দেখবেন, পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা ঠিক এমনই অদৃশ্য সুরের মতো। তারা নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে যায়। তারা প্রচারের আলো খোঁজে না, করতালির শব্দ খোঁজে না, প্রতিদানের হিসাবও করে না। মানুষের মুখে একটুখানি হাসি, কারও কষ্ট কিছুটা কমে যাওয়া, কারও পথচলা সামান্য সহজ হওয়াই তাদের আনন্দ।
কিন্তু জীবনের বড় নির্মম সত্য হলো, এই মানুষগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ভুলে যায় পৃথিবী। যাদের হাত ধরে অনেক মানুষ পথ খুঁজে পায়, সেই মানুষগুলোর কষ্ট কেউ দেখে না। তারা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের কাঁধে হাত রাখার মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। তারা যখন ভেঙে পড়ে, তখন তাদের কান্নার শব্দ বাতাসেও ধরা পড়ে না। কারণ তারা চিৎকার করতে শেখেনি, অভিযোগ করতে শেখেনি।
তারা বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে হাসতে শিখে যায়। চোখের পানিকে বন্দি করতে করতে একসময় কান্নাকেও ভুলে যায়। মনের আকাশে কালো মেঘ জমে, অথচ চারপাশের মানুষের জন্য তারা সেই মেঘের মধ্যে রংধনু আঁকে। নিজের ভেতরে ঝড় বয়ে গেলেও অন্যদের জন্য আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়।
অদ্ভুত এই পৃথিবী! যারা ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়, তারাই ভালোবাসার অভাবে বেঁচে থাকে। যারা অন্যের অন্ধকারে আলো জ্বালায়, তাদের নিজের ঘরই অনেক সময় অন্ধকারে ডুবে থাকে। যারা মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, তাদের নিজের হাসিটাই একসময় কৃত্রিম হয়ে যায়।
তারপর একদিন তারা চলে যায়। খুব নীরবে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই। পৃথিবী তখন বুঝতে শুরু করে, যে মানুষটাকে এতদিন সহজে পাওয়া গিয়েছিল, সে আসলে কতটা মূল্যবান ছিল। কিন্তু তখন আর কিছুই করার থাকে না। কারণ মানুষ বেঁচে থাকতে আমরা তার মূল্য বুঝি না, হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজি।
আজ তাই নিজের হারিয়ে যাওয়া আমিটাকে খুঁজতে গিয়ে বারবার সেই মানুষগুলোর কথাই মনে পড়ে। যারা নিজের জীবনটাকে জ্বালিয়ে অন্যের পথ আলোকিত করেছে। হয়তো তাদের মতো মানুষরাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ তাদের নাম কোনো ইতিহাসে লেখা থাকে না, কোনো স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা থাকে না।
তারা বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে, মানুষের ভালোবাসায়, মানুষের অশ্রুসিক্ত অনুশোচনায়।
আর আমি?
আমি এখনো নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিজ্ঞাপন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। মানুষকে খুঁজতে খুঁজতে, মনুষ্যত্বকে খুঁজতে খুঁজতে, নিজের আমিটাকেই খুঁজছি।
হয়তো একদিন খুঁজে পাব।
হয়তো পাব না।
তবুও খুঁজে যাওয়ার নামই বোধহয় জীবন।
তবুও খুঁজে যাওয়ার নামই বোধহয় জীবন
তবুও খুঁজে যাওয়ার নামই বোধহয় জীবন
দেখবেন, পৃথিবীতে কিছু কিছু মানুষ থাকে যারা ঠিক এমনই অদৃশ্য সুরের মতো। তারা নীরবে মানুষের জন্য কাজ করে যায়। তারা প্রচারের আলো খোঁজে না, করতালির শব্দ খোঁজে না, প্রতিদানের হিসাবও করে না। মানুষের মুখে একটুখানি হাসি, কারও কষ্ট কিছুটা কমে যাওয়া, কারও পথচলা সামান্য সহজ হওয়াই তাদের আনন্দ। কিন্তু জীবনের বড় নির্মম সত্য হলো, এই মানুষগুলোকেই সবচেয়ে বেশি ভুলে যায় পৃথিবী। যাদের হাত ধরে অনেক মানুষ পথ খুঁজে পায়, সেই মানুষগুলোর কষ্ট কেউ দেখে না। তারা যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ে, তখন তাদের কাঁধে হাত রাখার মানুষ খুব কম পাওয়া যায়। তারা যখন ভেঙে পড়ে, তখন তাদের কান্নার শব্দ বাতাসেও ধরা পড়ে না। কারণ তারা চিৎকার করতে শেখেনি, অভিযোগ করতে
শেখেনি। তারা বুকভরা যন্ত্রণা নিয়ে হাসতে শিখে যায়। চোখের পানিকে বন্দি করতে করতে একসময় কান্নাকেও ভুলে যায়। মনের আকাশে কালো মেঘ জমে, অথচ চারপাশের মানুষের জন্য তারা সেই মেঘের মধ্যে রংধনু আঁকে। নিজের ভেতরে ঝড় বয়ে গেলেও অন্যদের জন্য আশ্রয় হয়ে দাঁড়ায়। অদ্ভুত এই পৃথিবী! যারা ভালোবাসা বিলিয়ে দেয়, তারাই ভালোবাসার অভাবে বেঁচে থাকে। যারা অন্যের অন্ধকারে আলো জ্বালায়, তাদের নিজের ঘরই অনেক সময় অন্ধকারে ডুবে থাকে। যারা মানুষের মুখে হাসি ফোটায়, তাদের নিজের হাসিটাই একসময় কৃত্রিম হয়ে যায়। তারপর একদিন তারা চলে যায়। খুব নীরবে। কোনো ঘোষণা ছাড়াই। পৃথিবী তখন বুঝতে শুরু করে, যে মানুষটাকে এতদিন সহজে পাওয়া গিয়েছিল, সে আসলে কতটা মূল্যবান ছিল। কিন্তু তখন আর কিছুই
করার থাকে না। কারণ মানুষ বেঁচে থাকতে আমরা তার মূল্য বুঝি না, হারিয়ে গেলে তাকে খুঁজি। আজ তাই নিজের হারিয়ে যাওয়া আমিটাকে খুঁজতে গিয়ে বারবার সেই মানুষগুলোর কথাই মনে পড়ে। যারা নিজের জীবনটাকে জ্বালিয়ে অন্যের পথ আলোকিত করেছে। হয়তো তাদের মতো মানুষরাই পৃথিবীর সবচেয়ে বড় সম্পদ। অথচ তাদের নাম কোনো ইতিহাসে লেখা থাকে না, কোনো স্মৃতিস্তম্ভে খোদাই করা থাকে না। তারা বেঁচে থাকে মানুষের স্মৃতিতে, মানুষের ভালোবাসায়, মানুষের অশ্রুসিক্ত অনুশোচনায়। আর আমি? আমি এখনো নিজের নিখোঁজ হওয়ার বিজ্ঞাপন হাতে নিয়ে দাঁড়িয়ে আছি। মানুষকে খুঁজতে খুঁজতে, মনুষ্যত্বকে খুঁজতে খুঁজতে, নিজের আমিটাকেই খুঁজছি। হয়তো একদিন খুঁজে পাব। হয়তো পাব না। তবুও খুঁজে যাওয়ার নামই বোধহয় জীবন।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৮),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত