আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ বা ক্ষমতার লড়াই নয়, এর ফলাফল দেশটির পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে তা নির্ধারিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে চিরাচরিতভাবে রিপাবলিকানদের ‘হাতি’ ও ডেমোক্র্যাটদের ‘গাধা’ প্রতীকের মধ্যে লড়াই হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল বর্তমান প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর এক ধরনের গণভোট বা মূল্যায়ন হিসেবে কাজ করে।
নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটে জয়ী হলে ট্রাম্প দলের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলগা হয়ে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব বদলাতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন না নেওয়ার ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ এবং তারা এই যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিরক্ষা ব্যয় কমাতে পারেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করতে পারেন। এছাড়া ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা অনুমোদন এবং ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা বাতিলের বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসতে পারে।
গাজা যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে এবং তারা ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা সীমিত বা বন্ধ করতে পারে। চলমান অর্থবছরে ইসরায়েলে মার্কিন সহায়তা ৩.৮ বিলিয়ন ডলার ছিল যা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে সামরিক বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব আটকে দিতে পারেন এবং ট্রাম্পের আটকে দেওয়া বৈদেশিক সহায়তা তহবিল পুনরায় চালুর চেষ্টা করবেন। এর ফলে মার্কিন বৈদেশিক নীতি ও সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
অন্যদিকে, দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখলে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প সামরিক বাজেট সর্বোচ্চ বৃদ্ধি করতে পারেন এবং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আইন পাস করাতে পারেন। এছাড়া ইউক্রেনসহ অন্যান্য সংঘাতে মার্কিন অর্থায়নে কঠোর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় আর্থিক সাহায্য কাটছাট হতে পারে। নিজস্ব করদাতাদের ওপর চাপ না ফেলে শত্রুপক্ষের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকে অর্থ জোগানের নীতি এবং কঠোর অভিবাসন ও বাণিজ্য নীতিও তখন প্রাধান্য পাবে।
সামগ্রिकভাবে, মার্কিন এই মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান—যারাই বিজয়ী হোক না কেন, তাদের নীতিগত অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তাই তেহরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
হাতি-গাধার মধ্যবর্তী লড়াইয়ে যেভাবে পাল্টাতে পারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি
হাতি-গাধার মধ্যবর্তী লড়াইয়ে যেভাবে পাল্টাতে পারে মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন কেবল অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক মেরুকরণ বা ক্ষমতার লড়াই নয়, এর ফলাফল দেশটির পররাষ্ট্রনীতি এবং অর্থনীতির ওপর সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে। প্রেসিডেন্টের চার বছর মেয়াদের ঠিক মাঝপথে অনুষ্ঠিত এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটের নিয়ন্ত্রণ কার হাতে যাবে তা নির্ধারিত হয়। রয়টার্সের প্রতিবেদন অনুযায়ী, এবারের নির্বাচনে চিরাচরিতভাবে রিপাবলিকানদের ‘হাতি’ ও ডেমোক্র্যাটদের ‘গাধা’ প্রতীকের মধ্যে লড়াই হবে। এই নির্বাচনের ফলাফল বর্তমান প্রশাসনের ক্ষমতার ওপর এক ধরনের গণভোট বা মূল্যায়ন হিসেবে কাজ করে।নির্বাচনে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিনিধি পরিষদ ও সেনেটে জয়ী হলে ট্রাম্প দলের নিরঙ্কুশ নিয়ন্ত্রণ কিছুটা আলগা হয়ে ক্ষমতার অংশীদারিত্ব বদলাতে পারে। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধ নিয়ে কংগ্রেসের অনুমোদন না নেওয়ার ঘটনায় ডেমোক্র্যাটরা ক্ষুব্ধ এবং তারা এই যুদ্ধ নিয়ে বড় সিদ্ধান্ত নিতে পারে। সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলে ডেমোক্র্যাটরা প্রতিরক্ষা ব্যয়
কমাতে পারেন এবং প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তাদের পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রকাশ্যে সাক্ষ্য দিতে বাধ্য করতে পারেন। এছাড়া ইউক্রেনের জন্য নতুন সহায়তা অনুমোদন এবং ট্রাম্পের ভেটো দেওয়ার ক্ষমতা বাতিলের বিষয়টিও তখন আলোচনায় আসতে পারে।গাজা যুদ্ধে বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার ঘটনায় ডেমোক্র্যাটদের মধ্যে ইসরায়েলের প্রতি সমর্থন কমেছে এবং তারা ইসরায়েলে সামরিক সহায়তা সীমিত বা বন্ধ করতে পারে। চলমান অর্থবছরে ইসরায়েলে মার্কিন সহায়তা ৩.৮ বিলিয়ন ডলার ছিল যা অন্য যে কোনো দেশের চেয়ে বেশি। ডেমোক্র্যাটরা জয়ী হলে সামরিক বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব আটকে দিতে পারেন এবং ট্রাম্পের আটকে দেওয়া বৈদেশিক সহায়তা তহবিল পুনরায় চালুর চেষ্টা করবেন। এর ফলে মার্কিন বৈদেশিক নীতি ও সামরিক ব্যয়ের ক্ষেত্রে বড় ধরনের পরিবর্তন আসার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।অন্যদিকে, দ্য গার্ডিয়ানের প্রতিবেদন অনুযায়ী, কংগ্রেসে রিপাবলিকানরা শক্তিশালী অবস্থান ধরে রাখলে সম্পূর্ণ বিপরীত চিত্র দেখা
যেতে পারে। সেক্ষেত্রে ট্রাম্প সামরিক বাজেট সর্বোচ্চ বৃদ্ধি করতে পারেন এবং ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য নীতিতে কঠোর অবস্থান বজায় রেখে নতুন অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার আইন পাস করাতে পারেন। এছাড়া ইউক্রেনসহ অন্যান্য সংঘাতে মার্কিন অর্থায়নে কঠোর নজরদারি এবং আন্তর্জাতিক সংস্থায় আর্থিক সাহায্য কাটছাট হতে পারে। নিজস্ব করদাতাদের ওপর চাপ না ফেলে শত্রুপক্ষের বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি থেকে অর্থ জোগানের নীতি এবং কঠোর অভিবাসন ও বাণিজ্য নীতিও তখন প্রাধান্য পাবে।সামগ্রिकভাবে, মার্কিন এই মধ্যবর্তী নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ রাজনীতির গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক সম্পর্ক, যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলার ক্ষমতা রাখে। নির্বাচনে ডেমোক্র্যাট বা রিপাবলিকান—যারাই বিজয়ী হোক না কেন, তাদের নীতিগত অবস্থান মার্কিন পররাষ্ট্রনীতিতে সুনির্দিষ্ট পরিবর্তন নিয়ে আসবে। তাই তেহরানসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ এই নির্বাচনের গতিপ্রকৃতি অত্যন্ত গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত