বুধবার, ১ জুলাই ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
আন্তর্জাতিক ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নীতি টিকল না

ট্রাম্পের নাগরিকত্ব নীতি টিকল না

যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বের অধিকার সীমিত করার জন্য দেওয়া প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ খারিজ করে দিয়েছে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট।

মঙ্গলবার (৩০ জুন) দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ৬-৩ ভোটে সিদ্ধান্ত দেয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রত্যেকেরই মার্কিন নাগরিকত্ব পাওয়ার অধিকার বহাল থাকবে।

বার্তাসংস্থা এএফপি এ তথ্য জানিয়েছে।

এর আগে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক নির্বাহী আদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি সংস্থাগুলোকে নির্দেশ দিয়েছিলেন, যদি যুক্তরাষ্ট্রে জন্ম নেওয়া কোনো শিশুর বাবা-মায়ের কেউই মার্কিন নাগরিক বা বৈধ স্থায়ী বাসিন্দা না হন, তাহলে সেই শিশুকে নাগরিক হিসেবে স্বীকৃতি না দিতে।

গত বছর দ্বিতীয়বার দায়িত্ব নেওয়ার প্রথম দিনেই বৈধ ও অবৈধ—দুই ধরনের অভিবাসন কঠোরভাবে নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে একগুচ্ছ নীতির অংশ হিসেবে এই নির্বাহী আদেশ জারি করেছিলেন ট্রাম্প।

ট্রাম্পের ওই আদেশ খারিজ করে রায় দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্রের নিম্ন আদালত। এবার সুপ্রিম কোর্টও নিম্ন আদালতের নেওয়া সিদ্ধান্ত বহাল রাখল।

রায়ে প্রধান বিচারপতি জন রবার্টস লিখেছেন, ‘তখনও যেমন, এখনও তেমনি—নাগরিকত্ব মানে অধিকার ভোগের অধিকার; আমাদের রাজনৈতিক সমাজে স্বাধীনভাবে অংশগ্রহণের অধিকার। চতুর্দশ সংশোধনীর প্রণেতারা এই দেশের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রতিটি স্বাধীন মানুষের জন্য এ প্রতিশ্রুতি করেছিলেন। আজ আমরা সেই প্রতিশ্রুতিই রক্ষা করছি।’

সুপ্রিম কোর্টের এ রায়কে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

এ বছরের মধ্যে দ্বিতীয়বার দেশটির সর্বোচ্চ আদালত ট্রাম্পের কোনো বড় উদ্যোগ বাতিল করল। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে তার আরোপ করা ব্যাপকহারে বৈশ্বিক শুল্কও বাতিল করে দিয়েছিল সুপ্রিম কোর্ট।

গত এপ্রিলে এ বিষয়ক যুক্তিতর্কে প্রথম কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে আদালতে স্বশরীরে উপস্থিত হয়েছিলেন ট্রাম্প।

শুনানির সময় প্রশাসনের পক্ষে উপস্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সলিসিটর জেনারেল জন সাওয়ের দাবি করেছিলেন, যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে জন্ম নেওয়া প্রায় যেকোনো শিশুর নাগরিকত্ব পাওয়ার সাংবিধানিক নিশ্চয়তা বার্থ ট্যুরিজম’ নামে পরিচিত একটি বিস্তৃত শিল্পের জন্ম দিয়েছে।

সাওয়ের বলেন, ‘সাম্প্রতিক দশকগুলোতে সম্ভাব্য শত্রুভাবাপন্ন দেশসহ বিভিন্ন দেশের অগণিত বিদেশি যুক্তরাষ্ট্রে সন্তান জন্ম দিতে এসেছেন, যাতে তাদের সন্তানরা মার্কিন নাগরিকত্ব পায়।’

‘বার্থ ট্যুরিজম’ কতটা গুরুতর সমস্যা হয়ে উঠেছে—এ বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হলে সাওয়ার মূলত বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের উদ্ধৃতি দেন এবং স্বীকার করেন, ‘আসলে বিষয়টি কতটা ব্যাপক, তা নিশ্চিতভাবে কেউ জানে না।’

এ রায় ঘোষণার আগে দেশব্যাপী ১ হাজার ২৬২ প্রাপ্তবয়স্কের ওপর পরিচালিত রয়টার্স/ইপসসের এক জরিপে ৫৫ শতাংশ অংশগ্রহণকারী জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব অধিকার রাখার পক্ষে মত দেন। ৪১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী এর বিপক্ষে মত দিয়েছিলেন।

খুঁজুন