বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
চীনসহ এশিয়ার দেশগুলোতে স্বাস্থ্য সহযোগিতা জোরদারে ৪ অগ্রাধিকার তুলে ধরলেন মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন চাপ, সুদের হার বাড়াতে পারে ব্যাংক অব জাপান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ফাঁকে মাখোঁর সঙ্গে বৈঠক করবেন জেলেনস্কি ফেডের সুদের সিদ্ধান্তকে ঘিরে এশিয়ার শেয়ারবাজারে অস্থিরতা বিনিয়োগ চুক্তি ও হরমুজ প্রণালীতে সম্ভাব্য মোতায়েন নিয়ে আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্র ইইউ’র পররাষ্ট্রনীতি প্রধানের মস্কোর ওপর আরও চাপের আহ্বান বৈষম্য মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক প্যানেল গঠনে যুক্তরাষ্ট্রে হামে আরও একজনের মৃত্যু, বাড়ছে প্রাদুর্ভাব বিশ্ব বিনিয়োগকারীদের কানাডায় বিনিয়োগের আহ্বান কার্নির প্রধানমন্ত্রীর উদ্যোগে আজন্ম দৃষ্টিহীনকে চাকরিতে নিয়োগ দিল রাবি
আন্তর্জাতিক মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন চাপ, সুদের হার বাড়াতে পারে ব্যাংক অব জাপান

মূল্যস্ফীতি ও মার্কিন চাপ, সুদের হার বাড়াতে পারে ব্যাংক অব জাপান

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও দুর্বল হয়ে পড়া ইয়েনকে শক্তিশালী করতে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ব্যাংক অব জাপান (বিওজে) শুক্রবার আবারও সুদের হার বাড়াতে পারে। এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের নজরও রয়েছে জাপানের এই সিদ্ধান্তের ওপর।

বুধবার যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের সুদের হার সংক্রান্ত সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় রয়েছে বিশ্ববাজার। এর আগে গত সপ্তাহে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকও সুদের হার বাড়িয়েছে।

বৃহস্পতিবার ও শুক্রবার বৈঠকে বসছে ব্যাংক অব জাপান। তবে তাদের সিদ্ধান্ত নিয়ে অনিশ্চয়তা তুলনামূলক কম।

ব্যাংকের কয়েকজন নীতিনির্ধারক ইতোমধ্যে সুদের হার বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ধারণা করা হচ্ছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক মূল সুদের হার ০.২৫ শতাংশ পয়েন্ট বাড়িয়ে ১.২৫ শতাংশে নিতে পারে। এটি তিন দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে জাপানে সর্বোচ্চ সুদের হার হবে।

এর আগে সর্বশেষ জুন মাসে সুদের হার বাড়িয়েছিল ব্যাংক অব জাপান।

মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটের কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বেড়ে যাওয়ায় জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওপর সুদের হার বাড়ানোর চাপ আরও বেড়েছে।

এই সংকট শিগগির শেষ হওয়ার কোনো লক্ষণ না থাকায় তেলের দাম আরও কিছুদিন উচ্চ পর্যায়ে থাকতে পারে, যা জাপানে মূল্যস্ফীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করবে।

এদিকে দুর্বল ইয়েনের কারণে আমদানি করা পণ্যের দামও বেড়ে যাচ্ছে।

জুলাই মাসে জাপানের মূল্যস্ফীতি আরও বেড়ে ব্যাংক অব জাপানের নির্ধারিত ২ শতাংশ লক্ষ্যমাত্রার কাছাকাছি পৌঁছায়।

জাপানের সাবেক মুদ্রা বিভাগের প্রধান এবং এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের সাবেক প্রেসিডেন্ট তাকেহিকো নাকাও এএফপিকে বলেন, সেপ্টেম্বরের বৈঠকে সুদের হার ১.২৫ শতাংশে বাড়ানোর বিষয়টি ইতোমধ্যে বাজারে অনেকটাই ধরে নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, মূল্যস্ফীতি বাড়তে থাকায় তা নিয়ন্ত্রণে সময়মতো সুদের হার বাড়ানো প্রয়োজন। সিদ্ধান্ত নিতে দেরি হলে, পরে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার একসঙ্গে অনেক বেশি বাড়াতে হতে পারে। এতে করে মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে ভবিষ্যতে আরও দ্রুত ও কাছাকাছি সময়ে একাধিকবার সুদের হার বাড়ানোর সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে।

ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের বিশ্লেষক মার্সেল থিলিয়াঁ বলেন, আগামী বছরের শুরু নাগাদ খাদ্য ও জ্বালানি বাদে মূল্যস্ফীতি ২.৫ শতাংশের দিকে উঠতে পারে।

তিনি আরও বলেন, সরকার যদি বিদ্যুৎ ও গ্যাসে ভর্তুকি আবার চালু না করে, তাহলে বিদ্যুৎ উৎপাদনের বাড়তি ব্যয় সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিকে ৩ শতাংশেরও ওপরে ঠেলে দিতে পারে।

তার পূর্বাভাস, ২০২৭ সালের মাঝামাঝি জাপানের সুদের হার ২ শতাংশে পৌঁছাতে পারে।

দুর্বল ইয়েন নিয়ে উদ্বেগ

জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কর্মকর্তারা ইয়েনকে শক্তিশালী করার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন।

জুলাইয়ে ডলারের বিপরীতে ইয়েন ৪০ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে  নেমে গিয়েছিল। এর পর ইয়েনকে সমর্থন দিতে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপান যৌথভাবে বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে ঐতিহাসিক হস্তক্ষেপ করে।

জাপানের সুদের হার দীর্ঘদিন ধরে তুলনামূলক কম থাকায় এবং যুক্তরাষ্ট্রে সুদের হার বেশি থাকায় ইয়েনের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। এতে বিনিয়োগকারীরা বেশি মুনাফার আশায় ডলারে বিনিয়োগের দিকে ঝুঁকেছেন।

অক্সফোর্ড ইকোনমিকসের বিশ্লেষক শিগেতো নাগাই বলেন, জুলাইয়ের শেষ দিকে যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের যৌথ বাজার হস্তক্ষেপ ইয়েনকে সাময়িকভাবে কিছুটা শক্তিশালী করলেও ব্যাংক অব জাপানের ওপর দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর চাপ আরও বাড়িয়েছে।

তার মতে, বাজারে এমন ধারণাও তৈরি হয়েছে যে, মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি ইয়েনের বাজারে হস্তক্ষেপের বিনিময়ে জাপানের কাছ থেকে দ্রুত সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা করছেন।

তিনি সতর্ক করে বলেন, বাজার ও যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাশা পূরণ না করার অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক মূল্য এখন ব্যাংক অব জাপান এবং জাপান সরকারের জন্য উপেক্ষা করার মতো কম নয়।

আগস্টে ব্যাংক অব জাপানের গভর্নর কাজুও উয়েদার সঙ্গে আলোচনায় মার্কিন অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট ইয়েনের অতিমূল্যায়ন কমাতে জাপানের  ‘দৃঢ় বাজার ও মুদ্রানীতিগত পদক্ষেপের’ প্রতি জোরালো সমর্থন জানিয়েছিলেন।

দুর্বল ইয়েনের ফলে আমদানি করা পণ্যের দাম বাড়ে এবং এতে মূল্যস্ফীতির চাপ আরও বেড়ে যায়।

খুঁজুন