নেদারল্যান্ডসের নতুন কোচ জাভি হার্নান্দেজ মঙ্গলবার অঙ্গীকার করেছেন, ‘অরেঞ্জ’ নামে পরিচিত ডাচ দলের বিখ্যাত আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন ফিরিয়ে আনবেন। তার বিশ্বাস, এভাবেই দলটি ফলাফলের দিক থেকে চলমান হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবে।
নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ৪৬ বছর বয়সী সাবেক মিডফিল্ডার বলেন, “আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলি... উদ্যোগ নিই, ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করি, আক্রমণাত্মকভাবে খেলি তাহলে জয় ও ভালো ফল পাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।”
সর্বশেষ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস হতাশ করেছে। খুব একটা দাপট না দেখিয়েও গ্রুপসেরা হয়েছিল তারা।
এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়।
জাভি বলেন, “আমি ছোটবেলায় নেদারল্যান্ডসের খেলা দেখার কথা মনে করতে পারি। তখন ভালো ফুটবল দেখা যেত। আর সেটিই আমার লক্ষ্য, গর্ব করার মতো ভালো ফুটবল খেলা।”
আকর্ষণীয় ফুটবল নাকি ফলাফল, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমন প্রশ্নের জবাবে জাভি বলেন, “দুটিই।”
“আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে এসেছি, উপভোগ করতে এসেছি এবং জিততে এসেছি। আমি আবারও বলছি, আমরা জিততে এসেছি।”
রোনাল্ড কোম্যানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেওয়া জাভি ৪৮ বছরে নেদারল্যান্ডসের প্রথম বিদেশি কোচ।
বার্সেলোনার এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় ২০১০ সালে স্পেনের হয়ে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। সেই ফাইনালেই তারা নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল।
২০২৪ সালে ক্যাম্প ন্যু ছাড়ার পর থেকে জাভি কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন না।
তার প্রথম কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা হয় কাতারের ক্লাব আল-সাদের সঙ্গে। বার্সেলোনার হযয় ২০২৩ সালে লা লিগা শিরোপা জেতালেও পরের মৌসুম শেষে তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার জায়গায় হান্সি ফ্লিককে নিয়োগ দেওয়া হয়।
ডাচ ফুটবল পরিচালক নাইজেল দে ইয়ং জানান, জাভিকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়ার আগে তারা সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এবং সাবেক লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন।
এ কথা শুনে জাভি মজা করে বলেন, “গার্দিওলা ও স্লটের পর আমাকে পাওয়া তো খারাপ অবস্থান নয়, তাই না?”
“আমি তৃতীয় নাকি দশম পছন্দ, সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।”
দায়িত্ব নেওয়ার পর জাভির প্রথম ম্যাচ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির বিপক্ষে ঘরের মাঠে নেশন্স লিগের ম্যাচ। সেদিন তার প্রতিপক্ষ কোচ হিসেবে থাকবেন জাতীয় দলের কোচিংয়ে নতুন আরেকজন, লিভারপুলের কিংবদন্তি জার্গেন ক্লপ।
জাভি বলেন, “আমি রোমাঞ্চিত, আমি অনুপ্রাণিত। কারণ আমরা জার্মানির বিপক্ষে খেলব, যারা ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। আর তাদের কোচ সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম সেরা কোচ ক্লপ।”
আন্তর্জাতিক ফুটবলে বারবার শেষ ধাপে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার তকমা এখনও ঝেড়ে ফেলতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনবার হেরেছে তারা, বিশ্বকাপ কখনো জিততে না পারা দেশগুলোর মধ্যে এ সংখ্যাই সর্বোচ্চ।
১৯৮৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ই নেদারল্যান্ডসের একমাত্র বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা।
এরপর তারা ইউরোর সেমিফাইনালে চারবার হেরেছে, যার সর্বশেষটি দুই বছর আগে ইংল্যান্ডের কাছে।
দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনে বার্সেলোনার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন জাভি।
ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, তার ওপরে রয়েছেন শুধু লিওনেল মেসি।
২০১১ সালে জাভি সম্পর্কে গার্দিওলা বলেছিলেন, “সে যখন ফুটবল খেলছে না, তখন ফুটবল দেখছে।
আমি নিশ্চিত, সে কোচ হবে।” সে সময় বার্সেলোনার মাঝমাঠের প্রাণকেন্দ্রে গার্দিওলার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেছিলেন জাভি।
স্পেনে ‘মাকিনা’ অর্থাৎ ‘মেশিন’ ডাকনামে পরিচিত জাভি ছিলেন মাঝমাঠের ছন্দনিয়ন্ত্রক। প্রায় এক দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করা একটি বিশেষ ধরনের ফুটবলকে তিনি সংজ্ঞায়িত করেছিলেন।
মেসি না থাকলে জাভি সম্ভবত ব্যালন ডি’অর জিততে পারতেন। তিনি টানা তিনবার এই পুরস্কারে তৃতীয় হয়েছন, প্রতিবারই মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পেছনে।
নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে জাভি বলেছেন, তার প্রধান লক্ষ্য হলো আবারও দেশটির মানুষকে ‘অরেঞ্জ’ দল নিয়ে গর্বিত করা।
জয়ের জন্যই এসেছি : ডাচ ফুটবলের গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার জাভির
জয়ের জন্যই এসেছি : ডাচ ফুটবলের গৌরব ফিরিয়ে আনার অঙ্গীকার জাভির
নেদারল্যান্ডসের নতুন কোচ জাভি হার্নান্দেজ মঙ্গলবার অঙ্গীকার করেছেন, ‘অরেঞ্জ’ নামে পরিচিত ডাচ দলের বিখ্যাত আক্রমণাত্মক ফুটবল দর্শন ফিরিয়ে আনবেন। তার বিশ্বাস, এভাবেই দলটি ফলাফলের দিক থেকে চলমান হতাশা কাটিয়ে উঠতে পারবে। নিয়োগ পাওয়ার পর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে ৪৬ বছর বয়সী সাবেক মিডফিল্ডার বলেন, “আমরা যদি ভালো ফুটবল খেলি... উদ্যোগ নিই, ম্যাচে আধিপত্য বিস্তার করি, আক্রমণাত্মকভাবে খেলি তাহলে জয় ও ভালো ফল পাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছাতে পারব।” সর্বশেষ বিশ্বকাপে নেদারল্যান্ডস হতাশ করেছে। খুব একটা দাপট না দেখিয়েও গ্রুপসেরা হয়েছিল তারা। এরপর শেষ ৩২-এর ম্যাচে মরক্কোর কাছে টাইব্রেকারে হেরে বিদায় নেয়। জাভি বলেন, “আমি ছোটবেলায় নেদারল্যান্ডসের খেলা দেখার কথা মনে করতে পারি। তখন ভালো ফুটবল দেখা যেত। আর সেটিই আমার লক্ষ্য, গর্ব করার মতো ভালো ফুটবল খেলা।” আকর্ষণীয় ফুটবল নাকি ফলাফল, কোনটি বেশি গুরুত্বপূর্ণ, এমন প্রশ্নের জবাবে জাভি বলেন, “দুটিই।” “আমরা প্রতিদ্বন্দ্বীতা করতে এসেছি, উপভোগ করতে এসেছি এবং জিততে এসেছি। আমি আবারও বলছি, আমরা জিততে এসেছি।” রোনাল্ড কোম্যানের স্থলাভিষিক্ত হয়ে চার বছরের চুক্তিতে দায়িত্ব নেওয়া জাভি ৪৮ বছরে নেদারল্যান্ডসের প্রথম বিদেশি কোচ। বার্সেলোনার এই কিংবদন্তি খেলোয়াড় ২০১০ সালে স্পেনের হয়ে খেলোয়াড় হিসেবে বিশ্বকাপ জিতেছিলেন। সেই ফাইনালেই তারা
নেদারল্যান্ডসকে হারিয়েছিল। ২০২৪ সালে ক্যাম্প ন্যু ছাড়ার পর থেকে জাভি কোনো জাতীয় দলের প্রধান কোচের দায়িত্বে ছিলেন না। তার প্রথম কোচিংয়ের অভিজ্ঞতা হয় কাতারের ক্লাব আল-সাদের সঙ্গে। বার্সেলোনার হযয় ২০২৩ সালে লা লিগা শিরোপা জেতালেও পরের মৌসুম শেষে তাকে বরখাস্ত করা হয় এবং তার জায়গায় হান্সি ফ্লিককে নিয়োগ দেওয়া হয়। ডাচ ফুটবল পরিচালক নাইজেল দে ইয়ং জানান, জাভিকে চূড়ান্তভাবে বেছে নেওয়ার আগে তারা সাবেক ম্যানচেস্টার সিটি কোচ পেপ গার্দিওলা এবং সাবেক লিভারপুল কোচ আর্নে স্লটের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিলেন। এ কথা শুনে জাভি মজা করে বলেন, “গার্দিওলা ও স্লটের পর আমাকে পাওয়া তো খারাপ অবস্থান নয়, তাই না?” “আমি তৃতীয় নাকি দশম পছন্দ, সেটি আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়।” দায়িত্ব নেওয়ার পর জাভির প্রথম ম্যাচ হবে ২৪ সেপ্টেম্বর জার্মানির বিপক্ষে ঘরের মাঠে নেশন্স লিগের ম্যাচ। সেদিন তার প্রতিপক্ষ কোচ হিসেবে থাকবেন জাতীয় দলের কোচিংয়ে নতুন আরেকজন, লিভারপুলের কিংবদন্তি জার্গেন ক্লপ। জাভি বলেন, “আমি রোমাঞ্চিত, আমি অনুপ্রাণিত। কারণ আমরা জার্মানির বিপক্ষে খেলব, যারা ইউরোপের অন্যতম সেরা দল। আর তাদের কোচ সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যতম সেরা কোচ ক্লপ।” আন্তর্জাতিক ফুটবলে বারবার শেষ ধাপে গিয়ে ব্যর্থ হওয়ার তকমা এখনও ঝেড়ে
ফেলতে পারেনি নেদারল্যান্ডস। বিশ্বকাপের ফাইনালে তিনবার হেরেছে তারা, বিশ্বকাপ কখনো জিততে না পারা দেশগুলোর মধ্যে এ সংখ্যাই সর্বোচ্চ। ১৯৮৮ সালের ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ই নেদারল্যান্ডসের একমাত্র বড় আন্তর্জাতিক শিরোপা। এরপর তারা ইউরোর সেমিফাইনালে চারবার হেরেছে, যার সর্বশেষটি দুই বছর আগে ইংল্যান্ডের কাছে। দীর্ঘ ও বর্ণাঢ্য খেলোয়াড়ি জীবনে বার্সেলোনার হয়ে চারটি চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা জিতেছেন জাভি। ক্লাবটির হয়ে সর্বোচ্চ ম্যাচ খেলা খেলোয়াড়দের তালিকায় তিনি দ্বিতীয়, তার ওপরে রয়েছেন শুধু লিওনেল মেসি। ২০১১ সালে জাভি সম্পর্কে গার্দিওলা বলেছিলেন, “সে যখন ফুটবল খেলছে না, তখন ফুটবল দেখছে। আমি নিশ্চিত, সে কোচ হবে।” সে সময় বার্সেলোনার মাঝমাঠের প্রাণকেন্দ্রে গার্দিওলার প্রত্যাশা পুরোপুরি পূরণ করেছিলেন জাভি। স্পেনে ‘মাকিনা’ অর্থাৎ ‘মেশিন’ ডাকনামে পরিচিত জাভি ছিলেন মাঝমাঠের ছন্দনিয়ন্ত্রক। প্রায় এক দশক ধরে ফুটবল বিশ্বে আধিপত্য বিস্তার করা একটি বিশেষ ধরনের ফুটবলকে তিনি সংজ্ঞায়িত করেছিলেন। মেসি না থাকলে জাভি সম্ভবত ব্যালন ডি’অর জিততে পারতেন। তিনি টানা তিনবার এই পুরস্কারে তৃতীয় হয়েছন, প্রতিবারই মেসি, ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও আন্দ্রেস ইনিয়েস্তার পেছনে। নেদারল্যান্ডসের কোচ হিসেবে জাভি বলেছেন, তার প্রধান লক্ষ্য হলো আবারও দেশটির মানুষকে ‘অরেঞ্জ’ দল নিয়ে গর্বিত করা।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত