রাশেদ মেহেদী, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক :
আমি গুজব ও কুৎসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চাই, ভিউজ বাংলাদেশের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহকর্মীর এক মাসের বেতনও বকেয়া নেই। শুরু থেকে সব সময়ই যথাসময়ে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অদক্ষতা ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাদের একসঙ্গে তিন মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে এবং তার ব্যাংক ডকুমেন্ট ও অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। অতএব, বকেয়া বেতন-সংক্রান্ত দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির জন্য ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার।
আর চাকরিচ্যুতিজনিত সুবিধা পাওনাদির কথা বলা হচ্ছে, সে প্রসঙ্গে আমি একটা প্রশ্ন তুলতে চাই। ভিউজ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। কর্মী নিয়োগ ও বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তাহলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ কতদিন হয়? আমরা দেখেছি, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে দুজন শুরু থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাদের চাকরির মেয়াদ হয়েছিল সর্বোচ্চ দুই বছর। আর বাকিদের মধ্যে মাত্র একজনের চাকরির মেয়াদ এক বছর পার হয়েছে। বাকিদের চাকরির মেয়াদ এক বছরেরও কম। তাদের মধ্যে পার্টটাইম এবং শিক্ষানবিশ ছিলেন তিনজন, যাদের চাকরির মেয়াদ ছয় মাসও হয়নি। অতএব, এই কর্মীরা হিসাব অনুযায়ী কত চাকরির অবসানের জন্য কত টাকার সুবিধা পেতে পারেন?
তারপরও তাদের যেটুকু পাওনা আছে, সেটা পরিশোধ করার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সব অদ্ভুত হিসেব নিয়ে এসে দুই বছরের চাকরির জন্য আট-দশ লাখ টাকা পর্যন্ত বেনিফিট চায়! যার মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা, তিনি দুই বছরের চাকরির জন্য কত টাকা বেনিফিট পেতে পারেন? আমি সমকালে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে প্রায় ১২ বছর চাকরি করেও আট লাখ টাকা বেনিফিট পাইনি। আর ভিউজ বাংলাদেশে দুই বছর চাকরি করে তারা দশ লাখ টাকা বেনিফিট দাবি করেন, কোন যুক্তিতে? এমনকি তিন মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে(মোজো রিপোর্টিং) কাজ করে অফিসের ৪০ হাজার টাকা দামের স্মার্টফোন আগের দিন হারিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে চুরি করে পরের দিন একটি ইংরেজি দৈনিকে যোগ দিয়েছে- তার জন্যও লাখ টাকার কাছকাছি বেনিফিট চেয়েছে!
আবার, এই চাকরিচ্যুতদের মধ্যে কেউ লেখক বিল পরিশোধের জন্য টাকা তুলে সে টাকা লেখকদের দেননি। লেখকদের টাকা পরিশোধের কাউন্টার স্লিপও দেননি। একজন অফিসের কাছ থেকে ছেলের ভর্তির জন্য অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একজন অফিসের ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। দুজন তো তিন মাসের মধ্যে তিরিশ দিনও অফিস করেননি। তাদের হিসাব কীভাবে হবে? তারা কোনো হিসাবই মানতে চান না।
আসলে এরা পাওনা টাকা চায় না, এরা ভিউজ বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায় নিজেদের সীমাহীন অপকর্ম আড়াল করার জন্য। এরা ভিউজ বাংলাদেশের আগে কোথাও এত বেতনে চাকরি পায়নি। প্রত্যেক জায়গা থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে নানা অনিয়মের দায়ে। আমি অনেকটা না বুঝে এদের চাকরি দিয়ে সত্যিই বড় অপরাধ করেছিলাম। এরা নিজেরা কাজ করত না, নিষ্ঠাবান সহকর্মীদের কাজেও বাধার সৃষ্টি করত। এরা চলে যাওয়ার পর অন্য সহকর্মীরা আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। ভিউজ বাংলাদেশের পেজ ভিউ হাজারের ঘর থেকে মিলিয়নে গেছে, এটা তাদের সহ্য হয়নি। যে কারণে তাদের পাওনা নিতে বললে তারা আসে না, শুধু ফেসবুকে জঘন্য মিথ্যাচার করে সম্মানহানি করে। এরা আসলে মিথ্যাচার করা ছাড়া জীবনে আর কিছুই শেখেনি।
আরও জানিয়ে রাখি, ভিউজ বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে জুলাই-সংক্রান্ত কোন মামলা নেই। একজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় জুলাই অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর পর। সেই মামলা অপর একজন সহকর্মীর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরেক সহকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। ভিউজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সেই সহকর্মীর পক্ষে আছে, থাকবে। কিন্তু যে সহকর্মী মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর বন্দোবস্ত করেন, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ছিলেন পুরোদস্তুর আওয়ামী-অন্ধ। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে ফেলেন। নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের কট্টর সমর্থক দাবি করলেন আর সহকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন।
এই কুচক্রী সহকর্মীটিই তাঁর সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ভিউজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ অমানবিক হলে তাঁকে কেন মানবিক বিবেচনায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিল? আর বেতন না পেলে সন্তানকে এত দামি স্কুলে ভর্তি করলেন কীভাবে?
আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, ভিউজ বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের কারও বিরুদ্ধেই জুলাই-সংক্রান্ত মামলা নেই। জুলাই-সংক্রান্ত কোনো মামলার কথা ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাকরিচ্যুতির সময় কোথাও আলোচনা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কথা বলা হয়েছে। সেজন্য জনবল ছাঁটাই এর সিদ্ধান্ত হয়। আমরা চুলচেঁড়া বিশ্লেষণ করে অদক্ষ এবং অফিসে নিময়িত না আসাসহ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করা হয়। যোগ্য কর্মীরা সবাই আছেন। কিন্তু কারও বেতন বকেয়া রাখা হয়নি, কারও এক টাকাও বেতন বকেয়া নেই। চরম মিথ্যাচারের জবাব দিতেই আজ আমাকে লিখতে হচ্ছে।
আজ যেহেতু লিখতে বসেছি, কিছু বেদনার কথা বলে যাই। ভিউজ বাংলাদেশ আমার প্রতিষ্ঠা করা প্রথম প্রতিষ্ঠান। যে কারনে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শুরুর দিকে অনভিজ্ঞতা ছিল। আর এই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর মাঠের সাংবাদিকতা করার কারণে সাংবাদিক সহকর্মীদের দুঃখ-বেদনার বিষয়টি আমার খুব ভালো করে জানা ছিল। তাই প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের অনুরোধকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই, যেটা পরবর্তীতে আমার জন্য তিক্ত, বিব্রতকর অভিজ্ঞতার কারণ হয়ে যায়। কারণ আমার জানা ছিল না, সহকর্মীদের অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে আমি ভবিষ্যতে তাদের কোন চেহারা দেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি!
আমি সমকালের সহকর্মীদের অনুরোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। যে কারণে সমকালে দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর কাজ করা একজন সহকর্মী (সমকালে তিনি প্রুফরিডার ছিলেন) এসে যখন পার্টটাইম চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন, সেই অনুরোধ ফেলতে পারিনি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনিও তখন সমকাল ছেড়ে অন্য একটি ১২ পৃষ্ঠার নতুন প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকে যোগ দিয়েছেন। তিনি পার্টটাইম চান, কারণ তিনি ওই পত্রিকায় স্থায়ী এবং সে চাকরিটাও ছাড়তে চান না।
তিনি ওই পত্রিকার একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার (যিনিও সমকালে আমার সহকর্মী ছিলেন) কাছ থেকে একটি চিঠি নিয়ে এলেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিকে ভিউজ বাংলাদেশের চাকরি দিলে তাঁর আপত্তি থাকবে না। পরে জেনেছি, এ ধরনের চিঠি ওই দায়িত্বশীল ব্যক্তি কখনোই দেননি, তাঁর স্বাক্ষরও ছিল নকল।
প্রায় এক বছর পর এই পার্টটাইম (চুক্তিভিত্তিক) সহকর্মী জানালেন, ওই জাতীয় দৈনিকে তিনি আর চাকরি করবেন না। আমি যেন বেতন বাড়িয়ে তাঁকে ভিউজ বাংলাদেশেই স্থায়ী করে দিই। তিনি ওই দৈনিকে জমা দেওয়ার জন্য লেখা একটি পদত্যাগপত্রও আমাকে দেখালেন। আমি সরল বিশ্বাসে বেতন বাড়িয়ে তাঁর চাকরি স্থায়ী করে দিলাম। কিন্তু তিনি ওই জাতীয় দৈনিক থেকে চাকরি ছাড়লেন না। বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই একজন ব্যক্তি দুই অফিসে স্থায়ী নিয়োগ পেতে পারেন না। যদি কেউ দুই অফিসে স্থায়ী নিয়োগ পান, তবে সেটা আইনগতভাবে এবং নৈতিকভাবে—দুইভাবেই অপরাধ। এই সহকর্মী ভিউজ বাংলাদেশে চাকরি ছাড়ার পর তাঁর কাছে থাকা যে ল্যাপটপ জমা দিলেন, সেটা ভেতর থেকে এসএসডি হার্ডড্রাইভটিও খুলে নেওয়া ছিল!
সমকালের আর একজন প্রিয় সহকর্মী তাঁর সহোদরকে আমার অফিসে চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকলেন। তাঁর ভাই এর আগে যেখানে কাজ করেছেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম, তাঁর সম্পর্কে অন্য সহকর্মীদের মনোভাব খুবই নেতিবাচক। বিশেষ করে অফিসে আসার ক্ষেত্রে বেশ অনিয়মিত বলে জানালেন। যা হোক, বারবার অনুরোধ পাওয়ার পর ঢেঁকি গিললাম। তাঁকে ভালো বেতনেই নিয়োগ দিলাম।
প্রথম মাসে নিয়মিত হলেও দ্বিতীয় মাস থেকে তাঁকে অফিসে পাওয়াই মুশকিল হয়ে গেল। সপ্তাহের পাঁচ দিনই তাঁর কোনো না কোনো দিন অফিসে না আসার অজুহাত থাকে। একদিন ডে-অফ। তিনি সপ্তাহে একদিন ভালোভাবে অফিস করেন। অন্য দিনগুলোতে অফিসে আসেন শুধু ফিঙ্গার দেওয়ার জন্য, এরপর হাওয়া। প্রায় আট মাস এভাবে চলার পর তাঁকে চাকরিচ্যুত করা ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ অফিসের পুরো ডিসিপ্লিনে প্রভাব ফেলছিল তাঁর বদঅভ্যাস।
তাঁকে নিয়ম অনুযায়ী সব পাওনা দেওয়া হয়। এরপর তিনি আমার কাছে আসেন নতুন আবদার নিয়ে। তিনি বলেন, অন্য অফিসে কাজ পেতে গেলে তাঁর চাকরিচ্যুতির বিষয়টি প্রকাশ হলে সমস্যা হবে। তাঁকে যেন অফিসে অ্যাকসেস বন্ধ না করা হয়। তাঁকে আমরা অফিসে অ্যাকসেস দিয়েছি মানবিক বিবেচনায়।
পরে জানতে পারলাম, এই প্রিয় সিনিয়র সহকর্মী আগে যত অফিসে চাকরি করেছেন, চাকরি ছাড়ার পর প্রত্যেক অফিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অথচ কোনো অফিসেই তাঁর চাকরির মেয়াদ এক বছর পার করতে পারেননি!
ভিউজ বাংলাদেশে যৌক্তিক কারণ ছাড়া কখনো কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একজন সহকর্মীকে তাঁর সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশ কাকতালীয়ভাবে ঈদের আগে শেষ হয়। চাকরিচ্যুতির পর তিনি কলকারখানা পরিদপ্তরে আবেদন করেন। সেখানে আলোচনার পর নোটিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞতাপ্রসূত যে ভুল হয়েছিল, সেটা সংশোধনের অংশ হিসেবে তাঁর জন্য পরিদপ্তর যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেন, সেই অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে।
তখন কিন্তু এই চাকরিচ্যুত কর্মীদের বেশিরভাগই, বিশেষত যিনি ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার করছেন—তিনি সেই সহকর্মীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করার জন্য সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু ভিউজ বাংলাদেশ নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠান। তাঁর পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়।
আজ পুলক'দা (বরিশকলের পুলক চ্যটার্জি) আমার প্রায় দুই যুগের সহকর্মী ছিলেন। পেশাগত জীবনে বরিশালে, ঢাকায় আনন্দ-বেদনার অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে আছে। ভিউজ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। তাকে স্মরণ করে লিখতে গিয়ে কেউ যদি তাকেই অসম্মান করে, তখন গায়ে লাগে। পুলক'দা ছাড়া কখনও ডাকিনি। যারা তাকে "পুলক" ডেকে অসম্মান করেন, তারা কোনদিনই পুলক চ্যাটার্জির মত পেশাদার সাংবাদিকের সহকর্মী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না।
একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা অনেক কষ্টের, অনেক পরিশ্রমের। কিন্তু সেটা ধ্বংস করা খুব সহজ। কুচক্রীরা কোনো দিনই কোনো প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে না, ধ্বংস করতে পারে। তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে যেসব সহকর্মী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাঁদের পেটেও লাথি মারতে চান। ফেসবুকে এত কুৎসা রটনা সে কারণেই।
আমার বিরুদ্ধে, আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বারবার কুৎসা রটানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো শতভাগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে প্রতিবারই। আমার পারিবারিক শিক্ষা হচ্ছে, কখনো কারও কোনো ক্ষতি না করা। যে কারণে বারবার চরম কুৎসার শিকার হয়েও আমি প্রতিশোধপরায়ণ হইনি।
আমি জানি আমার যোগ্যতা আছে, আমি জানি আমার সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে। যে কারণে আমি কোনো ধ্বংসের সঙ্গী হতে পারি না, আমি মিথ্যাচার করে কারও চরিত্র হনন করতে পারি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো কুৎসা রটনা, মিথ্যাচার আমাদের সৎ প্রচেষ্টার অগ্রযাত্রাকে আটকাতে পারবে না l
মিথ্যাচার, কুৎসা রটিয়ে সৎ প্রচেষ্টার অগ্রযাত্রা আটকানো যায় না
মিথ্যাচার, কুৎসা রটিয়ে সৎ প্রচেষ্টার অগ্রযাত্রা আটকানো যায় না
রাশেদ মেহেদী, সিনিয়র সাংবাদিক, লেখক ও গবেষক : আমি গুজব ও কুৎসা ছড়ানোর বিরুদ্ধে দ্ব্যর্থহীনভাবে জানাতে চাই, ভিউজ বাংলাদেশের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত কোনো সহকর্মীর এক মাসের বেতনও বকেয়া নেই। শুরু থেকে সব সময়ই যথাসময়ে বেতন পরিশোধ করা হয়েছে। ২০২৫ সালের অক্টোবর মাসে অদক্ষতা ও নানা অনিয়মের সঙ্গে জড়িত থাকার দায়ে কয়েকজনকে চাকরিচ্যুত করা হয়েছিল। তাদের একসঙ্গে তিন মাসের বেতন দেওয়া হয়েছে এবং তার ব্যাংক ডকুমেন্ট ও অন্যান্য দালিলিক প্রমাণ রয়েছে। অতএব, বকেয়া বেতন-সংক্রান্ত দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা ও প্রতিষ্ঠানের সম্মানহানির জন্য ইচ্ছাকৃত অপপ্রচার। আর চাকরিচ্যুতিজনিত সুবিধা পাওনাদির কথা বলা হচ্ছে, সে প্রসঙ্গে আমি একটা প্রশ্ন তুলতে চাই। ভিউজ বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করেছে ২০২৩ সালের ডিসেম্বর মাসে। কর্মী নিয়োগ ও বেতন দেওয়া শুরু হয়েছে ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে। তাহলে ২০২৫ সালের অক্টোবরে যাদের চাকরিচ্যুত করা হয়, তাদের চাকরির মেয়াদ কতদিন হয়? আমরা দেখেছি, চাকরিচ্যুতদের মধ্যে দুজন শুরু থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত ছিলেন। তাদের চাকরির মেয়াদ হয়েছিল সর্বোচ্চ দুই বছর। আর বাকিদের মধ্যে মাত্র একজনের চাকরির মেয়াদ এক বছর পার হয়েছে। বাকিদের চাকরির মেয়াদ এক বছরেরও কম। তাদের মধ্যে পার্টটাইম এবং শিক্ষানবিশ ছিলেন তিনজন, যাদের চাকরির মেয়াদ ছয় মাসও হয়নি। অতএব, এই কর্মীরা হিসাব অনুযায়ী কত চাকরির অবসানের জন্য কত টাকার সুবিধা পেতে পারেন? তারপরও তাদের যেটুকু পাওনা আছে, সেটা পরিশোধ করার জন্য বারবার যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা সব অদ্ভুত হিসেব নিয়ে এসে দুই বছরের চাকরির জন্য আট-দশ লাখ টাকা পর্যন্ত বেনিফিট চায়! যার মূল বেতন ২৫ হাজার টাকা, তিনি দুই বছরের চাকরির জন্য কত টাকা বেনিফিট পেতে পারেন? আমি সমকালে বিশেষ প্রতিনিধি হিসেবে প্রায় ১২ বছর চাকরি করেও আট লাখ টাকা বেনিফিট পাইনি। আর ভিউজ বাংলাদেশে দুই বছর চাকরি করে তারা দশ লাখ টাকা বেনিফিট দাবি করেন, কোন যুক্তিতে? এমনকি তিন মাস শিক্ষানবিশ হিসেবে(মোজো রিপোর্টিং) কাজ করে অফিসের ৪০ হাজার টাকা দামের স্মার্টফোন আগের দিন হারিয়ে যাওয়ার দোহাই দিয়ে চুরি করে পরের দিন একটি ইংরেজি দৈনিকে যোগ দিয়েছে- তার জন্যও লাখ টাকার কাছকাছি বেনিফিট চেয়েছে! আবার, এই চাকরিচ্যুতদের মধ্যে কেউ লেখক বিল পরিশোধের জন্য টাকা তুলে সে টাকা লেখকদের দেননি। লেখকদের টাকা পরিশোধের কাউন্টার স্লিপও দেননি। একজন অফিসের কাছ থেকে ছেলের ভর্তির জন্য অগ্রিম ৫০ হাজার টাকা নিয়েছেন। একজন অফিসের ইউটিউব চ্যানেল হ্যাক করতে গিয়ে ধরা পড়েছেন। দুজন তো তিন মাসের মধ্যে তিরিশ দিনও অফিস করেননি। তাদের হিসাব কীভাবে হবে? তারা কোনো হিসাবই মানতে চান না। আসলে এরা পাওনা টাকা চায় না, এরা ভিউজ বাংলাদেশকে ধ্বংস করতে চায় নিজেদের সীমাহীন অপকর্ম আড়াল করার জন্য। এরা ভিউজ বাংলাদেশের আগে কোথাও এত বেতনে চাকরি পায়নি। প্রত্যেক জায়গা থেকে চাকরিচ্যুত হয়েছে নানা অনিয়মের দায়ে। আমি অনেকটা না বুঝে এদের চাকরি দিয়ে সত্যিই বড় অপরাধ করেছিলাম। এরা নিজেরা কাজ করত না, নিষ্ঠাবান সহকর্মীদের কাজেও বাধার সৃষ্টি করত। এরা চলে যাওয়ার পর অন্য সহকর্মীরা আরও নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছেন। ভিউজ বাংলাদেশের পেজ ভিউ হাজারের ঘর থেকে মিলিয়নে গেছে, এটা তাদের সহ্য হয়নি। যে কারণে তাদের পাওনা নিতে বললে তারা আসে না, শুধু ফেসবুকে জঘন্য মিথ্যাচার করে সম্মানহানি করে। এরা আসলে মিথ্যাচার করা ছাড়া জীবনে আর কিছুই শেখেনি। আরও জানিয়ে রাখি, ভিউজ বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের মধ্যে কারও বিরুদ্ধে জুলাই-সংক্রান্ত কোন মামলা নেই। একজন সহকর্মীর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয় জুলাই অভ্যুত্থানের প্রায় এক বছর পর। সেই মামলা
অপর একজন সহকর্মীর ব্যক্তিগত আক্রোশের শিকার হয়ে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে আরেক সহকর্মীকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়েছেন। ভিউজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ সেই সহকর্মীর পক্ষে আছে, থাকবে। কিন্তু যে সহকর্মী মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর বন্দোবস্ত করেন, তিনি ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগে ছিলেন পুরোদস্তুর আওয়ামী-অন্ধ। ৫ আগস্টের পর ভোল পাল্টে ফেলেন। নিজেকে জুলাই অভ্যুত্থানের কট্টর সমর্থক দাবি করলেন আর সহকর্মীদের মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর কাজে ব্যস্ত হয়ে পড়লেন। এই কুচক্রী সহকর্মীটিই তাঁর সন্তানের স্কুলে ভর্তির জন্য ৫০ হাজার টাকা ঋণ নিয়েছিলেন। ভিউজ বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ অমানবিক হলে তাঁকে কেন মানবিক বিবেচনায় ৫০ হাজার টাকা ঋণ দিয়েছিল? আর বেতন না পেলে সন্তানকে এত দামি স্কুলে ভর্তি করলেন কীভাবে? আমি স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, ভিউজ বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের কারও বিরুদ্ধেই জুলাই-সংক্রান্ত মামলা নেই। জুলাই-সংক্রান্ত কোনো মামলার কথা ২০২৫ সালের অক্টোবরে চাকরিচ্যুতির সময় কোথাও আলোচনা করা হয়নি। প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কথা বলা হয়েছে। সেজন্য জনবল ছাঁটাই এর সিদ্ধান্ত হয়। আমরা চুলচেঁড়া বিশ্লেষণ করে অদক্ষ এবং অফিসে নিময়িত না আসাসহ অনিয়মের সঙ্গে জড়িতদের চিহ্নিত করে চাকরিচ্যুত করা হয়। যোগ্য কর্মীরা সবাই আছেন। কিন্তু কারও বেতন বকেয়া রাখা হয়নি, কারও এক টাকাও বেতন বকেয়া নেই। চরম মিথ্যাচারের জবাব দিতেই আজ আমাকে লিখতে হচ্ছে। আজ যেহেতু লিখতে বসেছি, কিছু বেদনার কথা বলে যাই। ভিউজ বাংলাদেশ আমার প্রতিষ্ঠা করা প্রথম প্রতিষ্ঠান। যে কারনে এ ধরনের প্রতিষ্ঠান পরিচালনায় শুরুর দিকে অনভিজ্ঞতা ছিল। আর এই প্রতিষ্ঠানের সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার আগে দীর্ঘ প্রায় ২৭ বছর মাঠের সাংবাদিকতা করার কারণে সাংবাদিক সহকর্মীদের দুঃখ-বেদনার বিষয়টি আমার খুব ভালো করে জানা ছিল। তাই প্রথম নিয়োগের ক্ষেত্রে সহকর্মীদের অনুরোধকেই সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিই, যেটা পরবর্তীতে আমার জন্য তিক্ত, বিব্রতকর অভিজ্ঞতার কারণ হয়ে যায়। কারণ আমার জানা ছিল না, সহকর্মীদের অনুরোধে ঢেঁকি গিলতে গিয়ে আমি ভবিষ্যতে তাদের কোন চেহারা দেখার জন্য প্রস্তুত হচ্ছি! আমি সমকালের সহকর্মীদের অনুরোধকে অগ্রাধিকার দিয়েছি। যে কারণে সমকালে দীর্ঘ প্রায় ১২ বছর কাজ করা একজন সহকর্মী (সমকালে তিনি প্রুফরিডার ছিলেন) এসে যখন পার্টটাইম চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ করলেন, সেই অনুরোধ ফেলতে পারিনি। ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বরে তিনিও তখন সমকাল ছেড়ে অন্য একটি ১২ পৃষ্ঠার নতুন প্রকাশিত জাতীয় দৈনিকে যোগ দিয়েছেন। তিনি পার্টটাইম চান, কারণ তিনি ওই পত্রিকায় স্থায়ী এবং সে চাকরিটাও ছাড়তে চান না। তিনি ওই পত্রিকার একজন গুরুত্বপূর্ণ কর্মকর্তার (যিনিও সমকালে আমার সহকর্মী ছিলেন) কাছ থেকে একটি চিঠি নিয়ে এলেন, যেখানে তিনি জানিয়েছেন, এই ব্যক্তিকে ভিউজ বাংলাদেশের চাকরি দিলে তাঁর আপত্তি থাকবে না। পরে জেনেছি, এ ধরনের চিঠি ওই দায়িত্বশীল ব্যক্তি কখনোই দেননি, তাঁর স্বাক্ষরও ছিল নকল।প্রায় এক বছর পর এই পার্টটাইম (চুক্তিভিত্তিক) সহকর্মী জানালেন, ওই জাতীয় দৈনিকে তিনি আর চাকরি করবেন না। আমি যেন বেতন বাড়িয়ে তাঁকে ভিউজ বাংলাদেশেই স্থায়ী করে দিই। তিনি ওই দৈনিকে জমা দেওয়ার জন্য লেখা একটি পদত্যাগপত্রও আমাকে দেখালেন। আমি সরল বিশ্বাসে বেতন বাড়িয়ে তাঁর চাকরি স্থায়ী করে দিলাম। কিন্তু তিনি ওই জাতীয় দৈনিক থেকে চাকরি ছাড়লেন না। বাংলাদেশ কেন, পৃথিবীর কোনো দেশেই একজন ব্যক্তি দুই অফিসে স্থায়ী নিয়োগ পেতে পারেন না। যদি কেউ দুই অফিসে স্থায়ী নিয়োগ পান, তবে সেটা আইনগতভাবে এবং নৈতিকভাবে—দুইভাবেই অপরাধ। এই সহকর্মী ভিউজ বাংলাদেশে চাকরি ছাড়ার পর তাঁর কাছে থাকা যে ল্যাপটপ জমা দিলেন, সেটা ভেতর থেকে এসএসডি হার্ডড্রাইভটিও খুলে নেওয়া ছিল! সমকালের আর একজন প্রিয় সহকর্মী তাঁর সহোদরকে আমার অফিসে চাকরি দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাতে থাকলেন। তাঁর ভাই এর আগে
যেখানে কাজ করেছেন, খোঁজ নিয়ে দেখলাম, তাঁর সম্পর্কে অন্য সহকর্মীদের মনোভাব খুবই নেতিবাচক। বিশেষ করে অফিসে আসার ক্ষেত্রে বেশ অনিয়মিত বলে জানালেন। যা হোক, বারবার অনুরোধ পাওয়ার পর ঢেঁকি গিললাম। তাঁকে ভালো বেতনেই নিয়োগ দিলাম। প্রথম মাসে নিয়মিত হলেও দ্বিতীয় মাস থেকে তাঁকে অফিসে পাওয়াই মুশকিল হয়ে গেল। সপ্তাহের পাঁচ দিনই তাঁর কোনো না কোনো দিন অফিসে না আসার অজুহাত থাকে। একদিন ডে-অফ। তিনি সপ্তাহে একদিন ভালোভাবে অফিস করেন। অন্য দিনগুলোতে অফিসে আসেন শুধু ফিঙ্গার দেওয়ার জন্য, এরপর হাওয়া। প্রায় আট মাস এভাবে চলার পর তাঁকে চাকরিচ্যুত করা ছাড়া উপায় ছিল না। কারণ অফিসের পুরো ডিসিপ্লিনে প্রভাব ফেলছিল তাঁর বদঅভ্যাস। তাঁকে নিয়ম অনুযায়ী সব পাওনা দেওয়া হয়। এরপর তিনি আমার কাছে আসেন নতুন আবদার নিয়ে। তিনি বলেন, অন্য অফিসে কাজ পেতে গেলে তাঁর চাকরিচ্যুতির বিষয়টি প্রকাশ হলে সমস্যা হবে। তাঁকে যেন অফিসে অ্যাকসেস বন্ধ না করা হয়। তাঁকে আমরা অফিসে অ্যাকসেস দিয়েছি মানবিক বিবেচনায়।পরে জানতে পারলাম, এই প্রিয় সিনিয়র সহকর্মী আগে যত অফিসে চাকরি করেছেন, চাকরি ছাড়ার পর প্রত্যেক অফিসের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। অথচ কোনো অফিসেই তাঁর চাকরির মেয়াদ এক বছর পার করতে পারেননি! ভিউজ বাংলাদেশে যৌক্তিক কারণ ছাড়া কখনো কাউকে চাকরিচ্যুত করা হয়নি। ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে একজন সহকর্মীকে তাঁর সুনির্দিষ্ট অপরাধের কারণে চাকরিচ্যুতির নোটিশ দেওয়া হয়। সেই নোটিশ কাকতালীয়ভাবে ঈদের আগে শেষ হয়। চাকরিচ্যুতির পর তিনি কলকারখানা পরিদপ্তরে আবেদন করেন। সেখানে আলোচনার পর নোটিশ দেওয়ার ক্ষেত্রে অনভিজ্ঞতাপ্রসূত যে ভুল হয়েছিল, সেটা সংশোধনের অংশ হিসেবে তাঁর জন্য পরিদপ্তর যে ক্ষতিপূরণ নির্ধারণ করেন, সেই অর্থ নির্ধারিত সময়ের মধ্যে পুরোপুরি পরিশোধ করা হয়েছে। তখন কিন্তু এই চাকরিচ্যুত কর্মীদের বেশিরভাগই, বিশেষত যিনি ফেসবুকে সবচেয়ে বেশি মিথ্যাচার করছেন—তিনি সেই সহকর্মীকে ক্ষতিপূরণের অর্থ পরিশোধ না করার জন্য সবচেয়ে বেশি সোচ্চার ছিলেন। কিন্তু ভিউজ বাংলাদেশ নিয়ম মেনে চলা প্রতিষ্ঠান। তাঁর পাওনা যথাযথভাবে পরিশোধ করা হয়। আজ পুলক'দা (বরিশকলের পুলক চ্যটার্জি) আমার প্রায় দুই যুগের সহকর্মী ছিলেন। পেশাগত জীবনে বরিশালে, ঢাকায় আনন্দ-বেদনার অনেক স্মৃতি ছড়িয়ে আছে। ভিউজ বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার সময় থেকে তিনি উৎসাহ দিয়েছেন। তাকে স্মরণ করে লিখতে গিয়ে কেউ যদি তাকেই অসম্মান করে, তখন গায়ে লাগে। পুলক'দা ছাড়া কখনও ডাকিনি। যারা তাকে "পুলক" ডেকে অসম্মান করেন, তারা কোনদিনই পুলক চ্যাটার্জির মত পেশাদার সাংবাদিকের সহকর্মী হওয়ার যোগ্যতা রাখেন না। একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি করা অনেক কষ্টের, অনেক পরিশ্রমের। কিন্তু সেটা ধ্বংস করা খুব সহজ। কুচক্রীরা কোনো দিনই কোনো প্রতিষ্ঠান গড়তে পারে না, ধ্বংস করতে পারে। তারা নিজেদের অপকর্ম ঢাকতে যেসব সহকর্মী নিষ্ঠার সঙ্গে কাজ করেন, তাঁদের পেটেও লাথি মারতে চান। ফেসবুকে এত কুৎসা রটনা সে কারণেই।আমার বিরুদ্ধে, আমার স্ত্রীর বিরুদ্ধে বারবার কুৎসা রটানোর চেষ্টা হয়েছে। কিন্তু সেগুলো শতভাগ মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে প্রতিবারই। আমার পারিবারিক শিক্ষা হচ্ছে, কখনো কারও কোনো ক্ষতি না করা। যে কারণে বারবার চরম কুৎসার শিকার হয়েও আমি প্রতিশোধপরায়ণ হইনি। আমি জানি আমার যোগ্যতা আছে, আমি জানি আমার সৃষ্টি করার ক্ষমতা আছে। যে কারণে আমি কোনো ধ্বংসের সঙ্গী হতে পারি না, আমি মিথ্যাচার করে কারও চরিত্র হনন করতে পারি না। আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, কোনো কুৎসা রটনা, মিথ্যাচার আমাদের সৎ প্রচেষ্টার অগ্রযাত্রাকে আটকাতে পারবে না l
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত