বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
মতামত এই যে আমি, আমি কি আসলেই আমি?

এই যে আমি, আমি কি আসলেই আমি?

তারপরও কেন জানি নিজেকেই খুঁজছি?

আমার নিজের ছায়া, সে ছায়াকেও কেমন যেন অচেনা অচেনা লাগছে, যখন আলোর সঙ্গে চলি তখন আমার ছায়া আমার সঙ্গে চলে, আলো পেরিয়ে অন্ধকারে ঢুকলেই আমার ছায়াটাই আমাকে ছেড়ে চলে যায়। এতদিন জেনেছি, আমার ছায়া অথচ সেই আমার ছায়াকেই আমি খুঁজছি। কখনো ভাবছি, আমার ছায়াটা বুঝি সুবিধাবাদীদের খাতায় নাম লেখাল, যখন আলো তখন তো আমি একাই পথ চিনতে পারি অথচ সেই আলোতে আমার ছায়া আমার সঙ্গে চলছে, যখন অন্ধকার, পথ হারানোর ভয়, তখন আমার ছায়া নিজেই পলাতক।

তারপর আবার ভাবছি, আমি যে আমি, সেই আমিটাও কি আমাকে ছেড়ে ছায়ার মতো করে চলে গেছে! নিজেকেই যেখানে খুঁজে পাওয়া যায় না সেখানে গর্ব করে আমরা দাবি করছি, পৃথিবীতে এমন কিছু নেই যা আমি খুঁজে পাইনি অথচ সবকিছু খুঁজে পেয়েও নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না। এতটা অসহায়ত্ব বোধ হয় পৃথিবীতে আর কিছু নেই। অথচ সেই অসহায়ত্বের ভিতর আমি তো নিজেই নেই। কিন্তু তারপরও কোথায় যেন একটা বাঁশির সুর, কানে ভাসছে অথচ কাঠের বাঁশির দেখা মিললেও সুরকে খুঁজে পাচ্ছি না। কান দিয়ে সুর শুনছি অথচ সুরকেই দেখতে পাচ্ছি না, অথচ তখনো ভাবছি কোনটা বেশি দরকার- বাঁশি, নাকি সুর, ফুলের সৌন্দর্য, নাকি ফুলের গন্ধ, মানুষ, নাকি মনুষ্যত্ব? যখন নিজে কাঁদছি তখন কান্নার পানিকে বুকে চেপে রাখছি, এমন করে কান্নাকে বন্দি করতে করতে নিজের ভিতরের অনুভূতিকেই বদলে ফেলেছি। বেদনায় আহত মন অথচ চারপাশের মানুষের ভিতর দিয়ে চলতে চলতে হাসছি, মনে জমাট বাঁধা কালো মেঘ অথচ সেই মেঘে ঝড়ের বদলে রংধনু আঁকছি। ঠিক আমি যেটা করতে চাচ্ছি সেটা করতে পারছি না, কোথায় যেন একটা অদৃশ্য সুতোর টান। সেই সুতোটা আছে অথচ দেখতে পাচ্ছি না। 

মনটা আমার অথচ মনের ভিতরে আমার আমিটাই নেই। বৈপরীত্যের মধ্য দিয়ে হাঁটছি, এটা কি সেই আমি, যেই আমি এক দিন আমার ভিতরের আমিকে সঙ্গে নিয়ে চিৎকার করতে করতে আনন্দে মাটিতে লুটিয়ে পড়তাম, নদীতে ঝাঁপিয়ে পড়ে সাঁতার কাটতে কাটতে পানির সঙ্গে খেলা করতাম, শীতের সকালে ঘাসের বুকে ছড়িয়ে পড়া শিশিরের বিন্দু বিন্দু পানির ভিতরে নিজের অনেকগুলো মুখ দেখতে পেতাম। অনেকগুলো কাঁচের টুকরো, অনেকগুলো আমার মতো মুখ, অথচ আমি কি সেই আমি, যেই আমি এক দিন ছিলাম অথচ এখন নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিজ্ঞাপন পত্রিকায় ছাপিয়েও নিজেকে খুঁজে পাচ্ছি না।

খুঁজুন