Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

৩০ টাকা রিচার্জের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করল গ্রামীণফোন

প্রকাশিত:বুধবার ১০ জানুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

রিচার্জের সর্বনিম্ন সীমা ৩০ টাকা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছে গ্রামীণফোন। বুধবার (১০ জানুয়ারি) থেকে এটি কার্যকর হওয়ার কথা ছিল।

গ্রামীণফোনের হেড অব কমিউনিকেশন শরফুদ্দিন আহমেদ জানিয়েছেন, আমরা বিটিআরসির সাথে কথা বলবো এবং আলোচনার ভিত্তিতে পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবো।

সম্প্রতি এসএমএস এর মাধ্যমে গ্রামীণফোন গ্রাহকদের জানিয়েছিল, প্রিয় গ্রাহক, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে সর্বনিম্ন রিচার্জ এমাউন্ট ৩০ টাকা করা হবে। তবে ৩০ টাকার নিচের রিচার্জ অফার এবং স্ক্র্যাচকার্ড আগের মত ব্যবহার করা যাবে।

মাইজিপি অ্যাপের মাধ্যমেও প্রতিষ্ঠানটি গ্রাহকদের জানিয়েছিল, আগামী ১০ জানুয়ারি থেকে সর্বনিম্ন রিচার্জ অ্যামাউন্ট ৩০ টাকা হয়ে যাবে।

বর্তমানে গ্রামীণফোনের গ্রাহকরা সর্বনিম্ন ২০ টাকা রিচার্জ করতে পারেন। ২০২২ সালের জুলাই থেকে সর্বনিম্ন রিচার্জের পরিমাণ ২০ টাকা করা হয়। এর আগে সর্বনিম্ন ১০ টাকা রিচার্জ করা যেত।


আরও খবর



পাকিস্তানে সরকার গঠন কোন পথে

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

পাকিস্তানে সাধারণ নির্বাচনের ফল ঘোষণার পর নতুন অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। সাবেক দুই প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফ ও ইমরান খান আগামী সরকার গঠনের দাবি করেছেন। তবে বিশৃঙ্খলা ও মেরুকরণ এড়াতে ঐক্য প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন দেশটির ক্ষমতাধর সেনাপ্রধান। বিশ্লেষকরা বলছেন, স্থিতিশীল সরকার গঠন করা সম্ভব না হলে পাকিস্তানের সংকট ও অস্থিতিশীলতা আরও বাড়বে।

২৬৫ আসনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন ঘোষিত ২৫৬ আসনের প্রাথমিক ফলাফলে ইমরান খানের দল পিটিআই-সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরাই সবচেয়ে বেশি ৯৩টি আসনে জয়ী হয়েছেন। আসনসংখ্যায় দ্বিতীয় স্থানে থাকা সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পিএমএল-এন পেয়েছে ৭৩টি আসন। তৃতীয় স্থানে বিলাওয়াল ভুট্টো জারদারির পিপিপি পেয়েছে ৫৪টি আসন। এ ছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৩৩টি আসন। দেশটিতে এবার সরকার গঠনে প্রয়োজন হবে ১৩৪টি আসনে জয়লাভ।

সবচেয়ে বেশি আসন পাওয়া পিটিআই চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার গহর খান জানিয়েছেন, তারা পিএমএল-এন ও পিপিপির সঙ্গে জোট গড়বেন না। অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা শুরুর কথা জানিয়েছেন তিনি। কেন্দ্র ও প্রাদেশিক সরকার গঠনের লক্ষ্যে এই আলোচনায় ব্যারিস্টার গহর খানের সঙ্গে থাকবেন আসাদ কায়সার, আলি মুহাম্মদ খান প্রমুখ।

পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম জিও নিউজ জানিয়েছে, কেন্দ্র ও পাঞ্জাবে সরকার গঠনে সম্মত হয়েছে পিএমএল-এন ও পিপিপি। পিএমএল-এন নেতা শাহবাজ শরিফ পাঞ্জাবের তত্ত্বাবধায়ক মুখ্যমন্ত্রী মোহসিন নাকভির বাড়িতে পিপিপি নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। পিপিপি নেতা আসিফ আলি জারদারির সঙ্গে ওই বৈঠকে পিএমএল-এন নেতা নওয়াজ শরিফের বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। ৪৫ মিনিট স্থায়ী ওই বৈঠকে উভয় দল তাদের মতামত পরবর্তী বৈঠকে তুলে ধরতে সম্মত হয়েছে।

তবে ২০১৭ থেকে ২০১৮ সালে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করা পিএমএল-এন নেতা শহিদ খাকান আব্বাসি আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন, নওয়াজ শরিফের পরামর্শ মতো পিটিআইকে বাদ দিয়ে জোট সরকার গঠন করা হলে মারাত্মক অর্থনৈতিক সংকটে থাকা পাকিস্তানে অস্থিতিশীলতা ও অসন্তোষ বাড়বে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আব্বাসি বলেন, এসব নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে মারাত্মক সন্দেহ তৈরি হয়েছে। ফলে মানুষের চোখে তাদের কোনো বিশ্বাস যোগ্যতা থাকবে না। বৈধতা পাওয়ার একমাত্র উপায় হলো ইমরান খানকে যুক্ত করা। ইমরানকে বাদ রেখে যে কোনো সমাধান কাজে আসবে না। কিন্তু প্রশ্ন হলো, এস্টাবলিশমেন্ট কি সেটা গ্রহণ করবে?

আব্বাসি এস্টাবলিশমেন্ট বলতে সেনাবাহিনীকে বুঝিয়েছেন। অনেকে মনে করেন সামরিক নেতৃত্বের সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পার্লামেন্টে আস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতা হারিয়েছিলেন ইমরান খান। এবারের নির্বাচনে তার দল-সমর্থিত প্রার্থীদের ব্যাপক বিজয়ে সামরিক বাহিনীতে অস্বস্তি তৈরির আশঙ্কা করছেন অনেকে।

যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক এক বিশ্লেষক বলেছেন, পাকিস্তানে কোনো জোট সরকার গঠন হলে তাকে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় হিমশিম খেতে হবে। ওয়াশিংটনের মধ্যপ্রাচ্য ইনস্টিটিউটের আফগানিস্তান ও পাকিস্তান স্টাডিজের পরিচালক মারভিন ওয়েনবাউম কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরাকে বলেন, জোট সরকার সম্ভবত অস্থিতিশীল ও দুর্বল হবে এবং সবচেয়ে বেশি পরাজিত হবে সেনাবাহিনী। কারণ এই ভোট করতে দেওয়ার ক্ষমতার ওপর সেনাবাহিনী সত্যিই তার সুনাম বাজি ধরেছে।

নির্বাচনের আগে পিটিআই নেতাকর্মীদের ওপর যে ধরনের নিপীড়ন চলেছে, তাতে নির্বাচনের বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে বলে মনে করেন বিশ্লেষকদের কেউ কেউ। কলামিস্ট দানিয়েল আদম খান বলেন, রাজনৈতিক দমন-পীড়ন সম্পূর্ণ নজিরবিহীন নয়, তবে পাকিস্তানে নির্বাচনের আগে যেটা হয়েছে সেটা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার উপহাস। তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিরোধীপক্ষকে অপমানের সংস্কৃতি প্রসারে পিটিআইয়ের নিজস্ব ভূমিকা থাকা সত্ত্বেও নির্বাচনে তাদের সফলতা জনগণের সিদ্ধান্তের বিষয়।

রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেনজির শাহ পাকিস্তানের নির্বাচনে জালিয়াতির ইতিহাস মেনে নেওয়ার পরও বলেন, এবারের নির্বাচনে তরুণ ভোটাররা তাদের রায় শুনতে বাধ্য করেছেন। আল জাজিরাকে তিনি বলেন, পাকিস্তানের ১২ কোটি ৮০ লাখ ভোটারের মধ্যে ৪৫ শতাংশের বেশি হচ্ছে ১৮ থেকে ৩৫ বছরের মধ্যে। ঐতিহাসিকভাবে নির্বাচনে তারা বিপুল প্রভাব রাখেননি, কিন্তু এবারে ছিল তাদের ঝলক দেখানোর ও মতামত প্রকাশ করার মুহূর্ত।

ইতোমধ্যে নির্বাচনের কোনো স্পষ্ট ফলাফল না থাকার জেরে পাকিস্তানের সেনাপ্রধান জেনারেল আসিম মুনির সব রাজনৈতিক দলকে পরিপক্বতা ও ঐক্য প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, ২৫ কোটি জনসংখ্যার কোনো প্রগতিশীল দেশের জন্য রাজনৈতিক মেরুকরণ ভালো কিছু নয়। নির্বাচন কেবল প্রতিযোগিতায় জয় বা পরাজয় নয়, এটা জনগণের রায় নির্ধারণের এক ধরনের চর্চা।

এদিকে পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, নতুন সরকার যারাই গঠন করুক তাদের একাধিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। সবচেয়ে আগে যে চ্যালেঞ্জ নতুন সরকারের সামনে রয়েছে তা হলো, আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত পরিপালন। নতুন করে ঋণ পেতে হলে দেশটিকে বেশ কয়েকটি অগ্রগতি অর্জন করতে হবে। তবে উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও ধীর প্রবৃদ্ধির কারণে এসব শর্ত পূরণে মারাত্মক চ্যালেঞ্জে পড়বে সরকার।

গত আগস্ট থেকে কারাগারে বন্দি রয়েছেন ইমরান খান। বিভিন্ন মামলায় প্রায় ২৪ বছরের দণ্ড দেওয়া হয়েছে তাকে। নির্বাচনের ফলে এগিয়ে থাকার পরও সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী জেলে থাকলে নিশ্চিতভাবে ক্ষুব্ধ হবেন সমর্থকরা। তবে গতকাল শনিবার ইমরান খানের বিরুদ্ধে থাকা নয়টি মামলায় জামিন দিয়েছেন আদালত। সহিংসতার এসব মামলায় জামিন পেলেও তার মুক্তি এখনো সম্ভব নয়। নতুন সরকারকে এই রাজনৈতিক চাপও সামাল দিতে হবে।

নির্বাচনী প্রচারের সময়েও পাকিস্তানে সন্ত্রাসবাদের উত্থান ঘটতে দেখা গেছে। গত ১৮ মাসে দেশটিতে সন্ত্রাসী হামলা বেড়েছে। তবে পাকিস্তানের দুর্বল আর্থিক অবস্থা নতুন করে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান পরিচালনার খরচ জোগানো কষ্টসাধ্য করে তুলবে। এ ছাড়া আফগানিস্তান সীমান্তে সহিংসতা বেড়ে যাওয়ায় সীমান্ত সামাল দিতেও হিমশিম খেতে হবে।


আরও খবর



সরকার গঠনে নওয়াজ-জারদারি বৈঠক

প্রকাশিত:শনিবার ১০ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

পাকিস্তানের পার্লামেন্ট নির্বাচনে শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের দল পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফ পার্টি (পিটিআই) সমর্থিত স্বতন্ত্র প্রার্থীরা এগিয়ে রয়েছে। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে আরেক সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরিফের দল পাকিস্তান মুসলিম লিগ-নওয়াজ (পিএমএল-এন)।

তবে পিটিআই দল হিসেবে নির্বাচনে অংশ না নেয়ায় সরকার গঠনে তোড়জোর চালাচ্ছেন নওয়াজ শরিফ। এ জন্য তিনি তৃতীয় অবস্থানে থাকা পাকিস্তান পিপলস পার্টির (পিপিপি) সঙ্গে শুক্রবার (৯ ফেব্রুয়ারি) রাতেই বৈঠক করেছেন তিনি।

এরআগে, সন্ধ্যায় পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্রদের চেয়ে পিছিয়ে থেকেও বিজয় ভাষণ দেন নওয়াজ। লাহোরে পিএমএল-এনের কেন্দ্রীয় অফিস থেকে দেয়া বিজয় ভাষণে তিনি বলেন, জাতীয় পরিষদের নির্বাচনে পিএমএল-এন সবচেয়ে বড় দল হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। পিএমএল-এন পাকিস্তানকে সংকট থেকে উদ্ধার করেছে দাবি করে সাবেক এই প্রধানমন্ত্রী বলেন, ভবিষ্যতেও তার দল দেশের উন্নয়নে কাজ করে যাবে।

তবে ভাষণে পিএমএল-এন নেতা স্বীকার করেন সরকার গঠনের জন্য তার দল প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। জোট সরকার গঠনের জন্য অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে খুব শিগগিরই আলোচনা শুরু করবেন বলেও জানান তিনি।

এরপরই খবর আসে পিপিপির কো-চেয়ারর‌্যান আসিফ আলী জারদারির সঙ্গে বৈঠক করেছেন নওয়াজ শরিফ। পিপিপির সূত্রের বরাত দিয়ে ডনের প্রতিবেদনে বলা হয়, লাহোর দুই নেতার মধ্যে এই বৈঠক হয়েছে।

তবে বৈঠকে আর কারা উপস্থিত ছিলেন বা কী আলোচনা হয়েছে, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া নিয়েই আলোচনা হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

২০২২ সালে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানকে ক্ষমতা থেকে সরাতে পিপিপি ও পিএমএল-এন একসঙ্গে জোট করেছিল।

আল জাজিরার তথ্য বলছে, ২৬৬টি আসনের মধ্যে ২৫০টি আসনের ফলাফল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন।

এরমধ্যে পিটিআইয়ের স্বতন্ত্র প্রার্থীরা পেয়েছেন ৯৯টি আসন। আর নওয়াজ শরীফের মুসলিম লীগ-এন (পিএমএলএন) জয় পেয়েছে ৭১টি আসনে। বিলাওয়াল ভুট্টোর পাকিস্তান পিপলস পার্টি (পিপিপি) পেয়েছে ৫৩টি আসন।

এছাড়া অন্যান্য দল এবং স্বতন্ত্ররা পেয়েছে ২৭টি আসন। একটি আসনের ফলাফল স্থগিত করা হয়েছে। ফলাফল ঘোষণার বাকি আরও ১৫ আসনের।

পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্ররা কী করবেন

বিশ্লেষকরা বলছেন, তাত্ত্বিকভাবে সংসদ সদস্যরা দলমত নির্বিশেষে সরকার গঠন করতে সক্ষম। পিটিআই যেহেতু দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নিতে পারেনি, সেক্ষেত্রে দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা অন্য কোনো দলে যোগদান না করেও নিজেরা সংসদীয় স্বাধীনতা বজায় রাখার পথ বেছে নিতে পারেন।

সেক্ষেত্রে এটা তাদের সরকার গঠনের সুযোগ করে দিতে পারে। যদি তারা সরকার গঠনে প্রয়োজনীয় আসন তথা ম্যাজিক ফিগার পূরণ করতে পারেন। অর্থাৎ ২৬৬ আসনের মধ্যে ১৩৪টি আসন পেতে হবে। শেষ পর্যন্ত সেটাই যদি ঘটে, তাহলেও তা হবে অত্যন্ত দুর্বল একটা সরকার। কারণ স্বতন্ত্র সাংসদ যেকোনো মুহূর্তে ক্ষমতাসীন জোটকে পরিত্যাগ করতে পারেন। যার ফলে ভেঙে যেতে পারে সরকার।

স্বতন্ত্র থাকার আরেকটি অসুবিধা হলো ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে সংরক্ষিত আসনের যে কোটা রয়েছে তা থেকে বঞ্চিত হবেন। ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে নারী ও সংখ্যালঘু মিলিয়ে ৭০টি সংরক্ষিত আসন রয়েছে। এর মধ্যে ৬০টি আসন নারীদের জন্য এবং ১০টি সংখ্যালঘুদের জন্য বরাদ্দ। যে দল সরকার গঠন করবে তাদের প্রাপ্ত আসনের অনুপাতে এগুলো বণ্টন করা হয়।

পিটিআই দল হিসেবে নির্বাচনের সুযোগ না পাওয়ায় দলটির সমর্থিত প্রার্থীরা সবচেয়ে বেশি আসন পেলেও সংরক্ষিত আসনের এই কোটার সুবিধা পাবে না। এ অবস্থায় পিটিআই সমর্থিত স্বতন্ত্ররা কী সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছেন, তার জন্য আরও ৭২ ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হবে বলছেন সংশ্লিষ্টরা।


আরও খবর



আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ও শহীদ দিবস

প্রকাশিত:বুধবার ২১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মহান একুশে ফেব্রুয়ারি আজ, শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস। মাতৃভাষা আন্দোলনের ৭২ বছর। জাতিসঙ্ঘের শিক্ষা, বিজ্ঞান ও সংস্কৃতিবিষয়ক সংস্থা (ইউনেস্কো) মহান দিনটির প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসের স্বীকৃতি দেয়ার পর থেকে আন্তর্জাতিক পর্যায়েও গত দুই দশকের বেশি সময় ধরে দিবসটি পালিত হচ্ছে। 

বাঙালি জাতির জন্য এই দিবসটি হচ্ছে চরম শোক ও বেদনার। অন্যদিকে মায়ের ভাষা বাংলার অধিকার আদায়ের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগের মহিমায় উদ্ভাসিত। যেকোনো জাতির জন্য সবচেয়ে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার হচ্ছে মৃত্যুর উত্তরাধিকার-মরতে জানা ও মরতে পারার উত্তরাধিকার। ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি শহীদরা জাতিকে সে মহৎ ও দুর্লভ উত্তরাধিকার দিয়ে গেছেন

১৯৫২ সালের এদিনেবাংলাকে রাষ্ট্রভাষা করার দাবিতে এদেশের (তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তান) ছাত্র ও যুবসমাজসহ সর্বস্তরের মানুষ ওই সময়ের শাসকগোষ্ঠীর চোখরাঙানি ও প্রশাসনের ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করে স্বতঃস্ফূর্তভাবে রাজপথে নেমে আসে। মায়ের ভাষা প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে দুর্বার গতিতে পাকিস্তানি শাসকদের শঙ্কিত করে তোলায় সেদিন ছাত্র-জনতার মিছিলে পুলিশ গুলি চালালে সালাম, জব্বার, শফিক, বরকত ও রফিক গুলিবিদ্ধ হয়ে শহীদ হন।

আজ সরকারি ছুটি। দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এবং সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের ভবনে সূর্যোদয়ের সাথে সাথে সঠিক নিয়মে, সঠিক রঙ ও মাপে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। দিবসটি পালন উপলক্ষে জাতীয় অনুষ্ঠানের সাথে সঙ্গতি রেখে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সব স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান, জেলা ও উপজেলা প্রশাসন, বিদেশে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনগুলো বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজিমপুর কবরস্থানে ফাতেহা পাঠ ও কুরআনখানির আয়োজনসহ দেশের সব উপাসনালয়ে ভাষাশহীদদের রূহের মাগফিরাত কামনায় প্রার্থনার আয়োজন করা হয়েছে।

এছাড়া বাংলাদেশ মিশনগুলো শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ, রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীর বাণী পাঠ, বঙ্গবন্ধু ও ভাষা আন্দোলন বিষয়ক আলোচনা সভা, পুস্তক ও চিত্র প্রদর্শনীসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠান আয়োজন করেছে। যেখানে বিভিন্ন দেশের কূটনীতিক এবং বাঙালি অভিবাসীদের আমন্ত্রণ জানানো হবে।

দিবসটি যথাযোগ্য মর্যাদায় উদযাপনের লক্ষ্যে ঢাকা শহরের বিভিন্ন সড়কদ্বীপ ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সুবিধাজনক স্থানে বাংলাসহ অন্যান্য ভাষার বর্ণমালা সংবলিত ফেস্টুন দ্বারা সজ্জিত করা হয়েছে। একুশের বিশেষ অনুষ্ঠানমালা সম্প্রচার এবং ভাষাশহীদদের সঠিক নাম উচ্চারণ, শহীদ দিবসের ভাবগাম্ভীর্য রক্ষা, শহীদ মিনারের মর্যাদা সমুন্নত রাখা, সুশৃঙ্খলভাবে শহীদ মিনারে শ্রদ্ধাঞ্জলি অর্পণ ইত্যাদি জনসচেতনতামূলক বিষয়ে সরকারি ও বেসরকারি গণমাধ্যমগুলো প্রয়োজনীয় প্রচারের ব্যবস্থা নেয়া হয়েছে।

সংবাদপত্রগুলোয় ক্রোড়পত্র প্রকাশের ক্ষেত্রে ভাষা আন্দোলনে বঙ্গবন্ধুর অবদানের বিষয়টি বিশেষভাবে উপস্থাপন করা হয়েছে। বাংলাদেশ বেতার, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলগুলো একুশের বিশেষ অনুষ্ঠান সম্প্রচার করছে।

দিবসটি উপলক্ষে রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রী কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পস্তবক অর্পণ করছেন। এছাড়াও কালো ব্যাজ ধারণ, প্রভাতফেরি সহকারে আজিমপুর কবরস্থানে শহীদদের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও শ্রদ্ধা জানানো হবে।

মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে আওয়ামী লীগসহ বিভিন্ন সংগঠন বিস্তারিত কর্মসূচি নিয়েছে। দুই দিনব্যাপী আওয়ামী লীগের কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ, সংগঠনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়, বঙ্গবন্ধু ভবনসহ সারা দেশে সংগঠনের সব কার্যালয়ে জাতীয় ও দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা ও কালো পতাকা উত্তোলন, কালো ব্যাজ ধারণ এবং প্রভাতফেরি। এছাড়াও কাল ২২ ফেব্রুয়ারি বেলা ৩টায় রাজধানীর তেজগাঁওয়ে ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগের কার্যালয়ে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হবে। আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এতে সভাপতিত্ব করবেন।

 


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নাইক্ষ্যংছড়ি: আতঙ্কে ঘরছাড়া ৩ গ্রামের মানুষ

প্রকাশিত:মঙ্গলবার ০৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে বিদ্রোহী ও সরকারি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘাত-সংঘর্ষ থামছেই না। দুই বাহিনীর গোলাগুলি ও মর্টার শেলের বিকট শব্দে সীমান্তজুড়ে ভীতিকর পরিবেশ তৈরি হয়েছে। সোমবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল থেকে বিদ্রোহীদের অবস্থান লক্ষ্য করে হেলিকপ্টার থেকে ছোঁড়া হচ্ছে গুলি ও মর্টার শেল। গুলির মুহুর্মুহু শব্দে উদ্বেগ-উৎকণ্ঠায় ঘর ছেড়েছেন ঘুমধুম ইউনিয়নের তিন গ্রামের মানুষ। এরই মধ্যে দুপুরে মিয়ানমার থেকে ছুটে আসা একটি মর্টার শেলের আঘাতে নিহত হয়েছেন স্থানীয় জলপাইতলী গ্রামের গৃহবধূ ও এক রোহিঙ্গা। এ সময় আহত হয় এক শিশুও।

মিয়ানমারের অভ্যন্তরে চলমান অস্থিরতায় টেকনাফের হোয়াইক্যং উলুবনিয়া সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় এক রোহিঙ্গা পরিবারকে আটক করেছে বিজিবি। এর আগে মিয়ানমার বিদ্রোহীদের প্রচণ্ড গোলাগুলির মুখে টিকে থাকতে না পেরে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে ১০৩ জন মিয়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশের (বিজিপি) সদস্য।

চলমান পরিস্থিতিতে সীমান্তের ওপারে বসবাস করা মিয়ানমারের চাকমা জাতি ও রোহিঙ্গারা বাংলাদেশে অনুপ্রবেশের অপেক্ষায় জড়ো হচ্ছেন। তবে, বিজিবির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সীমান্তে যে কোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন তারা।

সোমবার মর্টার শেলের আঘাতে নিহতরা হলেন নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম তুমব্রু জলপাইতলী এলাকার বাসিন্দা হোসনে আরা (৫৫) ও উখিয়া রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৮/ই এর ডি ব্লকের বাসিন্দা মৃত ধলু হোসেনের ছেলে নবী হোসেন (৬০)। আহত নুসরাত মনি (৬) স্থানীয় শহিদুল ইসলামের মেয়ে। নিহতরা চাষের জমিতে কাজ শেষে দুপুরের খাওয়ার জন্য বাড়িতে অবস্থান করছিলেন বলে জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

উল্লেখ্য, মিয়ানমারের আরাকান রাজ্য স্বাধীনের নামে সরকারি বাহিনীর বিভিন্ন ক্যাম্পে হামলা চালিয়ে আসছে বিচ্ছিন্নতাবাদী সংগঠন আরাকান আর্মি। প্রতিদিন মিয়ানমারের অভ্যন্তরে কোনো কোনো এলাকায় চলছে দুই বাহিনীর তুমুল সংঘর্ষ। এরই মধ্যে আরাকান রাজ্যের বিভিন্ন অঞ্চল দখলের দাবি করেছে আরাকান আর্মি। দুই পক্ষের চলমান সংঘর্ষে বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ির ঘুমধুম ইউনিয়ন, উখিয়ার পালংখালী ও টেকনাফের হোয়াইক্যং ইউনিয়নের সীমান্তে বসবাসকারীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।

ঘুমধুম ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার দ্বীন মোহাম্মদ বলেন, প্রশাসনের পক্ষ থেকে সীমান্তে বসবাসকারীদের বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। তবে গোলাগুলির আতঙ্কে ইউনিয়নের তিন গ্রামের সহস্রাধিক মানুষ বসতবাড়ি ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন। দুজন নিহত হওয়ার পর আতঙ্ক আরও বেড়েছে।

মর্টার শেলের আঘাতে নিহতদের মরদেহ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল মান্নান। তিনি বলেন, সীমান্তের ওপারে গোলাগুলি চললেও আমাদের দেশের পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। তবে, সীমান্তে বসবাসকারীদের সরানোর বিষয়টি উপজেলা প্রশাসন বলতে পারবে।

টেকনাফ হোয়াইক্যং উলুবনিয়া এলাকার জালাল আহমেদ বলেন, সকাল সাড়ে ১০টার দিক থেকে মিয়ানমারের ওপারে ব্যাপক গোলাগুলি ও মর্টার শেলের শব্দ আমরা শুনতে পারছি। ভয়ে সীমান্ত থেকে লোকজন সরে যাচ্ছেন। অনেকে ঘর থেকে বের হচ্ছেন না।

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) আদনান চৌধুরী বলেন, ওপার থেকে রোহিঙ্গা ও বিজিপি সদস্যরা পালিয়ে বাংলাদেশে আসতে পারেন এমন আশঙ্কায় সীমান্তে বিজিবি সদস্যরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। সাগরে কোস্টগার্ড সদস্যরাও প্রস্তুত রয়েছেন। কোনো অবস্থাতেই আমরা রোহিঙ্গা কিংবা অন্য কাউকে ঢুকতে দেব না।

টেকনাফ-২ বিজিবির অধিনায়ক লে. কর্নেল মো. মহিউদ্দিন আহমেদ বলেন, সীমান্তে আমরা সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।

৩৪ বিজিবি কক্সবাজার রিজিয়ন কমান্ডার লে. কর্নেল আব্দুল্লাহ আল মাশরুকী বলেন, কোনো অবস্থাতেই মিয়ানমারের কোনো নাগরিককে বাংলাদেশে অনুপ্রবেশ করতে দেওয়া হবে না।

বিজিবি কক্সবাজার রিজিওয়নের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মোরশেদ আলম বলেন, মিয়ানমার অভ্যন্তরে চলা সংঘাতের কারণে আমরা সদর দপ্তরের অনুমতিক্রমে ১০৩ জন বিজিপি সদস্যকে আশ্রয় দিয়েছি। তাদের মিয়ানমার হস্তান্তর করার জন্য পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কাজ করছে।

 


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




আজ পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস

প্রকাশিত:বুধবার ১৪ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

রোকসানা মনোয়ার : আজ পহেলা ফাল্গুন ও বিশ্ব ভালোবাসা দিবস। দুই উৎসবকে ঘিরে জোড়া উৎসবের আমেজ। ঋতুরাজ বসন্ত এলেই বাঙালি সংস্কৃতি মেতে ওঠে ভিন্ন আঙ্গিকে। বাংলা বর্ষপঞ্জিতে পরিবর্তন আনায় পহেলা ফাল্গুন ও ভালবাসা দিবস একদিনেই উদযাপন করছেন উৎসবপ্রিয় বাঙালি।

প্রকৃতিতে বসন্ত আর ভালোবাসা যেন একে-অন্যের পরিপূরক। পহেলা ফাল্গুনে বসন্ত উৎসবের রঙে মেতে ওঠে তরুণ হৃদয়; নতুন করে প্রাণ পায় প্রবীণরা। বসন্তে শুধু প্রকৃতিই নয়, হৃদয়ও রঙিন হয়ে ওঠে। তাই তো বসন্ত আমাদের কাছে প্রেমের ঋতু। এ উৎসবটির একটি ঐতিহ্যময় ইতিহাস আছে। ১৫৮৫ সালে মোগল সম্রাট আকবর ১৪টি উৎসবের প্রবর্তন করেছিলেন। এর মধ্যে অন্যতম ছিল বসন্ত উৎসব

কী নেই বসন্তের! আছে রং, রূপ, রস ও লাবণ্য। আছে মাতাল দখিনা সমীরণ। ঋতুরাজের আগমনে খুলে গেছে দখিনা দুয়ার। মানব-মানবীর চিরন্তন ভালোবাসা উড়ছে রঙিন প্রজাপতি হয়ে। ফুলে ফুলে আছে মৌমাছির গুঞ্জন। নতুন প্রাণের পত্রপল্লবে জেগে উঠেছে বৃক্ষ-লতাণ্ডগুল্ম। নদীর কিনার থেকে আদিগন্ত প্রান্তর, কুঞ্জবন, অরণ্য-পর্বতে ডেকেছে নবযৌবনের বান। প্রকৃতির এ রূপতরঙ্গ দেখেই কবিগুরু লিখেছিলেন, ওরে ভাই, ফাগুন লেগেছে বনে বনে।

পশ্চিমের ভ্যালেনটাইন্স ডে বা ভালোবাসা দিবসের ধারণা এসে মিলেছে আমাদের বসন্তে। বাংলা একাডেমি পঞ্জিকা সংশোধনের পর এখন পহেলা ফাল্গুন আর ভালোবাসা দিবস একই দিনে উদযাপিত হয়। ভালোবাসার মানুষকে আরো কাছে পাওয়ার সময় এ বসন্ত। বসন্ত আসে তরুণের পোশাকে, মননে, সংগীতে। বাঁধনহারা মন এ সময় গেয়ে ওঠে, মধুর বসন্ত এসেছে মধুর মিলন ঘটাতে। তবে বসন্ত শুধু প্রেমের ঋতু নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে বাঙালির দ্রোহের ইতিহাসও। এমনই এক বসন্তে বাঙালি ভাষার জন্য আন্দোলন করেছিল।

১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি দিনটি ছিল ৮ ফাল্গুন। সেদিন মাতৃভাষার মর্যাদা রাখতে জীবন দিয়েছিলেন সালাম, বরকত, রফিক, জব্বার, শফিউর। ঋতুরাজ বসন্ত তাই প্রেম, আনন্দ, ভালোবাসা, প্রতিবাদ আর তারুণ্যের প্রতীক। বায়ান্নর ভাষা আন্দোলনের হাত ধরে বাঙালি করেছে বাষট্টির শিক্ষা আন্দোলন, উনসত্তরের গণঅভ্যুত্থান, একাত্তরের অসহযোগ আন্দোলন আর ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী মুক্তিযুদ্ধ। সেদিক থেকে দেখতে গেলে বসন্তে রোপিত হয়েছিল বাংলাদেশের জন্মের বীজ। তেমনি আশির দশকে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন এক চূড়ান্ত রূপ নিয়েছিল এমনই এক বসন্তে।

১৯৮৩ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি প্রাণ দিয়েছিলেন জাফর, জয়নাল, মোজাম্মেল, আইয়ুব, কাঞ্চন, দিপালীরা। সেই আন্দোলনের পথ বেয়ে নব্বইয়ে বাংলাদেশ পেয়েছিল গণতন্ত্রের স্বাদ। দ্রোহ হোক বা প্রেম, বসন্ত আমাদের জীবনে বয়ে নিয়ে আসে নতুন আশা। রুক্ষ শীত শেষে বসন্তের আগমনে প্রকৃতিতে জাগে নতুন আনন্দ। অথচ সময়টা মলিন। করোনা মহামারির একের পর এক ঢেউ আমাদের শঙ্কিত মনকে বিবর্ণ করে তুলেছে। বসন্তকে তাই আরো বেশি প্রয়োজন এখন। এবারের বসন্ত নতুন জীবনীশক্তিতে প্রকৃতি ও প্রাণকে ভরিয়ে তুলুক। বসন্তের দোলা লাগুক বনে, মনে। উল্লসিত মন গেয়ে উঠুক, আহা কী আনন্দ আকাশে বাতাসে।


আরও খবর

গ্যাস লিকেজ থেকে বিস্ফোরণ, দগ্ধ সাত

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪