মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
বছর শেষে ইসরায়েলকে সাহায্য বন্ধ করবে যুক্তরাষ্ট্র: ট্রাম্প • ঢাকায় রাতের তাপমাত্রা যেমন থাকবে • গবেষণা নিয়ে জামায়াতের বিবৃতি ‘বিভ্রান্তিমূলক’: টিআইবি • ফ্রিদা কাহলো: যন্ত্রণার ক্যানভাসে এক বিদ্রোহী জীবন • জনরোষ এড়াতে ডেটা সেন্টারের নাম বদলাচ্ছে ওপেনএআই • সংবিধান সংশোধন কমিটির বৈঠকে জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে আলোচনা • গ্রেপ্তার হওয়া ৪০ জনের কেউই শ্রমিক নন: ঢাকা ডিআইজি • ই-রিকশা নিবন্ধন ফরম বিতরণ শুরু • উচ্চশিক্ষিত তরুণদের ৪৪ শতাংশই অনানুষ্ঠানিক কাজে যোগ দিতে বাধ্য হচ্ছে: বিশ্ব ব্যাংক • মাদ্রাসায় হামলা-ভাঙচুরের মামলা: সেই অভিভাবককে আত্মসমর্পণের নির্দেশ
লাইফস্টাইল ফ্রিদা কাহলো: যন্ত্রণার ক্যানভাসে এক বিদ্রোহী জীবন

ফ্রিদা কাহলো: যন্ত্রণার ক্যানভাসে এক বিদ্রোহী জীবন

ফিচার ডেস্ক: মেক্সিকান চিত্রশিল্পী ফ্রিদা কাহলো আত্মপ্রতিকৃতির মাধ্যমে নিজের শরীর, যন্ত্রণা, প্রেম, পরিচয় ও রাজনৈতিক বিশ্বাসকে ক্যানভাসে ফুটিয়ে তুলেছেন। কপালজুড়ে ঘন ভ্রু এবং চোখে এক অদ্ভুত স্থিরতার এই নারী ১৯৫৪ সালে মাত্র ৪৭ বছর বয়সে মারা গেলেও তাঁর শিল্প আজও বিশ্ববাসীকে আলোড়িত করে। শৈশবের অসুস্থতা, কৈশোরের ভয়াবহ দুর্ঘটনা, একাধিক অস্ত্রোপচার ও জটিল দাম্পত্যের মধ্য দিয়ে তাঁর জীবন ছিল এক নিরন্তর লড়াই। তবে তিনি কেবল যন্ত্রণার প্রতিচ্ছবি ছিলেন না, বরং স্বাধীনচেতা, সাহসী ও প্রথাভাঙা এক নারী হিসেবে পরিচিত ছিলেন।

১৯০৭ সালের ৬ জুলাই মেক্সিকোর কোয়োয়াকানে জন্ম নেওয়া এই শিল্পীর পুরো নাম ছিল মাগদালেন কারমেন ফ্রিদা কাহলো ই কালদেরন। সরকারি নথিতে জন্মসাল ১৯০৭ হলেও তিনি নিজে মেক্সিকান বিপ্লবের শুরুর বছর ১৯১০-কে নিজের জন্মসাল হিসেবে দাবি করতেন, যা তাঁর রাজনৈতিক বিশ্বাসের সঙ্গে আত্মপরিচয় যুক্ত করার একটি প্রয়াস ছিল। ছোটবেলায় চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন দেখলেও ৬ বছর বয়সে পোলিও আক্রান্ত হয়ে তিনি ডান পায়ের কার্যক্ষমতা হারান এবং সহপাঠীদের উপহাসের শিকার হন। পরবর্তীতে ১৮ বছর বয়সে এক মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় তাঁর শরীরের বিভিন্ন হাড় ভেঙে যায় এবং জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে তাঁকে ৩০টিরও বেশি অস্ত্রোপচার করতে হয়।

দুর্ঘটনার পর দীর্ঘ সময় বিছানায় শুয়ে থাকতে বাধ্য হওয়া ফ্রিদার জন্য তাঁর বাবা-মা বিশেষ ইজেল ও আয়নার ব্যবস্থা করেছিলেন, যা তাঁকে চিত্রশিল্পের দিকে ধাবিত করে। তাঁর প্রায় ১৪৩টি চিত্রকর্মের মধ্যে ৫৫টিই আত্মপ্রতিকৃতি, যেখানে শারীরিক যন্ত্রণা, একাকিত্ব ও সম্পর্কের টানাপোড়েন ফুটে উঠেছে। ফ্রিদা নিজেকে পরাবাস্তববাদী বলতে নারাজ ছিলেন, কারণ তিনি স্বপ্ন নয় বরং নিজের বাস্তবতাই ক্যানভাসে আঁকতেন। ১৯২৮ সালে মেক্সিকান কমিউনিস্ট পার্টিতে যোগ দেওয়া এই শিল্পী রাজনীতি ও সমাজ সচেতনতার নানা দিক নিজের শিল্পে ও জীবনে ধারণ করেছিলেন।

১৯৩৭ সালে স্বামী দিয়েগো রিভেরার সঙ্গে মিলে রুশ বিপ্লবী লিওন ট্রটস্কিকে মেক্সিকোতে রাজনৈতিক আশ্রয় দেন ফ্রিদা। পুরুষতান্ত্রিক সমাজের প্রচলিত ধারণা ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকা এই শিল্পী নিজের উভকামী পরিচয় নিয়েও কখনো লুকোছাপা করেননি। ১৯২৯ সালে বয়সে ২১ বছরের বড় চিত্রশিল্পী দিয়েগো রিভেরাকে বিয়ে করলেও তাঁদের সম্পর্ক ছিল ভালোবাসা, দ্বন্দ্ব ও পুনর্মিলনের এক জটিল সমীকরণ। নানা উত্থান-পতন ও বিচ্ছেদের পরও তাঁদের এই সম্পর্ক ও জীবন সংগ্রাম ইতিহাসের এক অনন্য অধ্যায় হয়ে রয়েছে।

খুঁজুন