অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আভা মহালয়া ও মেলা ২০২৬’। অস্ট্রেলিয়ান বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের (আভা) উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রয়াস লক্ষ করা যায়।
গত ১০ অক্টোবর, শনিবার, সিডনির ব্ল্যাকটাউনের মারায়ং সাউথ পাবলিক স্কুল প্রাঙ্গণে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ আয়োজন চলে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. অপর্ণা গোস্বামী।
প্রবাসে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ উৎসবে ছিল মহালয়ার বিশেষ পরিবেশনা, নৃত্য, সংগীত, ঢোল-তাসার বাদ্য, ফ্যাশন শো এবং শিশু ও নারীদের জন্য নানা আয়োজন।
দুপুর ১২টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা আড়াইটায় নারীদের জন্য বিনামূল্যে আলতা পরানোর আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টায় শিশুদের জন্য ছিল ফেস পেইন্টিংয়ের ব্যবস্থা। বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘শিবগর্জনা সিডনি’র ঢোল-তাসার পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে।
বিকেল ৪টায় মহালয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মহালয়া পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় এ পর্বের নেতৃত্বে ছিলেন কাকলি মুখার্জী। মহালয়ার বিশেষ নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন অঙ্কিতা সিনহা রায়, মৌমিতা চৌধুরী, ঋতুপর্ণা ধর, অমৃতা পাল, প্রিয়াংশী, শ্রেয়সী ও মৌমিতা প্যাটেল।
দেবীপক্ষের আগমনী আবহে পরিবেশিত এ বিশেষ আয়োজন বাঙালির চিরন্তন শারদীয় ঐতিহ্য এবং দেবী দুর্গার আবাহনের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরে। মহালয়ার চিরচেনা আবেদন, নৃত্যের ছন্দ ও শৈল্পিক উপস্থাপনা প্রবাসী বাঙালিদের মনে শৈশবের শারদীয় স্মৃতি নতুন করে জাগিয়ে তোলে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্ল্যাকটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও রিভারস্টোন আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী মোহিত কুমার এবং হিন্দু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সভাপতি সাই পারাভাস্তু। সন্ধ্যায় আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা পর্বে এ দুই বিশিষ্ট অতিথিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়।
এ ছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল পরিচালনাকারীদের অবদানও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন আয়োজকরা। মেলার সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য ও সফলতায় তাঁদের অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রত্যেককে প্রশংসাপত্র ও সুগন্ধি মোমবাতি উপহার দেওয়া হয়।
সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শুরু হয় নৃত্য ও সংগীতানুষ্ঠান। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় ফ্যাশন শো। রাত ৯টায় সমাপনী ঘোষণার আগে আগামী ১৭ অক্টোবর আভার শারদীয় উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়।
সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান
বর্ণাঢ্য এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয় বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্লাটিনাম স্পনসর ছিল অজ ড্রিম বিল্ট, গোল্ড স্পনসর অ্যাডভান্স মেডিকেল প্র্যাকটিস, সিলভার স্পনসর ও ফুড পার্টনার ফোড়নের গল্প এবং ব্রোঞ্জ স্পনসর ইলেকট্রিফাইং অস্ট্রেলিয়া।
আয়োজক সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। সংগঠনটির এ ধরনের আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।
আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সমীর সরকার ও সম্পাদক দেবব্রত বিকাশ সাহা।
সভাপতি সমীর সরকার বলেন, “প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বাঙালির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সুন্দর ক্ষেত্র তৈরি করে। আভা (ABHA) সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।”
মহালয়ার আগমনী সুর, নৃত্যের ছন্দ, ঢোল-তাসার বাদ্য এবং বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ‘আভা মহালয়া ও মেলা ২০২৬’ প্রবাসে বাঙালির শিকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আত্মিক সংযোগের এক সুন্দর উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ মহালয়া ও মেলা ২০২৬’,
সিডনিতে বর্ণাঢ্য আয়োজনে ‘ মহালয়া ও মেলা ২০২৬’,
অস্ট্রেলিয়ার সিডনিতে বাঙালির চিরায়ত সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সম্প্রীতির মেলবন্ধনে অনুষ্ঠিত হয়েছে ‘আভা মহালয়া ও মেলা ২০২৬’। অস্ট্রেলিয়ান বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশনের (আভা) উদ্যোগে আয়োজিত এ উৎসবে ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য তুলে ধরার পাশাপাশি প্রবাসী বাঙালিদের মধ্যে সৌহার্দ্য ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করার প্রয়াস লক্ষ করা যায়। গত ১০ অক্টোবর, শনিবার, সিডনির ব্ল্যাকটাউনের মারায়ং সাউথ পাবলিক স্কুল প্রাঙ্গণে দুপুর ১২টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত দিনব্যাপী এ আয়োজন চলে। পুরো অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন ডা. অপর্ণা গোস্বামী। প্রবাসে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় ও ঐতিহ্য ধরে রাখা এবং নতুন প্রজন্মের কাছে তা তুলে ধরার উদ্দেশ্যে আয়োজিত এ উৎসবে ছিল মহালয়ার বিশেষ পরিবেশনা, নৃত্য, সংগীত, ঢোল-তাসার বাদ্য, ফ্যাশন শো এবং শিশু ও নারীদের জন্য নানা আয়োজন। দুপুর ১২টায় মেলার কার্যক্রম শুরু হয়। বেলা আড়াইটায় নারীদের জন্য বিনামূল্যে আলতা পরানোর আয়োজন করা হয়। বিকেল ৩টায় শিশুদের জন্য ছিল ফেস পেইন্টিংয়ের ব্যবস্থা। বিকেল সাড়ে ৩টায় ‘শিবগর্জনা সিডনি’র ঢোল-তাসার পরিবেশনায় উৎসবের আমেজ আরও প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। বিকেল ৪টায় মহালয়ার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের পর বিকেল ৫টায় অনুষ্ঠিত হয় বিশেষ মহালয়া পরিবেশনা। অনুষ্ঠানের অন্যতম আকর্ষণীয় এ পর্বের নেতৃত্বে ছিলেন কাকলি মুখার্জী। মহালয়ার
বিশেষ নৃত্য পরিবেশনায় অংশ নেন অঙ্কিতা সিনহা রায়, মৌমিতা চৌধুরী, ঋতুপর্ণা ধর, অমৃতা পাল, প্রিয়াংশী, শ্রেয়সী ও মৌমিতা প্যাটেল। দেবীপক্ষের আগমনী আবহে পরিবেশিত এ বিশেষ আয়োজন বাঙালির চিরন্তন শারদীয় ঐতিহ্য এবং দেবী দুর্গার আবাহনের সাংস্কৃতিক তাৎপর্য তুলে ধরে। মহালয়ার চিরচেনা আবেদন, নৃত্যের ছন্দ ও শৈল্পিক উপস্থাপনা প্রবাসী বাঙালিদের মনে শৈশবের শারদীয় স্মৃতি নতুন করে জাগিয়ে তোলে। অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ব্ল্যাকটাউন সিটি কাউন্সিলের কাউন্সিলর ও রিভারস্টোন আসনে লিবারেল পার্টির প্রার্থী মোহিত কুমার এবং হিন্দু কাউন্সিল অব অস্ট্রেলিয়ার জাতীয় সভাপতি সাই পারাভাস্তু। সন্ধ্যায় আয়োজিত বিশেষ সম্মাননা পর্বে এ দুই বিশিষ্ট অতিথিকে সম্মাননা প্রদান করা হয়। এ ছাড়া মেলায় অংশগ্রহণকারী স্টল পরিচালনাকারীদের অবদানও বিশেষভাবে মূল্যায়ন করেন আয়োজকরা। মেলার সৌন্দর্য, বৈচিত্র্য ও সফলতায় তাঁদের অংশগ্রহণের স্বীকৃতিস্বরূপ প্রত্যেককে প্রশংসাপত্র ও সুগন্ধি মোমবাতি উপহার দেওয়া হয়। সন্ধ্যা সোয়া ৭টায় শুরু হয় নৃত্য ও সংগীতানুষ্ঠান। রাত ৮টা ৪৫ মিনিটে অনুষ্ঠিত হয় ফ্যাশন শো। রাত ৯টায় সমাপনী ঘোষণার আগে আগামী ১৭ অক্টোবর আভার শারদীয় উৎসবে অংশগ্রহণের জন্য সবার প্রতি আহ্বান জানানো হয়। সহযোগিতায় বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান বর্ণাঢ্য এ আয়োজন সফল করতে সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেয়
বেশ কয়েকটি ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান। অনুষ্ঠানের প্লাটিনাম স্পনসর ছিল অজ ড্রিম বিল্ট, গোল্ড স্পনসর অ্যাডভান্স মেডিকেল প্র্যাকটিস, সিলভার স্পনসর ও ফুড পার্টনার ফোড়নের গল্প এবং ব্রোঞ্জ স্পনসর ইলেকট্রিফাইং অস্ট্রেলিয়া। আয়োজক সংগঠন অস্ট্রেলিয়ান বেঙ্গলি হিন্দু অ্যাসোসিয়েশন প্রবাসে বাঙালি সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও সামাজিক বন্ধন সুদৃঢ় করতে বিভিন্ন উদ্যোগ গ্রহণ করে আসছে। সংগঠনটির এ ধরনের আয়োজন শুধু ধর্মীয় উৎসব উদ্যাপনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং প্রবাসে বেড়ে ওঠা নতুন প্রজন্মের কাছে বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয় তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস। আয়োজনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে ছিলেন সংগঠনের সভাপতি সমীর সরকার ও সম্পাদক দেবব্রত বিকাশ সাহা। সভাপতি সমীর সরকার বলেন, “প্রবাসের ব্যস্ত জীবনে এ ধরনের সাংস্কৃতিক আয়োজন পারস্পরিক সৌহার্দ্য, সম্প্রীতি ও সামাজিক যোগাযোগ বৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। একই সঙ্গে বাঙালির সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য আগামী প্রজন্মের কাছে পৌঁছে দেওয়ার একটি সুন্দর ক্ষেত্র তৈরি করে। আভা (ABHA) সেই লক্ষ্যেই এগিয়ে চলেছে।” মহালয়ার আগমনী সুর, নৃত্যের ছন্দ, ঢোল-তাসার বাদ্য এবং বর্ণিল সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ‘আভা মহালয়া ও মেলা ২০২৬’ প্রবাসে বাঙালির শিকড়, সংস্কৃতি ও ঐতিহ্যের সঙ্গে আত্মিক সংযোগের এক সুন্দর উপলক্ষ হয়ে ওঠে।
সুফী মাজহারুল ইসলাম মাসুম
[email protected] | ০১৭১১৬৬০৫৫৭
রওশন টাওয়ার, (লিফট-৮) ১৫২/২/এ২ গ্রীণ রোড ,
পান্থপথ সিগন্যাল, ঢাকা-১২০৫ ।
মোবাইলঃ ০১৭১৭৪৩৬১৩৯
© সর্বস্বত্ব স্বত্বাধিকার সংরক্ষিত