সোমবার, ২২ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় ভারতের নতুন হাই কমিশনারকে গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব
কূটনৈতিক শিষ্টাচারের ব্যত্যয়

ভারতের নতুন হাই কমিশনারকে গ্রহণে অযৌক্তিক বিলম্ব

বাংলাদেশে ভারতের নবনিযুক্ত হাই কমিশনার দীনেশ ত্রিবেদীকে আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রহণের ক্ষেত্রে দীর্ঘ সময়ক্ষেপণ দেশটির কূটনৈতিক আচরণ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। আন্তর্জাতিক কূটনীতিতে সৌজন্য, পারস্পরিক সম্মান এবং প্রাতিষ্ঠানিক সম্পর্ক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হলেও বর্তমান পরিস্থিতিতে বাংলাদেশ সরকারের ভূমিকা সেই মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে না।

ভারত বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ প্রতিবেশী, গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্যিক অংশীদার এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে একটি প্রধান শক্তি। সেই দেশের নিযুক্ত একজন হাই কমিশনারকে গ্রহণের ক্ষেত্রে অস্বাভাবিক বিলম্ব কেবল প্রশাসনিক জটিলতা হিসেবে ব্যাখ্যা করা কঠিন। অনেক পর্যবেক্ষকের মতে, এটি একটি নেতিবাচক রাজনৈতিক বার্তা বহন করছে।

বিশেষভাবে উদ্বেগের বিষয় হলো, বাংলাদেশ সরকার এ বিষয়ে স্পষ্ট ও সন্তোষজনক কোনো ব্যাখ্যা দিতে পারেনি। ফলে জনমনে ধারণা তৈরি হয়েছে যে বিষয়টি নিছক প্রোটোকলগত নয়, বরং এর পেছনে রাজনৈতিক উদ্দেশ্য থাকতে পারে। কূটনৈতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে এমন অস্পষ্টতা দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান আস্থার সংকটকে আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে।

সুশীল সমাজের অনেক প্রতিনিধি মনে করেন, একটি বন্ধুত্বপূর্ণ দেশের প্রতিনিধিকে গ্রহণে অনীহা বা বিলম্ব দেখানো শেষ পর্যন্ত বাংলাদেশের কূটনৈতিক ভাবমূর্তিকেই ক্ষতিগ্রস্ত করে। কারণ আন্তর্জাতিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রের পরিপক্বতা প্রকাশ পায় তার আচরণ ও প্রোটোকল পালনের মধ্য দিয়ে, রাজনৈতিক মতপার্থক্যের মাধ্যমে নয়।

কূটনীতিতে প্রতীকী বার্তার গুরুত্ব অনেক। তাই যদি এই সময়ক্ষেপণ সচেতনভাবে করা হয়ে থাকে, তবে তা দুই দেশের সম্পর্ক উন্নয়নের পরিবর্তে দূরত্ব বাড়ানোর ঝুঁকি সৃষ্টি করবে। আর যদি এটি প্রশাসনিক ব্যর্থতার ফল হয়, তবে সেটিও সমানভাবে উদ্বেগজনক। উভয় ক্ষেত্রেই বাংলাদেশ সরকারের উচিত দ্রুত পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দেওয়া এবং অপ্রয়োজনীয় কূটনৈতিক বিতর্কের অবসান ঘটানো।

খুঁজুন