রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
মতামত কল্পনার বিচার বিক্রি করে দিলেন বাবা মা

কল্পনার বিচার বিক্রি করে দিলেন বাবা মা

রিপোর্টাস ডায়েরি : ইশতিয়াক ইমন :

কল্পনাকে উদ্ধারের ঘটনা মোটামুটি সবাই জানে। যা জানে না তা হলো উদ্ধারের পর রাত ২ টার দিকে কল্পনাকে নেয়া হয় ঢাকা মেডিকেলে। পুলিশকে তখন জরুরি বিভাগ নাকে দড়ি দিয়ে ঘুরাচ্ছে। একবার বার্নে পাঠাচ্ছে বার্ন আবার জরুরি বিভাগে। রাত তিনটার দিকে ভাটারা থানার এসআই সৌমিক কল দিয়ে অসহায়ত্ব প্রকাশ করে। রাত তিনটায় ঢামেকের ডেপুটি ডিরেক্টরকে কল দিয়ে ব্যবস্থা করলাম ভর্তির। এরপরের যুদ্ধ আরও ভয়াবহ। উপদেষ্টা থেকে শুরু করে সব হাইপ্রোফাইলদের আগমন। সবাই শুধু আশ্বাস দেয় কিন্তু সে সবই মোটামুটি টিভিতে চেহারা দেখানো ছাড়া বিশেষ কিছু না।
জাতীয় বার্ন ইন্সটিটিউটের পরিচালক নাসির ভাই কল্পনার চিকিৎসার দ্বায়িত্বটা নিলেন আন্তরিকতার সাথে। ঢামেকে একটা কেবিন দেয়া হলো কল্পনাকে। সেই কেবিনে কল্পনার আত্মীয় স্বজন এসে থাকা শুরু করলো। দুই মাসেরও বেশি সময় একটা কেবিন ধরে রাখা কতটা চ্যালেঞ্জিং তা যারা ঢামেকে কেবিনের ব্যবস্থা করতে হয় তারা জানবেন। নিয়ম অনুযায়ী হাসপাতাল থেকে খাবার দেয় হয় দুজনের কিন্তু তাদের খাবার দিতে হবে ৪/৫ জনের। যথারীতি ফোন আসতো আমার কাছে। কল্পনার মা বাবা রাত নেই দিন নেই, কোথায় আছি তার কোন খোঁজ নেই ফোন দিতে থাকতো। বেশিরভাগ কল আসতো সকাল ৮টা থেকে ৯ টায়৷ যখন আমি থাকতাম গভীর ঘুমে। আলাপ একটাই টাকা লাগবে। নিজে যতটুকু পেরেছি দিয়েছি। এরপর পরিচিত মানুষের কাছে হাত পাতা শুরু করলাম। পরিচিত মানে একবারে কাছের। তারাও সহযোগিতা করলো সাধ্যমত। 
কল্পনার নিউজটা দেখার পর বহু মানুষ দেশ বিদেশ থেকে টাকা পাঠাতে চাইতো আমি তাদেরকে কৌশলী হয়ে না বলতাম। এরপরও দু একজন কুরিয়ারে ওর জন্য ড্রেস পাঠিয়েছিল। রিসিভ করে হাসপাতালে দিয়ে আসতাম। জানা ছিলো, আমি সরাসরি টাকা তুলে দিলে এর হিসাব নিয়ে অপবাদ নিতে হবে দুদিন পরে। আর কল্পনার মা বাবাকে সরাসরি টাকা দিলে তারা আরেকটা যু*দ্ধ বাঁধাবে। কিন্তু পরিকল্পনায় ছিলো কল্পনার জন্য ভালো কিছু একটা করে দেয়ার। যাতে ওর জীবনটায় ভালো থাকতে পারে। সমাজ কল্যাণ অধিদপ্তর যেভাবে সহযোগিতা করবে ভেবেছিলাম তাও তারা করেনি। কল্পনার চারটা দাঁত লাগানোর জন্য সহযোগিতা নিলাম চিকিৎসক দম্পতি মুরাদ ভাই ও ভাবির। লাখ টাকার চিকিৎসা তারা করে দিলেন ফ্রিতে। ঢাকা মেডিকেল থেকে প্রতিবার কল্যাণপুর যাওয়ার সিএনজি ভাড়া দিতে হয়েছে অথবা অফিসের গাড়ি করে নিজে নিয়ে গেছি। এসব গল্প কখনো বলতে চাইনি পাবলিক প্লেসে। কিন্তু পরিস্থিতি বাধ্য করলো। এরপরও ভালো থাকুক কল্পনা।
জীবনে বহু অকৃতজ্ঞ মানুষের সাথে আমার পরিচয় হয়েছে। আমি কারোর কোন উপকার করতে পারলে তার প্রতিদান চাই না সেসব অকৃজ্ঞতরাও জানে। কাছের কোন মানুষের কাছেও কোন প্রত্যাশা নেই আমার। অকৃতজ্ঞ মানুষদের চেহারা মনে পড়লেই আমি ভাবি আর হাসি এ জীবনে কি কি প্রাপ্তি ঘটলে মানুষ সুখী হয়/হবে। পৃথিবীর সকল অকৃতজ্ঞ প্রানী সুখী হোক 🙏

খুঁজুন