বৃহস্পতিবার, ১৮ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত দেশ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রাজনৈতিক মূর্খদের হাতে

দেশ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে রাজনৈতিক মূর্খদের হাতে

দেশ নিয়ন্ত্রণ হচ্ছে অযোগ্য ও দূরদর্শিতাহীন নেতৃত্বের হাতে—জনগণের এমন ক্ষোভ ও হতাশা নতুন কিছু নয়। রাষ্ট্র পরিচালনায় সঠিক শিক্ষা, সততা ও যোগ্যতার অভাব, এবং গণতান্ত্রিক মূল্যবোধের চর্চা না থাকায় অনেক সময় দেশ ও সমাজ বিপর্যয়ের মুখে পড়ে । সংসদ ও রাষ্ট্র চালায় আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্ররা। যেই দেশে মূর্খরা দেশ চালায়, সেই দেশে জুলাই হচ্ছে বিপ্লব।

তাই জুলাই গণঅভ্যুত্থান শীর্ষক "𝐓𝐡𝐞 𝐒𝐭𝐮𝐝𝐞𝐧𝐭 𝐋𝐞𝐝 𝐔𝐩𝐫𝐢𝐬𝐢𝐧𝐠 𝐚𝐧𝐝 𝐭𝐡𝐞 𝐟𝐮𝐭𝐮𝐫𝐞 𝐨𝐟 𝐏𝐨𝐬𝐭 - 𝐑𝐞𝐯𝐨𝐥𝐮𝐭𝐢𝐨𝐧𝐚𝐫𝐲 𝐁𝐚𝐧𝐠𝐥𝐚𝐝𝐞𝐬𝐡" নামক অক্সফোর্ডে বক্তব্য দিতে গেছেন ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি "বায়তুশ শরফ জব্বারিয়া আদর্শ মাদ্রাসার"  ছাত্র সাদিক কায়েম। 
তার সাথে সেখানে গেছেন বিনা ভোটে নির্বাচিত এমপি হাসনাত আব্দুল্লাহ।

বাংলাদেশের একজন রিকশাচালক পেটের দায়ে রিক্সা চালান। কিন্তু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের শিক্ষক আসিফ নজরুলরা মার্কিন ডিপ স্টেটের কাছে পেটের বিদ্যা বিক্রি করে খান। বিপ্লব সম্পর্কে নূন্যতম জ্ঞান যাদের আছে তারা একবাক্যে বলবে "৩৬ দিনে পৃথিবীতে কোন বিপ্লব হয়নি, বিপ্লব হয় না।" বিপ্লব করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন। যেমন আমাদের মুক্তিযুদ্ধ ছিল দীর্ঘ ২৩ বছরের বিপ্লব।
এই বিপ্লবের মহানায়ক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান। বিপ্লবের সময় থেকেই সারাবিশ্ব তাকে চেনে। বিপ্লবের একজন নেতা থাকতে হয়। 

বঙ্গবন্ধু বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী হওয়ার আগেই ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী এডওয়ার্ড হিথ নিজ হাতে বঙ্গবন্ধুর জন্য গাড়ির দরজা খুলে দিয়ে সম্মান প্রদর্শন করে কমন্স  সভায় সেই বিষয়ে ইঙ্গিত করে বলেছিলেন, 

“বঙ্গবন্ধুকে সম্মান দেখাতে গিয়ে আসলে ব্রিটেন নিজেই সম্মানিত হয়েছে।"

জুলাইয়ের লেঞ্জায় বিপ্লব শব্দ লাগাইয়া দিলেই জুলাই বিপ্লব হয়ে যায় না। কিন্তু রাজনৈতিক আন্তর্জাতিক মূর্খদের এসব কে বোঝাবে 

ফরাসী বিপ্লব ছিল ১০ বছরের একটি দীর্ঘমেয়াদি বিপ্লব। আমেরিকার বিপ্লব ছিল ৮ বছর, রুশ বিপ্লব ৬ বছর ও চীনা বিপ্লব ছিল ৩৮ বছরের বিপ্লব। পৃথিবীর ইতিহাসে ৩৬ দিনের কোন জুলাই বিপ্লব ও এর আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি নাই, কোনদিনও সম্ভব নয়।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড শহরে অবস্থিত। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে বাংলাদেশের অধ্যাপক ড. মাসুদা বানু ডিপার্টমেন্ট অফ ইন্টারন্যাশনাল ডিপার্টমেন্টের একজন শিক্ষক ও গবেষক। ডক্টর মোহাম্মদ জাফর ইকবাল স্যার পৃথিবী বিখ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি এর গবেষক হয়েও এই হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদেক কায়েমদের সন্ত্রাসের কারণে দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছে ।

বাংলাদেশের চট্রগ্রামের ছেলে জামাল নজরুল ইসলাম স্যার বিশ্ববিখ্যাত কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডনের কিংস কলেজের অধ্যাপক ও গবেষক ছিলেন। নিজ দেশে তার প্রাপ্য সম্মানটুকু পর্যন্ত জুটেনি। বাংলাদেশের প্রথম নারী স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরী বাংলাদেশের ইতিহাসে এসএসসি ও এইচএসসি পরীক্ষায় বোর্ড স্টান্ড করা ছাত্রী। যুক্তরাজ্যের এসেক্স বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পিএইচডি করা এই মেধাবী ছাত্রী বিনা বিচারে কারাগারে ছিলেন। 
বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী দীপু মনি জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়, লন্ডন বিশ্ববিদ্যালয় ও হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পাশ করা মেধাবী ছাত্রী হয়েও আজ বিনাবিচারে কারাগারে। 
কারণ দেশ চালাচ্ছে সাদিক কায়েম ও নাসিরুদ্দিন পাটোয়ারীর মতো মাদ্রাসা ছাত্ররা।
এই দেশে এখন মেধাবীদের চেয়ে রাজনৈতিক মূর্খদের কদর বেশি।

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৫০ ইউরো থেকে ১০০০ ইউরো প্রতি ঘন্টায় সেমিনার হলরুম ভাড়া করা যায়।এসব বাংলাদেশের আহম্মকদের জানার কথা নয়।
হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদিক কায়েমদের জন্য অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের সেমিনার রুম ভাড়া করা হয়েছে ৩-৫ লাখ টাকার বিনিময়ে। 
এই সেমিনার রুম ভাড়া করেছেন অক্সফোর্ড বাংলাদেশ সোসাইটি। এই তথাকথিত অক্সফোর্ড বাংলাদেশ সোসাইটির দায়িত্বে আছেন বাংলাদেশী মাসরুর ও সাইমুর মুজিবুর রহমান। এরা হল ভাড়া করে সাদিক কায়েম ও হাসনাতদের সেখানে নিয়ে গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গাঞ্জা খায়নি যে আলিয়া মাদ্রাসার ছাত্রদের জন্য বিমানের টিকিট ও হলরুম ভাড়া করে "জুলাই - আগষ্ট" এর ভাষণ শুনবে। কিন্তু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মূর্খদের এই জ্ঞানটুকু নিশ্চয়ই থাকার কথা নয়। তাই তারা অক্সফোর্ডের ভাড়াটিয়া হাসনাত আব্দুল্লাহ ও সাদেক কায়েম নিয়ে উল্লাস প্রকাশ করছে। রাজনীতির ভাষায় এটাকে "ফলস জুবিলেশন" বলে। এটি একটি পলিটিকাল সাইকোলজি বা রাজনৈতিক হাতিয়ার।নিজেদের পরাজয় আড়াল করতে রাজনৈতিক মূর্খরা এসব দেখিয়ে জনতাকে বোকা বানায়। তাই এসব হাতিয়ার দিয়ে কেবল বাংলাদেশের আহম্মকদের বোকা বানানো সম্ভব, বুদ্ধিমানদের নয়।

বাংলাদেশে বর্তমানে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধ করে একনায়কতান্ত্রিক প্রোপাগান্ডা চলছে। দিল্লীতে "ওসাম রিম অ্যাসোসিয়েশন" বক্তব্য দিতে গিয়ে হানি ট্যাপে পড়ে গিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর পলিসি ও স্ট্রাট্রেজি বিষয়ক উপদেষ্টা আরেক জুলাই যোদ্ধা জাহেদ উর রহমান। এসব  ঘটনাকে ধামাচাপা দিতে সাদিক কায়েম ও হাসনাত আব্দুল্লাহদের অল্টারনেটিভ রিয়েলিটি তথা কর্তৃত্ববাদী রাজনীতির প্রোপাগান্ডা চালানো হচ্ছে। এসবকে রাজনীতিতে  "ম্যানুফেকচার ইউফোরিয়া" বলা হয়। এসব ক্ষেত্রে ভণ্ড রাজনীতিবীদরা মিডিয়া ম্যানিপুলেশন করে জনগণের দৃষ্টি ভিন্ন খাতে নেওয়ার চেষ্টা করে। এসব হচ্ছে ভণ্ড রাজনৈতিক নেতাদের কর্পোরেট ও বাণিজ্যিক কৌশল।এটাকে ডিসট্রাকশন টেকনিক হিসেবে ব্যবহার করে ভণ্ড রাজনৈতিক নেতারা জনগণকে ধোঁকা দেন। 

আবারো বলছি , 

“ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ঢাকা আলিয়া মাদ্রাসা হতে পারে, কিন্তু অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় গাঞ্জা খায় না।”

বাংলাদেশে যে জুলাই রেভ্যুলেশন এর কথা বলা হচ্ছে এটা মার্কিন ডিপ স্টেটের ষড়যন্ত্রের ফসল। এসব এখন প্রমাণিত সত্য। ইতিমধ্যে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের সাবেক কর্মকর্তা মাইক বেঞ্জ মার্কিন ধারাভাষ্যকার টাকার কার্লসন ও জো রোগান এর সাথে সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশের রেজিম চেঞ্জ ও শেখ হাসিনার সরকার পরিবর্তনের "ইউএসএইড ২৯ মিলিয়ন ডলার" এর মুখোশ খুলে দিয়েছেন। 
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজ মুখে বাংলাদেশের রেজিম চেঞ্জে ইউএসএইড এর মিলিয়ন ডলারের কথা স্বীকার করেছেন। এরপরও যাদের জুলাইকে অভ্যুত্থান মনে হয় তাদের বলবো, ইউনূসের বন্ধু ইহুদী ধনকুব জর্জ সোরস ও তার ওপেন সোসাইটি ফাউন্ডেশন এর কুকর্মের ইতিহাস জানুন।তাতেও কাজ না হলে সহজ বাংলায় কালার রেভ্যুলেশন এর ইতিহাস জানুন। বাংলাদেশের অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের জন্য সেন্ট্রাল হাব বানিয়ে মার্কিন ডিপস্টেট কেন মিলিয়ন মিলিয়ন ডলার খরচ করে তা বুঝার চেষ্টা করুন। 

এরপরও চোখের সামনে লুঙ্গির তলা থেকে শিবির বেরিয়ে আসার পরও এসব অস্বীকার করলে বলবো - 

"খাট উল্টে সাঈদী/ পাকিস্তান জিন্দাবাদ” হয়ে গেলেই তা গণঅভ্যুত্থান ও বিপ্লব হয় না। বিপ্লবের জন্য সামনে থেকে নেতৃত্ব দিতে হয়। 
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের নেতারাও জানে না তাদের অভ্যুত্থানের নেতা কে । ৫ আগষ্ট সেনাবাহিনী যখন জামায়াতের শফিকুর রহমানের সাথে বৈঠক করে তখন দেশবাসী নিশ্চিত হয় "গণঅভ্যুত্থানের লুঙ্গির তলায় জামায়াতের শফিকুর রহমান " পর্যন্ত লুকিয়ে ছিলেন। তাই এখনো আপনাদের লুঙ্গি ঝাড়া দিলে শহীদুল আলম ও জুনায়েদ সাকীদের মতো সঠিক নির্বাচন হলে মেম্বার হতে পারবে না এই ধরণের অসংখ্য জুলাই যোদ্ধা বের হয়ে আসবে। 

তাই এদেরকে জুলাই যোদ্ধা না বলে জুলাই মুখোশ বলুন।

এই জুলাই মুখোশের কারণেই সার্ভিস আলম রাতারাতি জমিদারের নাতি হয়ে গেছে। এমন আরো কত রাতারাতি আঙ্গুল ফুলে কলাগাছ হয়ে গেছে, সে হিসাব কি আছে আপনাদের কাছে 

জুলাই হচ্ছে "কোটা না মেধা" তুলে লুঙ্গির তলায় লুকিয়ে থাকা মুখোশধারীদের মার্কিন ডলারের আন্দোলন। এসবকে রাজনীতির ভাষায় রাজনৈতিক ব্যবসায়ীদের "অস্ট্রোটাফিং" বা ছদ্মবেশী আন্দোলন বলে। এসবের পেছনে থাকে গোপন স্পন্সর ও গোপন স্বার্থ। এরা হচ্ছে গণশত্রু। এরা ছদ্মবেশে লুঙ্গির তলায় লুকিয়ে জনগণের এজেন্ডা ডাইভারশন করে।এই অস্ট্রোটাফিংয়ের সবচেয়ে বড় হাতিয়ার হচ্ছে মিডিয়া। মিডিয়া ( যুগান্তর, নয়া দিগন্ত) এসব তখন হয়ে যায় এক একটা প্রোপাগান্ডা মেশিন। 
এভাবেই ওরা জনমত তৈরি করে রাষ্ট্রের মানুষকে ভোদাই বানায়। 

"অক্সফোর্ড বাংলাদেশ সোসাইটিকে "অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়" বানিয়ে এইভাবেই ধোঁকা দেয়া হচ্ছে বাংলাদেশের মানুষের সাথে। এরা হচ্ছে রাজনৈতিক ধোঁকাবাজ। এসব ধোঁকাবাজি যারা সমর্থন করে তারাই হচ্ছে রাজনৈতিক মূর্খ। এই রাজনৈতিক মূর্খরাই আমাদের সমাজ নিয়ন্ত্রণ করে, দেশ চালায় আলীয়া মাদ্রাসা।

আপনি/ আপনারা বিশ্বাস করেন আর নাই করেন - এই দেশটা চালায় রাজনৈতিক মূর্খরা। ১৭ কোটি বাংলাদেশের মানুষ এই রাজনৈতিক মূর্খদের গোলাম ছাড়া আর কিছুই না।

খুঁজুন