ভারতীয় বাংলা চলচ্চিত্রের অন্যতম প্রথিতযশা তারকা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের খ্যাতি আজ দেশের গণ্ডি পেরিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে সুপরিচিত। তবে তাঁর এই বর্ণাঢ্য জীবনের পারিবারিক ভিত্তি এবং সাংস্কৃতিক শিকড় গভীরভাবে প্রোথিত রয়েছে বাংলাদেশের প্রাচীন ও ঐতিহাসিকভাবে সমৃদ্ধ জনপদ বিক্রমপুরের মাটিতে।
এই খ্যাতিমান অভিনেত্রীর পারিবারিক বন্ধন দুই বাংলার শিল্প ও সংস্কৃতির এক জীবন্ত সেতুবন্ধনে পরিণত হয়েছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের ব্যক্তিত্ব ও সংস্কৃতির মূল ভিত্তি হলো তাঁর পৈতৃক নিবাস, যা প্রাচীন বাংলার এক গৌরবময় অধ্যায়ের স্মৃতি বহন করে। তাঁর বাবার নাম প্রবীর সেনগুপ্ত। তাঁদের পৈতৃক নিবাস অর্থাৎ মূল দেশ হলো মুন্সিগঞ্জ জেলার বিক্রমপুর, সেখানকার লৌহজং উপজেলার বিখ্যাত বেজগাঁও গ্রামেই তাঁদের পারিবারিক শেকড় প্রোথিত।
প্রবীর সেনগুপ্ত বহু বছর আগে বেজগাঁও-এ তাঁদের পূর্বপুরুষের সেই ঐতিহ্যবাহী লাল রঙের ভবন বাড়িটি পরিদর্শন করেছিলেন। এই পরিদর্শন সেন পরিবারের প্রাচীন পৈতৃক নিবাসের প্রতি তাঁদের গভীর টান ও বন্ধনকে নিশ্চিত করে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের পরিবার যে বিক্রমপুরের উত্তরাধিকার বহন করে, সেই বিক্রমপুর ছিল প্রাচীন বাংলার ইতিহাসের এক অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্র। এটি একসময় সেন রাজবংশের রাজধানী ছিল এবং শিল্প, শিক্ষা, সাহিত্য ও জ্ঞান-বিজ্ঞানের প্রাণকেন্দ্র হিসেবে এর সুখ্যাতি ছিল।
এই জনপদেই জন্মেছেন বিশ্ববিখ্যাত বিজ্ঞানী আচার্য স্যার জগদীশচন্দ্র বসু-সহ অসংখ্য কৃতি বাঙালি মনীষী ও পণ্ডিত। এই অঞ্চলের সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ও জ্ঞানভিত্তিক ঐতিহ্যই প্রবীর সেনগুপ্তের পরিবার হয়ে ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের ব্যক্তিত্বে এক গভীর ও মার্জিত ছাপ ফেলেছে। অভিনেত্রীর আন্তর্জাতিক খ্যাতি তাঁর এই ঐতিহাসিক জন্মস্থানের গৌরবকে নতুন মাত্রা দিয়েছে। পারিবারিক বন্ধনের অন্য প্রান্তে রয়েছে মায়ের দেশ, যা ঋতুপর্ণা সেনগুপ্তের বাংলাদেশের সঙ্গে যোগসূত্রকে আরও দৃঢ় করেছে।
তাঁর মায়ের নাম নন্দিতা সেনগুপ্ত, এবং তাঁর মায়ের দেশ হলো মানিকগঞ্জ। পৈতৃক নিবাস বিক্রমপুরেই মূল ইতিহাসটি নিহিত থাকলেও, বাংলাদেশের এই দুটি ঐতিহ্যবাহী অঞ্চলই অভিনেত্রীর পারিবারিক বন্ধনকে সম্পূর্ণতা দিয়েছে। ঋতুপর্ণা সেনগুপ্ত একজন সফল অভিনেত্রী হওয়ার পাশাপাশি জ্ঞানসমৃদ্ধ বিক্রমপুরের উত্তরাধিকারী হিসেবে দুই বাংলার সাংস্কৃতিক মেলবন্ধনের এক শক্তিশালী প্রতীক। তাঁর শেকড়ের এই গল্প প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক বিভাজন সত্ত্বেও বাঙালির শিল্প, সাহিত্য ও মানবীয় বন্ধন একই সাংস্কৃতিক সূত্রে চিরকাল গাঁথা থাকবে।