মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কৃষি বরফ গলার হার ৩০ বছরে ৬ গুণ, হিমবাহ রক্ষার শেষ তাগিদ

বরফ গলার হার ৩০ বছরে ৬ গুণ, হিমবাহ রক্ষার শেষ তাগিদ

কৃষি ও পরিবেশ ডেস্ক: বৈশ্বিক উষ্ণতা শিল্পবিপ্লবপূর্ব সময়ের তুলনায় ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস সীমা অতিক্রম করলে পৃথিবীর হিমমণ্ডল মারাত্মক ও অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়বে। জাতিসংঘের পরিবেশ কর্মসূচি ও আইসিসিআইয়ের যৌথ উদ্যোগে ৮০ জন বিজ্ঞানীর তৈরি এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে। গত ত্রিশ বছরের তুলনায় বর্তমানে গ্রিনল্যান্ড ও অ্যান্টার্কটিকার বরফের আস্তরণ প্রায় ছয় গুণ দ্রুত গতিতে গলছে। বিজ্ঞানীরা সতর্ক করেছেন যে, এই তাপমাত্রা বৃদ্ধি রোধ করা না গেলে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি পাবে এবং বিশ্বজুড়ে ভয়াবহ পানিসংকট দেখা দেবে।

ক্রায়োস্ফিয়ার বা হিমমণ্ডল বলতে পৃথিবীর যেসব অঞ্চলে পানি বরফ অবস্থায় থাকে, সেগুলোকে বোঝানো হয় এবং এটি জলবায়ু ব্যবস্থার অন্যতম সংবেদনশীল উপাদান। বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে এসব অঞ্চলের বরফ দ্রুত গলে যাওয়ায় সূর্যের তাপ প্রতিফলিত করার পৃথিবীর ক্ষমতা কমে যাচ্ছে। এর ফলে উষ্ণতা বৃদ্ধি আরও ত্বরান্বিত হচ্ছে এবং চিরহিমায়িত পারমাফ্রস্ট অঞ্চল গলে বায়ুমণ্ডলে আরও ক্ষতিকর গ্যাস নির্গত হচ্ছে। বর্তমান নীতি অব্যাহত থাকলে শতাব্দীর শেষ নাগাদ তাপমাত্রা প্রায় ৩ ডিগ্রি সেলসিয়াসে পৌঁছাতে পারে, যা মহাসাগরের স্বাভাবিক সঞ্চালনে বিপর্যয় ডেকে আনবে।

এ বিষয়ে প্রধান লেখক ও হিমবাহবিদ জেমস কার্কহাম বলেছেন যে, জলবায়ু ব্যবস্থার এই সংবেদনশীল উপাদানটি ধ্বংস হওয়ার নেতিবাচক প্রভাব গোটা পৃথিবীকে প্রভাবিত করবে। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, সম্প্রতি নেপাল-চীন সীমান্তে বড় ধরনের বরফ ধসের ঘটনা ঘটেছে এবং সুইজারল্যান্ড গত পাঁচ বছরে তাদের মোট হিমবাহের বিশ শতাংশ বরফ হারিয়েছে। 'ক্লাইমেট অ্যানালিটিকস'-এর প্রধান নির্বাহী বিল হেয়ার বলেছেন, বরফ গলার এই রেকর্ড গতি এবং সমুদ্রের উচ্চতা বৃদ্ধির পরিণতি মানবজীবনের জন্য সম্পূর্ণ অপূরণীয়।

বিজ্ঞানীরা বায়ুমণ্ডল থেকে বিপুল পরিমাণ কার্বন অপসারণ এবং গ্রিনহাউস গ্যাস নির্গমন রোধে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জোর তাগিদ দিয়েছেন। তাপমাত্রা সাময়িকভাবে ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামানো সম্ভব হলেও বরফ ক্ষয়ের এই গতি সহজে থামবে না। তাই ২১৫০ সালের মধ্যে দীর্ঘমেয়াদি উষ্ণতা ১ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে নামিয়ে আনার ওপর সর্বাধিক গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে। অন্যথায়, বিশ্বজুড়ে হাজার হাজার হিমবাহ চিরতরে বিলুপ্ত হয়ে যাবে এবং শত কোটি মানুষের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়বে।

খুঁজুন