্কার পেয়েছেন তিনি।

আফসানার মতোই আরেকজন বরিশালের মেয়ে ইশরাত জাহান। ছোটবেলা থেকেই তার কাগজ দিয়ে এটা-সেটা বানানোর ঝোঁক। বিভিন্ন ধরনের ফুল, নৌকা, প্রজাপতি, পাখি, বিড়াল, মাছ, ব্যাঙ তৈরি করতে পারতেন। আশপাশের সবাই তা মুগ্ধ হয়ে দেখতেন। ছোটবেলার এ শখ এখন আর শখ নেই। শখ থেকে সাফল্য এসেছে, আবার আয়ের উৎসও হয়েছে। কাগজ দিয়ে ব্যতিক্রমী সব জিনিস বানাচ্ছেন তিনি।

স্নাতক শেষ করেছেন কিছুদিন আগে। পড়াশোনার পাশাপাশি তার ‘পার্পল’ নামে একটি প্রতিষ্ঠান রয়েছে। মা-বাবার সঙ্গে বরিশাল থাকেন তিনি। ফেলনা সব বস্তু দিয়ে প্রথম স্ক্র্যাপবুক বানান তিনি। জুতার বাক্স দিয়ে বানানো হয় মূল কাঠামো।

ইশরাত জানালেন, তার স্ক্র্যাপবুকের ৭০ শতাংশ জিনিসই ফেলনা। যেমন, পুরোনো জুতার বাক্স, পুরোনো ক্যালেন্ডারের কাগজ ইত্যাদি। তার অবাক করা কাজ হলো, এই স্ক্র্যাপবুকের ভিডিওটি ফেসবুকে আপলোড করতেই তুমুল সাড়া পড়ে। তিনি জানালেন, ইউটিউবে ইশরাতের ‘পার্পল হ্যান্ডিক্রাফট’ নামে একটি চ্যানেল আছে। ব্যতিক্রমী সব কাজের টিউটোরিয়াল আছে সেখানে। পার্পল দিয়ে ইশরাত পুরোপুরিভাবে ব্যবসা শুরু করেন ২০১৭ সাল থেকে।

ইশরাত যেসব জিনিস বানান সেগুলো হলো—মোমের ওপর ছবির সঙ্গে ছোট একটি বার্তা অথবা উইশ টেক্সট, রিং বুক, ফোল্ডিং স্ক্র্যাপবুক, ফোল্ডিং কার্ড, ইভেন্ট বা পার্টির জন্য প্রপস, বার্থডে হ্যাট, বার্থডে ক্রাউন, ব্যানার, পেইন্টেড ব্যাকড্রপ, ফ্লাওয়ার, কেক টপার, যেকোনো দাওয়াতপত্র (জন্মদিন, বিয়ে, গায়ে হলুদ, পার্টিসহ যেকোনো সামাজিক অনুষ্ঠানের কার্ড), বার্থডে, অ্যানিভার্সারি, ফ্রেন্ডশিপ, মাদার্স ডে, সরি কার্ড, থ্যাংক ইউ কার্ড, ঈদ কার্ড—এক কথায় যেকোনো ধরনের কার্ড। বিভিন্ন ডিজাইনের মোম, কাগজের স্টিকার ইত্যাদিও রয়েছে। তবে বেচাকেনার পুরোটাই অনলাইনে।

ইশরাত জানালেন, ফেসবুক পেজে অর্ডার নেওয়া হয়। কেউ কেউ ইউটিউব ভিডিও দেখেও অর্ডার করেন। ছবি দেওয়ার ব্যাপারে ব্যবহার করা হয় হোয়াটসঅ্যাপ, মেইল। ডেলিভারি বরিশালের বাইরে হলে কুরিয়ারে করা হয়।

আয় কেমন হচ্ছে—প্রশ্ন শুনে মুচকি হাসির রেখা মিলল ইশরাতের মুখে। হাসিমুখেই তিনি বললেন, ‘পেপার ক্রাফটে লাভ অন্য সব ক্রাফটিংয়ের থেকে ভালোই। চাকরির পাশাপাশি এ কাজ করে বাড়তি আয় সম্ভব। শিক্ষার্থীরাও পড়াশোনার পাশাপাশি এ কাজ করতে পারে। তারাতো অনলাইনে বেশি সময় কাটায়, এসব নিয়ে একটু স্টাডি করলে সমস্যা কোথায়?’

নিজের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সম্পর্কে ইশরাত বলেন, ‘নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী আমার কাজের নিদর্শন রেখে যেতে চাই তরুণ সমাজের জন্য।’

খুঁজুন