শুক্রবার, ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বেতন বাড়লেই কি বদলাবে সেবার সংস্কৃতি? কওমে লূত (আঃ) কেন ধ্বংস হয়েছিল? বিএইচবিএফসি ও রাকাবে নতুন এমডি নিয়োগ পূর্ব জার্মানির রাজ্য নির্বাচনে বড় জয়ের প্রত্যাশায় কট্টর ডানপন্থি এএফডি জার্মানির গ্যোথে ইনস্টিটিউটের শাখা বন্ধ করবে রাশিয়া শ্রী কৃষ্ণের জন্মতিথি ও শুভ জন্মাষ্টমী কাল এল নিনো ‘অত্যন্ত শক্তিশালী’ হয়ে ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে : জাতিসংঘ সেউতায় অভিবাসী ঢল নিয়ে মরক্কোর পরিকল্পনার জোরালো প্রমাণ নেই: স্পেনের প্রধানমন্ত্রী নারী কর্মীদের সুরক্ষায় ১৩ দেশের ২২ ল’ ফার্মের সঙ্গে চুক্তি যুক্তরাষ্ট্র ‘ভেনেজুয়েলার তেল চুরি করছে না': মার্কিন জ্বালানিমন্ত্রী
জাতীয় বেতন বাড়লেই কি বদলাবে সেবার সংস্কৃতি?

বেতন বাড়লেই কি বদলাবে সেবার সংস্কৃতি?

সরকারি চাকরিতে নতুন বেতন কাঠামো ঘিরে প্রত্যাশা ও বাস্তবতার প্রশ্ন

বাংলাদেশে সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন জাতীয় বেতনস্কেল অনুমোদনের খবর নিঃসন্দেহে দেশের লাখো সরকারি কর্মচারী তাঁদের পরিবারের জন্য স্বস্তির সংবাদ। দীর্ঘ সময় একই বেতন কাঠামোর মধ্যে মূল্যস্ফীতি, বাড়িভাড়া, শিক্ষা, চিকিৎসা দৈনন্দিন জীবনযাত্রার ব্যয় বেড়ে যাওয়ার বাস্তবতায় নতুন বেতন কাঠামোর প্রয়োজনীয়তা নিয়ে বড় ধরনের বিতর্ক ছিল না। সেই প্রেক্ষাপটে ৩১ আগস্ট ২০২৬ সরকার জাতীয় বেতনস্কেল২০২৬ অনুমোদন করেছে। নতুন কাঠামোতে ২০তম গ্রেডের প্রারম্ভিক মূল বেতন হাজার ২৫০ টাকা থেকে বেড়ে ২০ হাজার টাকা এবং ১ম গ্রেডের মূল বেতন ৭৮ হাজার টাকা থেকে বেড়ে লাখ ৫৬ হাজার টাকা হয়েছে। নতুন কাঠামো জুলাই ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা।

এই সিদ্ধান্তকে কেবল বেতন বৃদ্ধির হিসাব দিয়ে দেখলে বিষয়টির সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশটি হয়তো আড়ালেই থেকে যাবে। কারণ সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের মনে আরেকটি প্রশ্নও তৈরি হয়েছেএর বিনিময়ে সরকারি সেবার মান কি দৃশ্যমানভাবে উন্নত হবে? একজন নাগরিক যে সেবা পাওয়ার জন্য সরকারি অফিসে যাবেন, সেই সেবা কি দ্রুত, স্বচ্ছ হয়রানিমুক্ত হবে? এবং সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, সরকারি বেতন যদি উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ে, তাহলে সরকারি সেবার সঙ্গে জড়িয়ে থাকা বহু পুরোনো অনানুষ্ঠানিক অর্থ লেনদেন বা ঘুষের সংস্কৃতিতে কি কোনো পরিবর্তন আসবে?

প্রশ্নটি সংবেদনশীল। কারণ দেশের বিপুলসংখ্যক সরকারি কর্মচারী নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেন। তাই সামগ্রিক সরকারি চাকরিজীবী সমাজকে দুর্নীতির সঙ্গে এক করে দেখা যেমন অন্যায্য, তেমনি সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ বা অতিরিক্ত অর্থ দাবির অভিযোগকে নিছক বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবেও দেখার সুযোগ নেই। বরং বিষয়টি দেখতে হবে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো, নাগরিক সেবা, জবাবদিহি এবং ব্যক্তিগত প্রণোদনাএই চারটি দিক থেকে।

নতুন বেতন কাঠামোর সবচেয়ে বড় ইতিবাচক দিক হলো, সরকার সরকারি কর্মচারীদের আর্থিক বাস্তবতাকে গুরুত্ব দিয়েছে। নতুন কাঠামো প্রণয়নের সময় মূল্যস্ফীতি, জীবনযাত্রার ব্যয়, সরকারি কর্মচারীদের জীবনমান এবং সরকারের আর্থিক সক্ষমতার মতো বিষয় বিবেচনায় নেওয়া হয়েছে বলে সরকারি পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। (BSS) দীর্ঘদিন ধরে একটি নির্দিষ্ট বেতন কাঠামোয় থাকা কর্মচারীদের জন্য এই সমন্বয় প্রয়োজনীয় ছিল। বিশেষ করে নিম্ন গ্রেডের কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধির হার তুলনামূলকভাবে বেশি হওয়ায় তাঁদের জন্য এটি বাস্তব জীবনে গুরুত্বপূর্ণ স্বস্তি দিতে পারে।

কিন্তু এখানেই একটি মৌলিক পার্থক্য রয়েছেন্যায্য বেতন এবং দুর্নীতিমুক্ত সেবা এক জিনিস নয়।

একজন কর্মচারী ন্যায্য বেতন না পেলে আর্থিক চাপের মধ্যে থাকতে পারেন। কিন্তু একজন কর্মচারী পর্যাপ্ত বেতন পাওয়ার পরও যদি ঘুষ নেন, তাহলে সমস্যাটি আর শুধু তাঁর বেতনের পরিমাণে সীমাবদ্ধ থাকে না। তখন প্রশ্ন উঠে আসেঘুষ নেওয়ার সম্ভাব্য লাভ এবং ধরা পড়লে সম্ভাব্য ক্ষতির মধ্যে ভারসাম্য কোথায়? যদি ঘুষ নিয়ে একজন কর্মচারী কয়েক হাজার বা কয়েক লাখ টাকা অতিরিক্ত আয় করতে পারেন, কিন্তু সেই কাজের জন্য শাস্তির ঝুঁকি খুব কম থাকে, তাহলে বেতন বৃদ্ধি একা তাঁর আচরণ বদলানোর জন্য যথেষ্ট নাও হতে পারে।

বাংলাদেশের সাম্প্রতিক বাস্তবতা এই প্রশ্নটিকে আরও গুরুত্বপূর্ণ করে তুলেছে। মাত্র কয়েক দিন আগে চালু হওয়াঘুষ.সাইটনামের একটি অনলাইন প্ল্যাটফর্মে সরকারি সেবা নিতে গিয়ে ঘুষ দাবির অভিজ্ঞতা বেনামে জানানোর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্ল্যাটফর্মটি চালুর প্রথম দুই দিনেই ৮০৪টি অভিযোগ জমা পড়ে এবং এসব অভিযোগে কথিত ঘুষের পরিমাণ ছিল ১৩ কোটি ৬৫ লাখ টাকা। কয়েক দিনের মধ্যেই অভিযোগের সংখ্যা কয়েক হাজার ছাড়িয়ে যায়। ৩১ আগস্টের একটি প্রতিবেদনে প্রায় হাজার ৯২৪টি অভিযোগ এবং প্রায় ৩৩৪ কোটি টাকা ঘুষ দাবি করার অভিযোগের কথা বলা হয়েছে।

তবে এখানে একটি বিষয় অত্যন্ত পরিষ্কার রাখা প্রয়োজনঘুষ.সাইটের এসব তথ্য যাচাইকৃত সরকারি দুর্নীতির পরিসংখ্যান নয়। প্ল্যাটফর্মটি নিজেই বলছে, এগুলো ব্যবহারকারীদের জমা দেওয়া অযাচাইকৃত অভিযোগ; এটি কোনো সরকারি তদন্ত সংস্থা বা অভিযোগ নিষ্পত্তিকারী কর্তৃপক্ষ নয়।

তারপরও ঘটনাটি সামাজিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এই প্ল্যাটফর্মের দ্রুত জনপ্রিয়তা একটি বিষয় সামনে এনেছেমানুষ শুধু ঘুষের অভিযোগ করছে না, তারা জানতে চাইছে কোথায় কত টাকা চাওয়া হয়, কোন সেবায় কী ধরনের সমস্যা হয় এবং কোন জায়গায় সরকারি সেবা পেতে অনানুষ্ঠানিক অর্থ দিতে হয়। আগে এই তথ্যগুলো ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকত আত্মীয়স্বজন, পরিচিতজন, দালাল বা একই সেবা নেওয়া ব্যক্তিদের কথোপকথনের মধ্যে। এখন প্রযুক্তি সেই অভিজ্ঞতাকে একটি দৃশ্যমান সামাজিক আলোচনায় নিয়ে আসছে।

এই বাস্তবতায় নতুন বেতনস্কেলকে শুধু কর্মচারীদের জন্য একটি আর্থিক সুবিধা হিসেবে না দেখে রাষ্ট্র নাগরিকের মধ্যে একটি নতুন সামাজিক চুক্তির সুযোগ হিসেবে দেখা যেতে পারে।

কারণ একজন সরকারি কর্মচারী যখন বেশি বেতন পাবেন, তখন নাগরিকের প্রত্যাশাও স্বাভাবিকভাবে বাড়বে। একজন নাগরিক বলতে পারেনআমি আপনাকে করের টাকা থেকে বেতন দিচ্ছি; আপনার কাছ থেকে আমার প্রত্যাশা হলো নির্ধারিত সরকারি ফি গ্রহণ করে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সেবা দেওয়া। এর বাইরে আমাকে কেন কোনো অতিরিক্ত অর্থ দিতে হবে?

এই প্রশ্নের উত্তর শুধু সরকারি কর্মচারীকে দিয়ে সম্ভব নয়। কারণ অনেক ক্ষেত্রে ঘুষের সংস্কৃতি ব্যক্তির চেয়েও বড় একটি ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। একটি ফাইল এক টেবিল থেকে আরেক টেবিলে যেতে দীর্ঘ সময় লাগে, একটি অনুমোদনের জন্য বহু স্তরের স্বাক্ষর প্রয়োজন হয়, নাগরিক জানেন না তাঁর আবেদন কোথায় আটকে আছে, অফিসে নির্দিষ্ট সেবার সময়সীমা স্পষ্ট নয়তখন একটিদ্রুত কাজ করে দেওয়ারঅনানুষ্ঠানিক বাজার তৈরি হতে পারে।

সেখানে বেতন যতই বাড়ানো হোক, প্রক্রিয়াটি যদি একই থাকে, তাহলে অনৈতিক লেনদেনের সুযোগও থেকে যেতে পারে।

এই কারণেই সরকারি বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে প্রশাসনিক সংস্কারের বিষয়টিও সামনে আসা প্রয়োজন। প্রতিটি সরকারি সেবার জন্য নির্দিষ্ট ফি, নির্দিষ্ট সময়সীমা এবং প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সহজ ভাষায় প্রকাশ করা যেতে পারে। নাগরিক যেন অনলাইনে দেখতে পারেন তাঁর আবেদন কোন পর্যায়ে রয়েছে। নগদ লেনদেনের পরিবর্তে ডিজিটাল পেমেন্ট বাড়ানো যেতে পারে। একই সঙ্গে একজন কর্মকর্তা বা কর্মচারীর হাতে অপ্রয়োজনীয় বিবেচনাধিকার কমিয়ে স্বয়ংক্রিয় প্রক্রিয়া বাড়ানো গেলে ঘুষের সুযোগও কমতে পারে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো জবাবদিহি। বেতন বাড়ানোর সঙ্গে যদি কর্মদক্ষতা মূল্যায়ন, সম্পদের হিসাব, অভিযোগ তদন্ত এবং শাস্তির কার্যকর ব্যবস্থা শক্তিশালী করা যায়, তাহলে বেতন বৃদ্ধির ইতিবাচক প্রভাব অনেক বেশি হতে পারে। বিপরীতে বেতন বাড়ল, কিন্তু দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত ধীর রইল, সম্পদের সঙ্গে আয়ের অসামঞ্জস্য নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও কার্যকর ব্যবস্থা হলো না, কিংবা নাগরিক অভিযোগের কোনো দৃশ্যমান ফল হলো নাতাহলে শুধু বেতন বৃদ্ধি কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন আনবে না।

এখানে ২০১৫ সালের অভিজ্ঞতাও আলোচনায় আসে। তখন সরকারি চাকরিজীবীদের বেতন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছিল। কিন্তু পরবর্তী সময়ে সরকারি সেবা খাতে দুর্নীতির অভিযোগ পুরোপুরি দূর হয়নি। ফলে এবার নতুন বেতনস্কেল বাস্তবায়নের সময় নীতিনির্ধারকদের সামনে আগের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

তবে এর অর্থ এই নয় যে বেতন বৃদ্ধি অপ্রয়োজনীয় বা বেতন বাড়লেই দুর্নীতি বাড়বে। বরং বাস্তব সত্য হলোন্যায্য বেতন একটি সুস্থ প্রশাসনের ভিত্তি হতে পারে, কিন্তু সেটি একা দুর্নীতিবিরোধী নীতি নয়।

সরকারি কর্মচারীদেরও এখানে একটি গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব রয়েছে। নতুন বেতন কাঠামো তাঁদের আর্থিক চাপ কিছুটা কমালে নাগরিক সেবার প্রতি তাঁদের দায়িত্ববোধ আরও শক্তিশালী হওয়ার প্রত্যাশা করা স্বাভাবিক। একজন নাগরিক যখন কোনো সরকারি অফিসে যাবেন, তখন তিনি শুধু একজন কর্মচারীর সঙ্গে দেখা করতে যাবেন না; তিনি রাষ্ট্রের প্রতিনিধির সঙ্গে দেখা করবেন। তাঁর সঙ্গে আচরণ, কাজের গতি, তথ্য দেওয়ার স্বচ্ছতাসবকিছু মিলেই রাষ্ট্র সম্পর্কে তাঁর ধারণা তৈরি হবে।

অন্যদিকে সাধারণ নাগরিকদেরও বুঝতে হবে, ঘুষ দেওয়া এবং নেওয়াদুই দিক থেকেই সমস্যাটি তৈরি হয়। অনেক সময় দ্রুত কাজ পাওয়ার আশায় নাগরিক নিজেই অনানুষ্ঠানিক অর্থ দেওয়ার পথ বেছে নেন। আবার কোথাও কোথাও অভিযোগ থাকে, অর্থ না দিলে ফাইল আটকে রাখা হয়। তাই শুধু নাগরিককে দায়ী করা যেমন ঠিক নয়, তেমনি শুধু সরকারি কর্মচারীকেও সমস্যার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে মূল কাঠামোগত দুর্বলতা অদৃশ্য থেকে যায়।

নতুন বেতনস্কেলের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা তাই আগামী কয়েক বছরে হবে সরকারি সেবার বাস্তব অভিজ্ঞতায়। একজন সাধারণ মানুষ পাসপোর্ট করতে গিয়ে কী অভিজ্ঞতা পেলেন, ভূমি অফিসে গিয়ে কতবার যেতে হলো, সরকারি ভাতা বা পেনশনের টাকা পেতে কত সময় লাগল, একটি অনুমোদনের জন্য তাঁকে কতগুলো ডেস্কে ঘুরতে হলোএসব ছোট ছোট অভিজ্ঞতাই শেষ পর্যন্ত বলে দেবে নতুন বেতন কাঠামো শুধু বেতন বাড়িয়েছে, নাকি প্রশাসনিক সংস্কারেরও সূচনা করেছে।

সুতরাং বিষয়টিকেবেতন বাড়লে ঘুষ বন্ধ হবে কি না’—এই সরল প্রশ্নে আটকে রাখা ঠিক হবে না। বরং প্রশ্ন হওয়া উচিত, বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে কি সরকারি সেবার দায়িত্ব জবাবদিহির কাঠামোও শক্তিশালী হচ্ছে?

নতুন জাতীয় বেতনস্কেল সরকারি কর্মচারীদের জন্য একটি প্রয়োজনীয় আর্থিক পুনর্বিন্যাস। কিন্তু এটিকে যদি একই সঙ্গে দক্ষতা, সততা, স্বচ্ছতা নাগরিকসেবার নতুন মানদণ্ড তৈরির সুযোগ হিসেবে ব্যবহার করা যায়, তাহলে এর সুফল শুধু সরকারি কর্মচারীদের পরিবারে সীমাবদ্ধ থাকবে না; সাধারণ নাগরিকও তার প্রতিফলন দেখতে পাবেন।

শেষ পর্যন্ত একটি রাষ্ট্রের প্রশাসনের সাফল্য শুধু কর্মচারীর বেতন দিয়ে মাপা যায় না। মাপা যায় একজন সাধারণ নাগরিক সরকারি অফিসে গিয়ে কত দ্রুত, কত সম্মানের সঙ্গে এবং কত কম ঝামেলায় তাঁর প্রাপ্য সেবা পেলেনতার মাধ্যমে।

নতুন বেতনস্কেল সেই পরিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভিত্তি হতে পারে। কিন্তু ভিত্তির ওপর ভবন দাঁড় করাতে প্রয়োজন আরও কিছুস্বচ্ছ প্রক্রিয়া, ডিজিটাল সেবা, কার্যকর নজরদারি, সম্পদের জবাবদিহি এবং আইনের সমান প্রয়োগ।

তাই হয়তো সবচেয়ে কূটনৈতিক এবং বাস্তবসম্মত উত্তর হলো

বেতন বৃদ্ধি ঘুষপ্রথা পরিবর্তনের দরজা খুলতে পারে, কিন্তু দরজার ওপারে পৌঁছাতে হলে প্রশাসনিক সংস্কার জবাবদিহির পথটিও একই সঙ্গে তৈরি করতে হবে।

এবার বাংলাদেশের সামনে সুযোগসরকারি কর্মচারীর বেতন বাড়ানোর পাশাপাশি সরকারি সেবার মূল্যও বাড়ানো।

 

খুঁজুন