মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো
মতামত একাত্তরের আদর্শের ওপর এ কোন নারকীয় প্রতিশোধ?

একাত্তরের আদর্শের ওপর এ কোন নারকীয় প্রতিশোধ?

এই রাষ্ট্রীয় তামাশার শেষ কোথায়? নির্লজ্জতার সব সীমা অতিক্রম করে কোন চরম অন্ধকারের দিকে ধাবিত হচ্ছে এই দেশ? রাজনীতি করবেন, ক্ষমতার মোহে অন্ধ হয়ে ক্ষমতার মসনদ ধরে রাখবেন— সেটা আপনাদের পুরোনো অভ্যাস। কিন্তু যখন মহান মুক্তিযুদ্ধের অমলিন রক্তের ইতিহাসকে, একাত্তরের অবিনাশী আদর্শকে বুকে ধারণ করার অপরাধে একজন দেশপ্রেমিক সেনা অফিসারকে প্রশাসনিক বলির পাঁঠা বানানো হয় তখন এই শোষণের বিরুদ্ধে নীরব থাকা স্রেফ আত্মহত্যার সামিল।

ঘটনার বীভৎস ও হাস্যকর নাটকীয়তাটা দেখুন একবার- ভাটারা থানার এক মামলায় মেজর মো. সাদেকুল হককে নাকি নতুন করে গ্রেপ্তার দেখানোর পাঁয়তারা করছে পুলিশ। পুলিশের জাঁদরেল দাবি সূত্র: তিনি নাকি গত বছরের ১১ নভেম্বর, ২০২৫ মাঝ রাস্তায় দাঁড়িয়ে প্রাইভেটকারে আগুন জ্বালিয়েছেন।

কী এক অবাস্তব, চরম গাঁজাখুরি রূপকথা!

আদালতের কাঠগড়ায় যখন আসামি পক্ষ নথিপত্র দিয়ে ধুলো ঝেড়ে দেখিয়ে দিল- “মাননীয় আদালত, ওই অগ্নিসংযোগের দিন তো আমার মক্কেল অন্য মামলায় চার দেওয়ালের ভেতর জেলের অন্ধ প্রকোষ্ঠে বন্দি ছিলেন। জেলের ভাত খেয়ে একজন মানুষ কোন অলৌকিক জাদুবলে বাইরে এসে মাঝরাস্তায় গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিল?”

তখন আদালতের বিচারক মহোদয়ও থমকে গেলেন, প্রশাসনের এই নির্লজ্জ মিথ্যাচারের কোনো জবাব না পেয়ে বাধ্য হয়ে ভাটারা থানার ওসি আর তদন্ত কর্মকর্তার কাছে কৈফিয়ত চেয়ে ব্যাখ্যা তলব করেছেন। জেলের ভেতরে বন্দি মানুষকে বাইরের ঘটনার কাল্পনিক আসামি বানিয়ে ফেলা— এ তো স্রেফ বিচার ব্যবস্থার মুখে এক বড়সড় চড়! এ কেমন নগ্ন প্রহসন?

যে সাদেকুল হক বিএমএ-র অন্যতম সেরা ক্যাডেট ছিলেন, যাঁর চাকরি জীবনের প্রতিটি কোর্সের ফলাফলে দক্ষতা ও মেধা প্রতিফলিত, যিনি দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষায় জীবন বাজি রাখার শপথ নিয়েছিলেন, যাঁর ধমনীতে প্রবাহিত ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধের আপসহীন চেতনা আজ তাঁকেই কিনা এই রাষ্ট্রযন্ত্র একের পর এক বানোয়াট, কাল্পনিক এবং সাজানো মামলার বেড়াজালে পিষে মারতে চাইছে! শুধু তাঁকে নয়, তাঁর অসুস্থতা, তাঁর পরিবার, তাঁর উচ্চশিক্ষিত স্ত্রী কাউকেই ছাড় দেওয়া হচ্ছে না। এ যেন এক চরম প্রতিশোধের রাজনীতি।

আমি ধিক্কার দিয়ে, অত্যন্ত তীব্র কণ্ঠে শাসক ও তোষামোদকারীদের কাছে প্রশ্ন ছুড়ে দিতে চাই - যেখানে একাত্তরের চেতনাকে অন্তরে ধারণ করার ‘অপরাধে’ একজন দক্ষ সেনা অফিসারকে জেলের ভেতরে বন্দি রেখেও সাজানো মামলা দিয়ে শূলে চড়ানো যায়, সেখানে রাজনীতি থেকে দূরে থাকা এই দেশের অরাজনৈতিক, সাধারণ ও নিরীহ মানুষের জীবন কতটা ভয়াবহ বিপজ্জনক রূপ নিয়েছে?

ভেবে শিউরে উঠতে হয়! ওই যে মেহনতি, খেটে খাওয়া অরাজনৈতিক সাধারণ মানুষ— যাদের দরবার করার ক্ষমতা নেই, যাদের নাম-পরিচয় পত্রিকায় ওঠে না তাদের ওপর এই দমন-পীড়নের স্ট্রিমরোলার কীভাবে চলছে? জেলের ভেতরে থাকা মানুষকে যদি বাইরে গাড়ি পোড়ানোর আসামি বানানো যায়, তবে রাস্তার সাধারণ মানুষকে তুলে নিয়ে গিয়ে যেকোনো দিন ফাঁসিতে ঝুলিয়ে দেওয়াও তো এদের কাছে কোনো ব্যাপারই না।

আইনের রক্ষক যখন ক্ষমতার দাসত্ব করতে গিয়ে চরম ভক্ষকের রূপ নেয়, তখন দেশের নাগরিক আর সুরক্ষিত থাকে না। মনে রাখবেন, ক্ষমতা চিরস্থায়ী নয়, আর কোনো মিথ্যা দিয়ে সত্যকে অনন্তকাল চাপা দিয়ে রাখা যায় না। রক্তে কেনা একাত্তরকে অপমান করে, বিচারের নামে এমন জঘন্য তামাশা চালিয়ে আপনারা ইতিহাস থেকে মুছে যাবেন, কিন্তু সত্য তার নিজের তেজেই আদালতের কাঠগড়া ভেঙে বেরিয়ে আসবে।

খুঁজুন