মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অর্থ ও বাণিজ্য জনগণের কল্যাণেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে

জনগণের কল্যাণেই গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়েছে

অর্থনীতি ডেস্ক: সাধারণ মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করলেও দীর্ঘমেয়াদি জনকল্যাণের বিষয়টি মাথায় রেখেই সরকার গ্যাসের দাম বাড়িয়েছে। গত ৩ নভেম্বর সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে আয়োজিত এক ব্রিফিংয়ে এই কথা জানান প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেন, সরকার সাধারণ মানুষের ওপর এই মূল্যবৃদ্ধির প্রভাব সম্পর্কে পুরোপুরি অবগত রয়েছে। অর্থনৈতিক বাস্তবতা এবং জ্বালানি খাতে ভর্তুকি দেওয়ার সক্ষমতা বিচার করেই এই কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

ব্রিফিংয়ে জ্বালানি আমদানির বাড়তি ব্যয়ের চিত্র তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, বর্তমানে এলএনজি কিনতে প্রতি ইউনিটে প্রায় ৩০ ডলার খরচ হচ্ছে। অথচ এর আগে ২০২১ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত এই দাম সর্বোচ্চ ১৪ ডলারের মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল। আগের তুলনায় দ্বিগুণেরও বেশি দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হওয়ায় সংকটের সৃষ্টি হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, জ্বালানির এই মূল্যবৃদ্ধি মূলত বৈশ্বিক পরিস্থিতিরই একটি অংশ মাত্র।

চলতি অর্থবছরের বাজেটে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ৪৮ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা দ্রুত ফুরিয়ে আসছে বলে জানান তিনি। মাত্র আড়াই মাসেই বাজেটের অর্ধেক অর্থাৎ ২৪ হাজার কোটি টাকা ভর্তুকি বাবদ খরচ হয়ে গেছে। বিদেশ থেকে জ্বালানি আমদানিতে বৈদেশিক মুদ্রা ব্যয় হওয়ায় দেশের রিজার্ভের ওপরও বাড়তি চাপ তৈরি হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সরকার কতখানি ভর্তুকি দিতে পারবে, তা অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা হচ্ছে।

উপদেষ্টা আরও জানান, জনগণের স্বার্থ রক্ষা করতে গিয়ে সরকার যদি বিপুল পরিমাণ ভর্তুকি অব্যাহত রাখে, তবে ঋণ নেওয়ার পরিমাণ বাড়াতে হবে। ব্যাংকিং ব্যবস্থা বা বাজার থেকে সরকার ঋণ নিলে তার শেষ প্রভাব গিয়ে পড়বে মূল্যস্ফীতির ওপর। এতে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মানুষই সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। তাই দেশের সামগ্রিক অর্থনৈতিক বাস্তবতা বিবেচনা করেই এই ভর্তুকি ও মূল্য নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

খুঁজুন