মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
শাহজালাল বিমানবন্দরে মিথ্যা ঘোষণায় আনা বিপুল পরিমাণের ল্যাপটপ ও ট্যাব জব্দ ‘আমাদের চট্টগ্রাম’ অ্যাপে অভিযোগ: চসিকের উচ্ছেদ অভিযান ভাষা শিখে বিনা খরচে ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদের জাপানে চাকরির সুযোগ : মাহদী আমিন চট্টগ্রাম বন্দরে নিলাম-অযোগ্য ১২৬ কনটেইনার পণ্য ধ্বংস করা হচ্ছে জিম্বাবুয়ে টি-টোয়েন্টি দলে ফিরলেন ক্রিমার মহানবীর (সা.) আদর্শে হিংসা-বিদ্বেষ পরিহারের আহ্বান রাষ্ট্রপতির কিউট-বিএসপিএ স্পোর্টস কার্নিভাল ২০২৬ শুরু মহানবীর (সা.) আদর্শ অনুসরণে শান্তিপূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর দক্ষিণ আফ্রিকায় প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ক্রিকেট খেলবে বাংলাদেশ : ডি ভিলিয়ার্স রদ্রিকে না পেলেও স্কোয়াড নিয়ে সন্তুষ্ট মরিনহো
মতামত কমিউনিকেশন পেশাজীবীদের কাজ কী |||

কমিউনিকেশন পেশাজীবীদের কাজ কী |||

ইকরাম কবীর :

কমিউনিকেশন পেশায় নিয়োজিত থাকার সুবাদে আমার অভিজ্ঞতা থেকে জেনেছি যে অনেক কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানেই কমিউনিকেশন ফাংশনকে শুধু মিডিয়া বিজ্ঞপ্তি লেখা এবং তা পত্রিকায় প্রকাশ করা, মিডিয়া ম্যানেজমেন্ট এবং সোশ্যাল মিডিয়ায় পোস্ট তৈরি করার কাজে সীমাবদ্ধ করে রাখা হয়। কিন্তু কাজ করতে করতে আমি যতটা বুঝেছি তা হচ্ছে একটা প্রতিষ্ঠানের কমিউনিকেশন-সংক্রান্ত বাস্তবতা অনেক গভীর এবং জটিল। আমি মনে করি একজন কমিউনিকেশন প্রফেশনাল যেকোনো প্রতিষ্ঠানের একটা বড় পিলার - তিনি সেই প্রতিষ্ঠানের চোখ, কান এবং স্পোকসপার্সন।

একটা প্রতিষ্ঠানের সিদ্ধান্তগুলো কেমন করে গ্রাহক ও দেশের মানুষের কাছে পৌঁছাবে, বার্তাগুলো কতোটা বোধগম্য হবে এবং তার প্রভাব কী হবে - এই পুরো প্রক্রিয়াটি কমিউনিকেশন পেশাজীবীদের হাতে গড়ে ওঠে এবং তা করার সুযোগ এদেরকেই করতে দিতে হয়। কমিউনিকেশন ফাংশন শুধু তথ্য জোগাড় এবং প্রদান করে না; তারা প্রতিষ্ঠানের যেকোন কাজের নানা রকম অর্থ তৈরি করে, দিক নির্দেশনা দেয় এবং সংকটের সময় প্রতিষ্ঠানকে সুরক্ষা দেয়।

প্রথমেই একজন দক্ষ কমিউনিকেশন প্রফেশনালকে বুঝতে হয়, তার প্রতিষ্ঠান কী করছে, কেন করছে এবং কার জন্য করছে। এই প্রশ্নগুলোর স্পষ্ট উত্তর না জানলে কোনো কমিউনিকেশনই কার্যকর হবে না। তাই তাদের প্রথম দায়িত্ব হচ্ছে প্রতিষ্ঠানকে ভেতর থেকে বোঝা। প্রতিষ্ঠানের কৌশল, সংস্কৃতি, ঝুঁকি – সব বিষয়ে ভালো জ্ঞান থাকা খুব জরুরী। তারা বিভিন্ন ডিভিশন ও বিভাগের সাথে নিয়মিত যোগাযোগ রাখবেন, আলোচনা করবেন, তথ্য সংগ্রহ করবেন এবং সেই তথ্যকে অর্থপূর্ণ বার্তায় রূপ দেবেন।

তারা সমাজের সাথে সংযোগ তৈরি করবেন। কমিউনিকেশনের অর্থ শুধু বলা নয়; যতটুকু বলবেন, তারচেয়েও বেশি শুনবেন। একজন ভালো কমিউনিকেশন প্রফেশনাল জানেন, সহকর্মী, গ্রাহক, বিনিয়োগকারী, সংবাদমাধ্যম – সবার আলাদা ভাষা আছে, আলাদা প্রত্যাশা আছে। সেই প্রত্যাশাকে বুঝে সঠিক বার্তা তৈরি করাই তাদের একটা প্রধান কাজ। তারা জানেন কখন কী বলা উচিত, আর কখন চুপ থাকা উচিত।

রেপুটেশন ম্যানেজমেন্ট একটা মহা-গুরুত্বপূর্ণ কাজ। একটা প্রতিষ্ঠানের সুনাম একদিনে তৈরি হয় না, কিন্তু একদিনেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। তাই কমিউনিকেশন পেশাজীবীরা সবসময় নজর রাখবেন প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে কী বলা হচ্ছে, কীভাবে বলা হচ্ছে এবং মানুষেরা কীভাবে তা গ্রহণ করছে। তারা আগেই থেকেই সম্ভাব্য ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করবেন এবং ম্যানেজমেন্ট কমিটিকে সতর্ক করবেন। অনেক সময় কমিউনিকেশন ফাংশন একটা প্রতিষ্ঠানের বিবেক হিসেবেও কাজ করতে পারেন।

এই দায়িত্ব এখন আরও কঠিন হয়ে গেছে। সোশ্যাল মিডিয়ায় যেকোনো ভুল বার্তা মুহূর্তেই ভাইরাল হতে যেতে পারে। তাই কমিউনিকেশন প্রফেশনালদের দ্রুত কাজ করার এবং সিদ্ধান্তগ্রহণের সক্ষমতা থাকতে হবে, তথ্য যাচাইয়ে সতর্ক হতে হবে এবং উত্তর দেয়ার সময় সংবেদনশীল হতে হবে। তারা শুধু কনটেন্ট তৈরি করবেন না; সমাজের প্রতিক্রিয়া, ট্রেন্ড এবং মতামত সারাক্ষণ মনিটর করবেন।

টপ লিডারশিপকে পরামর্শ দেয়া আরেকটা বড় দায়িত্ব। এটাকে লিডারশীপ অ্যাডভাইস বলা যায়। প্রতিষ্ঠানের শীর্ষ নেতৃত্ব সারাক্ষণই কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন। তবে সেই সিদ্ধান্ত জনমানুষের কাছে কেমন প্রতিক্রিয়া তৈরি করবে, তা সবসময় শীর্ষ নেতৃত্বের বুঝতে পারার কথা নয়। এখানে কমিউনিকেশন প্রফেশনালরা পরামর্শ দেবেন, ব্যাখ্যা করবেন এবং বিকল্প পথও বাতলে দেবেন। তারা লিডারদের প্রস্তুত করবেন - কীভাবে কথা বলতে হবে, কীভাবে কঠিন প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে এবং কীভাবে আস্থা তৈরি করতে হবে।

একইসাথে, ইন্টারনাল কমিউনিকেশনও একটা গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। সহকর্মীরা যদি প্রতিষ্ঠানের লক্ষ্য, পরিকল্পনা ও মূল্যবোধ না বুঝতে পারেন, তাহলে এক্সটারনাল কমিউনিকেশন কখনোই শক্তিশালী হয় না। তাই সহকর্মীদের সঙ্গে স্বচ্ছতার সাথে, নিয়মিত ও মানবিক যোগাযোগ তৈরি করা এই পেশার একটা বড় দায়িত্ব।

আমি মনে করি এবং এটা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় তা হচ্ছে - কমিউনিকেশন একটা মানবিক দক্ষতা। শুধু ভাষা জানলেই হয় না; সহানুভূতি প্রকাশ করতে জানতে হয়, আবেগ অনুভব করার ক্ষমতা এবং মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি করার সক্ষমতা প্রয়োজন হয়। শুধু লিখতে পারলেই একজন সুন্দর কমিউনিকেশন প্রফেশনাল হওয়া যায় না; তিনি একজন লেখক, অনুবাদক, একজন কৌশলবিদ, একজন শ্রোতা এবং একজন সেতুবন্ধনকারী।

কমিউনিকেশন পেশাজীবীদের কাজ একটাই – আস্থা তৈরি করা। কারণ প্রতিষ্ঠান টিকে থাকে শুধু পণ্য বা সেবার ওপর নয়; টিকে থাকে গ্রাহক ও মানুষের বিশ্বাসের ওপর। আর তা, দিনশেষে, গড়ে তোলার দায়িত্ব কমিউনিকেশন পেশাজীবীদের হা

খুঁজুন