আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ফোনালাপে অবৈধভাবে নজরদারি চালানোর অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারিতে খোদ প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোওসহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, কোনো পরোয়ানা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই বিশেষ নজরদারি সিস্টেমে প্রেসিডেন্টের ফোন নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কারণে একে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অভিযোগ ওঠার পরপরই চিফ অব স্টাফ লিসতিও এবং পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে বরখাস্ত করা হয়। গত সপ্তাহে এক পুলিশ কর্মকর্তার তথ্যের মাধ্যমে এই অবৈধ নজরদারির বিষয়টি প্রথম ফাঁস হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লিসতিও যখন জাতীয় পুলিশ প্রধান ছিলেন, সেই সময় থেকেই এই আড়িপাতা কার্যক্রম চলছিল। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ফোনেও এই নজরদারি চালানো হয়েছিল। এই মামলায় অপরাধ তদন্ত ইউনিটের আরেক কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকায় আটক হননি।
বিশ্লেষকরা এই ঘটনাটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন লিসতিও, যাকে মাত্র এক মাস আগে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উইদোদোর সরাসরি সমর্থনে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও বর্তমানে দুই নেতার রাজনৈতিক জোটে স্পষ্ট ফাটল ধরেছে। প্রশাসনে রদবদল এবং নতুন নীতি চালুর মাধ্যমে উইদোদোর আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। তবে পুলিশ প্রধান দাবি করেছেন যে এই পদক্ষেপ পুরোপুরি আইন প্রয়োগের অংশ এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কোনো সম্পর্ক নেই।
ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড হলেও দেশটিতে গত এক দশকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। এর আগেও ২০১৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সরকারি বাসভবনে এবং মেঘবতী সুকর্ণপুত্রীর ক্ষেত্রেও নজরদারির ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। এমন এক সময়ে এই কেলেঙ্কারি সামনে এল যখন তহবিল সংকট, দাবানল এবং শেয়ার বাজারের অস্থিতিশীলতার মতো বহুমুখী সংকটে জর্জরিত ইন্দোনেশিয়া সরকার। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করায় প্রশাসন আরও চাপের মুখে পড়েছে।
প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতা: ইন্দোনেশিয়ায় চিফ অব স্টাফ গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত
প্রেসিডেন্টের ফোনে আড়িপাতা: ইন্দোনেশিয়ায় চিফ অব স্টাফ গ্রেপ্তার, রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত
আন্তর্জাতিক ডেস্ক: ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রাবোও সুবিয়ান্তোর ফোনালাপে অবৈধভাবে নজরদারি চালানোর অভিযোগে রাষ্ট্রদ্রোহের তদন্ত শুরু হয়েছে। সম্প্রতি এই চাঞ্চল্যকর কেলেঙ্কারিতে খোদ প্রেসিডেন্টের চিফ অব স্টাফ লিসতিও সিগিত প্রাবোওসহ শীর্ষ পুলিশ কর্মকর্তারা জড়িয়ে পড়েছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনী জানায়, কোনো পরোয়ানা বা আনুষ্ঠানিক তদন্ত প্রতিবেদন ছাড়াই বিশেষ নজরদারি সিস্টেমে প্রেসিডেন্টের ফোন নম্বর যুক্ত করা হয়েছিল। দেশের সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় স্বার্থ ঝুঁকিতে ফেলতে পারে এমন স্পর্শকাতর তথ্য হাতিয়ে নেওয়ার কারণে একে রাষ্ট্রদ্রোহ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।অভিযোগ ওঠার পরপরই চিফ অব স্টাফ লিসতিও এবং পুলিশের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তার করে বরখাস্ত করা হয়। গত সপ্তাহে এক পুলিশ কর্মকর্তার তথ্যের মাধ্যমে এই অবৈধ নজরদারির বিষয়টি প্রথম ফাঁস হয়েছিল। ধারণা করা হচ্ছে, লিসতিও যখন জাতীয় পুলিশ প্রধান
ছিলেন, সেই সময় থেকেই এই আড়িপাতা কার্যক্রম চলছিল। শুধু প্রেসিডেন্ট নন, রাজনৈতিক নেতা, সাংবাদিক, এনজিও প্রতিনিধি এবং শীর্ষ ব্যবসায়ীদের ফোনেও এই নজরদারি চালানো হয়েছিল। এই মামলায় অপরাধ তদন্ত ইউনিটের আরেক কর্মকর্তাকে সন্দেহভাজন হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও তিনি গুরুতর অসুস্থ থাকায় আটক হননি।বিশ্লেষকরা এই ঘটনাটিকে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সঙ্গে বর্তমান প্রেসিডেন্টের রাজনৈতিক টানাপোড়েনের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে দেখছেন। সাবেক প্রেসিডেন্টের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত ছিলেন লিসতিও, যাকে মাত্র এক মাস আগে চিফ অব স্টাফ হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল। উইদোদোর সরাসরি সমর্থনে ২০২৪ সালের নির্বাচনে জয়ী হলেও বর্তমানে দুই নেতার রাজনৈতিক জোটে স্পষ্ট ফাটল ধরেছে। প্রশাসনে রদবদল এবং নতুন নীতি চালুর মাধ্যমে উইদোদোর আস্থাভাজন কর্মকর্তাদের সরিয়ে দিচ্ছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট। তবে পুলিশ
প্রধান দাবি করেছেন যে এই পদক্ষেপ পুরোপুরি আইন প্রয়োগের অংশ এবং এর সঙ্গে রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কোনো সম্পর্ক নেই।ইন্দোনেশিয়ায় রাষ্ট্রদ্রোহের সর্বোচ্চ সাজা যাবজ্জীবন কারাদণ্ড অথবা মৃত্যুদণ্ড হলেও দেশটিতে গত এক দশকে কোনো মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়নি। এর আগেও ২০১৪ সালে সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদোর সরকারি বাসভবনে এবং মেঘবতী সুকর্ণপুত্রীর ক্ষেত্রেও নজরদারির ঘটনার ইতিহাস রয়েছে। বর্তমান আইনি প্রক্রিয়ার প্রতি সম্মান জানানোর কথা বলেছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জোকো উইদোদো। এমন এক সময়ে এই কেলেঙ্কারি সামনে এল যখন তহবিল সংকট, দাবানল এবং শেয়ার বাজারের অস্থিতিশীলতার মতো বহুমুখী সংকটে জর্জরিত ইন্দোনেশিয়া সরকার। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধি ও দুর্নীতির প্রতিবাদে সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ করায় প্রশাসন আরও চাপের মুখে পড়েছে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত