রবিবার, ৮ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
নতুন বছরে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা পাবে বই-ড্রেস-জুতা ও ব্যাগ • এজেন্ট ব্যাংকিংয়ে জালিয়াতি প্রতিরোধে ইসলামী ব্যাংকে কর্মশালা • নেতানিয়াহুকে হঠাতে আরব দলগুলোর সঙ্গে জোটের দাবিতে ইসরায়েলিদের বিক্ষোভ • বাইনোকুলারে দেখলাম ওঁৎ পেতে আছে বাংলাদেশিরা, ফাঁক পেলে ঢুকে পড়বে: শুভেন্দু অধিকারী • ‘১৩ হাজার এমপিও শিক্ষক-কর্মচারী অবসর-কল্যাণের টাকা পাচ্ছেন’ • হ‌ুমায়ূন পড়লে বাংলা আর ভাষার প্রতি ভালোবাসা বেড়ে যায়: অনুপম রায় • বিনা খরচে মালয়েশিয়ায় চাকরি: লটারিতে প্রাথমিকভাবে ৩০০ জন নির্বাচিত • নিজেই তৈরি করে নিতে পারেন প্রাকৃতিক ময়েশ্চারাইজার • ‘শেখ হাসিনাকে ফেরাতে ইমোশন নয়, আইনের পথেই এগোবে সরকার’ • যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়ে বৃত্তি পাচ্ছেন জাতীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের ৫ শিক্ষার্থী
রাজনীতি তুখোড় ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভি

তুখোড় ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভি

এক সময়ের তুখোড় ছাত্রনেতা গোলাম ফারুক অভির একটা উক্তি ছিল,"অস্ত্র যদি কোনো শিল্প হয় তাহলে আমি সেটার সার্থক শিল্পী"!! অভির মা আমিনা আহম্মেদকে রত্নগর্ভা হিসেবে পুরস্কৃত করা হয়েছিল। একবার পত্রিকায় খবর আসে অভিকে তার পৈত্রিক সম্পত্তি এক একর ৩০ শতাংশ জমি থেকে বঞ্চিত করার অভিযোগে তার মা, দুইভাই গোলাম মোর্শেদ, গোলাম কিবরিয়া তিনবোন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপিকা ড. শামসুন্নাহার আহম্মেদ, অর্থ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব কামরুন্নাহার আহম্মেদ, অনীতা আহম্মেদ সহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছিল। বিবিসির খবর পাঠক ছিলেন গোলাম মুর্শিদ। মডেল তিন্নির উপন্যাসের মতো জীবন কাহিনীর ঘটন অঘটনগুলো দুই দফায় লিখে শেষ করা যাবেনা। এখানে কাহিনীর ভেতরেও কাহিনী আছে। আমার ইনবক্সে অনেক সজ্জন ব্যক্তির তুমুল অনুরোধের কারণে তৃতীয় দফা লিখার এই প্রয়াস আমার। কেউ কেউ ঘোর আপত্তি তুলেছেন এই বলে, পিয়াল হোসেনকে আমি ভিকটিম বানিয়েছি। ইনবক্সের সজ্জনদের মতে মূলতঃ তিন্নিই ছিলেন ভিকটিম। তিন্নি নাকি অসহায় হয়ে গোলাম ফারুক অভির খাঁচায় বন্দীত্ব বরণ করেছেন। কিন্তু আমার মূল্যায়নে তিন্নিকে আমি ভিকটিম ছিলেন না। যে মা তার উচ্চাকাঙ্খা মেটানোর জন্য অন্ধ হয়ে গিয়েছিলেন, তাকে ভিকটিম বলবো কোন যুক্তিতে?সৈয়দা তানিয়া মাহবুব তিন্নিরা ছিলেন দুইবোন। তিন্নির ছোটবোন বিমানবালা ছিলেন। তিন্নির বাবা সৈয়দ মাহবুবুল করিম কর্মজীবন প্রবাসে কাটালেও যখন দেশে ফিরেছেন তখন তাকে একাই থাকতে হয়েছে। তিন্নির মা অনেক আগেই স্বামীকে ছেড়ে পাকিস্তান চলে গিয়েছিলেন। শোনা যায় পাকিস্তানে তিনি নতুন সংসার পেতেছিলেন। 

তিন্নির মৃত্যুর পাঁচদিন আগের ঘটনার বর্ণনা দেন তার পিতা মাহবুবুল করিম। তিনি বলেন, তিন্নি তাকে ৫ নভেম্বর রাত ৯টার দিকে টেলিফোন করে ধানমন্ডি যেতে বলেছিলেন। সেখানে যাওয়ার পর ‘বাবু’ নামের একজনের সঙ্গে তাকে পরিচয় করিয়ে দেন তিন্নি। ওই ‘বাবু’ ছিলেন গোলাম ফারুক অভি। সেখান থেকে তিন্নিকে নিয়ে বাসায় চলে এসেছিলেন তিনি। আসার সময় মাহবুব সাহেব তিন্নিকে জিজ্ঞাসা করলেন, অভির সাথে এতো ঘোরাঘুরি কেন? তিন্নি বললেন,"অভির সাথে তার অ্যাফেয়ার, অভি তাকে বিয়ে করবে'’। তিন্নি তখন ছিলেন বিবাহিত, তার স্বামী ছিলেন শাফকাত হোসেন পিয়াল। মাহবুবুল করিম বলেন, আমি তিন্নিকে তার স্বামী পিয়ালের কথা বলি। তাকে বলি,এখনতুমি কীভাবে অভিকে বিয়ে করবে? তিন্নি বলে,‘'আমি পিয়ালের সাথে থাকতে চেয়েছি, কিন্তু সে আমাকে ধরে রাখতে পারেনি’'। একপর্যায়ে অভি ভারডিক্ট শোনায়, রমজানের পর তিন্নিকে বিয়ে করবেন তিনি। মেয়ে আনুশকা তার বাবা পিয়ালের কাছে থাকবে। অভি এও বলেন, তিন্নিকে নিয়ে তিনি ওমরাহ করতে যাবেন। শুনে তিন্নির পিতা প্রশ্ন করেন, "তুমি কোন আইনে বিয়ে ছাড়া তিন্নিকে নিয়ে ওমরাহ করতে যাবে"?এতে অভি রুদ্রমূর্তি ধারণ করেন। তাকে বাসা থেকে বের হয়ে যেতে বলেন। ভয়ে মাহবুব সাহেব ওই বাসা থেকে বেরিয়ে যান।

আশির দশকের মাঝামাঝির দিকে মুলত তিন কুতুব বিএনপির ছাত্রসংগঠন ছাত্রদল নিয়ন্ত্রন করতো। তিন কুতুব হলেন মাহবুবুল হক বাবলু, সানাউল হক নীরু এবং গোলাম ফারুক অভি। এদের মধ্যে নীরু, বাবলু ছিল আপন দুইভাই এবং ছাত্রদলের দুই মাথা। অভি ছিল ঠিক তাদের পিছনে। ১৯৮৭ এর ব্যর্থ  এরশাদবিরোধী আন্দোলনের কিছু আগে বা পরে বাবলু মহসিন হলে (এই হলকে এরশাদ আমলে সেকেন্ড ক্যান্টনমেন্ট বলা হত অস্ত্র-বোমার বিশাল মজুদের কারণে) নিজেদের বানানো বোমা বিষ্ফোরণে মারা যান। বাবলু মারা যাওয়ার পরে নীরু ছাত্রদলের একমাত্র শীর্ষ রাজনৈতিক নেতা হন। অভি ছিলেন মুলত উদীয়মান ক্যাডার নেতা। '৯০ এর এরশাদ বিরোধী আন্দোলনের কয়েক মাস আগে দুইজনই গ্রেফতার হন এবং নভেম্বর মাসে প্রায় একই সময় দুইজন মুক্তিও পান। ছাত্রদলের বাকি নেতাকর্মীরা তাদের মিষ্টি-মালা দিয়ে বরণ করেন। পত্রিকায় বিশাল ছবি ছাপা হয়। ছাত্রদলে তাদের অবস্থান আগের মত থাকলেও জেলে থাকার কারনে আন্দোলনের জন্য গঠিত সর্বদলীয় ছাত্র ঐক্যে তাদের পজিশন খুব ভাল ছিল না। ছাত্র ঐক্যের নেতৃত্ব চলে যায় ছাত্রদলের বেশ পিছন দিকের নেতা আমান, খোকনদের কাছে যেহেতু তারা তখন ডাকসুর ভিপি-জিএস ছিলেন।

নভেম্বরের শেষ সপ্তাহে এরশাদবিরোধী আন্দোলন তুঙ্গে উঠে। ২৭ নভেম্বর টিএসসি এলাকা রণক্ষেত্রে পরিনত হয়। পুলিশ বা এরশাদের ছাত্র ক্যাডারদের গুলিতে ডাক্তার মিলন নিহত হন। দেশের পরিস্থিতি এতই খারাপ হয় যে এরশাদ ২৮শে নভেম্বর জরুরী অবস্থা ঘোষনা এবং কারফিউ জারী করেন। এই অবস্থা চলে ৪ঠা ডিসেম্বর মধ্যরাতে এরশাদের পদত্যাগের ঘোষনা দেয়া পর্যন্ত। টিএসসির ওই গ্যাঞ্জামের সময় যেটা সবাই খুব অবাক বিষ্ময়ে লক্ষ্য করে যে নীরু ও অভি দুইজনই উপরে উপরে ছাত্রদলের সাথে থাকলেও আসলে জেলে থাকা অবস্থায় এরশাদের সাথে তারা হাত মেলান। এবং ছাত্র আন্দোলন ভন্ডুল করার জন্যই তাদেরকে জেল থেকে মুক্তি দেয়া হয়েছিল। কারো মতে তারা এরশাদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের টাকা পেয়েছিলেন। পল্টি খাওয়া বাংলাদেশের রাজনীতিতে খুব সাধারন ঘটনা হলেও এক দলের সাথে থেকে আরেক দলের হয়ে কাজ করার উদাহরন সম্ভবত এটাই একমাত্র। আর সেই সময়টাও ছিল এমন যে সবাই তখন দেশপ্রেমিক হয়ে উঠেছিল। নীরু, অভিকে হাতের কাছে পেলে মনে হয় টুকরা টুকরা করে বুড়িগঙ্গায় ভাসানো হত। জনরোষ ও  গ্রেফতার এড়ানোর জন্য দু'জনই পালিয়ে যান। আর এসব কারণে বেগম খালেদা জিয়া অভি- নীরু ওই দুই অকৃতজ্ঞের নাম শুনতে চাইতেন না।

নব্বই দশকের মাঝামাঝি যখন মানুষের মধ্যে এরশাদবিরোধী জোশ এবং দেশপ্রেম বেশ ফ্যাকাশে হয়ে গিয়েছিল, অভি তখন আবার আলোচনায় ফিরে আসেন। ছাত্রদল থেকে বহিষ্কৃত হওয়ার পর অভি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টিতে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেন। ১৯৯৬ সালের ১২ জুনের সপ্তম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনি বরিশাল-২ আসন থেকে জাতীয় পার্টির মনোনয়নে নির্বাচন করেন এবং বিজয়ী হন। মাত্র ৩০ বছর বয়সে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে তিনি তৎকালীন ৭ম সংসদের সর্বকনিষ্ঠ সদস্য হিসেবে লাইমলাইটে আসেন। পরবর্তীতে তিনি আনোয়ার হোসেন মঞ্জুর নেতৃত্বাধীন জাতীয় পার্টি (জেপি)-র সাথেও যুক্ত ছিলেন। ওই সময়ই এমপি হোস্টেলে এক এয়ার হোস্টেসের সাথে তার একটা হিডেনক্যাম ভিডিও বেশ আলোড়ন তোলে।

খুঁজুন