রবিবার, ১১ অক্টোবর ২০২৬
Journalists
শিরোনাম
অক্সফোর্ড ইন্টারন্যাশনাল স্কুলে "ট-র্চা-র সেল"! • রংপুরে মোটরসাইকেল চোর চক্রের ৪ সদস্য গ্রেপ্তার, উদ্ধার - ৯টি • বিআরটিএ ঢাকা মেট্রো-৪-এ ঘুষ লেনদেনের অভিযোগ, দালালদের মাধ্যমে দ্রুত সেবা পাওয়ার দাবি • বিশ্ব ডিম দিবস ২০২৬ উপলক্ষ্যে বিএলআরআইতে বর্ণাঢ্য আয়োজন • ঘুষ ছাড়া মেলে না সেবা নারায়ণগঞ্জ বিআরটিএতে দালালচক্রের দৌরাত্ম্যের অভিযোগ • সোনাইমুড়ীর সাব-রেজিস্ট্রার সিরাজুল হকের বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্য ও সেবাগ্রহীতাদের হয়রানির অভিযোগ • বিএনপি সরকারের সাত মাসে ৩২ কূপ খনন, যুক্ত হচ্ছে প্রায় ১৪৮ এমএমসিএফ গ্যাস • ঢাকার বস্তিতে যক্ষ্মা স্ক্রিনিংয়ে ১ লাখ ৪৫ হাজার ডলার দেবে জাপান • আবেগ, অশ্রুতে আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে মেসির বিদায় • কমিশন বাণিজ্য ও দুর্নীতির অভিযোগ: বিআরটিসির ডিজিএম মনিরুজ্জামানের বিরুদ্ধে দুদকে আবেদন
সুফিবাদ শেখ ফরিদ আউলিয়ার ৩৬ বছরের কঠোর সাধনা।

শেখ ফরিদ আউলিয়ার ৩৬ বছরের কঠোর সাধনা।

শেখ ফরিদ (রহঃ) চিশতিয়া তরিকার আউলিয়া ছিলেন। তিনি আধ্যাত্মিকতা অর্জনের উদ্দেশ্যে স্বীয় মায়ের আদেশে ১২ বছর আল্লাহ্‌র ধ্যানে কাটিয়ে দেন। এ সময়ে তার ক্ষুধা লাগলে তিনি গাছের লতা-পাতা ও ফল মূল খেয়ে নিতেন। ১২ বছর কঠোর সাধনা করার পর যখন তাহার মার কাছে আসেন তখন তাহার মা তাকে বনের গাছ গাছালিকে তাহার আহারের জন্য কষ্ট দিয়ে সাধনা করায় তা সিদ্ধি হয়নি বলে তাকে আবার ১২ বছরের সাধনা করতে জঙ্গলে পাঠান। এবার শেখ ফরিদ তাহার খাবারের জন্য একটা রুটি নিয়ে সাধনা করতে লাগলেন।

যখন তাহার ক্ষুধা লাগত তখন মনকে এই বলে সান্ত্বনা দিতেন যে, হে মন আজকে না কালকে রুটি টা খাবো। এইভাবে মনকে সান্তনা দিতে দিতে তাহার আরও ১২ বছর আল্লাহর ধ্যানে অতিবাহিত হয়ে যায়। এরপর তাহার মায়ের কাছে আসলে তাহার মা তাকে এই বলে তাড়িয়ে দেন যে, যে নিজের আত্মার সাথে খাবারের কথা বলে ধোঁকা বাজি করে, তাহার সাধনা কখনই সিদ্ধি হয় নাই। পরবর্তীতে শেখ ফরিদ একটা কুয়ার ভিতর দড়ি বেধে উপরে পা দিয়ে উল্টা হয়ে কোন প্রকার খানা-পিনা ছাড়াই অনবরত ১২ বছর আল্লাহর জিকির করেন। আল্লাহপাক শেখ ফরিদের আল্লাহর প্রতি প্রেমের পরীক্ষা করার জন্য জিব্রাইল (আঃ) কে ক্ষুধার্ত কাক রূপে প্রেরন করেন।

সেই কাক শেখ ফরিদের কাছে নিজের ক্ষুধা মিটাতে শেখ ফরিদের চোখ খেতে চাইলে শেখ ফরিদ বিনা দ্বিধায় তার দুটি চোখ উপরে কাককে দিলে আল্লাহ পাকের আরশ সঙ্গে সঙ্গে কেপে উঠে। তখন আল্লাহ পাক খুশি হয়ে দীর্ঘ ৩৬ বছর সাধনার ফসল হিসেবে শেখ ফরিদকে বেলায়তে কোবরা দান করেন এবং তার দুইটি চোখ ফিরিয়ে দেন। এরপর শেখ ফরিদ তাহার মায়ের নির্দেশে আরও আধ্যাত্মিক উন্নতি সাধনের জন্য কামেল মুর্শিদের তালাশে প্রেরণ করলে শেখ ফরিদ কাগজের নৌকায় চরে আল্লাহর কুদরতে সমুদ্রের পাড়ে বিখ্যাত আউলিয়া বু-আলী শাহ কলন্দরের দরবারে গেলে কলন্দর সাহেব শেখ ফরিদের আধ্যাত্মিকতা ক্ষমতা তার থেকে বেশি বলে শেখ ফরিদকে নিজের মুরিদ করতে অস্বীকৃতি জানিয়ে তৎকালীন আওলিয়া কুলের শিরোমনি খাজা কুতুবুদ্দিন বখতিয়ার কাকির কাছে পাঠান। বখতিয়ার সাহেব তাকে এই শর্তে মুরিদ করেন যে প্রতি তাহাজুদ্দ নামাজের সময় সঠিক সময় অজুর জন্য টানা ৭বছর পানি গরম করে দিতে হবে।

তবেই আমি তোমাকে আমার মুরিদ করবো। তিনি আরও বলেন যদি এই সময়ে একদিন ও তোমার পানি দিতে দেরি হয় তাহলে তুমি আমার থেকে কিছুই পাবে না। শেখ ফরিদ টানা ৭বছর ঠিক সময়ে পানি দেয়ার পর যখন ৭বছর হইতে ১দিন বাকি ছিল সেদিন হঠাৎ তাহার পানি গরম করার পাত্র ভেঙ্গে যায়। এতে শেখ ফরিদকে আবারও ৭বছর পানি দেয়ার গুলামি করতে হয়। এবার ৭বছর শেষ হওয়ার মাত্র ১দিন আগে আল্লাহপাক শেখ ফরিদকে পরীক্ষা করার জন্য উক্ত এলাকার সকল আগুন নিভিয়ে দেন। পানি গরম করার আগুন না পেয়ে শেখ ফরিদ দিশে হারা হয়ে ছুটা-ছুটি করে হঠাৎ দেখতে পান যে এক নর্তকীর ঘরে আগুন জ্বলছে।

কোন উপায় না দেখে সেখানে গিয়ে আগুন চাইলে নর্তকী শেখ ফরিদের সুন্দর চোখ দেখে মুগ্ধ হয়ে আগুন দেয়ার শর্তে উক্ত চোখের একটি চাইলে শেখ ফরিদ উপায় না পেয়ে তার চোখ উপরে উক্ত মহিলাকে দিয়ে আগুন নিয়ে আসেন এবং যথাযথ সময়ে পানি গরম করে বখতিয়ার সাহেবকে দিলে বখতিয়ার সাহেব শেখ ফরিদের গুরু ভক্তিতে অবাক হয়ে সাথে সাথে তাহার চোখ পুনরায় ফিরিয়ে দেন এবং শেখ ফরিদকে নিজের খেলাফত দান করে উচ্চ স্তরের আওলিয়াতে পরিনত করেন।


খুঁজুন