শুক্রবার, ১০ জুলাই ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমার ওপরে ৫ নদীর পানি

টানা বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলে বিপৎসীমার ওপরে ৫ নদীর পানি

দেশজুড়ে টানা ভারী বর্ষণ এবং ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের কারণে দেশের অন্তত পাঁচটি প্রধান নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। শুক্রবার (১০ জুলাই) সকাল ৯টা পর্যন্ত প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র (এফএফডব্লিউসি) এক বিশেষ বুলেটিনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, পরিস্থিতি সবচেয়ে বেশি আশঙ্কাজনক দেশের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চল এবং উত্তর-পূর্বাঞ্চলে। একই সঙ্গে দেশের প্রধান নদীগুলোর ১২৭ পর্যবেক্ষণ স্টেশনের মধ্যে ৭৯টি পয়েন্টে পানি বৃদ্ধি পেয়েছে। যেসব নদী বিপৎসীমার ওপরে বইছে: বুলেটিনে জানানো হয়, দেশের পার্বত্যাঞ্চল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলের অন্তত ৫টি নদীর ১০টি স্টেশনে পানি এখন বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে: ১. সাঙ্গু নদ: বান্দরবান পয়েন্টে বিপৎসীমার ৯৫ সেন্টিমিটার এবং চট্টগ্রামের দোহাজারী পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ২. মাতামুহুরী নদী: বান্দরবানের লামা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৪৭ সেন্টিমিটার এবং কক্সবাজারের চিরিঙ্গা (চকরিয়া) পয়েন্টে ৩২ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৩. মনু নদ: মৌলভীবাজারের মনু রেলওয়ে ব্রিজ পয়েন্টে বিপৎসীমার ৩৫ সেন্টিমিটার এবং মৌলভীবাজার সদর পয়েন্টে ৮০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৪. কুশিয়ারা নদী: সুনামগঞ্জের মারকুলি পয়েন্টে বিপৎসীমার ১৮ সেন্টিমিটার এবং সিলেটের ফেঞ্চুগঞ্জ পয়েন্টে ১০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। ৫. খোয়াই নদী: হবিগঞ্জের বাল্লা পয়েন্টে বিপৎসীমার ৬০ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর ও বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট লঘুচাপের কারণে কয়েক দিন ধরে উপকূলীয় এবং পাহাড়ি এলাকায় অতি ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের অভ্যন্তরে সর্বোচ্চ ২০৩ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে চট্টগ্রামে। অন্যদিকে ভারতের উজানে মেঘালয়ের চেরাপুঞ্জিতে ১০৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। উজান ও দেশের অভ্যন্তরের এই যুগপৎ ভারী বর্ষণের ফলে নদীগুলোর পানি দ্রুত বৃদ্ধি পাচ্ছে। সতর্কাবস্থায় আরও নদী: বিপৎসীমা অতিক্রম না করলেও বেশ কয়েকটি প্রধান নদীর পানি সতর্কসীমায় বা বিপৎসীমার অত্যন্ত কাছাকাছি অবস্থান করছে। এর মধ্যে রয়েছে: নীলফামারীর ডালিয়া, লালমনিরহাটের কাউনিয়া ও গাইবান্ধার তারাপুর পয়েন্টে তিস্তা নদী। সিলেটের কানাইঘাট, সুনামগঞ্জের ছাতক পয়েন্টে সুরমা নদী। মৌলভীবাজারের শেরপুর পয়েন্টে কুশিয়ারা নদী। নেত্রকোণার কলমাকান্দা পয়েন্টে সোমেশ্বরী নদী। নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ পয়েন্টে ছোট ফেনী নদী। সমুদ্রবন্দরে ৩ নম্বর সতর্কসংকেত: সক্রিয় মৌসুমী বায়ুর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগর এলাকায় গভীর সঞ্চালনশীল মেঘ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলে বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা এবং সমুদ্রবন্দরগুলোর ওপর দিয়ে ঝোড়ো হাওয়া বয়ে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। আবহাওয়া অধিদপ্তর চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্রবন্দরকে ৩ নম্বর স্থানীয় সতর্কসংকেত দেখিয়ে যেতে বলেছে। উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারগুলোকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে। পরবর্তী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টার পূর্বাভাস: বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টায় বান্দরবান, চট্টগ্রাম ও কক্সবাজারের নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলগুলোর বন্যা পরিস্থিতির ধীরগতিতে উন্নতি হতে পারে। তবে ফেনী, খাগড়াছড়ি, সিলেট, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা, শেরপুর ও ময়মনসিংহ জেলার নদীসংলগ্ন নিম্নাঞ্চলে স্বল্পমেয়াদি আকস্মিক বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া লালমনিরহাট, নীলফামারী এবং রংপুর জেলার তিস্তা নদী অববাহিকার নিম্নাঞ্চলেও কোথাও কোথাও স্বল্পমেয়াদি বন্যার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

খুঁজুন