বৃহস্পতিবার, ১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
ফ্রান্সজুড়ে শিক্ষার্থীদের ব্যাপক বিক্ষোভ-স্কুলে অবরোধ • ময়মনসিংহে ধর্ষণ মামলায় দুই যুবকের যাবজ্জীবন • ইয়ামালের জোড়া গোলে টানা দ্বিতীয় জয় স্পেনের • আহত চীনা নাগরিক জেংলিং হংকে দেখতে বার্ন ইনস্টিটিউটে স্বাস্থ্যমন্ত্রী • বিমান বাহিনী প্রধানের শ্রেষ্ঠ বিমানসেনা ও এমওডিসিদের পুরস্কার প্রদান • দিনাজপুরে বিপুল পরিমাণ মাদক উদ্ধার • সিলেটে নদীভাঙন ঠেকাতে দীর্ঘমেয়াদি প্রকল্প বাস্তবায়ন শুরু • দ্বিতীয় প্রান্তিকে যুক্তরাজ্যের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি বেড়েছে ০.৫ শতাংশ • দখল-ভাঙচুরে বিব্রত সরকার, অভ্যন্তরীণ তদন্তে বিএনপি • ডিপ্লোমা ইন অ্যাগ্রিকালচার, ফিশারিজ ও লাইভস্টক শিক্ষার্থীদের প্রতিষ্ঠান
সুফিবাদ পীরের বায়'আতগ্রহণ পবিত্র কুরআনের সুন্নাহর আলোকে কি আছে?

পীরের বায়'আতগ্রহণ পবিত্র কুরআনের সুন্নাহর আলোকে কি আছে?

মহান আল্লাহ রাব্বুল ইজ্জত উনার প্রিয় হাবীব রহমাতুল্লিল আলামীন সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামকে উদ্দেশ্য করে ইরশাদ করেন যে, 

اِنَّ  الَّذِیۡنَ یُبَایِعُوۡنَکَ  اِنَّمَا یُبَایِعُوۡنَ اللّٰہَ ؕ یَدُ اللّٰہِ  فَوۡقَ  اَیۡدِیۡہِمۡ ۚ فَمَنۡ  نَّکَثَ فَاِنَّمَا یَنۡکُثُ عَلٰی نَفۡسِہٖ ۚ وَ مَنۡ  اَوۡفٰی بِمَا عٰہَدَ عَلَیۡہُ اللّٰہَ  فَسَیُؤۡتِیۡہِ  اَجۡرًا عَظِیۡمًا ﴿۱۰﴾ 
★ ঐসব লােক, যারা আপনার নিকট বায়'আতগ্রহণ করছে তারা তাে আল্লাহরই নিকট বায়'আত গ্রহণ করছে। তাদের হাতগুলাের উপর আল্লাহর হাত রয়েছে। সুতরাং যে কেউ অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে সে নিজেরই অনিষ্টার্থে অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে; আর যে কেউ পূরণ করেছে ঐ অঙ্গীকারকে যা সে আল্লাহর সাথে করেছিলাে, তবে অতি সত্বর আল্লাহ তাকে মহা পুরস্কার দেবেন। (সূরাঃ ৪৮-ফাতহ, আয়াতঃ ১০)

لَقَدۡ رَضِیَ اللّٰہُ  عَنِ الۡمُؤۡمِنِیۡنَ  اِذۡ یُبَایِعُوۡنَکَ تَحۡتَ الشَّجَرَۃِ  فَعَلِمَ  مَا فِیۡ قُلُوۡبِہِمۡ  فَاَنۡزَلَ السَّکِیۡنَۃَ  عَلَیۡہِمۡ وَ اَثَابَہُمۡ  فَتۡحًا  قَرِیۡبًا ﴿ۙ۱۸﴾ 
★ নিশ্চয় আল্লাহ্‌ সন্তুষ্ট হয়েছেন ঈমানদারদের প্রতি যখন তারা ওই বৃক্ষের নীচে আপনার নিকট বায়’আত গ্রহণ করছিলো। সুতরাং আল্লাহ্‌ জেনেছেন যা তাদের  অন্তরগুলোতে রয়েছে। অতঃপর তাদের উপর প্রশান্তি অবতীর্ণ করেছেন  এবং তাদেরকে শীঘ্র আগমনকারী বিজয়ের পুরস্কার দিয়েছেন। 
(সূরাঃ ৪৮-ফাতহ, আয়াতঃ ১৮)

পীর-মুরীদ কাকে বলে? আসুন দেখি এ-ই বিষয়ে কুরআনের আলোকে কি হুকুম আছে।
=================================
পীর শব্দটি ফার্সি। আরবীতে বলা হয় মুরশীদ। মুরশীদ শব্দের অর্থ হল পথপ্রদর্শক। যিনি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার প্রশিক্ষণ দেন তার নাম মুরশীদ বা পথপ্রদর্শক। যাকে ফার্সীতে বলে পীর।
“মুরীদ” শব্দটিও আরবী। যার অর্থ হল ইচ্ছাপোষণকারী। যে ব্যক্তি আল্লাহর আদেশ নিষেধ আল্লাহ তাআলা যেভাবে চান সেভাবে পালন করার ইচ্ছা পোষণ করে কোন বুযুর্গ ব্যক্তির হাত ধরে শপথ করে, সে ব্যক্তির নাম হল “মুরীদ”। এ ব্যাখ্যা থেকে একথা স্পষ্ট হল যে, পীর হবেন শরীয়তের আদেশ নিষেধ পালন করার প্রশিক্ষণদাতা। আর যিনি সে প্রশিক্ষণ নিতে চায় সে শিক্ষার্থীর নাম হল “মুরীদ”।
সুতরাং যে ব্যক্তি নিজেই শরীয়তের বিধান মানে না, নামায পড়ে না, পর্দা করে না, সতর ঢেকে রাখে না বা শরীয়তের আবশ্যকীয় কোন বিধান পালন করে না, সে ব্যক্তি কিছুতেই পীর তথা মুর্শীদ হতে পারে না। কারণ তার নিজের মাঝেই যখন শরীয়ত নেই, সে কিভাবে অন্যকে শরীয়তের উপর আমল করা প্রশিক্ষণ দিবে? নিজেইতো প্রশিক্ষিত নয়।
আর পীর মুরীদির এ পদ্ধতি রাসূল (সাঃ) থেকে চলে আসছে। রাসূল (সাঃ) সাহাবাদের আল্লাহমুখী হওয়ার প্রশিক্ষণ দিতেন। সাহাবারা রাসূল (সাঃ) এর কাছ থেকে প্রশিক্ষণ নিতেন। বলা যায় রাসূল (সাঃ) হলেন সবচে’ প্রথম ও বড় পীর, ও সাহাবায়ে কিরাম হলেন প্রথম মুরীদ।

প্রশ্নঃ- পীর ধরতে হবে এ ব্যাপারে 
পবিত্র কোরআন শরীফে কোন নির্দেশ আছে কিনা ?
===============================
ঊত্তরঃ  হ্যাঁ পীর ধরতে হবে, এ প্রসঙ্গে পবিত্র কোরআন পাকে বহু নির্দেশ আছে । তবে পীর শব্দটি পবিত্র কোরআন পাকে নেই । কারন পীর শব্দটি ফার্সি ভাষা হতে বাংলা ভাষায় প্রবেশ করেছে । যেমনঃ নামাজ, রোজা, ফিরিস্তা, খোদা, ইত্যাদি শব্দগুলো কোরআন শরীফে-এ নেই । কারন উহা ফার্সি শব্দ , তবে এর প্রতিটি ফার্সি শব্দেরই প্রতিশব্দ কোরআন শরীফ আছে, যেমনঃ নামাজ- সালাত, রোজা- সাওম, ফিরিশ্তা-মালাকুন ইত্যাদি । আবার সালাত আরবি শব্দটি স্থান বিশেষ বিভিন্ন অর্থে ব্যবহৃত হয় । অনুরূপভাবে পীর ফার্সি শব্দের প্রতিশব্দ পবিত্র কোরআন শরীফের বিভিন্ন স্থানে বিভিন্ন শব্দে প্রকাশ করেছেন, যথাঃ 'অলি' বহুবচনে আউলিয়া, মুর্শিদ, ইমাম, বহুবচনে আইম্মা, হাদি, ছিদ্দিকিন, ইত্যাদি ।
নিম্নে কিছু আয়াত শরিফের অর্থ পেশ করা হলঃ

হে মুমিনগণ! তোমরা অনুসরণ কর, আল্লাহ্ পাক এর, তাঁর রাসুল পাক (দঃ) এর এবং তোমাদের মধ্যে যারা ধর্মীয় নেতা ।
— সুরাঃ নিসা, আয়াতঃ ৫৯

স্মরণ কর! সেই দিনকে যেদিন আমি প্রত্যেক সম্প্রদায়কে তাঁদের (ইমাম) নেতা সহ আহ্বান করব ।
— বনি ইসরাইল, আয়াতঃ ৭১

মুমিন পুরুষ ও মুমিনা মেয়েলোকের ভিতর হতে কতেক কতেকের বন্ধু ।
— সুরাঃ তাওবাহ, আয়াতঃ ৭১

তোমাদের মধ্যে এমন একদল লোক যারা কল্যাণের দিকে আহ্বান করবে ।
— সুরাঃ আল-ইমরান, আয়াতঃ ৭১

অনুসরন কর তাঁদের যারা তোমাদের নিকট কোন প্রতিদান চাহে না, এবং যারা সৎ পথ প্রাপ্ত ।
— সুরাঃ ইয়াসিন, আয়াতঃ ২১

যে বিশুদ্ধ চিত্তে আমার অভিমুখি হয়েছে তাঁর পথ অনুস্মরণ কর
— সুরাঃ লোকমান, আয়াতঃ ১৫

জিকির সম্বন্ধে তোমাদের জানা না থাকলে জিনি জানেন তাঁর নিকট হতে জেনে নাও ।
— সুরাঃ আম্বিয়া, আয়াতঃ ৭

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহকে ভয় কর এবং (ছাদেকিন) সত্যবাদী গণের সঙ্গী হয়ে যাও ।
— সুরাঃ তাওবাহ, আয়াতঃ ১১৯

নিশ্চয়ই আল্লাহ্পাকের রহমত (মুহসিনিন) আউলিয়া কিরামগনের নিকটবর্তী ।
— সুরাঃ আরাফ, আয়াতঃ ৫৬

আল্লাহ যাকে সৎপথে পরিচালিত করেন, সে সৎপথ প্রাপ্ত হয় এবং তিনি (আল্লাহ্) যাকে পথভ্রষ্ট করেন, তুমি কখনো তাঁর জন্য কোন পথপ্রদর্শনকারী (মুরশিদ) পাবে না ।
— সুরাঃ কাহাফ, আয়াতঃ ১৭

সাবধান! নিশ্চয়ই আল্লাহর অলিগণের কোন ভয় নেই, এবং তারা কোন বিষয় এ চিন্তিতও নহে । তাঁদের জন্য আছে সুসংবাদ দুনিয়া ও আখেরাতে, আল্লাহর কথার কোন পরিবর্তন হয় না, উহাই মহা সাফল্য ।
— সুরাঃ ইউনুছ, আয়াতঃ ৬২-৬৪

হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহ পাককে ভয় কর, এবং তাকে পাবার জন্য (নৈকট্য লাভের)অছিলা তালাশ কর। 
— সুরাঃ মায়েদা, আয়াতঃ ৩৫
 
👉 যার কোন পীর_নেই  তার পীর শয়তান
 হযরত আব্দুল্লাহ ইবনে উমর (রা) হতে বর্নিত
من خلع يدا من طاعة،لقي اللّٰه يوم القيامة لا حجة له،ومن مات وليس في عنقه بيعة،مات ميتة الجاهلية
যে ব্যাক্তি ইমামের আনুগত্য থেকে হাত গুটিয়ে নিলো,সে কিয়ামত দিবসে আল্লাহর সাথে এমতাবস্হায় সাক্ষাত করবে,তার হাতে কোন দলিল থাকবেনা।যে ব্যাক্তি এমতাবস্হায় মারা গেল কিন্তু তার গলায় বায়আতের বেডি থাকলোনা, সে জাহেলীয়াতের উপর মারা গেল।
-সুত্র:-মুসলিম,কিতাবুল ইমারাত ৩/১৪৭৮ হাদীস১৮৫১।

খুঁজুন