বুধবার, ২ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বরিশালে রোপা আমন ও আউশ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে রাজশাহীতে পুলিশের অভিযানে গ্রেপ্তার ২৬ ড্রোনের কারণে রাশিয়ার আকাশ বিমান চলাচলের জন্য ‘সম্পূর্ণ অনিরাপদ’: জেলেনস্কি শরতে অপরূপ কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ, সৌন্দর্যে মাতোয়ারা পর্যটকরা বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে ঢাকা-১৭ আসনে বর্ণাঢ্য র‌্যালি আজ ডিএসসিসি প্রশাসকের খিলগাঁও আঞ্চলিক কার্যালয় পরিদর্শন যুক্তরাজ্য সফরে মাখোঁ, বেয়ো ট্যাপেস্ট্রির উদ্বোধন, বার্নহামের সঙ্গে বৈঠক বৃহস্পতিবার নেপালে বন্যায় মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১১১৪, নিখোঁজ ৩৯১৬ দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টির সম্ভাবনা মার্কিন হামলার জবাবে ইরানের পাল্টা হামলা
কৃষি বরিশালে রোপা আমন ও আউশ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

বরিশালে রোপা আমন ও আউশ আবাদে লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়েছে

 জেলায় চলতি বছরে রোপা আমন ও আউশ আবাদে নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে বরিশাল জেলার ১০টি উপজেলা ও বরিশাল সিটি করপোরেশন এলাকায় এ বছর ব্যাপক পরিমাণ জমিতে আমন ও আউশের আবাদ হয়েছে। এ বছর জেলায় রোপা আমনের বীজতলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল ৮ হাজার ৫৯০ হেক্টর। এর বিপরীতে বীজতলা ও আবাদ কার্যক্রমে অগ্রগতি হয়েছে ১ লাখ ১৭ হাজার ৭৮৭ হেক্টর জমিতে। এরমধ্যে উফশী জাতের আমনের আবাদ হয়েছে ৬২ হাজার ১৮৭ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের আমনের চাষ হয়েছে ৫৫ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে।

এছাড়া জেলার বিভিন্ন এলাকায় ২ হাজার ৭০৫ হেক্টর জমিতে শাক-সবজির আবাদ হয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, বরিশালের ১০টি উপজেলা ও মেট্রোপলিটন এলাকায় এ বছর ৩ হাজার ১৭ হেক্টর জমিতে আউশের আবাদ হয়েছে। এরমধ্যে উফশী জাতের আউশ ২ হাজার ৫০৩ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের আউশ ৫১৪ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে।

উপজেলাভিত্তিক হিসাবে বরিশাল সদর উপজেলায় ১৪২ হেক্টর, বাবুগঞ্জে ৩৫ হেক্টর, উজিরপুরে ৩০ হেক্টর, বাকেরগঞ্জে ৫৮৮ হেক্টর, গৌরনদীতে ২১০ হেক্টর, আগৈলঝাড়ায় ৬৫ হেক্টর, মুলাদীতে ২২৮ হেক্টর, হিজলায় ৫২৫ হেক্টর, মেহেন্দিগঞ্জে ১ হাজার ১৫৫ হেক্টর এবং বানারীপাড়ায় ৩৮ হেক্টর জমিতে উফশী জাতের আউশের আবাদ হয়েছে। এছাড়া মেট্রোপলিটন এলাকায় এক হেক্টর জমিতে এ জাতের আউশ আবাদ হয়েছে।

কৃষি কর্মকর্তারা জানান, উফশী জাতের ধানে প্রতি হেক্টরে গড়ে আড়াই মেট্রিক টন পর্যন্ত ফলন পাওয়া যায়। অন্যদিকে স্থানীয় জাতের ধানে ফলন হয় গড়ে দেড় মেট্রিক টন। তুলনামূলক বেশি ফলন ও বাজারমূল্যের কারণে কৃষকদের মধ্যে উফশী জাতের ধান চাষে আগ্রহ বাড়ছে।

বরিশালের চরমোনাই এলাকার কৃষক জব্বার হাওলাদার বলেন, ‘উফশী জাতের ধানের ফলন বেশি হওয়ায় গত বছরের তুলনায় আমনের আবাদ বেশি করেছি। ফলন ভালো হলে কৃষকরা লাভবান হতে পারবেন।’

সাহেবেরহাট এলাকার কৃষক এনায়েত হোসেন বলেন, উফশী জাতের ধানের ফলন ভালো হওয়ায় কৃষকদের মধ্যে এ জাতের ধান চাষের আগ্রহ বাড়ছে। সময়মতো সার, বীজ ও সেচ সুবিধা পাওয়া গেলে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব হবে।

বরিশাল কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ পরিচালক মরিয়ম বাসস’কে বলেন,এ বছর ৬৬ হাজার ৩৪০ হেক্টর উফশী ও ৫৮ হাজার ৮৬০ হেক্টর স্থানীয় জাতের আমন চাষে লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এ পর্যন্ত ৬২ হাজার ১৮৭ হেক্টর ও ৫৫ হাজার ৬শ’ হেক্টর জমিতে আবাদ সম্পন্ন হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, কৃষকদের উন্নত জাতের বীজ ব্যবহারে উৎসাহিত করা হচ্ছে। উফশী জাতের ধানের ফলন তুলনামূলক বেশি হওয়ায় কৃষকরা এ জাতের ধান চাষে আগ্রহী হচ্ছেন। কৃষি বিভাগের পক্ষ থেকে কৃষকদের প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেয়া হচ্ছে।

কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা আশা করছেন, অনুকূল আবহাওয়া ও রোগবালাইয়ের প্রকোপ নিয়ন্ত্রণে থাকলে চলতি মৌসুমে বরিশালে আমন ও আউশের উৎপাদন আরও বাড়বে।

খুঁজুন