সোমবার, ১৫ জুন ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
জাতীয় সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি
বিআরটিএ এর উত্তরা দিয়াবাড়ী কার্যালয়ের

সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি

বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষ বিআরটিএ এর ঢাকা মেট্রো-৩, উত্তরা দিয়াবাড়ী কার্যালয়ের উপ-পরিচালক সুব্রত দেবনাথের বিরুদ্ধে বিপুল অঙ্কের দুর্নীতি, অর্থ পাচার ও প্রশাসনিক অনিয়মের গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে জমা পড়া একটি অভিযোগপত্র এবং ভুক্তভোগীদের বক্তব্যে এসব তথ্য সামনে এসেছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম বিআরটিএতে সহকারী পরিচালক এডি থাকাকালীন ২হাজার সিএনজি চালিত অটোরিকশা প্রতিস্থাপনের নামে শোরুম মালিকদের মাধ্যমে গাড়ি প্রতি ৩ লাখ টাকা করে প্রায় ৬০ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। তিনি গ্রাহকদের সরাসরি সেবা না দিয়ে শোরুমের মাধ্যমে আসার জন্য বাধ্য করতেন। পরবর্তীতে সিএনজি মালিকদের তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে তাকে ঢাকা মেট্রো সার্কেল-২-এ বদলি করা হয়। সেখানেও একই ধরনের ঘুষ বাণিজ্যে জড়িয়ে পড়লে তাকে রাজশাহীতে বদলির আদেশ দেওয়া হয়। তবে তৎকালীন স্বৈরাচারী আওয়ামী লীগ সরকারের সংসদ সদস্য ও তার চাচাতো ভাই পঙ্কজ দেবনাথের প্রভাবে তিনি সেই বদলি ঠেকিয়ে দেন। 

বিগত ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় তৎকালীন বিআরটিএ চেয়ারম্যান গৌতম পালের সাথে মিলে আন্দোলন দমনে ভূমিকা রাখারও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর অন্তর্বর্তীকালীন সরকার তাকে ময়মনসিংহে বদলি করেন। সুব্রত দেবনাথ ভারতীয় গোয়েন্দা সংস্থা র-এর বাংলাদেশী এজেন্ট। গুঞ্জন উঠেছে, তিনি ভারতীয় হাই-কমিশনের বিশেষ তদবিরে ময়মনসিংহ থেকে বদলি হয়ে  ঢাকা মেট্রো-৩ এর উপ-পরিচালক পদে যোগদান করেছেন। এর ফলে তিনি  প্রতি নিয়তই স্বামীবাগের ইসকন কার্যালয়ে যাতায়ত করেন।

অভিযোগপত্রে উল্লেখ করা হয়েছে, দুর্নীতির মাধ্যমে অর্জিত বিপুল অর্থ সুব্রত দেবনাথ ভারতে পাচার করেছেন। ভারতের বিভিন্ন স্থানে তার নামে-বেনামে একাধিক বাড়ি, গাড়ি ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান রয়েছে। এছাড়া রাজধানীর পশ্চিম রামপুরায় একাধিক ফ্ল্যাট ও প্লটের সন্ধান মিলেছে। বর্তমানে উত্তরা দিয়াবাড়ী কার্যালয়ে তার প্রত্যক্ষ প্রশ্রয়ে একটি শক্তিশালী দালাল চক্র সক্রিয় রয়েছে, যেখানে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে ফাইল ছাড় করা হয়। এমনকি অন্তর্বর্তী সরকারের প্রজ্ঞাপন অমান্য করে সরকারি নথিতে পূর্ববর্তী নাম ব্যবহারের প্রমাণও পাওয়া গেছে।

এই দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দ্রুত দৃষ্টান্তমূলক আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য ভুক্তভোগী ও সাধারণ গ্রাহকেরা জোর দাবি জানিয়েছেন।

খুঁজুন