লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা করপোরেট একঘেয়েমি এবং কাজের তীব্র চাপ কাটাতে বর্তমানে শৈশবের বিভিন্ন খেলনা ও শখের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। বয়স বাড়লেও মনের ভেতরের শৈশবকে বাঁচিয়ে রেখে আনন্দ খোঁজার এই বৈশ্বিক জীবনধারাটি ‘কিডাল্ট’ নামে পরিচিত। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের গবেষণায় দেখা গেছে, জটিল ও কোলাহলপূর্ণ সময়ে মানুষ নিজের ভেতরের শিশুকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। বিশ্বজুড়ে বহু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখন এই জীবনধারাকে আপন করে নিচ্ছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘হ্যারিস পোল’ এবং বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘সারকানা’র গবেষণায় এই প্রবণতার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনোভাবে শৈশবের বিনোদন বা খেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে জেন জি প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যার হার প্রায় ৯৫ শতাংশ। বৈশ্বিক খেলনার বাজারেও বর্তমানে শিশুদের পাশাপাশি একা থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ক্রেতাদের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।
মনোবিদেরা এই জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ চিহ্নিত করেছেন যা মানসিক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। থেরাপিস্ট ললি কোলম্যানের মতে, শৈশবের কোনো শখ বা খেলনা নিয়ে সময় কাটানো মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিকভাবে করপোরেট মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া অনবরত স্ক্রিন টাইম ও প্রযুক্তির ক্লান্তি থেকে বাঁচতে মানুষ হাতের কাজের দিকে ঝুঁকছে। অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদী বড় লক্ষ্য পূরণ পিছিয়ে যাওয়ায় অনেকে বর্তমানের ছোটখাটো শখে অর্থ খরচ করে আনন্দ খুঁজছেন।
প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় প্রতিটি কাজই সাধারণত প্রতিযোগিতা বা উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভরশীল হলেও এই শখ কোনো ফলাফল ছাড়াই খাঁটি আনন্দ দেয়। লেগো সেট মেলানো, টেডি বিয়ার রাখা বা রং করার মতো বিষয়গুলো কোনো মানসিক রোগ নয় বরং সম্পূর্ণ সুস্থ একটি শখ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই শখের কারণে যদি দৈনন্দিন বাজেট বা জরুরি বিল পরিশোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা নেতিবাচক পলায়নীবাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সমালোচকদের প্রশ্নের মুখে না রেগে শান্তভাবে নিজের আনন্দের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যেতে পারে।
সব মিলিয়ে, যান্ত্রিক পৃথিবীতে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে প্রাপ্তবয়স্কদের শৈশবের আনন্দ উপভোগ করা লজ্জার কিছু নয়। অফিসের ডেস্কে প্রিয় টেডি বিয়ার রাখা কিংবা অবসরে রঙিন বইয়ে রং করার মতো কাজগুলো মনকে সতেজ রাখে। এই চর্চাগুলো মানুষকে দায়িত্বের মাঝেও মানসিক প্রশান্তি ও জীবনের প্রতি ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই এই জীবনধারাকে আধুনিক সমাজের একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
বড় হয়েও শৈশবের আনন্দ কেন ভালো লাগে?
বড় হয়েও শৈশবের আনন্দ কেন ভালো লাগে?
লাইফস্টাইল ডেস্ক: প্রাপ্তবয়স্ক মানুষেরা করপোরেট একঘেয়েমি এবং কাজের তীব্র চাপ কাটাতে বর্তমানে শৈশবের বিভিন্ন খেলনা ও শখের প্রতি ঝুঁকে পড়ছেন। বয়স বাড়লেও মনের ভেতরের শৈশবকে বাঁচিয়ে রেখে আনন্দ খোঁজার এই বৈশ্বিক জীবনধারাটি ‘কিডাল্ট’ নামে পরিচিত। আধুনিক সমাজবিজ্ঞান ও মনস্তত্ত্বের গবেষণায় দেখা গেছে, জটিল ও কোলাহলপূর্ণ সময়ে মানুষ নিজের ভেতরের শিশুকে নতুন করে আবিষ্কার করছে। বিশ্বজুড়ে বহু প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ এখন এই জীবনধারাকে আপন করে নিচ্ছেন।যুক্তরাষ্ট্রের জরিপ পরিচালনাকারী সংস্থা ‘হ্যারিস পোল’ এবং বাজার বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান ‘সারকানা’র গবেষণায় এই প্রবণতার ব্যাপক বিস্তার লক্ষ্য করা গেছে। জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৮০ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ কোনো না কোনোভাবে শৈশবের বিনোদন বা খেলার সঙ্গে যুক্ত রয়েছেন। এর মধ্যে জেন জি প্রজন্মের তরুণদের অংশগ্রহণ সবচেয়ে বেশি, যার হার প্রায় ৯৫
শতাংশ। বৈশ্বিক খেলনার বাজারেও বর্তমানে শিশুদের পাশাপাশি একা থাকা প্রাপ্তবয়স্ক ক্রেতাদের অংশীদারিত্ব উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে।মনোবিদেরা এই জনপ্রিয়তার পেছনে বেশ কিছু প্রধান বৈজ্ঞানিক কারণ চিহ্নিত করেছেন যা মানসিক স্বস্তি দিতে সাহায্য করে। থেরাপিস্ট ললি কোলম্যানের মতে, শৈশবের কোনো শখ বা খেলনা নিয়ে সময় কাটানো মস্তিষ্কে তাৎক্ষণিকভাবে করপোরেট মানসিক চাপ ও বিষণ্নতা কমিয়ে দেয়। এ ছাড়া অনবরত স্ক্রিন টাইম ও প্রযুক্তির ক্লান্তি থেকে বাঁচতে মানুষ হাতের কাজের দিকে ঝুঁকছে। অর্থনৈতিক সংকট ও মূল্যস্ফীতির কারণে দীর্ঘমেয়াদী বড় লক্ষ্য পূরণ পিছিয়ে যাওয়ায় অনেকে বর্তমানের ছোটখাটো শখে অর্থ খরচ করে আনন্দ খুঁজছেন।প্রাপ্তবয়স্কদের প্রায় প্রতিটি কাজই সাধারণত প্রতিযোগিতা বা উৎপাদনশীলতার ওপর নির্ভরশীল হলেও এই শখ কোনো ফলাফল ছাড়াই খাঁটি আনন্দ দেয়। লেগো সেট মেলানো, টেডি বিয়ার রাখা বা রং
করার মতো বিষয়গুলো কোনো মানসিক রোগ নয় বরং সম্পূর্ণ সুস্থ একটি শখ। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে এই শখের কারণে যদি দৈনন্দিন বাজেট বা জরুরি বিল পরিশোধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তবে তা নেতিবাচক পলায়নীবাদ হয়ে দাঁড়াতে পারে। সমালোচকদের প্রশ্নের মুখে না রেগে শান্তভাবে নিজের আনন্দের বিষয়টি বুঝিয়ে বলা যেতে পারে।সব মিলিয়ে, যান্ত্রিক পৃথিবীতে মানসিক সুস্থতা বজায় রাখতে প্রাপ্তবয়স্কদের শৈশবের আনন্দ উপভোগ করা লজ্জার কিছু নয়। অফিসের ডেস্কে প্রিয় টেডি বিয়ার রাখা কিংবা অবসরে রঙিন বইয়ে রং করার মতো কাজগুলো মনকে সতেজ রাখে। এই চর্চাগুলো মানুষকে দায়িত্বের মাঝেও মানসিক প্রশান্তি ও জীবনের প্রতি ভালোবাসা ফিরিয়ে দিতে সাহায্য করে। তাই এই জীবনধারাকে আধুনিক সমাজের একটি ইতিবাচক পরিবর্তন হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত