সম্পদের চরম বৈষম্য মোকাবিলায় একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য বর্তমান বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ৩৭ জন সাবেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান।
বুধবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে সাবেক এই বিশ্বনেতারা এ আহ্বান জানান।
এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস ও সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-পিয়ের রাফার্যাঁ।
তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে বৈষম্যের যে ‘সংকট’ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় জরুরি নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন।
এএফপির হাতে আসা চিঠিতে সাবেক নেতারা বলেন, ‘বিশ্বের একের পর এক দেশে বৈষম্যের সংকট রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।’
তারা আরও জানান, ২০০০ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রতি এক ডলারের মধ্যে মাত্র এক সেন্ট পেয়েছে মানবজাতির দরিদ্রতম অর্ধেক মানুষ। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষ পেয়েছে ৪১ সেন্ট।
সাবেক নেতারা আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছর বিশ্বে প্রথমবারের মতো একজন ট্রিলিয়নিয়ারের আবির্ভাব ঘটেছে। অথচ একই সময়ে বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে।
তারা বলেন, ‘সবচেয়ে ধনী ও সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যকার ব্যবধান যে অনেক বেশি বেড়ে গেছে, তা নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই।’
সাবেক বিশ্বনেতারা তাদের উত্তরসূরিদের ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ইনইকুয়ালিটি (আইপিআই) বা আন্তর্জাতিক বৈষম্যবিষয়ক প্যানেল গঠনের উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বিষয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা।
জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)-এর আদলে এই নতুন সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ। জি-২০-এর একটি প্রতিবেদনে তিনি এ সুপারিশ করেন।
ওই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক ‘বৈষম্যজনিত জরুরি পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি—দুটোকেই দুর্বল করছে।
বুধবারের খোলা চিঠিতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সাবেক নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মালাউইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়েস বান্দা, পর্তুগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনিবাল কাভাকো সিলভা ও সেশেলসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস মিশেল।
চিঠিতে বলা হয়েছে, বাড়তে থাকা বৈষম্য গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে ক্ষয় করছে এবং সমাজের প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যকে দুর্বল করছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি বৈষম্যপূর্ণ দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি সাত গুণ বেশি।
স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সেনেগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমিনাতা তুরে, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক, পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো সাগাস্তি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান সেউং-সু-সহ আরও কয়েকজন সাবেক সরকার প্রধান রয়েছেন।
তারা বিশ্বের বর্তমান নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমরা আপনাদের সামনে থাকা জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর গুরুত্ব ও চাপ সম্পর্কে অবগত।
চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এটাও জানি যে চরম বৈষম্য এসব হুমকিকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং আপনাদের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি করছে।’
সাবেক নেতারা বলেন, আইপিআই গঠন করা হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। আইপিসিসির মতো এই প্যানেল বৈষম্যের প্রবণতা, এর প্রভাব ও কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করতে ও নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রমাণ ও গবেষণা মূল্যায়ন করতে পারবে।
চিঠিতে বলা হয়, আইপিআই-এর মাধ্যমে ‘শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বৈষম্যসংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন। এতদিন এই তথ্যের ঘাটতির কারণে বৈষম্য সংকট মোকাবিলার উদ্যোগগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।’
বৈষম্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনে
বৈষম্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনে
সম্পদের চরম বৈষম্য মোকাবিলায় একটি নতুন আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনের উদ্যোগকে সমর্থন করার জন্য বর্তমান বিশ্বনেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন ৩৭ জন সাবেক রাষ্ট্র ও সরকার প্রধান। বুধবার প্রকাশিত এক খোলা চিঠিতে সাবেক এই বিশ্বনেতারা এ আহ্বান জানান। এই নেতাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শোলৎস ও সাবেক ফরাসি প্রধানমন্ত্রী জ্যঁ-পিয়ের রাফার্যাঁ। তারা বলেন, বিশ্বজুড়ে বৈষম্যের যে ‘সংকট’ তৈরি হয়েছে, তা মোকাবিলায় জরুরি নীতিগত পদক্ষেপ প্রয়োজন। এএফপির হাতে আসা চিঠিতে সাবেক নেতারা বলেন, ‘বিশ্বের একের পর এক দেশে বৈষম্যের সংকট রেকর্ড মাত্রায় পৌঁছে যাওয়ায় আমরা উদ্বিগ্ন।’ তারা আরও জানান, ২০০০ সাল থেকে বিশ্ব অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধির প্রতি এক ডলারের মধ্যে মাত্র এক সেন্ট পেয়েছে মানবজাতির দরিদ্রতম অর্ধেক মানুষ। বিপরীতে সবচেয়ে ধনী এক শতাংশ মানুষ পেয়েছে ৪১ সেন্ট। সাবেক নেতারা আরও উল্লেখ করেন, চলতি বছর বিশ্বে প্রথমবারের মতো একজন ট্রিলিয়নিয়ারের আবির্ভাব ঘটেছে। অথচ একই সময়ে বিশ্বের প্রতি চারজন মানুষের একজন খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছে। তারা বলেন, ‘সবচেয়ে ধনী ও সবচেয়ে দরিদ্র মানুষের মধ্যকার ব্যবধান যে অনেক বেশি বেড়ে গেছে,
তা নিয়ে কোনো ভুল বোঝাবুঝির সুযোগ নেই।’ সাবেক বিশ্বনেতারা তাদের উত্তরসূরিদের ইন্টারন্যাশনাল প্যানেল অন ইনইকুয়ালিটি (আইপিআই) বা আন্তর্জাতিক বৈষম্যবিষয়ক প্যানেল গঠনের উদ্যোগে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। পাশাপাশি আগামী সপ্তাহে নিউইয়র্কে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদের অধিবেশনের ফাঁকে এ বিষয়ে আয়োজিত একটি উচ্চপর্যায়ের বৈঠকে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানান তারা। জাতিসংঘের জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক আন্তঃসরকার প্যানেল (আইপিসিসি)-এর আদলে এই নতুন সংস্থা গঠনের সুপারিশ করেছিলেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ জোসেফ স্টিগলিৎজ। জি-২০-এর একটি প্রতিবেদনে তিনি এ সুপারিশ করেন। ওই প্রতিবেদনে বৈশ্বিক ‘বৈষম্যজনিত জরুরি পরিস্থিতি’ মোকাবিলায় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। এতে সতর্ক করে বলা হয়েছিল, ক্রমবর্ধমান বৈষম্য গণতন্ত্র ও অর্থনৈতিক অগ্রগতি—দুটোকেই দুর্বল করছে। বুধবারের খোলা চিঠিতে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের সাবেক নেতারা স্বাক্ষর করেছেন। তাদের মধ্যে রয়েছেন মালাউইয়ের সাবেক প্রেসিডেন্ট জয়েস বান্দা, পর্তুগালের সাবেক প্রেসিডেন্ট আনিবাল কাভাকো সিলভা ও সেশেলসের সাবেক প্রেসিডেন্ট জেমস মিশেল। চিঠিতে বলা হয়েছে, বাড়তে থাকা বৈষম্য গণতান্ত্রিক স্বাধীনতাকে ক্ষয় করছে এবং সমাজের প্রয়োজনীয় নিয়ন্ত্রণ ও ভারসাম্যকে দুর্বল করছে। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, গবেষণায় দেখা গেছে, তুলনামূলকভাবে সমতাভিত্তিক দেশের চেয়ে সবচেয়ে বেশি
বৈষম্যপূর্ণ দেশগুলোতে গণতান্ত্রিক অবক্ষয়ের ঝুঁকি সাত গুণ বেশি। স্বাক্ষরকারীদের মধ্যে সেনেগালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী আমিনাতা তুরে, নিউজিল্যান্ডের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হেলেন ক্লার্ক, পেরুর সাবেক প্রেসিডেন্ট ফ্রান্সিসকো সাগাস্তি ও দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হান সেউং-সু-সহ আরও কয়েকজন সাবেক সরকার প্রধান রয়েছেন। তারা বিশ্বের বর্তমান নেতাদের উদ্দেশে বলেন, আমরা আপনাদের সামনে থাকা জটিল চ্যালেঞ্জগুলোর গুরুত্ব ও চাপ সম্পর্কে অবগত। চিঠিতে আরও বলা হয়েছে, ‘আমরা এটাও জানি যে চরম বৈষম্য এসব হুমকিকে আরও তীব্র করে তুলছে এবং আপনাদের অর্থনীতি ও গণতন্ত্রের ওপর গভীর চাপ সৃষ্টি করছে।’ সাবেক নেতারা বলেন, আইপিআই গঠন করা হলে এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা তৈরি হবে। আইপিসিসির মতো এই প্যানেল বৈষম্যের প্রবণতা, এর প্রভাব ও কারণগুলো পর্যবেক্ষণ করতে ও নীতিনির্ধারণে ব্যবহারের জন্য বিভিন্ন প্রমাণ ও গবেষণা মূল্যায়ন করতে পারবে। চিঠিতে বলা হয়, আইপিআই-এর মাধ্যমে ‘শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞরা বৈষম্যসংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতি পূরণে ভূমিকা রাখতে পারবেন। এতদিন এই তথ্যের ঘাটতির কারণে বৈষম্য সংকট মোকাবিলার উদ্যোগগুলো কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জন করতে পারেনি।’
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত