শুক্রবার, ২৮ আগস্ট ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
কমিটি পুনর্বহালে চট্টগ্রামে যুবদলের মিছিল যশোরে গণমাধ্যমকর্মীদের নিয়ে ফ্যাক্ট-চেকিং বিষয়ে সেমিনার ট্রাফিক আইন লঙ্ঘনে গত ২ দিনে ডিএমপির ৪,১১৮ মামলা জার্মানিতে চলতি গ্রীষ্মে তাপদাহজনিত মৃত্যুর রেকর্ড ১৫,৮০০ ঝালকাঠিতে নারী সমাবেশে সহিংসতা ও বাল্যবিয়ে প্রতিরোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান কাজী নজরুল ইসলাম ছিলেন জাতীয়তা ও মানবতাবাদী একজন ক্ষণজন্মা মানুষ মার্কিন কংগ্রেস কর্মকর্তাদের রোহিঙ্গা ক্যাম্প পরিদর্শন, আরআরআরসির সঙ্গে বৈঠক বাংলাদেশ-সৌদি সম্পর্ক আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারিত্বের পথে ‘ঢাকা দিবসের’ শোভাযাত্রায় অংশগ্রহণ করবে জবি জবিতে কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্স কমিটির সভা অনুষ্ঠিত
জাতীয় নওগাঁয় ‘হিজাব বিতর্কে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

নওগাঁয় ‘হিজাব বিতর্কে প্রধান শিক্ষক গ্রেপ্তার

 নিজস্ব প্রতিনিধি, নওগাঁ

ন‌ওগাঁয় হিজাব নিয়ে মিথ্যা তথ্য ছড়িয়ে ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত ও মানহানির মামলায় এবার জেলহাজতে পাঠানো হলো বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণকে । আজ রোববার নওগাঁ আমলী আদালত ৩ (মহাদেবপুর) এর হাজির হয়ে জামিনের আবেদন জানালে আদালতের বিজ্ঞ বিচারক মো: তাইজুল ইসলাম জামিনের আবেদন নাকোচ করে তাকে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

 এ মামলায়  এর আগে গ্রেপ্তার হওয়া দু'জন হলেন, এক‌ই উপজেলা সদরের বাসিন্দা মৃত কাজী দেলোয়ার হোসেনের ছেলে কিউএম সাঈদ টিটো ও কুশারসেন্টার পাড়া এলাকার বাসিন্দা কাজী ময়েন উদ্দিনের ছেলে কাজী সামছুজ্জোহা মিলন।

গত বৃহস্পতিবার রাতে দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক আমোদিনী পাল বাদী হয়ে থানায় ৫ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা দায়ের করেন।ওই রাতে টিটো এবং মিলনকে গ্রেপ্তার করে থানা পুলিশ।

মামলার এজাহারভুক্ত আসামীরা হলেন, ওই বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত বর্মণ, কিউএম সাঈদ টিটো, কাজী সামছুজ্জোহা মিলন, বিদ্যালয়ের সভাপতি মাহমুদুল হাসান সুমন ও জেলার পোরশা উপজেলার গহেরপুর গ্রামের বাসিন্দা সালাউদ্দিন আহমেদ। এছাড়াও আরো অজ্ঞাত ২০ থেকে ২৫ জনকে আসামী করা হয়েছে ।

নওগাঁয় হিজাব ইস্যুতে উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিন সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে ৭টি সুনিদিষ্ট কারন উল্লেখ  ও সুপারিশ করা হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঘটনার দিন দাউল বারবাকপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষিকা আমোদিনী পাল হিজাবের কারনে নয়; নির্ধারিত স্কুল ড্রেস না পরার কারনেই শিক্ষার্থীদের মারধর করেছিলেন।

একই দিনে বদিউল আলম নামে আরেক শিক্ষকও মারধর করেছিলেন শিক্ষার্থীদের। অথচ প্রধান শিক্ষক ধরণী কান্ত শুধু শিক্ষিকা আমোদিনী পালকে শোকজ করেন। এই ঘটনাতদন্ত কমিটির কাছে উদ্দেশ্যমূলক মনে হয়েছে। শুধু শিক্ষিকা আমোদিনী পালকে শোকজ করায় প্রধান শিক্ষকের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি। এছাড়া প্রতিবেদনে সরকারি নির্দেশনা অমান্য করে শিক্ষার্থীদের প্রহার করায় শিক্ষিকা আমোদিনী পাল ও শিক্ষক বদিউল আলমের বিরুদ্ধেও বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে। 

প্রতিবেদনে গুজব ছোড়ানো প্রসংগে বলা হয়েছে যে, প্রধান শিক্ষক ধরনী কান্ত, শিক্ষিকা আমোদিনী পাল ও ম্যানেজিং কমিটির মধ্যে দীর্ঘদিনের তৃ-মুখী দ্বন্দ্ব চলছিলো। যা গুজব ছড়াতে ব্যবহার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়; গুজব ছোড়ানোর পেছনে স্থানী কিছু ফেসবুক ব্যবহারকারি ও সাধারন মানুষের নাম উঠে এসেছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নিতেও সুপারিশ করেছে তদন্ত কমিটি।

 এ বিষয়ে মহাদেবপুর থানার ওসি আজম উদ্দিন মাহমুদ বলেন,  এ মামলার  এজাহার ভুক্ত অপর ২ আসামীকে ও গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ তৎপড়তা চালিয়ে চালিয়ে যাচ্ছে। এ ছাড়া মামলার তদন্ত সাপেক্ষে এই ঘটনায় অপপ্রচারকারী এবং আরো কেউ জড়িত থাকলেও তাদের আইনের আওতায় আনা হবে। 

খুঁজুন