আইন-আদালত ডেস্ক: ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিয়মের মধ্যে আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন বিধিমালা জারির পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিবন্ধন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। তবে নতুন এই উদ্যোগের ফলে ঢাকায় মোট কত রিকশা চলবে এবং অনুমোদিত রিকশা সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এছাড়া পুরনো রিকশা সংস্কার কীভাবে করা হবে কিংবা অনুমোদন না পেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতারাতি সড়ক থেকে সরানো সম্ভব নয় বিধায় ধাপে ধাপে পুরো ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই থেকে চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতির তিন চাকার এই যানকে ই-রিকশা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দুই যাত্রীক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর। প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বর প্লেট দেওয়া হবে এবং একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এই যানগুলো মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালাতে পারবে না এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল ও বাম লেন মেনে চলতে হবে।
এদিকে রিকশাচালক ও মালিকদের সংগঠন ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে লাইসেন্স ফি ও অসংগতি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। সংগঠনের সংগঠক রায়হান উদ্দিন বলেন, আট হাজার টাকা নিবন্ধন ফি অনেক বেশি এবং এটি চালকদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া বিধিমালায় চালকদের জন্য কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিধিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনগুলোকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি এবং এক ব্যক্তি কয়টি রিকশা নিচ্ছেন তা যাচাইয়ের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ এখনও তৈরি হয়নি।
বুয়েটের ছাড়পত্র নিয়ে সাধারণ রিকশাচালক ও মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হলেও প্রকৌশলীরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। বুয়েটের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান খান ও অধ্যাপক মো. এহসান জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো রিকশা পরীক্ষা করছেন না, বরং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি করা মডেলের মান যাচাই করে ‘টাইপ অ্যাপ্রুভাল’ বা সনদ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ডায়নামিক কারস, আকিজ মোটরস ও বিভাটেকের মতো ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান বুয়েট থেকে তাদের মডেলের এই ছাড়পত্র নিয়ে গেছে। তবে জোনগুলোর সীমানা নির্ধারণ এবং বুয়েটের মানদণ্ড মেনে কারা ই-রিকশা তৈরির চূড়ান্ত অনুমতি পাবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।
শহরের সড়কে স্বল্পগতির এসব যানের চলাচল সুশৃঙ্খল করতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে এর কার্যকারিতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ধোঁয়াশা দূর করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়ন করা গেলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।
ই-রিকশা নিবন্ধন: বিধিমালা হল, ধোঁয়াশা কী কেটেছে?
ই-রিকশা নিবন্ধন: বিধিমালা হল, ধোঁয়াশা কী কেটেছে?
আইন-আদালত ডেস্ক: ব্যাটারিচালিত রিকশাকে নিয়মের মধ্যে আনতে স্থানীয় সরকার বিভাগ নতুন বিধিমালা জারির পর ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নিবন্ধন ফরম বিক্রি শুরু করেছে। তবে নতুন এই উদ্যোগের ফলে ঢাকায় মোট কত রিকশা চলবে এবং অনুমোদিত রিকশা সংগ্রহ ও যাচাই প্রক্রিয়া কী হবে, তা নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এছাড়া পুরনো রিকশা সংস্কার কীভাবে করা হবে কিংবা অনুমোদন না পেলে কী ব্যবস্থা নেওয়া হবে, সে বিষয়েও স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলো জানিয়েছে, বিপুল সংখ্যক ব্যাটারিচালিত রিকশা রাতারাতি সড়ক থেকে সরানো সম্ভব নয় বিধায় ধাপে ধাপে পুরো ব্যবস্থাকে আইনি কাঠামোর আওতায় আনা হবে।নতুন বিধিমালা অনুযায়ী, দুই থেকে চারজন যাত্রী ধারণক্ষমতা এবং ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২৫ কিলোমিটার গতির তিন চাকার এই যানকে ই-রিকশা হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। দুই যাত্রীক্ষমতার ই-রিকশার এককালীন নিবন্ধন ফি আট হাজার টাকা এবং চার যাত্রীর জন্য ১০ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার মেয়াদ হবে পাঁচ বছর।
প্রতিটি নিবন্ধিত ই-রিকশাকে কিউআর কোডযুক্ত স্বতন্ত্র নম্বর প্লেট দেওয়া হবে এবং একটি জাতীয় পরিচয়পত্রের বিপরীতে সর্বোচ্চ পাঁচটি রিকশা নিবন্ধন করা যাবে। তবে এই যানগুলো মহাসড়ক, এক্সপ্রেসওয়ে বা এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়েতে চালাতে পারবে না এবং নির্দিষ্ট অঞ্চল ও বাম লেন মেনে চলতে হবে।এদিকে রিকশাচালক ও মালিকদের সংগঠন ‘রিকশা, ব্যাটারি রিকশা-ভ্যান ও ইজিবাইক সংগ্রাম পরিষদ’-এর পক্ষ থেকে লাইসেন্স ফি ও অসংগতি নিয়ে আপত্তি জানানো হয়েছে। সংগঠনের সংগঠক রায়হান উদ্দিন বলেন, আট হাজার টাকা নিবন্ধন ফি অনেক বেশি এবং এটি চালকদের জন্য বড় আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়াবে। এছাড়া বিধিমালায় চালকদের জন্য কোনো ড্রাইভিং লাইসেন্সের ব্যবস্থা রাখা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি। স্থানীয় সরকার বিভাগের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইউনুছ চৌধুরী জানিয়েছেন, বিধিমালা বাস্তবায়নে সিটি করপোরেশনগুলোকে নির্দিষ্ট কোনো সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়নি এবং এক ব্যক্তি কয়টি রিকশা নিচ্ছেন তা যাচাইয়ের কেন্দ্রীয় ডেটাবেজ এখনও তৈরি হয়নি।বুয়েটের ছাড়পত্র নিয়ে সাধারণ রিকশাচালক ও মালিকদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি
হলেও প্রকৌশলীরা বিষয়টি স্পষ্ট করেছেন। বুয়েটের অধ্যাপক মো. জিয়াউর রহমান খান ও অধ্যাপক মো. এহসান জানিয়েছেন, তারা ব্যক্তিগত পর্যায়ে কোনো রিকশা পরীক্ষা করছেন না, বরং নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোর তৈরি করা মডেলের মান যাচাই করে ‘টাইপ অ্যাপ্রুভাল’ বা সনদ দিচ্ছেন। ইতিমধ্যে ডায়নামিক কারস, আকিজ মোটরস ও বিভাটেকের মতো ১০ থেকে ১২টি প্রতিষ্ঠান বুয়েট থেকে তাদের মডেলের এই ছাড়পত্র নিয়ে গেছে। তবে জোনগুলোর সীমানা নির্ধারণ এবং বুয়েটের মানদণ্ড মেনে কারা ই-রিকশা তৈরির চূড়ান্ত অনুমতি পাবে, তা এখনো পুরোপুরি চূড়ান্ত হয়নি।শহরের সড়কে স্বল্পগতির এসব যানের চলাচল সুশৃঙ্খল করতে এবং শৃঙ্খলা ফেরাতে এই বিধিমালা প্রণয়ন করা হয়েছে। তবে নীতিনির্ধারক ও বাস্তবায়নকারী সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং সুনির্দিষ্ট নির্দেশনার অভাবে এর কার্যকারিতা নিয়ে চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, সব পক্ষের মতামতের ভিত্তিতে ধোঁয়াশা দূর করে স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় এটি বাস্তবায়ন করা গেলে যানজট ও দুর্ঘটনা কমানো সম্ভব হবে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত