রবিবার, ২৫ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি • ইতালিতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে হাজার হাজার মানুষের বিক্ষোভ • রাঙামাটি বন বিভাগে ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, কাঠগড়ায় সিএফ আবদুল আউয়াল ও ডিএফও হক মাহমুদ মোর্শেদ • আমার মায়ের শ্রদ্ধেয় শিক্ষক ‘নোয়াখালীর স্যার • টাইফুন চাম্পির প্রভাবে অচল তাইওয়ান, নিরাপদ আশ্রয়ে শত শত মানুষ • গভীর রাতে নেতানিয়াহুর গাড়িবহর লক্ষ্য করে বোতল নিক্ষেপ • ৩৭ হাজার টাকা বেতনে চাকরি, শতকোটি টাকার সম্পদের অভিযোগ সাভারের সাবেক ইউপি সচিব মহাসিনের বিরুদ্ধে • দুর্গার সাজে ছবি পোস্ট, ধর্ম ও মানুষের আচরণ নিয়ে যা বললেন রুমিন ফারহানা • নিরাপদ সড়ক দিবসে ঢাকার চার স্থানে বিআরটিএর প্রচারাভিযান • হাঁস পালন করে অভাবনীয় সাফল্য নওগাঁর শাহিনের
দেশের খবর বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপোতে অনিয়মের অভিযোগ, তদন্তের দাবি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন করপোরেশনের (বিআরটিসি) ঢাকা ট্রাক ডিপোর ব্যবস্থাপনা ও আর্থিক কার্যক্রম নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। ডিপোর অপারেশন ম্যানেজার মো. মোশারফ হোসেন ছিদ্দিকী এবং সংশ্লিষ্ট কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে যানবাহন মেরামত, খুচরা যন্ত্রাংশ কেনাকাটা, জ্বালানি ব্যয় ও কর্মীদের বদলি-পদায়ন ঘিরে আর্থিক অনিয়মের অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। এসব অভিযোগের স্বাধীন যাচাই এবং কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া গেলে বিষয়গুলোর প্রকৃত চিত্র আরও স্পষ্ট হবে।

বিআরটিসির ঢাকা ট্রাক ডিপো সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের পণ্য পরিবহন, খাদ্য ও সার সরবরাহ এবং দুর্যোগকালীন জরুরি পরিবহন কার্যক্রমে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। অভিযোগ অনুযায়ী, ডিপোর অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় অনিয়মের কারণে নিয়মিত কার্যক্রম ও যানবাহনের রক্ষণাবেক্ষণ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। বর্তমানে ডিপোটিতে ২৫৮টি ট্রাক এবং ৩৬৭ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

প্রাপ্ত তথ্যমতে, মোশারফ হোসেন ছিদ্দিকী ২০২৫ সালের ডিসেম্বরে ঢাকা ট্রাক ডিপোতে যোগ দেন। এরপর থেকে ডিপোর বিভিন্ন খাতে অনিয়মের অভিযোগ সামনে আসতে থাকে। দায়িত্ব গ্রহণের পর কেনাকাটা ও ব্যয় ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতার ঘাটতি এবং সরকারি অর্থ ব্যবহারে যথাযথ তদারকির অভাব রয়েছে বলে অভিযোগকারীদের দাবি।

মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় অনিয়মের অভিযোগ

ডিপোর ট্রাক মেরামত ও খুচরা যন্ত্রাংশ কেনার ক্ষেত্রে নিম্নমানের বা পুরোনো যন্ত্রাংশ বেশি দামে কেনার হিসাব দেখানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। একই সঙ্গে প্রকৃত ব্যয়ের তুলনায় বেশি অর্থ দেখিয়ে বিল-ভাউচার প্রস্তুত এবং সরকারি তহবিল থেকে অতিরিক্ত অর্থ উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে।

অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাইয়ে ক্রয়সংক্রান্ত নথি, দরপত্র, সরবরাহকারীর চালান, মেরামতের কার্যাদেশ এবং সংশ্লিষ্ট ট্রাকের বাস্তব অবস্থা পরীক্ষা করা প্রয়োজন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

জ্বালানি ব্যয়ের হিসাব নিয়েও প্রশ্ন

জ্বালানি খাতে অতিরিক্ত ব্যয় দেখানোর অভিযোগও রয়েছে। অভিযোগকারীদের দাবি, কোনো কোনো ট্রিপে প্রকৃত জ্বালানি ব্যবহারের তুলনায় নথিপত্রে বেশি পরিমাণ ডিজেল ব্যবহারের হিসাব দেখানো হয়ে থাকতে পারে। এ ধরনের অভিযোগের ক্ষেত্রে ট্রাকের চলাচলের রেকর্ড, দূরত্ব, জ্বালানি গ্রহণের তথ্য, বিল-ভাউচার এবং অনুমোদনকারী কর্মকর্তাদের স্বাক্ষর যাচাই করা জরুরি।

এ ছাড়া সড়ক ও ফেরি টোলের নামে ভুয়া বিল তৈরির অভিযোগও উঠেছে। তবে এসব অভিযোগের পক্ষে নিরীক্ষা প্রতিবেদন বা যাচাইকৃত নথি প্রকাশ্যে না থাকায় আর্থিক অনিয়মের পরিমাণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

দুর্ঘটনার পর মেরামত ব্যয় নিয়ে অভিযোগ

ডিপোর কোনো ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হলে মেরামতের প্রকৃত খরচের চেয়ে বেশি ব্যয় দেখানোর অভিযোগ করেছেন সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। তাদের দাবি, কিছু ক্ষেত্রে কাগজে মেরামতের কাজ সম্পন্ন দেখানো হলেও যানবাহনের কার্যকর অবস্থা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।

এ বিষয়ে দুর্ঘটনার প্রতিবেদন, মেরামতের বিল, যন্ত্রাংশ সরবরাহের রেকর্ড এবং প্রকৌশলীদের পরিদর্শন প্রতিবেদন যাচাই করা হলে অভিযোগের সত্যতা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

চার বছরে মেরামত ও যন্ত্রাংশে ব্যয় প্রায় সাড়ে ৯ কোটি টাকা

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হিসাব অনুযায়ী, ২০২১ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত চার বছরে ঢাকা ট্রাক ডিপোর যানবাহন মেরামত ও যন্ত্রাংশ কেনাকাটায় মোট ৯ কোটি ৪৯ লাখ ১ হাজার ৮১১ টাকা ব্যয় হয়েছে। ওই ব্যয়ের বড় একটি অংশ অনিয়মের মাধ্যমে আত্মসাৎ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

তবে ব্যয়ের প্রায় ৭০ শতাংশ আত্মসাতের যে দাবি করা হয়েছে, তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট নিরীক্ষা প্রতিবেদন, বিল-ভাউচার এবং আর্থিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। যাচাই ছাড়া এই পরিমাণ অর্থ আত্মসাৎ হয়েছে বলে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো যায় না।

বদলি ও দায়িত্ব বণ্টন নিয়ে অভিযোগ

ডিপোর কর্মীদের বদলি, পোস্টিং এবং বিভিন্ন রুটে দায়িত্ব বণ্টনের ক্ষেত্রেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগকারীদের দাবি, পছন্দের কর্মীদের সুবিধাজনক দায়িত্ব দেওয়া এবং অন্যদের তুলনামূলক অসুবিধাজনক রুটে পাঠানোর ক্ষেত্রে অনৈতিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হয়েছে।

এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ প্রশাসনিক পদে নিয়োগ ও পদায়নে প্রভাব খাটানোর অভিযোগও রয়েছে। এসব অভিযোগ যাচাইয়ে বদলি ও পদায়নের আদেশ, সংশ্লিষ্ট বিধিমালা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়া পর্যালোচনা করা প্রয়োজন।

নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি

ঢাকা ট্রাক ডিপোর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলোর সুষ্ঠু তদন্তের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নিরপেক্ষ নিরীক্ষা ও প্রশাসনিক অনুসন্ধান প্রয়োজন। বিশেষ করে যানবাহন মেরামত, যন্ত্রাংশ কেনাকাটা, জ্বালানি ব্যয়, টোল পরিশোধ এবং কর্মীদের বদলি-পদায়নের নথি পরীক্ষা করা হলে অনিয়মের অভিযোগের প্রকৃত অবস্থা নির্ধারণ করা সম্ভব হবে।

এ বিষয়ে বিআরটিসি কর্তৃপক্ষ এবং অভিযুক্ত কর্মকর্তার বক্তব্য পাওয়া গেলে তা প্রতিবেদনে যুক্ত করা প্রয়োজন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া এবং অভিযোগ প্রমাণিত না হলে সংশ্লিষ্টদের অবস্থান স্পষ্ট করার সুযোগ নিশ্চিত করাই হবে স্বচ্ছ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসনিক প্রক্রিয়া।

খুঁজুন