নাইট ব্রুকসিজম এমন একটি বিশেষ শারীরিক অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় দাঁতে দাঁত ঘষেন বা চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরেন। এটি কেবল একটি সাধারণ অভ্যাস নয়, বরং শরীরের নানা ধরনের অন্তর্নিহিত জটিলতার লক্ষণ। সাধারণত পরিবারের অন্য সদস্যরা রাতের বেলায় এই শব্দের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম খেয়াল করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে ঘুমন্ত অবস্থায় কিছুই বুঝতে পারেন না, তবে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা ও চোয়ালে ব্যথা অনুভব করার মাধ্যমে এর উপস্থিতি টের পান।
এই সমস্যার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ দায়ী। বর্তমান যুগের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ এবং হতাশা থেকে এই রোগটি দানা বাঁধতে পারে। পাশাপাশি রাতে নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখা এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এর অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা অতিরিক্ত ধূমপানের ফলেও দাঁতে দাঁত পেষার আশঙ্কা বহুলাংশে বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায় দেখা গেছে, ব্রুকসিজমের সঙ্গে কিছু জটিল শারীরিক সমস্যারও গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে; যার মধ্যে পারকিনসন ডিজিজ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, গ্যাস্ট্রিকের তীব্রতা, খিঁচুনি বা সিøপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের ব্যাঘাতজনিত সমস্যা অন্যতম। এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দাঁত ও চোয়ালের ত্রুটিপূর্ণ গঠন এবং বংশগত বা পারিবারিক ইতিহাসের কারণেও এই সমস্যা প্রকট হতে পারে।
নাইট ব্রুকসিজমকে অবহেলা করলে পরবর্তী সময় নানা ধরনের দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা দেখা দেয়। অনবরত ঘর্ষণের ফলে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয় হয়ে তীব্র শিরশিরে অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এর থেকে নিয়মিত মাথাব্যথা এবং চোয়ালে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা শুরু হতে পারে। কানের ঠিক সামনে থাকা টেম্পোরোমেন্ডিবুলার জয়েন্টে প্রচণ্ড অস্বস্তি ভাব তৈরি হয়, যা অবহেলা করলে একপর্যায়ে রোগী স্বাভাবিকভাবে মুখ খুলতে পারেন না এবং খাবার চিবানোর সময় হা করতে প্রচণ্ড অসুবিধা হয়।
এই রোগ নির্ণয় হলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া জরুরি। দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে এবং দুই চোয়ালের সরাসরি ঘর্ষণ এড়াতে চিকিৎসকরা সাধারণত রাতে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ‘মাউথ গার্ড’ দিয়ে থাকেন। এছাড়া শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পেশী শিথিলকারী বা মাসল রিল্যাক্সেন্ট, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে বোটক্স ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদি দাঁত ও চোয়ালের গঠনগত বড় কোনো সমস্যা থাকে, তবে অর্থডন্টিক্স চিকিৎসা বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে।
রোগটি প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যেহেতু দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের সঙ্গে এ রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাই অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে এবং যথাসম্ভব চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। ক্যাফেইন, ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে এনে প্রতিদিন একটি শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে।
লেখক : ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন
চেম্বার : আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড), মিরপুর-১০, ঢাকা। হটলাইন : ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯
রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করার কারণ
রাতে ঘুমের মধ্যে দাঁত কিড়মিড় করার কারণ
নাইট ব্রুকসিজম এমন একটি বিশেষ শারীরিক অবস্থা, যেখানে একজন মানুষ সম্পূর্ণ অনিচ্ছাকৃতভাবে ঘুমন্ত অবস্থায় দাঁতে দাঁত ঘষেন বা চোয়াল শক্ত করে চেপে ধরেন। এটি কেবল একটি সাধারণ অভ্যাস নয়, বরং শরীরের নানা ধরনের অন্তর্নিহিত জটিলতার লক্ষণ। সাধারণত পরিবারের অন্য সদস্যরা রাতের বেলায় এই শব্দের মাধ্যমে বিষয়টি প্রথম খেয়াল করেন। বেশিরভাগ ক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজে ঘুমন্ত অবস্থায় কিছুই বুঝতে পারেন না, তবে ঘুম থেকে ওঠার পর তীব্র মাথাব্যথা ও চোয়ালে ব্যথা অনুভব করার মাধ্যমে এর উপস্থিতি টের পান। এই সমস্যার পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ দায়ী। বর্তমান যুগের অতিরিক্ত দুশ্চিন্তা, কর্মক্ষেত্রের মানসিক চাপ এবং হতাশা থেকে এই রোগটি দানা বাঁধতে পারে। পাশাপাশি রাতে নিয়মিত দুঃস্বপ্ন দেখা এবং অনিয়মিত ঘুমের অভ্যাস এর অন্যতম প্রধান কারণ। অতিরিক্ত মাত্রায় অ্যালকোহল ও ক্যাফেইন গ্রহণ কিংবা অতিরিক্ত ধূমপানের ফলেও দাঁতে দাঁত পেষার আশঙ্কা বহুলাংশে বেড়ে যায়। চিকিৎসাবিজ্ঞানের গবেষণায়
দেখা গেছে, ব্রুকসিজমের সঙ্গে কিছু জটিল শারীরিক সমস্যারও গভীর সম্পর্ক থাকতে পারে; যার মধ্যে পারকিনসন ডিজিজ, স্মৃতিশক্তির সমস্যা, গ্যাস্ট্রিকের তীব্রতা, খিঁচুনি বা সিøপ অ্যাপনিয়ার মতো ঘুমের ব্যাঘাতজনিত সমস্যা অন্যতম। এছাড়া কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া, দাঁত ও চোয়ালের ত্রুটিপূর্ণ গঠন এবং বংশগত বা পারিবারিক ইতিহাসের কারণেও এই সমস্যা প্রকট হতে পারে। নাইট ব্রুকসিজমকে অবহেলা করলে পরবর্তী সময় নানা ধরনের দীর্ঘস্থায়ী জটিলতা দেখা দেয়। অনবরত ঘর্ষণের ফলে দাঁতের উপরিভাগ ক্ষয় হয়ে তীব্র শিরশিরে অনুভূতির সৃষ্টি হয়। এর থেকে নিয়মিত মাথাব্যথা এবং চোয়ালে দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা শুরু হতে পারে। কানের ঠিক সামনে থাকা টেম্পোরোমেন্ডিবুলার জয়েন্টে প্রচণ্ড অস্বস্তি ভাব তৈরি হয়, যা অবহেলা করলে একপর্যায়ে রোগী স্বাভাবিকভাবে মুখ খুলতে পারেন না এবং খাবার চিবানোর সময় হা করতে প্রচণ্ড অসুবিধা হয়। এই রোগ নির্ণয় হলে আধুনিক চিকিৎসা পদ্ধতির সাহায্য নেওয়া জরুরি। দাঁতের ক্ষয় প্রতিরোধে এবং দুই চোয়ালের সরাসরি ঘর্ষণ
এড়াতে চিকিৎসকরা সাধারণত রাতে ব্যবহারের জন্য বিশেষ ‘মাউথ গার্ড’ দিয়ে থাকেন। এছাড়া শারীরিক অবস্থা বিবেচনায় পেশী শিথিলকারী বা মাসল রিল্যাক্সেন্ট, উদ্বেগ কমানোর ওষুধ এবং বিশেষ ক্ষেত্রে বোটক্স ইনজেকশন ব্যবহার করা হয়ে থাকে। যদি দাঁত ও চোয়ালের গঠনগত বড় কোনো সমস্যা থাকে, তবে অর্থডন্টিক্স চিকিৎসা বা সার্জারির প্রয়োজন হতে পারে। রোগটি প্রতিরোধে সচেতনতা সবচেয়ে বড় হাতিয়ার। যেহেতু দুশ্চিন্তা ও মানসিক চাপের সঙ্গে এ রোগের গভীর সম্পর্ক রয়েছে, তাই অবশ্যই মানসিক স্বাস্থ্যের যত্ন নিতে হবে এবং যথাসম্ভব চাপমুক্ত থাকার চেষ্টা করতে হবে। ক্যাফেইন, ধূমপান এবং অ্যালকোহল গ্রহণের মাত্রা কমিয়ে এনে প্রতিদিন একটি শান্ত ও কোলাহলমুক্ত পরিবেশে পর্যাপ্ত পরিমাণ ঘুমানোর অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। লেখক : ডা. জান্নাতুল ফেরদৌস নিশী, ওরাল অ্যান্ড ডেন্টাল সার্জন চেম্বার : আলোক ডেন্টাল কেয়ার ইউনিট (আলোক হেলথকেয়ার লিমিটেড), মিরপুর-১০, ঢাকা। হটলাইন : ১০৬৭২, ০৯৬১০১০০৯৯৯
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
১৫২/২, এ-২ গ্রীন রোড, রওশন টাওয়ার (লিফটের-৮),
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ । মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত