বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
দিনাজপুর জিয়া হার্ট ফাউন্ডেশন পরিদর্শন করেছেন যুগ্ম সচিব রফিকুল ইসলাম হালদায় অভিযান, ২০ হাজার ঘনফুট বালু ও সরঞ্জাম জব্দ বম্বে সুইটসের মসলা ও বাঘাবাড়ি ঘিসহ ১০ পণ্য প্রত্যাহারের নির্দেশ বিএসটিআই’র রাঙ্গামাটিতে স্কাউটস’র জাতীয় অ্যাডভেঞ্চার ক্যাম্প শুরু পিএফএ বর্ষসেরা ব্রুনো ফার্নান্দেস চারণভূমি সুরক্ষায় স্থানীয় জনগোষ্ঠীকে সম্পৃক্ত করার আহ্বান পরিবেশ মন্ত্রীর হাম আক্রান্ত সন্দেহে আরও ৭ জনের মৃত্যু সিটি থেকে নিউক্যাসলে যোগ দিচ্ছেন নিকো গঞ্জালেজ জয়ের জন্যই এসেছি : ডাচ ফুটবলের গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার জাভির বালেবাকে দলে নিয়ে মিডফিল্ড শক্তিশালী করলো ইউনাইটেড
রাজনীতি জামাত আমিরকে নিয়ে একটু রসিকতা করি!

জামাত আমিরকে নিয়ে একটু রসিকতা করি!

পলাশ রহমান, সিনিয়র সাংবাদিক :

জামাতের আমির ঘরে ফিরেছেন। সুস্থ হয়ে ফিরেছেন, শুকরিয়া। এখন একটু রসিকতা করাই যায়- কি বলেন? 


কাল মঞ্চে যা ঘটলো, সেটাকে ঠিক রাজনীতি না ভেবে, নাট্যকলার অনুশীলন ভাবলে কেমন হয়? 


আমার মনে হয়েছে, প্রথমবার তিনি যখন ডাইস থেকে পড়ে গেলেন, পড়তে পড়তে উনার মনে হয়েছে, পড়ার স্টাইলটা কি ঠিক ছিলো? ক্যামেরাগুলো কি পড়ার দৃশ্যটা সঠিকভাবে নিতে পেরেছে? ড্রোনগুলো কি কাছাকাছি ছিলো?


আমির সাহেব এসব প্রশ্নে- আত্মবিশ্বাসী হতে পারেননি। তার মনে হয়েছে, কোথায় যেনো একটা গড়বড় থেকে গেছে। 


তিনি তড়িঘড়ি উঠে দাঁড়িয়েছেন। নিশ্চিত হয়েছেন, ক্যামেরাগুলো তার দিকে তাক করা আছে। এরপর আবার পড়েছেন। 


দ্বিতীয় বার আমির সাহেব আত্মবিশ্বাস ফিরে পেয়েছেন। নিজের পারফরম্যান্সে নিজেই সন্তুষ্ট হয়ে- পরের ধাপ শুরু করেছেন। 


আমির সাহেব জবুথবু স্টাইলে বসে বক্তৃতা করেছেন। এ সময়ও তিনি খুব সচেতন ছিলেন, ক্যামেরাগুলো তার দিকে ঠিকঠাক তাক করা আছে তো?


ওই সময়ে সাধারণত মানুষের হুশ থাকার কথা নয়, বক্তৃতা করা তো দূরের কথা। কিন্তু উনি যেমন গলা চড়িয়ে বক্তৃতা করলেন, আশপাশের মোশাহেবদের ধমক দিলেন, হাত দিয়ে সামনের মানুষগুলো সরিয়ে দিলেন, তা দেখে মনে হওয়ার অনেক কারণ ছিলো- আমির সাহেব নিশ্চয়ই স্টেজে ওঠার আগে অনেকবার রিহার্সাল করেছেন।


আমির সাহেবের আশেপাশে থাকা কম্পাউন্ডারদের ভূমিকা ছিলো আরো অদ্ভুত। বক্তৃতারত, উত্তেজিত, হাত পা ছুটতে থাকা একজন মানুষের প্রেসার মেপে কি বোঝা যায়? তারা কি বুঝলেন, আর জনগণকে কি বোঝালেন, আল্লাই ভালো জানে। তবে রিহার্সাল যে পাক্কা ছিলো তা বলতেই হয়। 


রাজনীতি যে এখন শুধু আদর্শ নয়, মাঝে মাঝে একটু নাটকও তা কালকে খুব আত্মবিশ্বাসের সাথে বুঝিয়ে দিয়েছেন জামাত আমির। আমার বারবার মনে হয়েছে, তিনি এমন নিখুঁত অভিনয় কোথায় শিখলেন, কোন থিয়েটারে? বাংলাদেশের রাজনীতিতে এমন 'অভিনেত্রী' তো শুধু একজনই ছিলো। ওই থিয়েটার থেকে তালিম নেন নি তো?


রসিকতার বাইরে বাস্তবতা হলো- জামাত বহুদিন স্বাভাবিক রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড করতে পারেনি। তাদের ওপর অত্যাচার নিপীড়নের সবচেয়ে নিষ্ঠুর রোলার চালিয়েছে গণহত্যাকারী ফ্যাসিনা। তাদের বর্ষিয়ান নেতাগুলোকে হত্যা করেছে। ফলে দলটিতে যে শূন্যতা তৈরি হয়েছে, তা কাটিয়ে উঠতে একটু সময় লাগবে।

খুঁজুন