Logo
শিরোনাম
বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা" পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার ১৬৩ টাকায় তেল বিক্রির ব্যত্যয় ঘটলে ব্যবস্থা নেয়া হবে: ভোক্তার মহাপরিচালক দুর্গাপুরে বালুবাহী হ্যান্ডট্রলির চাপায় প্রাণ গেল শিক্ষার্থীর নওগাঁ জেলা প্রেস ক্লাবের সভাপতি আবু বক্কর, সাধারণ সম্পাদক বেলায়েত নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক রূপগঞ্জে প্রাইভেটকার চাপায় গৃহবধু নিহত রাঙ্গামাটির বড়ইছড়ি নির্মাণ শ্রমিক বোঝাই ট্রাক খাদে নিহত-২, আহত-২০ মুসলিমদেরকে সঠিক পথ থেকে বিচ্যুত করার জন্য বিভিন্ন ষড়যন্ত্র চলছে নওগাঁয় কম্পিউটার ব্যবসার অন্তরালে অশ্লিল ভিডিও বিক্রি করায় ৩ যুবক আটক

হাসপাতালে অনুপস্থিত চিকিৎসক-স্বাস্থ্যকর্মী

প্রকাশিত:রবিবার ১১ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

দেশের সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রে চিকিৎসক এবং কর্মকর্তা-কর্মচারীদের উপস্থিতি নিশ্চিত করতে সরকার নানা উদ্যোগ নিলেও তা কাজে আসছে না। এসব প্রতিষ্ঠানে এখনও প্রতিদিন অনুপস্থিত থাকেন গড়ে ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারী। এতে ভোগান্তিতে পড়তে হয় রোগীদের, পোহাতে হয় দুর্ভোগ। নিরুপায় হয়ে অনেকে বেসরকারি হাসপাতালে যেতে বাধ্য হন। খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের পর্যবেক্ষণে ফুটে উঠেছে এমন চিত্র।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের শাস্তি না হওয়ায় উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। পাশাপাশি রয়েছে শক্ত তদারকির অভাব। দায়িত্বশীল কর্মকর্তাদের দক্ষতায়ও ঘাটতি রয়েছে। তবে স্বাস্থ্যমন্ত্রী ডা. সামন্ত লাল সেন বলেছেন, দেরিতে কর্মস্থলে আসা, দ্রুত অফিস ত্যাগ ও অনুমতি ছাড়া কোনো চিকিৎসক কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকলে তাঁকে অবশ্যই শাস্তি ভোগ করতে হবে। দায়িত্ব পালনে অবহেলাকারীদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না। সরকার এ ব্যাপারে তদারকি আরও জোরদার করবে বলেও জানান তিনি।

ছুটির দিন ছাড়া সরকারি হাসপাতাল ও স্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্রের বহির্বিভাগে সেবা প্রদান শুরু হয় সকাল ৮টায়, চলে বেলা ২টা পর্যন্ত। আর ছুটির দিনগুলোতে চালু থাকে শুধু জরুরি বিভাগ, থাকেন স্বল্পসংখ্যক চিকিৎসক।

বেলা ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা নেই

গত ৩ ফেব্রুয়ারি সকাল ৮টায় বগুড়া ২৫০ শয্যার মোহাম্মদ আলী হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বহির্বিভাগে রোগীর লাইন। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত চিকিৎসকের দেখা নেই! শহরের আকাশতারা এলাকা থেকে আসা বৃদ্ধা শামসুন্নাহার বেগম বলেন, আগে একদিন এসে ফিরে গেছি, ডাক্তার পাইনি, আজও পেলাম না। এখন ক্লিনিকে যাচ্ছি। ওই নারী জানান, তিনি এসেছিলেন মেডিসিন বিভাগের চিকিৎসক রত্না রানী সরকারের কাছে।

সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালট্যান্ট ডা. এস এম বেলালও দুদিন ধরে অনুপস্থিত বলে অভিযোগ করেন এদিন তাঁর কাছে আসা কয়েকজন রোগী। অর্থোপেডিক বিভাগের ডা. জাহিদুল কবির সুজন হাসপাতালে আসেন বেলা ১১টায়। ৬২ জন চিকিৎসকের মধ্যে প্রতিদিন এ হাসপাতালে অন্তত ২০ জন অনুপস্থিত থাকেন বলে অভিযোগ রোগীদের।

কর্মস্থলে অনুপস্থিতির বিষয়ে ডা. রত্না রানী সরকার বলেন, আমি নিয়মিত হাসপাতালে যাই। তবে জরুরি একটি কাজের জন্য দুদিন যেতে পারিনি। একই কথা বলেন ডা. এস এম বেলাল হোসেন। হাসপাতালটির তত্ত্বাবধায়ক ডা. কাজী মিজানুর রহমান বলেন, চিকিৎসকরা কেন মাঝে মধ্যে ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকছেন, সে বিষয়ে তদন্ত করে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

চিকিৎসকের দেখা পান না রোগীরা

খুলনার কয়রা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ৯টায় গাইনি ডাক্তারের কাছে আসেন রাবেয়া খাতুন। তিন ঘণ্টা অপেক্ষার পর জানতে পারেন চিকিৎসক হাসপাতালে আসেননি। পরে চিকিৎসক না দেখিয়ে বাড়ি ফেরেন তিনি। একই দিন নাতির শ্বাসকষ্টের চিকিৎসায় ১০ কিলোমিটার দূর থেকে হাসপাতালে আসেন বৃদ্ধ আব্দুল মাজেদ। বহির্বিভাগের সামনে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকেন দীর্ঘক্ষণ। কিন্তু শেষ পর্যন্ত ডাক্তারের দেখা পাননি। তারাও চিকিৎসা না নিয়েই ফিরে যান। এই ঘটনা জানার পর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক রেজাউল করিম বলেন, তদন্ত করে অবশ্যই ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

দুপুর হলেই শূন্য হাসপাতাল

মৌলভীবাজার ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে বেলা ১টার পর চিকিৎসক পাওয়া কঠিন। আবার বেলা ১১টার আগে বহির্বিভাগে আসেন না কেউ। সদর উপজেলার বাসিন্দা আফতাব উদ্দিন সরকার হাড়ের সমস্যা নিয়ে গত ৩ ফেব্রুয়ারি এ হাসপাতালে আসেন। একই সমস্যা নিয়ে আসেন রোশনা বেগম ও চা শ্রমিক বধূ ভৌমিক। কিন্তু বেলা ১১টা পর্যন্ত হাসপাতালের বহির্বিভাগে তালা ঝুলতে দেখা যায়। তখন চিকিৎসক না দেখিয়েই চলে যান অনেকে।

পরে বিষয়টি নিয়ে সমকালের সঙ্গে কথা হয় অর্থোপেডিক কনসালট্যান্ট ডা. জুনাইদ হোসেনের। তিনি বলেন, ওটি ও অন্য বিভাগে চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম। তাই বহির্বিভাগের চেম্বারে যেতে পারিনি। ওই দিন অর্থোপেডিক বিভাগের অন্য চিকিৎসক ছুটিতে থাকার কথা জানায় হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। চিকিৎসা নিতে আসা রোগীরা অভিযোগ করেন, দুপুর হলেই এ হাসপাতালে ডাক্তার পাওয়া কঠিন। তারা নিজের কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়েন অথবা হাসপাতাল থেকে চলে যান।

সেবা দেন পরিচ্ছন্নতাকর্মী

গত ১ ফেব্রুয়ারি সকাল ১০টায় নাটোর সদর হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, বুকের যন্ত্রণা নিয়ে করিডোরে বিছানা পেতে শুয়ে আছেন রবিউল আলম। আগের রাতে হাসপাতালে আসেন তিনি। পরদিন বেলা ১১টা পর্যন্ত ডাক্তারের দেখা পাননি। আরেকটু ভেতরে গিয়ে দেখা যায়, অঞ্জলি নামে এক পরিচ্ছন্নতাকর্মী এক শিশুর ক্যানোলা খুলে দিচ্ছেন। মাঝে মধ্যেই তিনি এমন সেবা দেন। এটি তাঁর দায়িত্ব কিনা জানতে চাইলে দ্রুত সটকে পড়েন ওই নারী।

নাটোরের সিভিল সার্জন ও সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মুহাম্মদ মশিউর রহমান বলেন, হাসপাতালটি আড়াইশ শয্যায় উন্নীত হলেও জনবল বাড়েনি। তাই রোগীদের সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। কোনো ডাক্তার দেরিতে হাসপাতালে এলে বা নির্ধারিত সময়ের আগে চলে গেলে তাঁকে প্রথমে মৌখিক সতর্ক করা হয় বলে জানান তিনি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে অভিযোগের পাহাড়

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের (এমআইএস) তথ্য অনুযায়ী, গত ৩০ জানুয়ারি থেকে ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ১০ দিনে অধিদপ্তরে অভিযোগ এসেছে ৭১৩টি। এর মধ্যে ৪১৭টি অভিযোগই হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে। একই সময়ে অধিদপ্তরে পরামর্শ আসে ১২৭টি।

এক অভিযোগকারী লেখেন, ঝিনাইদহের কোটচাঁদপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে তিনি চোখের চিকিৎসক পাননি। গত ৬ ফেব্রুয়ারি মোবাইল ফোনে মেসেজ করে অভিযোগটি দেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে। মেসেজে তিনি লিখেছেন, এই হাসপাতালে চোখের কোনো চিকিৎসক নাই। প্রতিদিন ৫ থেকে ১০ জন সেবা প্রত্যাশী ফিরে যাচ্ছেন।

অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের তথ্য বলছে, সারাদেশে সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত মোট চিকিৎসকের গড়ে ৪৬ শতাংশ প্রতিদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাদের ডিজিটাল হাজিরার এক সপ্তাহের উপাত্ত (১ থেকে ৮ জানুয়ারি) বিশ্লেষণ করে এই চিত্র পাওয়া যায়। আট বিভাগের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স, জেলা সদর ও জেনারেল হাসপাতাল, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, বিশেষায়িত সরকারি হাসপাতালে কর্মরত ৩৪ হাজার চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর মধ্যে ১৮ হাজার ৩৬০ জন কর্মস্থলে অনুপস্থিত ছিলেন; যা মোট জনবলের ৪৬ শতাংশ। এমআইএসের উপাত্ত অনুযায়ী, উল্লিখিত সময়ে সবচেয়ে বেশি উপস্থিতি ছিল ময়মনসিংহ বিভাগে ৫৬ দশমিক ৩০ শতাংশ, এরপর রয়েছে সিলেট বিভাগ ৫৬ দশমিক ১৮ শতাংশ। চট্টগ্রামে এ হার ৫৫ দশমিক ৬৬ শতাংশ, বরিশালে ৫৪ দশমিক ৬৪ শতাংশ, খুলনায় ৫১ দশমিক ৮২ শতাংশ, রংপুরে ৫১ দশমিক ৭৭ শতাংশ, ঢাকায় ৫১ দশমিক ৬৬ শতাংশ এবং রাজশাহীতে ৫১ দশমিক ৫১ শতাংশ। এ হিসাবে কর্মস্থলে অনুপস্থিতি সবচেয়ে বেশি রাজশাহী বিভাগে।

২০১৯ সালে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, যে ডাক্তার জেলায় যাবেন না বা কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকবেন, তাঁকে ওএসডি করে নতুন ডাক্তার নিয়োগ দেওয়া হবে। কিন্তু পরে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা অধিদপ্তর থেকে কারও বিরুদ্ধে তেমন কোনো ব্যবস্থা নিতে দেখা যায়নি।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ম্যানেজমেন্ট ইনফরমেশন সিস্টেমের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. মো. শাহাদাত হোসেন বলেন, সরকারি স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতেই ডিজিটাল হাজিরার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এর মাধ্যমে হাসপাতালপ্রধান অথবা স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তা কর্মস্থলে অনুপস্থিত চিকিৎসক ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর তালিকা দেখতে পারেন; ব্যবস্থাও নিতে পারেন। তাঁর দাবি এভাবে মাঝে মধ্যে কিছু চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

অনেক হাসপাতালেই ডিজিটাল হাজিরা মেশিন ব্যবহার হচ্ছে না। কোথাও কোথাও আবার সেটি অনেক দিন ধরে নষ্ট। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সাবেক মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. শাহ মনির হোসেন মনে করেন, কর্মক্ষেত্রে চিকিৎসকদের শতভাগ উপস্থিতি নিশ্চিত করতে শক্ত তদারকি দরকার। এ ক্ষেত্রে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রশাসন শাখা ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানপ্রধানদের আরও কঠোর হতে হবে। যারা দায়িত্ব পালনে গাফিলতি করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন বলেন, প্রতিদিন ৪৬ শতাংশ চিকিৎসক-কর্মকর্তার হাসপাতালে অনুপস্থিতি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। সরকার যেহেতু বেতন দেয়, তাই প্রত্যেক চিকিৎসককে অবশ্যই হাসপাতালে উপস্থিত থাকতে হবে।

 

 


আরও খবর

চোখ রাঙাচ্ছে এডিস মশা

বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




নওগাঁয় প্রাইভেটকার তল্লাসি, ৭২ কেজি গাঁজা সহ যুবক আটক

প্রকাশিত:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

শহিদুল ইসলাম জি এম মিঠন, সিনিয়র রিপোর্টার :

নওগাঁয় প্রাইভেট কারে তল্লাশি চালিয়ে ৭২ কেজি গাঁজা উদ্ধার সহ মনির হোসেন (৪২) নামে এক যুবককে আটক করেছে র‍্যাব। এ সময় প্রাইভেট কার চালক কৌশলে পালিয়ে যায়। বুধবার সকাল সাড়ে ১১ টায় নওগাঁ সার্কিট হাউসে এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানায় র‍্যাব-৫ এর কোম্পানী অধিনায়ক মেজর মোঃ শেখ সাদিক। গাঁজা সহ আটককৃত যুবক মনির হোসেন হলেন, সিলেট জেলার জৈন্তাপুর উপজেলার কুচরাই গ্রামের মোসলেমের ছেলে। জানা যায়, বুধবার মাদক ব্যবসায়ী মনির ও আলমগীর কুমিল্লা হতে নওগাঁর বদলগাছী এলাকায় প্রাইভেট কার এ গাঁজা নিয়ে আসবে। এমন গোপন তথ্যের ভিত্তিতে র‍্যাবের চৌকস আভিযানিক দল নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার ৪ মাথায় গোয়েন্দা নজরদারী বাড়িয়ে দিয়ে চেকপোস্ট স্থাপন করে এবং তল্লাশী করার সময় প্রাইভেট কারে অভিনব কায়দায় লুকিয়ে রাখা অবস্থায় ৭২ কেজি গাঁজা ও প্রাইভেট কার সহ মুনির হোসেন কে হাতেনাতে আটক করেন। তবে চালক আলমগীর কৌশলে পালিয়ে যায়। পরবর্তীতে সাক্ষীদের উপস্থিতিতে প্রাইভেট কারে লুকিয়ে রাখা গাঁজা উদ্ধার করা হয়।

মেজর শেখ সাদিক আরো বলেন, আটতকৃত মনির ও পলাতক আলমগীর (চালক) চিহ্নিত পেশাদার মাদক ব্যবসায়ী। তারা কুমিল্লার সীমান্তবর্তী অঞ্চল হতে গাঁজার চালান সংগ্রহ করে আইন-শৃংখলা বাহিনীর চোখকে ফাঁকি দিয়ে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে প্রাইভেট কার নিয়ে গাঁজা সরবরাহ করে আসছিল। বুধবার দুপুরে আটককৃত মুনির হোসেন কে বিজ্ঞ আদালতের মাধ্যমে নওগাঁ জেল হাজতে প্রেরণ করেন বদলগাছী থানা পুলিশ।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




তিন মাস পর কারামুক্ত মির্জা আব্বাস

প্রকাশিত:সোমবার ১৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বুধবার ২৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

৩ মাস কারাভোগের পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস কারামুক্ত হয়েছেন। সোমবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটে কারামুক্ত হন তিনি।

জেল থেকে বের হয়ে তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় সাংবাদিকদের মির্জা আব্বাস বলেন, আমাদের গণতন্ত্র মুক্তির আন্দোলন চলবে। জেলে অনেক কর্মী এখনও বন্দি। তাদেরও মুক্তির ব্যবস্থা করতে হবে। কারণ পানি ছাড়া যেমন গাছ বাঁচে না তেমনি কর্মী ছাড়া একটি দল বা সংগঠন চলতে পারে না। জেলে তাদের সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করতে হবে। আমি সরকারকে আহ্বান জানানো, আমাদের নেতাকর্মীদের ভালো চিকিৎসার ব্যবস্থা করুন।

এর আগে আজ ঢাকা রেলওয়ে থানার এক মামলায় মির্জা আব্বাসের জামিন মঞ্জুর করেন আদালত। ঢাকার জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট জুলহাস উদ্দিন শুনানি শেষে দশ হাজার টাকা মুচলেকায় তার জামিন মঞ্জুর করেন। ফলে গত ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে হওয়া ১১ মামলার সবগুলোতে জামিন পেলেন তিনি।

এদিকে মির্জা আব্বাসের জামিনের খবরে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগারের সামনে বিএনপি নেতাকর্মীরা জড়ো হতে থাকেন। মির্জা আব্বাস বের হওয়ার পর তাকে বহনকারী গাড়ি ঘিরে নেতাকর্মীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান দিতে থাকে।

গত বছরের ২৮ অক্টোবর বিএনপির মহাসমাবেশকে কেন্দ্র করে মির্জা আব্বাসের বিরুদ্ধে ১১টি মামলা দায়ের হয়। এর মধ্যে শাহজাহানপুর থানার নাশকতা ও বিস্ফোরক আইনের মামলায় ৩১ অক্টোবর রাতে ঢাকার শহীদবাগ থেকে মির্জা আব্বাসকে গ্রেপ্তার করে গোয়েন্দা পুলিশ।

পরদিন ১ নভেম্বর আব্বাসের পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন আদালত। রিমান্ড শেষে ৫ নভেম্বর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে তিনি কারাগারে আটক ছিলেন।


আরও খবর

সোমবারের মধ্যে গাজায় যুদ্ধবিরতি হতে পারে

মঙ্গলবার ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




গজারিয়ায় পুরস্কার বিহীন ক্রীড়া প্রতিযোগিতা, অভিভাবক মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া

প্রকাশিত:শুক্রবার ১৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:শুক্রবার ০১ মার্চ ২০২৪ |

Image

মুন্সিগঞ্জ জেলা প্রতিনিধি : গজারিয়ায় উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তত্ত্বাবধানে অনুষ্ঠিত বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার না দিয়ে সার্টিফিকেট স্কুলে পৌঁছে দিবে বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

গত (১৫ ফেব্রুয়ারী) বৃহস্পতিবার সকাল থেকে মুন্সীগঞ্জের গজারিয়া উপজেলার টেংগারচর ইউনিয়নের হাজী কেরামত আলী উচ্চ বিদ্যালয় মাঠ প্রাঙ্গনে এ ক্রীড়া অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়।

ক্রিয়া প্রতিযোগিতায় সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদির মিয়া, সহযোগী হিসেবে সহকারী শিক্ষা অফিসারগণ উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় সুত্রে জানাযায়, বিভিন্ন ইউনিয়ন থেকে কয়েকশত ক্রীড়াপ্রেমী ছাত্র-ছাত্রীরা তাদের অভিভাবক ও শিক্ষকদের উপস্থিতিতে ক্রিয়া অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিজয়ীদের মধ্যে কোন প্রকার পুরস্কার না দিয়ে শুধুমাত্র ছাপানো সার্টিফিকেট স্কুলে পৌঁছে দিবে বলে মাইকে ঘোষণা দেওয়া হয়।

এতে কোমলমতি ক্রীড়া শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিভাবক মহলে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়।

আগত শিক্ষার্থীদের কোন প্রকার পানীয় খাদ্যদ্রব্য সরবরাহ করা হয়নি বলে ছাত্র ছাত্রী ও অভিভাবকরা জানান।

বিশেষ সূত্রে জানা যায় ক্রীড়া প্রতিযোগিতা উপলক্ষে উপজেলা শিক্ষা অফিসের ৭ হাজার টাকা বরাদ্দ থাকলেও শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদির প্যান্ডেল, সাউন্ড সিস্টেম মাইক দুইজন সহকারি শিক্ষক হতে আদায় করে নেন। এমনকি বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতার ব্যানার পর্যন্ত তৈরি করা হয়নি।

কয়েকজন ক্রীড়াপ্রেমী কোমলমতি শিক্ষার্থী জানান ব্যানার ও পুরস্কার না থাকায় আমরা আগামী ক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগদান করা থেকে বিরত থাকবো।

অভিভাবক ও শিক্ষকরা জানান বাৎসরিক ক্রীড়া প্রতিযোগিতায় বিদ্যালয় ও উপজেলা শিক্ষা অফিস হতে বরাদ্দের অর্থ কোথায় ব্যবহার হলো তা ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে কোমলমতি ক্রীড়া-প্রেমী শিক্ষার্থীদের প্রতিভা বিকাশে অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করবেন।

উক্ত ক্রীড়াপ্রতিযোগিতা অনুষ্ঠান বিষয়ে উপজেলা শিক্ষা অফিসার আব্দুল কাদির মিয়াকে ফোন দিলেও তাকে পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে গজারিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা কোহিনুর আক্তার জানান বিষয়টি আমি অবগত নয়, তবে প্রতিভা বিকাশে ক্রীড়া-প্রেমী ছাত্র-ছাত্রীদের উৎসাহে পুরস্কার বিতরণে উপজেলা শিক্ষা অফিসার এই ভূমিকা কেন নিবে, তা তদন্ত করে দেখব।


আরও খবর

মাথায় আঘাত পেয়ে হাসপাতালে মোস্তাফিজ

রবিবার ১৮ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




রাণীনগর হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত

প্রকাশিত:সোমবার ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

কাজী আনিছুর রহমান,রাণীনগর (নওগাঁ) :

নওগাঁর রাণীনগর উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। রোববার দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সভাকক্ষে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,নওগাঁ-৬ (আত্রাই-রাণীনগর) আসনের এমপি এ্যাড. ওমর ফারুক সুমন। 

অনুষ্ঠিত সভায় সভাপতিত্ব করেন রাণীনগর উপজেলা হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সদস্য সচিব এবং স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.কেএইচএম ইফতেখারুল আলম খান। সভায় অন্যদের মধ্যে নওগাঁর ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. মুনির আলী আকন্দ,রাণীনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা উম্মে তাবাসসুম, রাণীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু ওবায়েদ, উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মেহেদী হাসান, উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাহবুবুর রহমান, রাণীনগর উপজেলা কেমিষ্ট এন্ড ড্রাগিষ্ট সমিতির আহ্বায়ক আব্দুল কাদের পিন্টুসহ প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

এমপি সুমন হাসপাতালে আগমনে তাকে ফুলেল শুভেচ্ছা জানিয়ে বরণ করা হয়। এরপর তিনি হাসপাতাল ঘুরে ঘুরে দেখেন এবং ভর্তি রোগীদের সাথে কথা বলে তাদের খোঁজ খবর নেন। এর পর এমপি সুমন হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভায় যোগদান করেন।


আরও খবর

বাউল ছালমা হলেন বরিশাল বিভাগের শ্রেষ্ঠ "জয়িতা"

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪

পাংশায় মাদক সহ ৯ মামলার আসামী গ্রেফতার

বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪




মিয়ানমারে ৬২ সৈন্যকে হত্যা

প্রকাশিত:সোমবার ০৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ | হালনাগাদ:বৃহস্পতিবার ২৯ ফেব্রুয়ারী ২০২৪ |

Image

সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হামলায় গত তিন দিনে অন্তত ৬২ জন সেনা ও কয়েকটি ঘাঁটি হারিয়েছে মিয়ানমারের সামরিক জান্তা। সংবাদমাধ্যম ইরাবতীর এক প্রতিবেদন থেকে এই তথ্য জানা যায়।

গত কয়েক দশক ধরে সামারিক বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে একাধিক সশস্ত্র গোষ্ঠী। সর্বশেষ অভ্যুত্থানের পর থেকে সামরিক বাহিনীর সাথে গ্রামাঞ্চলে মারাত্মক সংঘাতে লিপ্ত রয়েছে একাধিক বিদ্রোহী গোষ্ঠী। বিদ্রোহী বাহিনীর একটি দল সম্প্রতি চীন সীমান্তে জান্তা লক্ষ্যবস্তুতে একের পর এক আকস্মিক হামলা চালিয়েছে

২০২১ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে অং সান সুচির সরকারকে ক্ষমতাচ্যুত করার সময় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে সামরিক বাহিনী। সামরিক শাসনের বিরুদ্ধে গণতন্ত্রপন্থিদের বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করে জান্তা। স্থানীয় এক পর্যবেক্ষক গোষ্ঠীর মতে, সামরিক বাহিনীর দমন অভিযানে চার হাজার ৪০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। গ্রেপ্তার হয়েছেন কয়েক হাজার। তবে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সশস্ত্র গোষ্ঠীর অভিযানের মুখে কঠিন চ্যালেঞ্জে পড়েছে জান্তা বাহিনী। 

ইরাবতী জানায়, সাগাইং, মাগওয়ে, মান্দালা, কাচিন ও কারেন প্রদেশে সংঘর্ষের খবর মিলেছে। পিডিএফ বাহিনীর অভিযানের মুখে জান্তা বাহিনী তাদের মিশন ছেড়ে পালিয়ে গেছে।  

২৬ জানুয়ারি থেকে ৪০০ জান্তাসেনা নিয়ে একাধিকবার মিতওয়ে শহর দখলের চেষ্টা করেছে সরকার। তবে তা এখন পিডিএফ বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে আছে। 

গোষ্ঠীটি জানায়, ত্যাগ করা এই সামরিক ঘাঁটিগুলোতে ১৫ জন সেনার মরদেহ পেয়েছে তারা। এছাড়া সংঘাতে জান্তা বাহিনীর আরও ৪০ জন সদস্য আহত হয়েছে বলে জানায় তারা। 


আরও খবর