বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে মঙ্গলবার কানাডাকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি।
তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমেই তীব্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কানাডার অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্নি কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করেন। তাঁর দাবি, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অর্থনীতির অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল।
টরন্টোতে আয়োজিত সম্মেলনে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংক, চায়না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন এবং আফ্রিকার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও নাইজেরিয়ার ব্যবসায়ী আলিকো ডাঙ্গোটে-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন।
সম্মেলনে কার্নি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কানাডায় ১ ট্রিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৭২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার) বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে করছাড় এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
কার্নি বলেন, বিশ্বের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত কানাডার রয়েছে। তিনি এসব খাতকে ‘কৌশলগত স্বনির্ভরতার’ মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল কম-নিঃসরণকারী আলবার্টার তেল এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি পরাশক্তি হিসেবে আমরা কানাডার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাচ্ছি।’
তিনি আরও জানান, কানাডার চারটি বৃহত্তম বিমানবন্দরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। আগের সরকারগুলো এই বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করলেও কার্নির দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে।
বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক সম্মেলনে বলেন, ‘কানাডা সরকার আজ যে পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করলে আমি বিশ্বাস করি আন্তর্জাতিক পুঁজি এসব সুযোগের দিকে আসবে।’
কানাডার কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী থাকার কথা জানান।
তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রতিবেশী থাকব এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে থাকবে।’
দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি।
কার্নি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে কানাডা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে। তবে সেটি হবে আরও ‘শক্তিশালী’ ও ‘স্বাধীন’ অবস্থান থেকে।
বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির
বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির
বিশ্বজুড়ে শীর্ষস্থানীয় আর্থিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের এক সম্মেলনে মঙ্গলবার কানাডাকে বিনিয়োগের জন্য আকর্ষণীয় গন্তব্য হিসেবে তুলে ধরেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি। তবে একই সঙ্গে তিনি স্বীকার করেছেন, বাণিজ্যযুদ্ধ ক্রমেই তীব্র হলেও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার সম্পর্ক এখনও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কানাডার অর্থনীতিকে বহুমুখী করার উদ্যোগের অংশ হিসেবে কার্নি কানাডা ইনভেস্টমেন্ট সামিট আয়োজন করেন। তাঁর দাবি, ক্রমবর্ধমান সংরক্ষণবাদী নীতির কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর কানাডার অর্থনীতির অতিরিক্ত নির্ভরতা তৈরি হয়েছিল। টরন্টোতে আয়োজিত সম্মেলনে উপসাগরীয় দেশগুলোর সার্বভৌম সম্পদ তহবিল, ইউরোপের বিভিন্ন ব্যাংক, চায়না ইনভেস্টমেন্ট করপোরেশন এবং আফ্রিকার শীর্ষ ধনী ব্যক্তি ও নাইজেরিয়ার ব্যবসায়ী আলিকো ডাঙ্গোটে-সহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের বিনিয়োগকারীরা অংশ নেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীরাও এতে উপস্থিত ছিলেন। সম্মেলনে কার্নি বলেন, ‘আগামী পাঁচ বছরে কানাডায় ১ ট্রিলিয়ন কানাডীয় ডলার (৭২০ বিলিয়ন মার্কিন
ডলার) বিনিয়োগ আকৃষ্ট করাই আমাদের লক্ষ্য।’ বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে করছাড় এবং আমলাতান্ত্রিক জটিলতা কমানোর প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি। কার্নি বলেন, বিশ্বের প্রয়োজনীয় গুরুত্বপূর্ণ খনিজ সম্পদ ও পরিচ্ছন্ন জ্বালানির পর্যাপ্ত মজুত কানাডার রয়েছে। তিনি এসব খাতকে ‘কৌশলগত স্বনির্ভরতার’ মূল চাবিকাঠি হিসেবে উল্লেখ করেন। একই সঙ্গে তিনি একটি নতুন পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনার কথাও তুলে ধরেন। তাঁর মতে, এই পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন ১০ লাখ ব্যারেল কম-নিঃসরণকারী আলবার্টার তেল এশিয়ার বাজারে সরবরাহ করা সম্ভব হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘জ্বালানি পরাশক্তি হিসেবে আমরা কানাডার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগাচ্ছি।’ তিনি আরও জানান, কানাডার চারটি বৃহত্তম বিমানবন্দরে বেসরকারি বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হবে। আগের সরকারগুলো এই বিতর্কিত পদক্ষেপ প্রত্যাখ্যান করলেও কার্নির দাবি, এর মাধ্যমে সরকারের আয় কয়েক বিলিয়ন ডলার বাড়তে পারে। বিশ্বের
অন্যতম বৃহৎ বিনিয়োগ প্রতিষ্ঠান ব্ল্যাকরকের প্রধান নির্বাহী ল্যারি ফিঙ্ক সম্মেলনে বলেন, ‘কানাডা সরকার আজ যে পরিকল্পনাগুলো উপস্থাপন করেছে, সেগুলো বাস্তবায়ন করলে আমি বিশ্বাস করি আন্তর্জাতিক পুঁজি এসব সুযোগের দিকে আসবে।’ কানাডার কিছু পণ্যের ওপর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নতুন শুল্ক আরোপের কয়েক ঘণ্টা পর দেওয়া উদ্বোধনী বক্তব্যে কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে আশাবাদী থাকার কথা জানান। তিনি বলেন, ‘আমরা সবসময় প্রতিবেশী থাকব এবং গুরুত্বপূর্ণ অনেক ক্ষেত্রে কানাডা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে থাকবে।’ দুই দেশের মধ্যে মতবিরোধ থাকলেও ঐতিহাসিকভাবে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় থাকার কথা উল্লেখ করেন তিনি। কার্নি বলেন, পরিস্থিতি অনুকূল হলে কানাডা আবারও যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে অংশীদারত্ব জোরদার করবে। তবে সেটি হবে আরও ‘শক্তিশালী’ ও ‘স্বাধীন’ অবস্থান থেকে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত