যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বাভাস রিপাবলিকানদের জন্য ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে গেলেও তাকে প্রচারের মূল কেন্দ্রে রেখে দলটি বুধবার ডালাসে এক ব্যতিক্রমী মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন শুরু করছে।
দলটির আশা, ট্রাম্পকে সামনে রাখলে নির্বাচনে সম্ভাব্য বড় পরাজয় এড়ানো সম্ভব হবে।
দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্পাপালুজা’। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও তাদের কঠিন লড়াই করতে হবে।
এই সম্মেলনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সমর্থকদের বোঝানো হবে যে নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই যেন ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন।
সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের যা করতে বলছি, তা হলো— দয়া করে ধরে নিন যে আমিই ব্যালটে আছি। শুধু ভোট দিতে আসুন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
নির্বাচনী পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ বলছে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০টি আসন ও রিপাবলিকানরা ২০৫টি আসন পেতে পারে। সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা ৫১-৪৯ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। এর আগে সিনেটে দুই দলের আসন ৫০-৫০ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ হওয়ায় পূর্বাভাস পরিবর্তন করে এই হিসাব দেওয়া হয়েছে।
সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প সম্মেলনের দুই রাতেই ডালাসের আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারে বক্তব্য দেবেন।
ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে অনুগত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, একই সঙ্গে যেসব স্বতন্ত্র ভোটার তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হচ্ছেন তাদেরকে আরও দূরে ঠেলে না দেওয়া।
এর পাশাপাশি, মূল্যস্ফীতি, গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের বেশি পেট্রোলের দাম ও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধও তার জনপ্রিয়তায় চাপ তৈরি করছে।
ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকার রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ম্যাথিউ গ্রিন এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্প ব্যালটে থাকলেই তার অনেক সমর্থক ভোট দিতে যান।’
তিনি বলেন, ‘তারা কট্টর রিপাবলিকান ভোটার নন, তারা কট্টর ট্রাম্প সমর্থক। তাই নভেম্বরের নির্বাচনে তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতে ট্রাম্পকে সামনে রাখা কিছুটা যৌক্তিক।’
ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩০-এর ঘরের মাঝামাঝি বা তার নিচে নেমে গেলে তা ঐতিহাসিকভাবে প্রেসিডেন্টের দলের জন্য অত্যন্ত খারাপ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিত দিবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্দিষ্টভাবে আয়োজিত এটি রিপাবলিকানদের প্রথম জাতীয় সম্মেলন। তবে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ডেমোক্র্যাটরাও এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করেছিল।
এ সম্মেলনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে না এবং দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও থাকছে না।
এর পরিবর্তে আয়োজকেরা দুই রাতের একটি টেলিভিশন সমাবেশের মতো অনুষ্ঠান সাজিয়েছেন। সেখানে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচার করা হবে।
প্রতিনিধি পরিষদের ১০০ জনের বেশি সদস্য ও প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি রাতে ৫০টিরও বেশি বক্তৃতা ও উপস্থাপনা থাকবে।
বুধবার সম্মেলনে মূল ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার শেষ দিনের অনুষ্ঠানেও তিনি ভাষণ দেবেন। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বক্তব্য রাখবেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের নেতারা এবং প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের প্রার্থীরাও অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন।
রিপাবলিকানরা কর কমানো, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশিল্প ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালাবে। একই সঙ্গে তারা ডেমোক্র্যাটদের ‘অত্যন্ত উগ্র বামপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে।
তবে কিছু রিপাবলিকান ব্যক্তিগতভাবে চাইছেন, ট্রাম্প যেন এসব নির্ধারিত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেন। কারণ তার বক্তব্যে প্রায়ই ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রচারের মূল বার্তার বাইরে থাকা নানা বিষয় প্রাধান্য পায়।
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাম্পকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখছে রিপাবলিকানরা
মধ্যবর্তী নির্বাচনে ঝুঁকি নিয়ে ট্রাম্পকে কেন্দ্রবিন্দুতে রাখছে রিপাবলিকানরা
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের পূর্বাভাস রিপাবলিকানদের জন্য ক্রমেই খারাপের দিকে যাচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জনপ্রিয়তা কমে গেলেও তাকে প্রচারের মূল কেন্দ্রে রেখে দলটি বুধবার ডালাসে এক ব্যতিক্রমী মধ্যবর্তী নির্বাচন সম্মেলন শুরু করছে। দলটির আশা, ট্রাম্পকে সামনে রাখলে নির্বাচনে সম্ভাব্য বড় পরাজয় এড়ানো সম্ভব হবে। দুই দিনব্যাপী এই সম্মেলনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘ট্রাম্পাপালুজা’। আগামী ৩ নভেম্বরের নির্বাচনে রিপাবলিকানরা প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর ঝুঁকিতে রয়েছে। একই সঙ্গে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও তাদের কঠিন লড়াই করতে হবে। এই সম্মেলনের মাধ্যমে ট্রাম্পের সমর্থকদের বোঝানো হবে যে নির্বাচনে ট্রাম্প নিজেই যেন ব্যালটে প্রার্থী হিসেবে রয়েছেন। সম্প্রতি দক্ষিণ ক্যারোলাইনায় এক নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প সমর্থকদের উদ্দেশে বলেন, ‘আমি আপনাদের যা করতে বলছি, তা হলো— দয়া করে ধরে নিন যে আমিই ব্যালটে আছি। শুধু ভোট দিতে আসুন। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’ নির্বাচনী পূর্বাভাসকারী প্রতিষ্ঠান ডিসিশন ডেস্ক এইচকিউ বলছে, প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা ২৩০টি আসন ও রিপাবলিকানরা ২০৫টি আসন পেতে পারে। সিনেটেও ডেমোক্র্যাটরা ৫১-৪৯ ব্যবধানে সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেতে পারে। এর আগে সিনেটে দুই দলের আসন ৫০-৫০ হওয়ার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। রিপাবলিকানদের জন্য পরিস্থিতি আরও খারাপ
হওয়ায় পূর্বাভাস পরিবর্তন করে এই হিসাব দেওয়া হয়েছে। সাম্প্রতিক জনমত জরিপে ট্রাম্পের প্রতি সমর্থনের হার মাত্র ৩৩ শতাংশে নেমে এসেছে। ৮০ বছর বয়সী ট্রাম্প সম্মেলনের দুই রাতেই ডালাসের আমেরিকান এয়ারলাইনস সেন্টারে বক্তব্য দেবেন। ট্রাম্পের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হলো, তার প্রতি ব্যক্তিগতভাবে অনুগত ভোটারদের ভোটকেন্দ্রে আনা, একই সঙ্গে যেসব স্বতন্ত্র ভোটার তার প্রেসিডেন্ট হিসেবে কর্মকাণ্ডে বিরক্ত হচ্ছেন তাদেরকে আরও দূরে ঠেলে না দেওয়া।এর পাশাপাশি, মূল্যস্ফীতি, গ্যালনপ্রতি ৪ ডলারের বেশি পেট্রোলের দাম ও ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধও তার জনপ্রিয়তায় চাপ তৈরি করছে। ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি অব আমেরিকার রাজনীতি বিভাগের অধ্যাপক ম্যাথিউ গ্রিন এএফপিকে বলেন, ‘ট্রাম্প ব্যালটে থাকলেই তার অনেক সমর্থক ভোট দিতে যান।’ তিনি বলেন, ‘তারা কট্টর রিপাবলিকান ভোটার নন, তারা কট্টর ট্রাম্প সমর্থক। তাই নভেম্বরের নির্বাচনে তাদের ভোটকেন্দ্রে আনতে ট্রাম্পকে সামনে রাখা কিছুটা যৌক্তিক।’ ট্রাম্পের জনসমর্থন ৩০-এর ঘরের মাঝামাঝি বা তার নিচে নেমে গেলে তা ঐতিহাসিকভাবে প্রেসিডেন্টের দলের জন্য অত্যন্ত খারাপ মধ্যবর্তী নির্বাচনের ইঙ্গিত দিবে বলেও তিনি মন্তব্য করেন। মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে নির্দিষ্টভাবে আয়োজিত এটি রিপাবলিকানদের প্রথম জাতীয় সম্মেলন। তবে ১৯৭০ ও ১৯৮০-এর দশকে ডেমোক্র্যাটরাও
এ ধরনের সম্মেলনের আয়োজন করেছিল। এ সম্মেলনে কোনো প্রার্থী মনোনয়ন দেওয়া হবে না এবং দলের কোনো আনুষ্ঠানিক কার্যক্রমও থাকছে না। এর পরিবর্তে আয়োজকেরা দুই রাতের একটি টেলিভিশন সমাবেশের মতো অনুষ্ঠান সাজিয়েছেন। সেখানে ট্রাম্পের কর্মকাণ্ডের সাফল্য তুলে ধরার পাশাপাশি রিপাবলিকান প্রার্থীদের প্রচার করা হবে। প্রতিনিধি পরিষদের ১০০ জনের বেশি সদস্য ও প্রার্থীর অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। প্রতি রাতে ৫০টিরও বেশি বক্তৃতা ও উপস্থাপনা থাকবে। বুধবার সম্মেলনে মূল ভাষণ দেবেন ট্রাম্প। বৃহস্পতিবার শেষ দিনের অনুষ্ঠানেও তিনি ভাষণ দেবেন। এর আগে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স বক্তব্য রাখবেন। মন্ত্রিসভার সদস্য, কংগ্রেসের নেতারা এবং প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের গুরুত্বপূর্ণ প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ আসনের প্রার্থীরাও অনুষ্ঠানে ভাষণ দেবেন। রিপাবলিকানরা কর কমানো, অভিবাসন নিয়ন্ত্রণ, উৎপাদনশিল্প ও প্রেসক্রিপশন ওষুধের দাম কমানোর বিষয়গুলোকে গুরুত্ব দিয়ে প্রচার চালাবে। একই সঙ্গে তারা ডেমোক্র্যাটদের ‘অত্যন্ত উগ্র বামপন্থী’ হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা করবে। তবে কিছু রিপাবলিকান ব্যক্তিগতভাবে চাইছেন, ট্রাম্প যেন এসব নির্ধারিত বিষয়েই সীমাবদ্ধ থাকেন। কারণ তার বক্তব্যে প্রায়ই ব্যক্তিগত ক্ষোভ ও প্রচারের মূল বার্তার বাইরে থাকা নানা বিষয় প্রাধান্য পায়।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত