শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কমিটি পুনর্বহালে চট্টগ্রামে যুবদলের মিছিল যশোরে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে সেমিনার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২ দিনে ডিএমপির ৪,১১৮ মামলা জার্মানিতে চলতি গ্রীষ্মে তাপদাহজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ১৫,৮০০ ঝালকাঠিতে নারী সমাবেশে সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন জাতীয়তা ও মানবতাবাদী একজন ক্ষণজন্মা মানুষ মার্কিন কংগ্রেস কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, আরআরআরসির সঙ্গে বৈঠক বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথে ‘ঢাকা দিবসের’ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে জবি জবিতে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
জাতীয় আপসোস : না বুঝে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছিলাম

আপসোস : না বুঝে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছিলাম

মেহেরুন নেসা, সমন্বয়ক কুমিল্লা :

আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীরা জীবনের সবচেয়ে বড় সংগ্রামটি করছিলাম কিছুদিন আগে। আমরা বুঝতে পেরেছিলাম স্বপ্নপূরণের জন্য শুধুমাত্র তার কঠোর পরিশ্রমই যথেষ্ট নয়, বরং সমাজের পুরনো এক নিয়মকে বদলানোর প্রয়োজন। সেই নিয়ম ছিল কোটা ব্যবস্থা, যা সাধারণ শিক্ষার্থীদের জন্য এক অন্যায় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছিল।

আন্দোলন করেছিলাম চাকরির জন্য, কোটা বাতিলের জন্য। ভেবেছিলাম দেশের বেকার সমস্যা দূর হবে আর মুক্তিযুদ্ধের একপেশী গল্প যেই গল্প বেঁচে আওয়ামী লীগ আমাদের জিম্মি করেছিলো ১৫ বছর তা থেকে মুক্তির আশায়। কিন্তু দুঃখের বিষয় আজ ৬ মাসে দেশে চাকরির বাজারের কোনো অগ্রগতি নেয়। 

৬ মাসে তেমন কোনো উল্লেখযোগ্য সরকারি নিয়োগ পরিক্ষা হয় নি, বড় কোনো নিয়োগ সার্কুলার হয় নি। অনেক আশা নিয়ে দেশ সংস্কারের আশায় আন্দোলনে গিয়েছিলাম। অনেক রিস্ক নিয়ে পরিবারের কথা অবাধ্য হয়ে। সবচেয়ে কষ্ট পেয়েছি সেদিন যেদিন দেখলাম আওয়ামী লীগ বিদায় হওয়ার পর আমাদের লোক গুলোই এক একটা দানবে পরিনত হয়েছে। 

দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। দেশে নিয়মের বালাই নেয় যে যেভাবে পারছে দেশটাকে অস্থিতিশীল করে, সুযোগ সুবিধা নিতে ব্যাস্ত হয়ে পড়েছে। আন্দোলনের দিনগুলোতে অনেক স্বপ্ন দেখেছি। গ্রুপে সহযোদ্ধারা, সিনিয়ররা আমাদের যে স্বপ্ন দেখিয়েছে আজ তার ছিটেফোঁটাও লক্ষ্য করছি না।

আমাদের কুমিল্লার গ্রুপে হাসনাত ভাইয়ের নির্দেশনা আমাদের অনেক অনুপ্রাণিত করতো। নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলাম আমরা। আর এখন সেই হাসনাত ভাইকেই চিনতে পারি না। ক্ষমতার নেশায় আমাদের সহযোদ্ধারা সব অন্ধ হয়ে গেছে।

সবাই এখন ক্ষমতা চায়, তারা এখন আমাদের বোঝাতে চায় রাজনীতিতে যদি তাদের অবস্থান পাকাপোক্ত না হয় কাউকেই নাকি আওয়ামী লীগ আর বিএনপি ছাড় দেবে না। আপনারা ত তখন আমাদের রাজনীতির কথা বলেন নি। 

আজ ছয় মাস পার হয়ে যায়, কিন্তু কাঙ্ক্ষিত সংস্কার আসেনি। আমাদের সমস্ত আশা, সমস্ত চেষ্টা, সমস্ত সংগ্রাম আপনাদের ক্ষমতার লোভে নিঃশেষ যাচ্ছে। আপনারা সরকারে আছেন সঙ্গে থেকেও কিছু করতে পারছেন না কেনো?

 তাহলে আওয়ামী লীগের লোকজন এখন যা বলছে তাই কি সঠিক। আপনাদের আন্দোলন ছিলো ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য কোনো স্থায়ী পরিবর্তনের জন্য নয়। নয়তো কেনো সেই কাঙ্ক্ষিত *কোটা সংস্কার* কখনোই বাস্তবে রূপ নেয়নি। বলতে দ্বিধা নেই আমদের সংগ্রাম, স্বপ্ন, আত্মত্যাগ কিছুই পরিবর্তন করতে পারেনি।

আমার এক বন্ধু শাহিনুর যে এই আন্দোলনে আমাদের ব্যাচের সবাইকে অনুপ্রাণিত করেছিলো সে দেশের বাইরে চলে গেছে। যাওয়ার আগে আমাকে একটি ম্যসেজ দিয়ে গেছে। 

সে লিখেছে দোস্ত, ক্ষমা করিস আমাকে।  এটা শুধু আমার কথা নয়, এটা আমাদের অনেকের কথা, যাদের কষ্টগুলো কোনোদিন বুঝবে না কেউ। কিন্তু আমি জানি, আমরা আজ হারলেও, একদিন এই শহর, এই দেশ, এই পৃথিবী বদলাবে। আমার সংগ্রাম হয়তো একটি ফাটল সৃষ্টি করেছে, যে ফাটল একদিন বড় হয়ে পরিবর্তন নিয়ে আসবে।

হয়তো আমাদের সংগ্রাম সফল হয়নি, কিন্তু আমাদের সংগ্রাম কখনো হারবে না। আমরা ট্র‍্যাপে পড়ে দেশের ক্ষতি করে ফেলেছি। তবে এই দেশ একদিন আবার ঘুরে দাঁড়াবে। দোয়া করিস যাতে দেশের যা ক্ষতি হয়েছে একদিন যাতে সেই ক্ষতি পুষিয়ে দিতে পারি। 

আমিও হয়তো দেশের বাইরে চলে যাবো কিছুদিনের মধ্যে। কিন্তু একটা আক্ষেপ থেকে যাবে না বুঝে দেশকে ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছিলাম, পাসপোর্ট করতে গিয়েই বুঝেছি দেশের কোনো পরিবর্তন হয় নি শুধু পরিবর্তন হয়েছে আমাদের মাথা বিক্রি করা কিছু সমন্বয়কদের।

খুঁজুন