সোমবার, ১২ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র : ২ হাজার ৪০০ মেগাওয়াটে বদলে যাবে • অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায়
দেশের খবর দফায় দফায় বৃষ্টিতে প্রায় ১ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমির ধান ক্ষতি

দফায় দফায় বৃষ্টিতে প্রায় ১ লাখ হেক্টরেরও বেশি জমির ধান ক্ষতি

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নওগাঁ 

খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁর উপর দিয়ে বয়ে যাওয়া দফায় দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে বোরো ধান কৃষক সংকটে সময় মতো ধান কাটতে না পারায় হাজার হাজার হেক্টর জমিতে পানি জমে ধান গাছ পচে গিয়েছে। এছাড়াও নুয়ে পরা প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমির ধান ভিজে থাকায় ধানে দেখা দিয়েছে নতুন চারা। বোরো ধান কম উৎপাদন হচ্ছে অন্যদিকে পচা ধান বাজারে কম দামে বিক্রি হচ্ছে। ফলে বর্গচাষিদের প্রতি বিঘায় ৬ হাজার টাকা থেকে ৭ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। আর নিজস্ব জমির মালিকদের লোকসান গুণতে হচ্ছে ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা। কৃষকদের ক্ষতি পোষাতে দ্রুত সরকারি সহযোগিতা দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। 

নওগাঁ সদরের বোয়ালিয়া ইউনিয়নের শেখপুরা গ্রামের মৌসুমী ফল ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন। স্ত্রী ও দুই সন্তান মিলে তার পরিবারে চার জন। আলমগীর হোসেন বছর জুড়ে গ্রামে গ্রামে ফল কেনা-বেচা করে সংসারের খরচের টাকা কোনমতে চাহিদা মেটান। একটু বাড়তি লাভের আশায় ঘরে জমানো টাকা দিয়ে চলতি বোরো মৌসুমে ৪ বিঘা জমি বর্গ নিয়ে ধান চাষ করেন। বাড়তি লাভের আশায় আলমগীরের কাল হলো বোরো ধান চাষ। 

আলমগীর হোসেন জানান, প্রতি বিঘা জমি চাষ করতে ১৬ হাজার টাকা খরচ হয়েছে। কয়েক দফা কাল বৈশাখী ঝড়ে জমিতে ধান নুয়ে পরে। জমিতে পানি জমে থাকা ধান মাড়াইয়ের শ্রমিক পাননি। এরপর অশনির বৃষ্টিতে ধান সময় মতো কাটতে না পারায় জমিতেই ধানের নতুন চারা গজে গেছে। তিনি আরো বলেন, প্রতি বিঘা ধান কাটতে ৮ হাজার টাকা চেয়েছেন শ্রমিকরা। ফলে বাধ্য হয়ে নিজেই দিনে দিনে ধান কাটা-মাড়াই করেছেন। প্রতি বিঘায় গড়ে ১৬ মণ ধান পেয়েছেন। তারপরও পানিতে ভিজে ধানের পচাগন্ধযুক্ত হওয়ায় বাজারেও কেউ কিনছেন না। এই ধান হাট-বাজারে নাম মাত্র দরে ৮শ’ টাকা থেকে ৯শ’ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। এতে প্রতি বিঘায় ৭ হাজার থেকে ৮ হাজার টাকা লোকসান হয়েছে।   

শুধু আলমগীর হোসেন নন। বোরো চাষ করে এমন কষ্টে রয়েছেন খাদ্যে উদ্বৃত্ত জেলা নওগাঁ জেলার অধিকাংশ ধান চাষিরা। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় বোরো ধানের বাম্পার ফলনের স্বপ্ন দেখছিলেন তারা। তখন দফায় দফায় কাল বৈশাখী ঝড়-বৃষ্টি ও অশনিতে জমিতে বোরো ধান নুয়ে পরে প্রায় ১ লাখ হেক্টর জমির ধান পচে ও চিটা হয়েছে। 

সদরের উপজেলার বরুনকান্দি এলাকার কৃষক আবেদ আলী জানান, তাদের এলাকা নিচু হওয়ায় বোরো ধান লাগানোর সময় দুই দফা বন্যায় ধান ডুবে যাওয়ায় অনেক কৃষক ঋণ করে চাষ করতে হয়েছে। আবার ধান যখন আধাপাকা তখন প্রথম দফায় ১৭ এবং দ্বিতীয় দফায় ২৯ এপ্রিল রাতের ঝড়ে ধান প্রায় ৫০ ভাগ ঝড়ে যায়। পরবর্তিতে আরো ঝড় ও বৃষ্টিতে তাদের লোকসান গুণতে হয়েছে। এখন ঋণ কি করে পরিশোধ করবে আর সংসারের খরচ কিভাবে মিটাবেন এই নিয়েই দু:শিন্তাইতেই রয়েছেন। 

রাণীনগর উপজেলার রঞ্জনীয়া গ্রামের রফিকুল ইসলাম জানান, তার নিজস্ব জমিতে প্রতি বিঘায় গত বছর গড়ে ২৪ মণ জিরাশাইল ধান উৎপাদন হয়েছিলো। এ বছর ঝড়-বৃষ্টিতে ক্ষতি হওয়ায় বোরো ধান গড়ে ১৭ মণ উৎপাদন হয়েছে। কিটনাশক, পানির দাম, শ্রমিকের বাড়তি দামসহ অন্যান্য খরচ হিসেবে প্রতি বিঘায় ২ হাজার টাকা থেকে ৩ হাজার টাকা লোকসান গুণতে হচ্ছে। দ্রুত তাদের সরকারি প্রণোদনা দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তিনিসহ জেলার ক্ষতিগ্রস্থ্য কৃষকরা।   

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ জানান, জেলায় চলতি বোরো মৌসুমে ১ লাখ ৮৬ হাজার ৮ হেক্টর জমিতে ধান আবাদের লক্ষমাত্রা থাকলেও আরো বেশি ৩ হাজার হেক্টর জমিতে বেশি চাষ হয়েছে। ধানের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিলো ১২ লাখ ৪৪ হাজার ৬৪০ মেট্রিক টন। তবে প্রথম দফায় ঝড় বৃষ্টিতে ৫৬ হাজার ২৪০ হেক্টর ও দ্বিতীয় দফায় ৩৪ হাজার ৮৫০ হেক্টর জমির কাঁচা-পাকা ধান ক্ষতিগ্রস্থ্য হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্থ্য জমির মধ্যে ১০ ভাগ ধান নষ্ট হয়ে গেছে।

অপরপ্রশ্নে উপ-পরিচালক শামসুল ওয়াদুদ আরো জানান, অশনি ও পরবর্তীতে আরো কয়েক দফায় ঝড়-বৃষ্টিতে ধানের ক্ষতির কোন তালিকা করা হয়নি। ফলে আরো ক্ষতির পরিমাণ চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি।

খুঁজুন